০২:৩৮ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ১৮ জুলাই ২০২৬, ২ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সর্বশেষঃ
এলডিসি উত্তরণে বাংলাদেশকে পাশে রাখবে ইইউ ও জি-৭৭ ইইউ ও জি-৭৭ দেশের এলডিসি উত্তরণে বাংলাদেশের প্রস্তুতিকাল বাড়াতে সমর্থন শিক্ষার্থীদের আন্দোলনের আড়ালে ঘোলা পানিতে মাছ শিকার করতে চায় কিছু মহল: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বৈষম্যমুক্ত বাংলাদেশ গড়তে সবাইকে একজোট হয়ে কাজ করতে হবে: প্রধানমন্ত্রী শিক্ষার্থীদের আন্দোলনের আড়ালে ঘোলা পানিতে মাছ শিকার করতে চায় কিছু মহল: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অনলাইন জুয়ার লেনদেনে দিনে ৫ কোটি: টঙ্গী–কুমিল্লায় অভিযানে ছয় গ্রেফতার বৈষম্যহীন বাংলাদেশ গড়তে সবাইকে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করতে হবে: প্রধানমন্ত্রী পরিবহন-লজিস্টিকস ও সামুদ্রিক খাতে বিনিয়োগে আগ্রহী সৌদি আরব প্রধানমন্ত্রীর শিক্ষকদের প্রতি আহ্বান: শিশুদের মানবিকভাবে গড়ে তুলুন পরিবহন, লজিস্টিকস ও সামুদ্রিক খাতে বাংলাদেশে বিনিয়োগে আগ্রহী সৌদি আরব

বার্কশায়ার নিউইয়র্ক টাইমসে ৩৫ কোটি ডলার বিনিয়োগ করলো

বিশ্বখ্যাত বিনিয়োগকারী ওয়ারেন বাফেটের প্রতিষ্ঠান বার্কশায়ার হ্যাথাওয়ে ছয় বছর পর আবারও সংবাদপত্র শিল্পে বড় ধরনের বিনিয়োগ করে ফিরে এসেছে। কোম্পানিটি ২০২৫ সালের শেষ প্রান্তিকে নিয়ন্ত্রক সংস্থায় জমা দেওয়া রিপোর্টে দেখা যাচ্ছে যে, তারা নিউইয়র্ক টাইমসের শেয়ারে প্রায় ৩৫ কোটি মার্কিন ডলার বিনিয়োগ করেছে।

এই সিদ্ধান্তটি তাই শুধু অর্থনৈতিক না, রাজনৈতিক বা প্রতীকীভাবেও গুরুত্বপূর্ণ মনে করা হচ্ছে, কারণ ২০২০ সালে বাফেট সংবাদপত্র খাতে থেকে প্রাথমিকভাবে সরে গিয়েছিলেন এবং সেই সময় অনেক কাগজভিত্তিক প্রতিষ্ঠান বিক্রি করে দিয়েছিলেন। এখন নিউইয়র্ক টাইমসে পুনর্বিনিয়োগ করা হয়েছে—যা বোঝায় বার্কশায়ার টেকসই ব্র্যান্ড ও ডিজিটাল রূপান্তরের ওপর আস্থা রাখছে। অনেকে এটিকে বাফেটের কর্মজীবনের পরবর্তী পর্যায়ে নেওয়া একটি কৌশলগত সিদ্ধান্ত হিসেবে দেখছেন।

বাজার বিশ্লেষকরাও বলছেন, নিউইয়র্ক টাইমস গত কয়েক বছরে কাগজভিত্তিক ব্যবসা থেকে নিজেকে গ্লোবাল ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মে পরিণত করায় এই আস্থা বেড়েছে। প্রতিষ্ঠানটির ডিজিটাল সাবস্ক্রাইবারের সংখ্যা এক কোটিরও বেশি, এবং তারা অনলাইন গেম, শব্দধাঁধা ও ক্রীড়া কেন্দ্রিক প্ল্যাটফর্মের মতো নতুন আয়ের উৎস গড়ে তুলেছে। এই রূপান্তর ও সাবস্ক্রিপশনের বৃদ্ধিই বার্কশায়ারের বিনিয়োগের বড় কারণ হিসেবে দেখছেন অনেকে।

