১২:০০ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২১ এপ্রিল ২০২৬, ৮ বৈশাখ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সর্বশেষঃ
জ্বালানির দর বাড়লেই নিত্যপণ্যের দাম সামঞ্জস্য করা হবে: তথ্য উপদেষ্টা কারিগরি ত্রুটিতে এলএনজি টার্মিনাল বন্ধ, দক্ষিণ ঢাকাসহ গ্যাস সংকট বাণিজ্যমন্ত্রীর আশ্বাস: জ্বালানি দাম বাড়লেও পণ্যের মূল্য বেশি বাড়বে না তারেক রহমান: জুলাই সনদের প্রতিটি শব্দ, অক্ষর আমরা বাস্তবায়ন করবো সৌদি আরবের অনুরোধ: ৬৯ হাজার রোহিঙ্গাকে দ্রুত বাংলাদেশি পাসপোর্ট প্রদান করা হোক দেশ-বিদেশ সফরে মন্ত্রী-প্রতিমন্ত্রীদের জন্য নতুন প্রটোকল ও নির্দেশনা প্রধানমন্ত্রীর উদ্বোধনে যাত্রা শুরু করল বগুড়া সিটি করপোরেশন হাম-রুবেলা টিকা নিয়ে অবহেলা করেছিল বিগত সরকার: প্রতিমন্ত্রী টুকু তেলের দাম বাড়লেও পাম্পে দীর্ঘ লাইন ও ভোগান্তি দিনেশ ত্রিবেদী ঢাকায় ভারতের হাইকমিশনার হতে যাচ্ছেন

জালিস্কো কার্টেল প্রধান ‘এল মেনচো’ নিহত, দেশে সহিংসতা ছড়িয়ে পড়লো

মেক্সিকোর সর্বাধিক খণ্ডিত ও প্রভাবশালী অপরাধ syndicate জালিস্কো নিউ জেনারেশন কার্টেলের (CJNG) প্রধান নেমেসিও রুবেন ওসেগুয়ারা সার্ভান্তেস, পরিচিত হিউ ‘এল মেনচো’, একটি নিরাপত্তা অভিযান চলাকালীন নিহত হয়েছেন। ৫৯ বছর বয়সী এই মাদক সম্রাট রোববার জালিস্কো রাজ্যের তাপালপা শহরে সেনাবাহিনীর সঙ্গে হয়ে যাওয়া রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষে গুরুতর আহত হন এবং উন্নত চিকিৎসার জন্য মেক্সিকো সিটিতে হেলিকপ্টারে নেওয়ার পথে মারা যান। তাঁর উপর যুক্তরাষ্ট্রের ঘোষণা করা পুরস্কার ছিল প্রায় দেড় কোটি মার্কিন ডলার।

এল মেনচোর মৃত্যুর খবর ছড়িয়ে পড়ার সঙ্গে সঙ্গে মেক্সিকোর অন্তত ছয়টি রাজ্যে — জালিস্কো, কলিমা, মিচোয়াকান, নায়ারিত, গুয়ানাহুয়াতো ও তামাউলিপাস — নজিরবিহীন সহিংসতা ও অরাজকতা দেখা দিয়েছে। কার্টেলের সদস্যরা প্রধান সড়কগুলোতে যানবাহন পুড়িয়ে দিয়েছে, বন্দুক ও বিস্ফোরক ব্যবহার করে সশস্ত্র মহড়া চালিয়েছে এবং জনজীবন প্রায় স্তব্ধ করে তুলেছে।

এই সহিংসতার আঘাত স্পষ্টভাবে পড়েছে গুয়াদালাজারাসহ পর্যটন কেন্দ্রগুলোতেও। জালিস্কোর রাজধানী গুয়াদালাজারায় কয়েকটি আসন্ন ফিফা বিশ্বকাপ ম্যাচ অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে—তাই পরিস্থিতি ещё উদ্বেগজনক। আতঙ্কিত মানুষ বিমানবন্দর ছাড়িয়ে সরে যেতে দেখা যায় এবং পুয়ের্তো ভালারতায় আকাশে কুণ্ডলী পাকানো ধোঁয়া উঠে আসে। জালিস্কোর গভর্নর পাবলো লেমাস বাস indদের নিরাপত্তার কথা বিবেচনা করে লোকজনকে ঘরে থাকার পরামর্শ দিয়েছেন ও সাময়িকভাবে জনপরিবহন ও স্কুল বন্ধের ঘোষণা দিয়েছেন।

