বাংলাদেশের ভবিষ্যত নির্বাচনকে সামনে রেখে ১১টি রাজনৈতিক দল স্বতন্ত্রভাবে তাদের নির্বাচনী প্রস্তুতি সম্পন্ন করছে। এই পরিস্থিতিতে, জামায়াতের নেতৃত্বাধীন জোটের আসন ভাগাভাগির খবর আসলেও, ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের পক্ষ থেকে কোনো অংশগ্রহণের ঘোষণাও দেয়া হয়নি। ফলে, প্রায় শেষ পর্যন্ত তফসিলের জন্য প্রস্তুতি নিচ্ছে কেবল ১০ দল।
১৫ জানুয়ারি বৃহস্পতিবার রাতে রাজধানীর কাকরাইলে ইনস্টিটিউশন অব ডিপ্লোমা ইঞ্জিনিয়ার্স মিলনায়তনে এক সংবাদ সম্মেলনে ১০ দল এই ঐক্যের আনুষ্ঠানিক ঘোষণা দেন। সংবাদের সম্মেলনে ‘ঐক্যবদ্ধ বাংলাদেশ’ ও ‘১১-দলীয় নির্বাচনী ঐক্য’ শিরোনামে লেখা ছিল। মূলত, এই ঐক্য অনুযায়ী, ৩০০ আসনের মধ্যে ২৫০ আসনে সমঝোতা হয়েছে।
সংবাদ সম্মেলনের আগে, ঘণ্টাখানেকের প্রস্তুতি সেরেও দলীয় নেতারা এতটাই দেরিতে আসেন যে, তারা এসে উপস্থিত হন ৮:৪০ মিনিটে। এই পরিস্থিতিতে, জামায়াতের নায়েবে আমীর সৈয়দ আবদুল্লাহ মো. তাহের আনুষ্ঠানিকভাবে এই সমঝোতার ঘোষণা দেন। তিনি জানান, জামায়াতের অংশীদারিত্বে আগামী নির্বাচনে ১৭৯ টি আসনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করবে। আর অন্যান্য দলও নির্দিষ্ট সংখ্যক আসনে তাদের অংশীদারিত্বের কথা জানিয়েছে। এর মধ্যে আছে, ছাত্রনেতৃত্বের দল এনসিপি ৩০টি, বাংলাদেশ খেলাফত মজलিস ২০টি, খেলাফত মজলিস ১০টি, লিবারেল ডেমোক্রেটিক পার্টি (এলডিপি) ৭টি, আমার বাংলাদেশ পার্টি (এবি পার্টি) ৩টি, বাংলাদেশ ডেভেলপমেন্ট পার্টি ২টি, এবং বাংলাদেশ নেজামে ইসলাম ২টি আসনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করবে। এছাড়া, জাগপা ও খেলাফত আন্দোলনের আসন এখনো চূড়ান্ত হয়নি, তবে তারা চুক্তির অংশ বলে জানানো হয়।
এক প্রশ্নের জবাবে, জামায়াতের শফিকুর রহমান স্পষ্ট করেন, এই জোট এখনো টিকে আছে, ভাঙেনি। কেউ কেউ হয়তো এক বা অন্য একটি দলের সঙ্গে মতভেদ দেখাচ্ছে, তবে এই ব্যাপারটা মূলত নির্বাচনী ঐক্যের অংশ। তিনি আরও বলেন, এখনো তারা নিয়মিত যোগাযোগ রাখছেন, এবং অস্তিত্ব ধরে রেখেছেন এই ঐক্য।
অপর দিকে, ইসলামী আন্দোলনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, তারা আজ বিকেল তিনটায় ঢাকার পুরানা পল্টনে কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে তাঁদের অবস্থান ও ভবিষ্যত পরিকল্পনা ঘোষণা করবেন। এই সংবাদ সম্মেলনে, জামায়াতের আমিরসহ দেশের অন্যান্য দলের প্রধান নেতারা অংশ নেন। মূল বক্তব্যে জামায়াতের আমির স্পষ্ট করেন যে, তারা এই নির্বাচনী জোটের সঙ্গে রয়েছেন, তবে ইসলামী আন্দোলনের নাম উল্লেখ করেননি। তাঁর কথায়, ‘একটি দল শুরুতে আমাদের সঙ্গে ছিল, কিন্তু এখন দেখা যাচ্ছে তারা উপস্থিত নয়। এটি ভাঙনের ফল নয়, এটি মূলত নির্বাচনী প্রস্তুতির অংশ। উল্লেখ্য, তাদের সঙ্গে যোগাযোগ অব্যাহত রয়েছে।’
প্রসঙ্গত, আগামী ১৩তম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে আসন ভাগাভাগি নিয়ে গত বুধবার এক সংবাদ সম্মেলনের পরিকল্পনা থাকলেও, তা পরে বাতিল করা হয়। এখানেও মূল কারণ ছিল, জামায়াত ও ইসলামী আন্দোলনের মধ্যে আসন বণ্টন নিয়ে মতভেদ।
সবশেষে, বৃহস্পতিবার সকালে, আসন সমঝোতা চূড়ান্ত করতে জামায়াতের কার্যালয়ে বিশাল এক বৈঠক হয়। এতে ইসলামী আন্দোলন উপস্থিত ছিল না। এই বৈঠক শেষে, ১০ দলের নেতারা হাত মিলিয়ে ঐক্যের বার্তা দেন ও স্লোগানে ভারতীয় স্বাধীনতা সংগ্রামের উজ্জ্বল দিনের মত উদ্দীপ্ত হন।
শ্রীমঙ্গল২৪ ডেস্ক 

