বাফেটের এই বিনিয়োগের খবর প্রকাশ হতেই নিউইয়র্ক টাইমসের শেয়ারদর দ্রুত উর্ধ্বমুখী হয়। বিশ্লেষকরা বলছেন, এটি শুধু ওই কোম্পানির জন্যই নয়—অনেক অবকাঠামোশীল ও স্থানীয় পত্রিকার জন্যও গুরুত্বপূর্ণ পাঠ হতে পারে।

একই রিপোর্টে দেখা গেছে, বার্কশায়ার হ্যাথাওয়ে তাদের পোর্টফোলিওতে আরো কিছু পরিবর্তন এনেছে। তারা জ্বালানি খাতের বড় কিমপুরুষ শেভরনে বিনিয়োগ বাড়িয়েছে। সূত্রগুলো বলছে, ভেনেজুয়েলায় রাজনৈতিক পরিবর্তনের পরে যুক্তরাষ্ট্রের নিয়ন্ত্রক অবস্থান শক্ত হওয়ায় শেভরনের শেয়ারদর এ বছর প্রায় ২৬ শতাংশ বাড়ার ফলে এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

অপরদিকে, প্রযুক্তি ও ব্যাংকিং খাতে প্রতিষ্ঠানটি কিছুটা সতর্ক ভূমিকা নিয়েছে। গত প্রান্তিকে বার্কশায়ার তাদের হাতে থাকা অ্যাপলের প্রায় ১ কোটি শেয়ার ও ব্যাংক অব আমেরিকার ৫ কোটি শেয়ার বিক্রি করেছে। তবু বিক্রির পরও তাদের কাছে বর্তমানে অ্যাপলের omkring ২২ কোটি ৮০ লাখ এবং ব্যাংক অব আমেরিকার ৮ কোটি ১০ লাখ শেয়ার রয়ে গেছে।

এছাড়া বার্কশায়ার হ্যাথাওয়ে জেইকো বিমা, বিএনএসএফ রেলওয়ে এবং ডেইরি কুইনসহ নানা বৃহৎ প্রতিষ্ঠান নিয়ন্ত্রণ করে চলছে। এখন বিনিয়োগকারা ও বিশ্লেষকরা দেখছেন—বাফেটের উত্তরসূরিদের নেতৃত্বে প্রতিষ্ঠানটি এই নতুন কৌশল কীভাবে এগিয়ে নেবে এবং ভবিষ্যতে কোথায় বিনিয়োগ বাড়াবে। এই সিদ্ধান্তগুলো বিশ্ব অর্থনীতির আগ্রহের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছে।

ট্যাগ :
সর্বাধিক পঠিত

ইইউ ও জি-৭৭ দেশের এলডিসি উত্তরণে বাংলাদেশের প্রস্তুতিকাল বাড়াতে সমর্থন

বার্কশায়ার নিউইয়র্ক টাইমসে ৩৫ কোটি ডলার বিনিয়োগ করলো

প্রকাশিতঃ ০৮:২৪:৪০ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ২০ ফেব্রুয়ারী ২০২৬

বিশ্বখ্যাত বিনিয়োগকারী ওয়ারেন বাফেটের প্রতিষ্ঠান বার্কশায়ার হ্যাথাওয়ে ছয় বছর পর আবারও সংবাদপত্র শিল্পে বড় ধরনের বিনিয়োগ করে ফিরে এসেছে। কোম্পানিটি ২০২৫ সালের শেষ প্রান্তিকে নিয়ন্ত্রক সংস্থায় জমা দেওয়া রিপোর্টে দেখা যাচ্ছে যে, তারা নিউইয়র্ক টাইমসের শেয়ারে প্রায় ৩৫ কোটি মার্কিন ডলার বিনিয়োগ করেছে।

