১১:৪৭ অপরাহ্ন, সোমবার, ২৩ ফেব্রুয়ারী ২০২৬, ১১ ফাল্গুন ১৪৩২ বঙ্গাব্দ
সর্বশেষঃ
অন্তর্বর্তী সরকারের সময়ে চাঁদাবাজি ২০–৫০ শতাংশ বৃদ্ধি: ডিসিসিআই প্রান্তিকদের সেবা নিশ্চিতে ‘ফ্যামিলি কার্ড’ ও ‘স্মার্ট কৃষক কার্ড’ চালুর নির্দেশ ধর্মব্যবসায়ী ও জুলুমবাজদের স্থান নেই বাংলাদেশে: ধর্মমন্ত্রী নতুন অ্যাটর্নি জেনারেল হচ্ছেন ব্যারিস্টার রাগিব রউফ চৌধুরী ১২ মার্চ সংসদ অধিবেশন ডেকেছেন রাষ্ট্রপতি বনফুল আদিবাসী গ্রীনহার্ট কলেজে ভাষা ও শহীদ দিবসের এক সঙ্গীতময় পালন নির্বাচনের পর ইসিতে বড় রদবদল, বদলি ১১২ কর্মকর্তা বনফুল আদিবাসী গ্রীনহার্ট কলেজে মহান শহীদ দিবস ও আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস উদযাপন ব্যারিস্টার রাগিব রউফ চৌধুরী হতে পারেন নতুন অ্যাটর্নি জেনারেল ত্রয়োদশ সংসদের প্রথম অধিবেশন ১২ মার্চ শুরু

প্রতি ২০ মিনিটে এক ধর্ষণ: অনুভব সিনহার ‘অসসি’ সিনেমায় চোখে পড়ল ভারতের কঠোর বাস্তবতা

সামাজিক বার্তাবাহী চলচ্চিত্রের জন্য সমাদৃত পরিচালক অনুভব সিনহা তার নতুন সিনেমা ‘অসসি’-র মাধ্যমে ভারতের সমাজের এক উজ্জ্বল ও তীব্র দিক তুলে ধরেছেন। এই সিনেমা, যা ২০ ফেব্রুয়ারি প্রেক্ষাগৃহে মুক্তি পেয়েছে, কেবল বিনোদনের জন্য নয়, বরং এটি ভারতের নারী নিরাপত্তা, বিচারব্যবস্থা এবং সামাজিক মানসিকতার ব্যাপক দুর্বলতা নিয়ে একটি শক্তিশালী প্রশ্ন তুলে ধরেছে। দিল্লির প্রেক্ষাপটে নির্মিত এই গল্পের বিভিন্ন অংশে দেখা যায় পিতৃতান্ত্রিক মানসিকতা, ক্ষমতার অপব্যবহার এবং বিচারহীনতার করুণ চিত্র, যা সমাজের এই অন্ধকার দিকগুলোকে স্পষ্ট করে তোলে। সিনেমার শিরোনামে ব্যবহৃত ‘অসসি’ (আশি) শব্দটি মূলত ভারতের প্রতিদিনের ধর্ষণের আনুমানিক সংখ্যার প্রতি এক অশ্লীল ইঙ্গিত, যা সত্যিই আমাদের ভাবিয়ে তোলে।

কাহিনী শুরু হয় একটি নির্জন মেট্রো স্টেশনের বাইরে, যেখানে পরিমা নামের এক স্কুলশিক্ষিকাকে অপহরণ করে একদল যুবক। চলন্ত গাড়িতে তার ওপর চলে পৈশাচিক নির্মমতা। অপর দিন সকালে রক্তাক্ত অবস্থায় উদ্ধার হওয়ার পর, পরিমার জীবন তোলে লড়াইয়ের প্রশ্ন, আর তার পরিবার সংগ্রাম করে পছন্দমতো বিচার পেতে। স্ত্রীর প্রতি তাঁর অটল সমর্থন দেওয়ায় পরিমার স্বামী বিনয় চরিত্রে মোহাম্মদ জিশান আইয়ুবের অভিনয় বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য; তিনি তার স্ত্রীর শারীরিক ও মানসিক ক্ষত নিরাময়ে ধৈর্য্য ও ভালোবাসার মাধ্যমে এক নতুন দৃষ্টান্ত স্থাপন করেন। এই দৃশ্যপট দর্শকদের মনে গভীর ছাপ ফেলবে। অন্যদিকে, নির্যাতিতার পাশে দাঁড়িয়ে আইনি লড়াই চালিয়ে যান আইনজীবী রাভি চরিত্রে তাপসী পান্নু, যিনি সমাজের অন্ধকার দিকগুলোর বিরুদ্ধে আপোষহীন সংগ্রাম চালিয়ে যান।

