০১:৩৭ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ১৮ জুলাই ২০২৬, ২ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সর্বশেষঃ
এলডিসি উত্তরণে বাংলাদেশকে পাশে রাখবে ইইউ ও জি-৭৭ ইইউ ও জি-৭৭ দেশের এলডিসি উত্তরণে বাংলাদেশের প্রস্তুতিকাল বাড়াতে সমর্থন শিক্ষার্থীদের আন্দোলনের আড়ালে ঘোলা পানিতে মাছ শিকার করতে চায় কিছু মহল: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বৈষম্যমুক্ত বাংলাদেশ গড়তে সবাইকে একজোট হয়ে কাজ করতে হবে: প্রধানমন্ত্রী শিক্ষার্থীদের আন্দোলনের আড়ালে ঘোলা পানিতে মাছ শিকার করতে চায় কিছু মহল: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অনলাইন জুয়ার লেনদেনে দিনে ৫ কোটি: টঙ্গী–কুমিল্লায় অভিযানে ছয় গ্রেফতার বৈষম্যহীন বাংলাদেশ গড়তে সবাইকে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করতে হবে: প্রধানমন্ত্রী পরিবহন-লজিস্টিকস ও সামুদ্রিক খাতে বিনিয়োগে আগ্রহী সৌদি আরব প্রধানমন্ত্রীর শিক্ষকদের প্রতি আহ্বান: শিশুদের মানবিকভাবে গড়ে তুলুন পরিবহন, লজিস্টিকস ও সামুদ্রিক খাতে বাংলাদেশে বিনিয়োগে আগ্রহী সৌদি আরব

রিজার্ভ ছাড়ালো ৩৪.৫৪ বিলিয়ন মার্কিন ডলার

বাংলাদেশে রাজনৈতিক ক্ষমতা হস্তান্তরের ঐতিহাসিক দিনে আন্তর্জাতিক মুদ্রার সঞ্চয়ে বড় উন্নতি ঘটেছে। অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বে ১৮ মাসের অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের পরে অবাধ নির্বাচনের মাধ্যমে নতুন নির্বাচিত সরকারের কাছে ক্ষমতা হস্তান্তরের সেই দিনে দেশের বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ সাড়ে ৩৪ বিলিয়ন মার্কিন ডলার অতিক্রম করেছে।

কেন্দ্রীয় ব্যাংকের সর্বশেষ পরিসংখ্যান অনুযায়ী, ১৭ ফেব্রুয়ারি শেষে দেশের গ্রস রিজার্ভ দাঁড়িয়েছে ৩৪.৫৪ বিলিয়ন মার্কিন ডলার। আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিলের (আইএমএফ) বিপিএম–৬ পদ্ধতি অনুযায়ী এই রিজার্ভের পরিমাণ ধরা হয়েছে ২৯.৮৬ বিলিয়ন ডলার। কেন্দ্রীয় ব্যাংকের নির্বাহী পরিচালক ও মুখপাত্র আরিফ হোসেন খান এই তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

রিজার্ভ বৃদ্ধির সবচেয়ে বড় চালিকাশক্তি হিসেবে কাজ করেছে প্রবাসী আয় বা রেমিট্যান্সের প্রবাহ। কেন্দ্রীয় ব্যাংক সূত্রে জানানো হয়েছে, ২০২৬ সালের জানুয়ারি মাসে প্রবাসী পাঠানো বৈধ রেমিট্যান্স ছিল ৩১৭ কোটি ডলার, যা গত কয়েক মাসে ডলার জোগান বাড়িয়ে ডলার সংকট শিথিল করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে। এছাড়া ফেব্রুয়ারির প্রথম ১৬ দিনে দেশে এসেছে ১৮০ কোটি ৭০ লাখ ডলার।

রেমিট্যান্সের সঙ্গে সঙ্গে আমদানির ব্যয় নিয়ন্ত্রণে রাখা এবং রপ্তানিতে স্থিতিশীলতা বজায় থাকাও রিজার্ভ শক্তিশালী হওয়ার পেছনে ভাবপ্রবণ কারণ হিসেবে চিহ্নিত হচ্ছে। বর্তমানে বাজারে ডলারের সরবরাহ চাহিদার তুলনায় বেশি থাকায় মুদ্রাবাজারে নতুন সমীকরণ তৈরি হয়েছে; ব্যাংকগুলোতে ডলারের উদ্বৃত্ত দেখা দিচ্ছে, যা প্রয়োজনের তুলনায় দর আরও কমে যেতে পারে সেই আশঙ্কাও তৈরি করেছে।