এই সিদ্ধান্তটি তাই শুধু অর্থনৈতিক না, রাজনৈতিক বা প্রতীকীভাবেও গুরুত্বপূর্ণ মনে করা হচ্ছে, কারণ ২০২০ সালে বাফেট সংবাদপত্র খাতে থেকে প্রাথমিকভাবে সরে গিয়েছিলেন এবং সেই সময় অনেক কাগজভিত্তিক প্রতিষ্ঠান বিক্রি করে দিয়েছিলেন। এখন নিউইয়র্ক টাইমসে পুনর্বিনিয়োগ করা হয়েছে—যা বোঝায় বার্কশায়ার টেকসই ব্র্যান্ড ও ডিজিটাল রূপান্তরের ওপর আস্থা রাখছে। অনেকে এটিকে বাফেটের কর্মজীবনের পরবর্তী পর্যায়ে নেওয়া একটি কৌশলগত সিদ্ধান্ত হিসেবে দেখছেন।

বাজার বিশ্লেষকরাও বলছেন, নিউইয়র্ক টাইমস গত কয়েক বছরে কাগজভিত্তিক ব্যবসা থেকে নিজেকে গ্লোবাল ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মে পরিণত করায় এই আস্থা বেড়েছে। প্রতিষ্ঠানটির ডিজিটাল সাবস্ক্রাইবারের সংখ্যা এক কোটিরও বেশি, এবং তারা অনলাইন গেম, শব্দধাঁধা ও ক্রীড়া কেন্দ্রিক প্ল্যাটফর্মের মতো নতুন আয়ের উৎস গড়ে তুলেছে। এই রূপান্তর ও সাবস্ক্রিপশনের বৃদ্ধিই বার্কশায়ারের বিনিয়োগের বড় কারণ হিসেবে দেখছেন অনেকে।

বাফেটের এই বিনিয়োগের খবর প্রকাশ হতেই নিউইয়র্ক টাইমসের শেয়ারদর দ্রুত উর্ধ্বমুখী হয়। বিশ্লেষকরা বলছেন, এটি শুধু ওই কোম্পানির জন্যই নয়—অনেক অবকাঠামোশীল ও স্থানীয় পত্রিকার জন্যও গুরুত্বপূর্ণ পাঠ হতে পারে।

একই রিপোর্টে দেখা গেছে, বার্কশায়ার হ্যাথাওয়ে তাদের পোর্টফোলিওতে আরো কিছু পরিবর্তন এনেছে। তারা জ্বালানি খাতের বড় কিমপুরুষ শেভরনে বিনিয়োগ বাড়িয়েছে। সূত্রগুলো বলছে, ভেনেজুয়েলায় রাজনৈতিক পরিবর্তনের পরে যুক্তরাষ্ট্রের নিয়ন্ত্রক অবস্থান শক্ত হওয়ায় শেভরনের শেয়ারদর এ বছর প্রায় ২৬ শতাংশ বাড়ার ফলে এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

অপরদিকে, প্রযুক্তি ও ব্যাংকিং খাতে প্রতিষ্ঠানটি কিছুটা সতর্ক ভূমিকা নিয়েছে। গত প্রান্তিকে বার্কশায়ার তাদের হাতে থাকা অ্যাপলের প্রায় ১ কোটি শেয়ার ও ব্যাংক অব আমেরিকার ৫ কোটি শেয়ার বিক্রি করেছে। তবু বিক্রির পরও তাদের কাছে বর্তমানে অ্যাপলের omkring ২২ কোটি ৮০ লাখ এবং ব্যাংক অব আমেরিকার ৮ কোটি ১০ লাখ শেয়ার রয়ে গেছে।

এছাড়া বার্কশায়ার হ্যাথাওয়ে জেইকো বিমা, বিএনএসএফ রেলওয়ে এবং ডেইরি কুইনসহ নানা বৃহৎ প্রতিষ্ঠান নিয়ন্ত্রণ করে চলছে। এখন বিনিয়োগকারা ও বিশ্লেষকরা দেখছেন—বাফেটের উত্তরসূরিদের নেতৃত্বে প্রতিষ্ঠানটি এই নতুন কৌশল কীভাবে এগিয়ে নেবে এবং ভবিষ্যতে কোথায় বিনিয়োগ বাড়াবে। এই সিদ্ধান্তগুলো বিশ্ব অর্থনীতির আগ্রহের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছে।