১১:২৬ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৭ ফেব্রুয়ারী ২০২৬, ৫ ফাল্গুন ১৪৩২ বঙ্গাব্দ
সর্বশেষঃ
১০ জনকে মন্ত্রী-প্রতিমন্ত্রীর মর্যাদায় প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা নিযুক্ত তারেক রহমান প্রধানমন্ত্রী: গণতন্ত্রের নতুন অধ্যায়ের শুভসূচনা আনসার-ভিডিপি ও SREDA’র সমঝোতা: টেকসই জ্বালানি ও গ্রামীণ কর্মসংস্থানে নতুন দিগন্ত নতুন মন্ত্রিসভায় ২৫ পূর্ণমন্ত্রীর দায়িত্ববণ্টন: কে কোথায় পেলেন দায়িত্ব? ২৪ প্রতিমন্ত্রী শপথ নিলেন — নতুন অন্তর্ভুক্তিমূলক সরকারের যাত্রা শুরু ত্রয়োদশ সংসদে বিরোধী দলীয় নেতা ডা. শফিকুর রহমান, চিফ হুইপ নাহিদ ইসলাম নতুন মন্ত্রী-প্রতিমন্ত্রীদের জন্য রাজধানীতে ৩৭টি বাড়ি প্রস্তুত এটি শুধু ক্ষমতা হস্তান্তর নয় — গণতন্ত্রের নতুন অভিযাত্রা এনসিপি আনুষ্ঠানিকভাবে ‘জুলাই জাতীয় সনদ’-এ স্বাক্ষর করল সেনাপ্রধানের বিদায়ী সাক্ষাৎ প্রধান উপদেষ্টার সঙ্গে

অগ্নি সিস্টেমসে শেয়ার কারসাজি: সিটি ব্যাংকসহ সাতজনকে ৬ কোটি ৬৩ লাখ টাকা জরিমানা

পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত অগ্নি সিস্টেমস পিএলসি’র শেয়ারদরে কৃত্রিম উত্থান ও সিকিউরিটিজ আইন লঙ্ঘনের অভিযোগে ছয় ব্যক্তি ও একটি আর্থিক প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে শক্তিনয়মে অনির্দিষ্ট ব্যবস্থা নিয়েছে নিয়ন্ত্রক সংস্থা বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন (বিএসইসি)। মোট ৬ কোটি ৬৩ লাখ টাকা জরিমানা করা হয়েছে।

বিএসইসির এনফোর্সমেন্ট অ্যাকশন বিভাগ গত বছরের ২৫ জুন থেকে ১৬ নভেম্বর পর্যন্ত সময়কাল পর্যালোচনায় কোম্পানিটির শেয়ার লেনদেনে কারসাজির প্রমাণ পায়। ওই সময়ে শেয়ারের দাম ২৪ টাকা ৫০ পয়সা থেকে ৩০.৬১ শতাংশ বেড়ে ৩২ টাকায় ওঠে, যা তদন্তকারীরা কৃত্রিম চাহিদি সৃষ্টি করে সংগঠিত করা হয়েছে বলে উল্লেখ করেছেন।

তদন্তে নথিপত্র ও লেনদেন বিশ্লেষণে দেখা যায়, মো. সানোয়ার খান, তার স্ত্রী আসমাউল হুসনা, ভাই মো. আনোয়ার পারভেজ খান এবং সহযোগী মো. আবু তাহের শিকদার, উম্মে সালমা নিপা ও মো. বিপ্লব শেখ নিজেদের বিও (বুক-অফ-বুক) অ্যাকাউন্ট ব্যবহার করে ধারাবাহিকভাবে শেয়ার কেনাবেচা করে বাজারে বিভ্রান্তিকর পরিস্থিতি সৃষ্টি করেছিলেন।

বিশেষভাবে বলা হয়েছে যে মো. সানোয়ার খান ২০২৪ সালের ১০ জুন থেকে সিটি ব্যাংকে পোর্টফোলিও ম্যানেজার হিসেবে দায়িত্ব পালনকালে ব্যাংকের বিও অ্যাকাউন্ট ব্যবহার করে পেশাগত ক্ষমতার অপব্যবহার করেন এবং এককভাবে লেনদেনগুলো সম্পন্ন করেন। বিএসইসির শুনানিতে সিটি ব্যাংক স্বীকার করেছে যে এগুলো সানোয়ার খানের একক সিদ্ধান্তে হয়েছে; ব্যাংক তাকে দায়িত্ব থেকে সরিয়েছে এবং তার বিরুদ্ধে অভ্যন্তরীণ তদন্ত চলছে।

কমিশন সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ অধ্যাদেশের ধারা ১৭ লঙ্ঘনের দায়ে জরিমানা নির্ধারণ করেছে। জরিমানার পরিমাণগুলো হলো: মো. সানোয়ার খান ১ কোটি ৫১ লাখ টাকা, মো. বিপ্লব শেখ ৪ কোটি ৩০ লাখ টাকা, মো. আবু তাহের শিকদার ৬২ লাখ টাকা, আসমাউল হুসনা ১৫ লাখ টাকা, মো. আনোয়ার পারভেজ খান ও উম্মে সালমা নিপা প্রত্যেককে ২ লাখ টাকা করে এবং তদারকিতে শিথিলতার জন্য সিটি ব্যাংককে ১ লাখ টাকা ও কঠোর সতর্কবার্তা দেয়া হয়েছে।

বিএসইসি জানিয়েছে, নির্ধারিত ৩০ দিনের মধ্যে জরিমানার অর্থ পরিশোধ না করলে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে আইনানুগ কঠোর ব্যবস্থা নেয়া হবে। কমিশনের এই নির্দেশ বাজারে স্বচ্ছতা রক্ষা ও বিনিয়োগকারীদের আত্মবিশ্বাস বজায় রাখার উদ্যোগ হিসেবে দেখা হচ্ছে।

এই ঘটনায় পুঁজিবাজারে কৃত্রিম চাহিদি সৃষ্টি ও অভ্যন্তরীণ নিয়ন্ত্রণের দুর্বলতা নিয়ে পুনরায় প্রশ্ন উঠেছে। বিএসইসির কড়া পদক্ষেপ বাজারে যথাযথ নিয়ন্ত্রণ ও জবাবদিহিতা প্রতিষ্ঠায় কতটুকু কার্যকর হবে তা সময়ের সঙ্গে স্পষ্ট হবে।

ট্যাগ :
সর্বাধিক পঠিত

তারেক রহমান প্রধানমন্ত্রী: গণতন্ত্রের নতুন অধ্যায়ের শুভসূচনা

অগ্নি সিস্টেমসে শেয়ার কারসাজি: সিটি ব্যাংকসহ সাতজনকে ৬ কোটি ৬৩ লাখ টাকা জরিমানা

প্রকাশিতঃ ০৩:২৪:১৩ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৭ ফেব্রুয়ারী ২০২৬

পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত অগ্নি সিস্টেমস পিএলসি’র শেয়ারদরে কৃত্রিম উত্থান ও সিকিউরিটিজ আইন লঙ্ঘনের অভিযোগে ছয় ব্যক্তি ও একটি আর্থিক প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে শক্তিনয়মে অনির্দিষ্ট ব্যবস্থা নিয়েছে নিয়ন্ত্রক সংস্থা বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন (বিএসইসি)। মোট ৬ কোটি ৬৩ লাখ টাকা জরিমানা করা হয়েছে।

বিএসইসির এনফোর্সমেন্ট অ্যাকশন বিভাগ গত বছরের ২৫ জুন থেকে ১৬ নভেম্বর পর্যন্ত সময়কাল পর্যালোচনায় কোম্পানিটির শেয়ার লেনদেনে কারসাজির প্রমাণ পায়। ওই সময়ে শেয়ারের দাম ২৪ টাকা ৫০ পয়সা থেকে ৩০.৬১ শতাংশ বেড়ে ৩২ টাকায় ওঠে, যা তদন্তকারীরা কৃত্রিম চাহিদি সৃষ্টি করে সংগঠিত করা হয়েছে বলে উল্লেখ করেছেন।

তদন্তে নথিপত্র ও লেনদেন বিশ্লেষণে দেখা যায়, মো. সানোয়ার খান, তার স্ত্রী আসমাউল হুসনা, ভাই মো. আনোয়ার পারভেজ খান এবং সহযোগী মো. আবু তাহের শিকদার, উম্মে সালমা নিপা ও মো. বিপ্লব শেখ নিজেদের বিও (বুক-অফ-বুক) অ্যাকাউন্ট ব্যবহার করে ধারাবাহিকভাবে শেয়ার কেনাবেচা করে বাজারে বিভ্রান্তিকর পরিস্থিতি সৃষ্টি করেছিলেন।

বিশেষভাবে বলা হয়েছে যে মো. সানোয়ার খান ২০২৪ সালের ১০ জুন থেকে সিটি ব্যাংকে পোর্টফোলিও ম্যানেজার হিসেবে দায়িত্ব পালনকালে ব্যাংকের বিও অ্যাকাউন্ট ব্যবহার করে পেশাগত ক্ষমতার অপব্যবহার করেন এবং এককভাবে লেনদেনগুলো সম্পন্ন করেন। বিএসইসির শুনানিতে সিটি ব্যাংক স্বীকার করেছে যে এগুলো সানোয়ার খানের একক সিদ্ধান্তে হয়েছে; ব্যাংক তাকে দায়িত্ব থেকে সরিয়েছে এবং তার বিরুদ্ধে অভ্যন্তরীণ তদন্ত চলছে।

কমিশন সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ অধ্যাদেশের ধারা ১৭ লঙ্ঘনের দায়ে জরিমানা নির্ধারণ করেছে। জরিমানার পরিমাণগুলো হলো: মো. সানোয়ার খান ১ কোটি ৫১ লাখ টাকা, মো. বিপ্লব শেখ ৪ কোটি ৩০ লাখ টাকা, মো. আবু তাহের শিকদার ৬২ লাখ টাকা, আসমাউল হুসনা ১৫ লাখ টাকা, মো. আনোয়ার পারভেজ খান ও উম্মে সালমা নিপা প্রত্যেককে ২ লাখ টাকা করে এবং তদারকিতে শিথিলতার জন্য সিটি ব্যাংককে ১ লাখ টাকা ও কঠোর সতর্কবার্তা দেয়া হয়েছে।

বিএসইসি জানিয়েছে, নির্ধারিত ৩০ দিনের মধ্যে জরিমানার অর্থ পরিশোধ না করলে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে আইনানুগ কঠোর ব্যবস্থা নেয়া হবে। কমিশনের এই নির্দেশ বাজারে স্বচ্ছতা রক্ষা ও বিনিয়োগকারীদের আত্মবিশ্বাস বজায় রাখার উদ্যোগ হিসেবে দেখা হচ্ছে।

এই ঘটনায় পুঁজিবাজারে কৃত্রিম চাহিদি সৃষ্টি ও অভ্যন্তরীণ নিয়ন্ত্রণের দুর্বলতা নিয়ে পুনরায় প্রশ্ন উঠেছে। বিএসইসির কড়া পদক্ষেপ বাজারে যথাযথ নিয়ন্ত্রণ ও জবাবদিহিতা প্রতিষ্ঠায় কতটুকু কার্যকর হবে তা সময়ের সঙ্গে স্পষ্ট হবে।