এই পরিস্থিতিতে কেন্দ্রীয় ব্যাংক মুদ্রাবাজারে স্থিতিশীলতা বজায় রাখতে সক্রিয় ভূমিকা রাখছে। বাংলাদেশ ব্যাংক নিয়মিতভাবে বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলো থেকে ডলার কিনে দিচ্ছে, যা পরোক্ষভাবে রিজার্ভ উন্নত করছে। চলতি ২০২৫-২৬ অর্থবছরে এখনও পর্যন্ত কেন্দ্রীয় ব্যাংক বিভিন্ন বাণিজ্যিক ব্যাংক থেকে প্রায় ৪.৯০ বিলিয়ন মার্কিন ডলার কিনেছে।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, সাম্প্রতিক রিজার্ভের এই উন্নতি গত কয়েক বছরের অর্থনীতিক সংকটের প্রেক্ষাপটে বিশেষ তাৎপর্যপূর্ণ। ২০২২ সালে ডলার দর ৮৫ টাকা থেকে বেড়ে ১২২ টাকা পর্যন্ত ওঠার সময় কেন্দ্রীয় ব্যাংক বাজার স্থিতিশীল রাখতে বিপুল পরিমাণ রিজার্ভ খরচ করে—গত তিন অর্থবছরে প্রায় ৩৪ বিলিয়ন ডলার বিক্রি করে পরিস্থিতি সামলাতে হয়েছিল।

তবে ২০২৪ সালের আগস্টে রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর থেকে অর্থপাচার রোধ ও হুন্ডি বন্ধে জোরদার নজরদারির ফলে বিদেশি মুদ্রার অভিবাহে ইতিবাচক পরিবর্তন দেখা দিয়েছে এবং রিজার্ভ দ্রুত সঞ্চিত হতে শুরু করেছে।

অর্থনীতিবিদরা মনে করেন, সাড়ে ৩৪ বিলিয়ন ডলারের বেশি রিজার্ভ নতুন নির্বাচিত সরকারের জন্য বড় একটি আর্থিক নিরাপত্তা। এটি আমদানি ব্যয় নির্বাহ করা, বৈদেশিক দায় পরিশোধ এবং বিদেশি বিনিয়োগকারীদের কাছে শক্তিশালী অর্থনৈতিক চিত্র উপস্থাপনে সহায়তা করবে। মুদ্রাবাজারে স্থিতিশীলতা ফিরলে সাধারণ মানুষের দৈনন্দিন জীবনযাত্রার ব্যয় ও ব্যবসার খরচ নিয়ন্ত্রণে আনা তুলনামূলকভাবে সহজ হবে। সব মিলিয়ে, রাজনৈতিক পরিবর্তনের এই মুহূর্তে রিজার্ভের উল্লম্ফন দেশের অর্থনীতির জন্য একটি ইতিবাচক বার্তা হিসেবে দেখা যাচ্ছে।

ট্যাগ :
সর্বাধিক পঠিত

ইইউ ও জি-৭৭ দেশের এলডিসি উত্তরণে বাংলাদেশের প্রস্তুতিকাল বাড়াতে সমর্থন

রিজার্ভ ছাড়ালো ৩৪.৫৪ বিলিয়ন মার্কিন ডলার

প্রকাশিতঃ ১১:৩৯:১১ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ১৮ ফেব্রুয়ারী ২০২৬

বাংলাদেশে রাজনৈতিক ক্ষমতা হস্তান্তরের ঐতিহাসিক দিনে আন্তর্জাতিক মুদ্রার সঞ্চয়ে বড় উন্নতি ঘটেছে। অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বে ১৮ মাসের অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের পরে অবাধ নির্বাচনের মাধ্যমে নতুন নির্বাচিত সরকারের কাছে ক্ষমতা হস্তান্তরের সেই দিনে দেশের বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ সাড়ে ৩৪ বিলিয়ন মার্কিন ডলার অতিক্রম করেছে।

কেন্দ্রীয় ব্যাংকের সর্বশেষ পরিসংখ্যান অনুযায়ী, ১৭ ফেব্রুয়ারি শেষে দেশের গ্রস রিজার্ভ দাঁড়িয়েছে ৩৪.৫৪ বিলিয়ন মার্কিন ডলার। আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিলের (আইএমএফ) বিপিএম–৬ পদ্ধতি অনুযায়ী এই রিজার্ভের পরিমাণ ধরা হয়েছে ২৯.৮৬ বিলিয়ন ডলার। কেন্দ্রীয় ব্যাংকের নির্বাহী পরিচালক ও মুখপাত্র আরিফ হোসেন খান এই তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