মেক্সিকোর প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, এই অভিযানটিতে ব্যবহৃত গোয়েন্দা তত্ত্বাবধানের তথ্যের একটি অংশ মার্কিন গোয়েন্দা সংস্থার কাছ থেকেই আনা হয়েছিল। অভিযানে কার্টেলের চার সদস্য নিহত হয়েছে এবং আরও দুজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। ঘটনাস্থল থেকে ব্যাপক পরিমাণ সজ্জানো যান, রকেট লঞ্চার ও অত্যাধুনিক আগ্নেয়াস্ত্র উদ্ধার করা হয়েছে।

রাতেই মেক্সিকোর প্রেসিডেন্ট ক্লাউডিয়া শেইনবাউম নিরাপত্তা বাহিনীর এই সফল অভিযানের জন্য বাহিনীকে অভিনন্দন জানিয়েছেন এবং জনগণকে শান্ত থাকার আহ্বান জানিয়েছেন। মার্কিন কর্মকর্তাদের মধ্যে ক্রিস্টোফার ল্যান্ডাউ এই ঘটনাটিকে মেক্সিকো-যুক্তরাষ্ট্র দ্বিপাক্ষিক নিরাপত্তার ক্ষেত্রে একটি বড় মাইলফলক হিসেবে অভিহিত করেছেন। তৎক্ষণাত নিরাপত্তার উদ্বেগের কারণ দেখিয়ে যুক্তরাষ্ট্র ও কানাডা নির্দিষ্ট রাজ্যগুলোর জন্য ভ্রমণ সতর্কতা জারি করেছে এবং কিছু মার্কিন বিমান সংস্থা তাদের ফ্লাইট বাতিল করেছে।

নিরাপত্তা ও মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করে বলছেন, এল মেনচোর প্রয়াণ চিহ্নিত নেতৃত্বহীনতা তৈরি করতে পারে, যা দ্রুতই আরও রক্তক্ষয়ী অভ্যন্তরীণ সংঘাতে রূপ নিতে পারে। সাবেক ডিইএ কর্মকর্তা মাইক ভিজিল বলেছেন, শুধুমাত্র একজন কার্টেল প্রধানকে অপসারণ করলেই মাদক চোরাচালান থামবে না; বরং আঞ্চলিক নেতারা ক্ষমতার জন্য লড়াই শুরু করতে পারে—যা আগে ‘এল চাপো’-র ধরা পড়ার পরে দেখা গিয়েছিল।

আসন্ন ফিফা বিশ্বকাপকে সামনে রেখে এই নিরাপত্তা সংকট মেক্সিকো সরকারের জন্য একটি কঠিন পরীক্ষার সামনে নিয়ে এসেছে। পরিস্থিতি স্থিতিশীল করার জন্য নিরাপত্তা বাহিনী, স্থানীয় প্রশাসন এবং আন্তর্জাতিক অংশীদারদের সমন্বিত পদক্ষেপ জরুরি বলে বিশেষজ্ঞরা মনে করেন।

ট্যাগ :
সর্বাধিক পঠিত

কারিগরি ত্রুটিতে এলএনজি টার্মিনাল বন্ধ, দক্ষিণ ঢাকাসহ গ্যাস সংকট

জালিস্কো কার্টেল প্রধান ‘এল মেনচো’ নিহত, দেশে সহিংসতা ছড়িয়ে পড়লো

প্রকাশিতঃ ১১:৪০:০৮ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ২৩ ফেব্রুয়ারী ২০২৬

মেক্সিকোর সর্বাধিক খণ্ডিত ও প্রভাবশালী অপরাধ syndicate জালিস্কো নিউ জেনারেশন কার্টেলের (CJNG) প্রধান নেমেসিও রুবেন ওসেগুয়ারা সার্ভান্তেস, পরিচিত হিউ ‘এল মেনচো’, একটি নিরাপত্তা অভিযান চলাকালীন নিহত হয়েছেন। ৫৯ বছর বয়সী এই মাদক সম্রাট রোববার জালিস্কো রাজ্যের তাপালপা শহরে সেনাবাহিনীর সঙ্গে হয়ে যাওয়া রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষে গুরুতর আহত হন এবং উন্নত চিকিৎসার জন্য মেক্সিকো সিটিতে হেলিকপ্টারে নেওয়ার পথে মারা যান। তাঁর উপর যুক্তরাষ্ট্রের ঘোষণা করা পুরস্কার ছিল প্রায় দেড় কোটি মার্কিন ডলার।