আদালতের কক্ষে যে দৃশ্যগুলো দেখানো হয়েছে, সেগুলো আমাদের সমাজের গভীর দাগগুলোকে চোখের সামনে এনে দেয়। অত্যন্ত নিখুঁতভাবে ফুটিয়ে তোলা হয়েছে কিভাবে ধনী ও ক্ষমতাসম্পন্ন অপরাধীর পরিবার অর্থ ও প্রভাবের মাধ্যমে মামলার গতিপথ পরিবর্তন করতে চায়, আর পুলিশে থাকা দুর্নীতি সুযোগ নেয়। বিচারপ্রক্রিয়ার সময় যখন উপযুক্ত প্রমাণের অভাবে বিচার বাধাগ্রস্ত হয়, তখনই সিনেমায় আসে এক অজ্ঞাতনামা ছাতাধারীর অপ্রত্যাশিত উপস্থিতি, যা রহস্যের ঘেরাটোপে মোড়া। ব্যক্তিগত প্রতিশোধের নেশা আর ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠার স্বপ্নের মাঝখানে এগিয়ে যায় সিনেমার পরবর্তী অংশ।

অভিনেতাদের পারফরম্যান্স এই সামাজিক বার্তা বহনকে আরও শক্তিশালী করেছে। তাপসী পান্নু তার শক্তিশালী ব্যক্তিত্ব দিয়ে রাভি চরিত্রটিকে জীবন্ত করে তুলেছেন। কানি কুসরুতি একজন লাঞ্চিত নারীর মানসিক যন্ত্রণার আন্তর্জাতিক মানের চিত্রায়ণ করেছেন। কুমুদ মিশ্রা ও মনোজ পোহাওয়ার অভিনয় যথাযথ, তবে bazı দর্শক মনে করছেন জিশান আইয়ুবের চরিত্রের পরিধি আরও বাড়ানো যেত। নাসিরুদ্দিন শাহের উপস্থিতি প্রশংসনীয় হলেও তার চরিত্রটি কিছুটা অপরিপূর্ণ বলে মনে হয়েছে।

পরিচালক অনুভব সিনহা ও চিত্রনাট্যকার গৌরব সোলাঙ্কি বাস্তব ঘটনার প্রেরণায় এই গল্পটি তুলে ধরেছেন। সিনেমার প্রতিটি দৃশ্যের মধ্যে স্পষ্ট বার্তা রয়েছে—সঠিক পারিবারিক শিক্ষা, নারীর সম্মান ও মানসিকতার পরিবর্তন ছাড়া সমাজের অন্ধকার দিকগুলো কাটিয়ে ওঠা সম্ভব নয়। ভারতে প্রতি ২০ মিনিটে একটি ধর্ষণের ঘটনা রেকর্ড হয়—এটা সিনেমার পুরো সময়ে দর্শকদের মনে দানা বাঁধায়। ‘অসসি’ শুধু এক সিনেমা নয়, এটি সমাজের প্রতিটি মানুষের অন্তরে স্পর্শ করতে চায় এমন এক সচেতনতার বার্তা। নারীরা কি কখনো নিঃসংকোচে এই সমাজে স্বাধীনভাবে জীবনযাপন করতে পারবে—এমন আবেগতাড়িত প্রশ্ন রেখে সিনেমার পর্দা নামে।

ট্যাগ :
সর্বাধিক পঠিত

প্রান্তিকদের সেবা নিশ্চিতে ‘ফ্যামিলি কার্ড’ ও ‘স্মার্ট কৃষক কার্ড’ চালুর নির্দেশ

প্রতি ২০ মিনিটে এক ধর্ষণ: অনুভব সিনহার ‘অসসি’ সিনেমায় চোখে পড়ল ভারতের কঠোর বাস্তবতা

প্রকাশিতঃ ০৪:৫৬:৩৮ অপরাহ্ন, সোমবার, ২৩ ফেব্রুয়ারী ২০২৬

সামাজিক বার্তাবাহী চলচ্চিত্রের জন্য সমাদৃত পরিচালক অনুভব সিনহা তার নতুন সিনেমা ‘অসসি’-র মাধ্যমে ভারতের সমাজের এক উজ্জ্বল ও তীব্র দিক তুলে ধরেছেন। এই সিনেমা, যা ২০ ফেব্রুয়ারি প্রেক্ষাগৃহে মুক্তি পেয়েছে, কেবল বিনোদনের জন্য নয়, বরং এটি ভারতের নারী নিরাপত্তা, বিচারব্যবস্থা এবং সামাজিক মানসিকতার ব্যাপক দুর্বলতা নিয়ে একটি শক্তিশালী প্রশ্ন তুলে ধরেছে। দিল্লির প্রেক্ষাপটে নির্মিত এই গল্পের বিভিন্ন অংশে দেখা যায় পিতৃতান্ত্রিক মানসিকতা, ক্ষমতার অপব্যবহার এবং বিচারহীনতার করুণ চিত্র, যা সমাজের এই অন্ধকার দিকগুলোকে স্পষ্ট করে তোলে। সিনেমার শিরোনামে ব্যবহৃত ‘অসসি’ (আশি) শব্দটি মূলত ভারতের প্রতিদিনের ধর্ষণের আনুমানিক সংখ্যার প্রতি এক অশ্লীল ইঙ্গিত, যা সত্যিই আমাদের ভাবিয়ে তোলে।