রিজার্ভ বৃদ্ধির সবচেয়ে বড় চালিকাশক্তি হিসেবে কাজ করেছে প্রবাসী আয় বা রেমিট্যান্সের প্রবাহ। কেন্দ্রীয় ব্যাংক সূত্রে জানানো হয়েছে, ২০২৬ সালের জানুয়ারি মাসে প্রবাসী পাঠানো বৈধ রেমিট্যান্স ছিল ৩১৭ কোটি ডলার, যা গত কয়েক মাসে ডলার জোগান বাড়িয়ে ডলার সংকট শিথিল করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে। এছাড়া ফেব্রুয়ারির প্রথম ১৬ দিনে দেশে এসেছে ১৮০ কোটি ৭০ লাখ ডলার।

রেমিট্যান্সের সঙ্গে সঙ্গে আমদানির ব্যয় নিয়ন্ত্রণে রাখা এবং রপ্তানিতে স্থিতিশীলতা বজায় থাকাও রিজার্ভ শক্তিশালী হওয়ার পেছনে ভাবপ্রবণ কারণ হিসেবে চিহ্নিত হচ্ছে। বর্তমানে বাজারে ডলারের সরবরাহ চাহিদার তুলনায় বেশি থাকায় মুদ্রাবাজারে নতুন সমীকরণ তৈরি হয়েছে; ব্যাংকগুলোতে ডলারের উদ্বৃত্ত দেখা দিচ্ছে, যা প্রয়োজনের তুলনায় দর আরও কমে যেতে পারে সেই আশঙ্কাও তৈরি করেছে।

এই পরিস্থিতিতে কেন্দ্রীয় ব্যাংক মুদ্রাবাজারে স্থিতিশীলতা বজায় রাখতে সক্রিয় ভূমিকা রাখছে। বাংলাদেশ ব্যাংক নিয়মিতভাবে বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলো থেকে ডলার কিনে দিচ্ছে, যা পরোক্ষভাবে রিজার্ভ উন্নত করছে। চলতি ২০২৫-২৬ অর্থবছরে এখনও পর্যন্ত কেন্দ্রীয় ব্যাংক বিভিন্ন বাণিজ্যিক ব্যাংক থেকে প্রায় ৪.৯০ বিলিয়ন মার্কিন ডলার কিনেছে।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, সাম্প্রতিক রিজার্ভের এই উন্নতি গত কয়েক বছরের অর্থনীতিক সংকটের প্রেক্ষাপটে বিশেষ তাৎপর্যপূর্ণ। ২০২২ সালে ডলার দর ৮৫ টাকা থেকে বেড়ে ১২২ টাকা পর্যন্ত ওঠার সময় কেন্দ্রীয় ব্যাংক বাজার স্থিতিশীল রাখতে বিপুল পরিমাণ রিজার্ভ খরচ করে—গত তিন অর্থবছরে প্রায় ৩৪ বিলিয়ন ডলার বিক্রি করে পরিস্থিতি সামলাতে হয়েছিল।

তবে ২০২৪ সালের আগস্টে রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর থেকে অর্থপাচার রোধ ও হুন্ডি বন্ধে জোরদার নজরদারির ফলে বিদেশি মুদ্রার অভিবাহে ইতিবাচক পরিবর্তন দেখা দিয়েছে এবং রিজার্ভ দ্রুত সঞ্চিত হতে শুরু করেছে।

অর্থনীতিবিদরা মনে করেন, সাড়ে ৩৪ বিলিয়ন ডলারের বেশি রিজার্ভ নতুন নির্বাচিত সরকারের জন্য বড় একটি আর্থিক নিরাপত্তা। এটি আমদানি ব্যয় নির্বাহ করা, বৈদেশিক দায় পরিশোধ এবং বিদেশি বিনিয়োগকারীদের কাছে শক্তিশালী অর্থনৈতিক চিত্র উপস্থাপনে সহায়তা করবে। মুদ্রাবাজারে স্থিতিশীলতা ফিরলে সাধারণ মানুষের দৈনন্দিন জীবনযাত্রার ব্যয় ও ব্যবসার খরচ নিয়ন্ত্রণে আনা তুলনামূলকভাবে সহজ হবে। সব মিলিয়ে, রাজনৈতিক পরিবর্তনের এই মুহূর্তে রিজার্ভের উল্লম্ফন দেশের অর্থনীতির জন্য একটি ইতিবাচক বার্তা হিসেবে দেখা যাচ্ছে।