এল মেনচোর মৃত্যুর খবর ছড়িয়ে পড়ার সঙ্গে সঙ্গে মেক্সিকোর অন্তত ছয়টি রাজ্যে — জালিস্কো, কলিমা, মিচোয়াকান, নায়ারিত, গুয়ানাহুয়াতো ও তামাউলিপাস — নজিরবিহীন সহিংসতা ও অরাজকতা দেখা দিয়েছে। কার্টেলের সদস্যরা প্রধান সড়কগুলোতে যানবাহন পুড়িয়ে দিয়েছে, বন্দুক ও বিস্ফোরক ব্যবহার করে সশস্ত্র মহড়া চালিয়েছে এবং জনজীবন প্রায় স্তব্ধ করে তুলেছে।

এই সহিংসতার আঘাত স্পষ্টভাবে পড়েছে গুয়াদালাজারাসহ পর্যটন কেন্দ্রগুলোতেও। জালিস্কোর রাজধানী গুয়াদালাজারায় কয়েকটি আসন্ন ফিফা বিশ্বকাপ ম্যাচ অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে—তাই পরিস্থিতি ещё উদ্বেগজনক। আতঙ্কিত মানুষ বিমানবন্দর ছাড়িয়ে সরে যেতে দেখা যায় এবং পুয়ের্তো ভালারতায় আকাশে কুণ্ডলী পাকানো ধোঁয়া উঠে আসে। জালিস্কোর গভর্নর পাবলো লেমাস বাস indদের নিরাপত্তার কথা বিবেচনা করে লোকজনকে ঘরে থাকার পরামর্শ দিয়েছেন ও সাময়িকভাবে জনপরিবহন ও স্কুল বন্ধের ঘোষণা দিয়েছেন।

মেক্সিকোর প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, এই অভিযানটিতে ব্যবহৃত গোয়েন্দা তত্ত্বাবধানের তথ্যের একটি অংশ মার্কিন গোয়েন্দা সংস্থার কাছ থেকেই আনা হয়েছিল। অভিযানে কার্টেলের চার সদস্য নিহত হয়েছে এবং আরও দুজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। ঘটনাস্থল থেকে ব্যাপক পরিমাণ সজ্জানো যান, রকেট লঞ্চার ও অত্যাধুনিক আগ্নেয়াস্ত্র উদ্ধার করা হয়েছে।

রাতেই মেক্সিকোর প্রেসিডেন্ট ক্লাউডিয়া শেইনবাউম নিরাপত্তা বাহিনীর এই সফল অভিযানের জন্য বাহিনীকে অভিনন্দন জানিয়েছেন এবং জনগণকে শান্ত থাকার আহ্বান জানিয়েছেন। মার্কিন কর্মকর্তাদের মধ্যে ক্রিস্টোফার ল্যান্ডাউ এই ঘটনাটিকে মেক্সিকো-যুক্তরাষ্ট্র দ্বিপাক্ষিক নিরাপত্তার ক্ষেত্রে একটি বড় মাইলফলক হিসেবে অভিহিত করেছেন। তৎক্ষণাত নিরাপত্তার উদ্বেগের কারণ দেখিয়ে যুক্তরাষ্ট্র ও কানাডা নির্দিষ্ট রাজ্যগুলোর জন্য ভ্রমণ সতর্কতা জারি করেছে এবং কিছু মার্কিন বিমান সংস্থা তাদের ফ্লাইট বাতিল করেছে।

নিরাপত্তা ও মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করে বলছেন, এল মেনচোর প্রয়াণ চিহ্নিত নেতৃত্বহীনতা তৈরি করতে পারে, যা দ্রুতই আরও রক্তক্ষয়ী অভ্যন্তরীণ সংঘাতে রূপ নিতে পারে। সাবেক ডিইএ কর্মকর্তা মাইক ভিজিল বলেছেন, শুধুমাত্র একজন কার্টেল প্রধানকে অপসারণ করলেই মাদক চোরাচালান থামবে না; বরং আঞ্চলিক নেতারা ক্ষমতার জন্য লড়াই শুরু করতে পারে—যা আগে ‘এল চাপো’-র ধরা পড়ার পরে দেখা গিয়েছিল।

আসন্ন ফিফা বিশ্বকাপকে সামনে রেখে এই নিরাপত্তা সংকট মেক্সিকো সরকারের জন্য একটি কঠিন পরীক্ষার সামনে নিয়ে এসেছে। পরিস্থিতি স্থিতিশীল করার জন্য নিরাপত্তা বাহিনী, স্থানীয় প্রশাসন এবং আন্তর্জাতিক অংশীদারদের সমন্বিত পদক্ষেপ জরুরি বলে বিশেষজ্ঞরা মনে করেন।