কাহিনী শুরু হয় একটি নির্জন মেট্রো স্টেশনের বাইরে, যেখানে পরিমা নামের এক স্কুলশিক্ষিকাকে অপহরণ করে একদল যুবক। চলন্ত গাড়িতে তার ওপর চলে পৈশাচিক নির্মমতা। অপর দিন সকালে রক্তাক্ত অবস্থায় উদ্ধার হওয়ার পর, পরিমার জীবন তোলে লড়াইয়ের প্রশ্ন, আর তার পরিবার সংগ্রাম করে পছন্দমতো বিচার পেতে। স্ত্রীর প্রতি তাঁর অটল সমর্থন দেওয়ায় পরিমার স্বামী বিনয় চরিত্রে মোহাম্মদ জিশান আইয়ুবের অভিনয় বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য; তিনি তার স্ত্রীর শারীরিক ও মানসিক ক্ষত নিরাময়ে ধৈর্য্য ও ভালোবাসার মাধ্যমে এক নতুন দৃষ্টান্ত স্থাপন করেন। এই দৃশ্যপট দর্শকদের মনে গভীর ছাপ ফেলবে। অন্যদিকে, নির্যাতিতার পাশে দাঁড়িয়ে আইনি লড়াই চালিয়ে যান আইনজীবী রাভি চরিত্রে তাপসী পান্নু, যিনি সমাজের অন্ধকার দিকগুলোর বিরুদ্ধে আপোষহীন সংগ্রাম চালিয়ে যান।

আদালতের কক্ষে যে দৃশ্যগুলো দেখানো হয়েছে, সেগুলো আমাদের সমাজের গভীর দাগগুলোকে চোখের সামনে এনে দেয়। অত্যন্ত নিখুঁতভাবে ফুটিয়ে তোলা হয়েছে কিভাবে ধনী ও ক্ষমতাসম্পন্ন অপরাধীর পরিবার অর্থ ও প্রভাবের মাধ্যমে মামলার গতিপথ পরিবর্তন করতে চায়, আর পুলিশে থাকা দুর্নীতি সুযোগ নেয়। বিচারপ্রক্রিয়ার সময় যখন উপযুক্ত প্রমাণের অভাবে বিচার বাধাগ্রস্ত হয়, তখনই সিনেমায় আসে এক অজ্ঞাতনামা ছাতাধারীর অপ্রত্যাশিত উপস্থিতি, যা রহস্যের ঘেরাটোপে মোড়া। ব্যক্তিগত প্রতিশোধের নেশা আর ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠার স্বপ্নের মাঝখানে এগিয়ে যায় সিনেমার পরবর্তী অংশ।

অভিনেতাদের পারফরম্যান্স এই সামাজিক বার্তা বহনকে আরও শক্তিশালী করেছে। তাপসী পান্নু তার শক্তিশালী ব্যক্তিত্ব দিয়ে রাভি চরিত্রটিকে জীবন্ত করে তুলেছেন। কানি কুসরুতি একজন লাঞ্চিত নারীর মানসিক যন্ত্রণার আন্তর্জাতিক মানের চিত্রায়ণ করেছেন। কুমুদ মিশ্রা ও মনোজ পোহাওয়ার অভিনয় যথাযথ, তবে bazı দর্শক মনে করছেন জিশান আইয়ুবের চরিত্রের পরিধি আরও বাড়ানো যেত। নাসিরুদ্দিন শাহের উপস্থিতি প্রশংসনীয় হলেও তার চরিত্রটি কিছুটা অপরিপূর্ণ বলে মনে হয়েছে।

পরিচালক অনুভব সিনহা ও চিত্রনাট্যকার গৌরব সোলাঙ্কি বাস্তব ঘটনার প্রেরণায় এই গল্পটি তুলে ধরেছেন। সিনেমার প্রতিটি দৃশ্যের মধ্যে স্পষ্ট বার্তা রয়েছে—সঠিক পারিবারিক শিক্ষা, নারীর সম্মান ও মানসিকতার পরিবর্তন ছাড়া সমাজের অন্ধকার দিকগুলো কাটিয়ে ওঠা সম্ভব নয়। ভারতে প্রতি ২০ মিনিটে একটি ধর্ষণের ঘটনা রেকর্ড হয়—এটা সিনেমার পুরো সময়ে দর্শকদের মনে দানা বাঁধায়। ‘অসসি’ শুধু এক সিনেমা নয়, এটি সমাজের প্রতিটি মানুষের অন্তরে স্পর্শ করতে চায় এমন এক সচেতনতার বার্তা। নারীরা কি কখনো নিঃসংকোচে এই সমাজে স্বাধীনভাবে জীবনযাপন করতে পারবে—এমন আবেগতাড়িত প্রশ্ন রেখে সিনেমার পর্দা নামে।