০৮:৫২ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ১৭ জুলাই ২০২৬, ২ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সর্বশেষঃ
এলডিসি উত্তরণে বাংলাদেশকে পাশে রাখবে ইইউ ও জি-৭৭ ইইউ ও জি-৭৭ দেশের এলডিসি উত্তরণে বাংলাদেশের প্রস্তুতিকাল বাড়াতে সমর্থন শিক্ষার্থীদের আন্দোলনের আড়ালে ঘোলা পানিতে মাছ শিকার করতে চায় কিছু মহল: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বৈষম্যমুক্ত বাংলাদেশ গড়তে সবাইকে একজোট হয়ে কাজ করতে হবে: প্রধানমন্ত্রী শিক্ষার্থীদের আন্দোলনের আড়ালে ঘোলা পানিতে মাছ শিকার করতে চায় কিছু মহল: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অনলাইন জুয়ার লেনদেনে দিনে ৫ কোটি: টঙ্গী–কুমিল্লায় অভিযানে ছয় গ্রেফতার বৈষম্যহীন বাংলাদেশ গড়তে সবাইকে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করতে হবে: প্রধানমন্ত্রী পরিবহন-লজিস্টিকস ও সামুদ্রিক খাতে বিনিয়োগে আগ্রহী সৌদি আরব প্রধানমন্ত্রীর শিক্ষকদের প্রতি আহ্বান: শিশুদের মানবিকভাবে গড়ে তুলুন পরিবহন, লজিস্টিকস ও সামুদ্রিক খাতে বাংলাদেশে বিনিয়োগে আগ্রহী সৌদি আরব

সিল-স্বাক্ষর জালিয়াতি করে প্রায় ৭ কোটি টাকার সরকারি জমি দখল: সাতক্ষীরায় মামলা

সাতক্ষীরার শ্যামনগর উপজেলায় রেকর্ডরুমের সিল ও স্বাক্ষর জালিয়াতির মাধ্যমে প্রায় ৭ কোটি টাকার সরকারি জমি আত্মসাৎ করার অভিযোগে তিনজনের বিরুদ্ধে মামলা হয়েছে। অভিযোগে নাম রয়েছে গোপালপুর গ্রামের মলয় কুমার, তাঁর ভাই কুমারেন্দ্র নাথ এবং ভোলানাথ গাইনের ছেলে অরবিন্দু নাথের।

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, গোপালপুর মৌজার এসএ নং ২১, ২৪, ২৫ ও ২৬ খতিয়ানের মোট ৪ একর ৩২ শতক জমি ১৯৮১ সালে জাল দলিল করে দখলের চেষ্টা করা হয়। অভিযুক্তরা প্রায় তিন দশক আগে ভারতে চলে যাওয়া এক ব্যক্তিকে দাতা প্রদর্শন করে ওই জমি নিজেদের নামে দখল করে নেন। এরপর জাল খতিয়ান তৈরি ও সংশ্লিষ্ট কাগজপত্রে নামপত্তনসহ বিভিন্ন প্রশাসনিক কার্যক্রম সম্পন্ন করা হয়।

পরবর্তীতে মালিকানা দাবি করে মলয় ও তার ভাইরা বিজ্ঞ যুগ্ম জেলা ও দায়রা জজ আদালতে (সাতক্ষীরার) ১৮/২০০৫ নং মামলাও করেন। ওই মামলায় তারা জেলা রেকর্ডরুমের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের সিল-স্বাক্ষর দেখিয়ে এসএ ২১, ২৪, ২৫, ২৬ নং খতিয়ানের কপি দাখিল করেন।

কিন্তু সম্প্রতি স্থানীয়রা ওই কাগজপত্রের জালিয়াতির কথা সামনে আনলে বিষয়টি তদন্তের আওতায় আসে। ২০২৪ সালের ১ ডিসেম্বর ব্রহ্মশাসন গ্রামের মো. মুজিবুল হক জেলা প্রশাসকের নিকট লিখিতভাবে বিষয়টি জানালে রেকর্ডরুম শাখা তদন্ত শুরু করে। তদন্তে প্রমাণিত হয় যে মলয় কুমার দিং দের সরবরাহকৃত কাগজপত্র জাল।

এসএসএম ফজলুল রহমান, শ্যামনগর সদর ইউনিয়ন ভূমি সহকারী কর্মকর্তা, অভিযোগের ভিত্তিতে ১১ ফেব্রুয়ারি শ্যামনগর থানায় মামলাটি দায়ের করেন। জেলা প্রশাসকের নির্দেশে করা মামলায় আহত অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে অভিযুক্ত তিনজনকে ভারতীয় দন্ডবিধির (পেনাল কোড) ১৮৬০ অনুযায়ী ৪১৯, ৪২০, ৪৬৮ ও ৪৭১ ধারায় নামানো হয়েছে।

মামলা দায়েরের প্রায় ১৫ দিন অতিবাহিত হলেও এখনও আসামিরা গ্রেপ্তার হননি। অভিযুক্তরা অর্থ ও রাজনৈতিক প্রভাব খাটিয়ে গ্রেপ্তার এড়ানোর চেষ্টা করছেন এবং ঘটনাটি ঢাকাও দেয়ার চেষ্টা করছে, এমন অভিযোগ উঠেছে। মামলার তদন্তভার উপপরিদর্শক মোরছালিনের ওপর অর্পণ করা হয়েছে বলে শ্যামনগর থানার ওসি খালেদুর রহমান জানিয়েছেন।

অভিযুক্ত মলয় কুমার বলেছেন, তিনি উচ্চ আদালত থেকে জামিন পেতে চেষ্টা করছেন।

বর্তমানে মামলা ও তদন্ত চলছে; থানাও সংশ্লিষ্ট সাক্ষ্য-প্রমাণ সংগ্রহ করছে, এবং অভিযোগের সত্যতা ও দায়ীদের গ্রেপ্তারের প্রক্রিয়া দ্রুত এগোনোর চেষ্টা করা হবে।

ট্যাগ :
সর্বাধিক পঠিত

ইইউ ও জি-৭৭ দেশের এলডিসি উত্তরণে বাংলাদেশের প্রস্তুতিকাল বাড়াতে সমর্থন

সিল-স্বাক্ষর জালিয়াতি করে প্রায় ৭ কোটি টাকার সরকারি জমি দখল: সাতক্ষীরায় মামলা

প্রকাশিতঃ ০৮:২৩:১৮ অপরাহ্ন, সোমবার, ২৩ ফেব্রুয়ারী ২০২৬

সাতক্ষীরার শ্যামনগর উপজেলায় রেকর্ডরুমের সিল ও স্বাক্ষর জালিয়াতির মাধ্যমে প্রায় ৭ কোটি টাকার সরকারি জমি আত্মসাৎ করার অভিযোগে তিনজনের বিরুদ্ধে মামলা হয়েছে। অভিযোগে নাম রয়েছে গোপালপুর গ্রামের মলয় কুমার, তাঁর ভাই কুমারেন্দ্র নাথ এবং ভোলানাথ গাইনের ছেলে অরবিন্দু নাথের।

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, গোপালপুর মৌজার এসএ নং ২১, ২৪, ২৫ ও ২৬ খতিয়ানের মোট ৪ একর ৩২ শতক জমি ১৯৮১ সালে জাল দলিল করে দখলের চেষ্টা করা হয়। অভিযুক্তরা প্রায় তিন দশক আগে ভারতে চলে যাওয়া এক ব্যক্তিকে দাতা প্রদর্শন করে ওই জমি নিজেদের নামে দখল করে নেন। এরপর জাল খতিয়ান তৈরি ও সংশ্লিষ্ট কাগজপত্রে নামপত্তনসহ বিভিন্ন প্রশাসনিক কার্যক্রম সম্পন্ন করা হয়।

পরবর্তীতে মালিকানা দাবি করে মলয় ও তার ভাইরা বিজ্ঞ যুগ্ম জেলা ও দায়রা জজ আদালতে (সাতক্ষীরার) ১৮/২০০৫ নং মামলাও করেন। ওই মামলায় তারা জেলা রেকর্ডরুমের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের সিল-স্বাক্ষর দেখিয়ে এসএ ২১, ২৪, ২৫, ২৬ নং খতিয়ানের কপি দাখিল করেন।

কিন্তু সম্প্রতি স্থানীয়রা ওই কাগজপত্রের জালিয়াতির কথা সামনে আনলে বিষয়টি তদন্তের আওতায় আসে। ২০২৪ সালের ১ ডিসেম্বর ব্রহ্মশাসন গ্রামের মো. মুজিবুল হক জেলা প্রশাসকের নিকট লিখিতভাবে বিষয়টি জানালে রেকর্ডরুম শাখা তদন্ত শুরু করে। তদন্তে প্রমাণিত হয় যে মলয় কুমার দিং দের সরবরাহকৃত কাগজপত্র জাল।

এসএসএম ফজলুল রহমান, শ্যামনগর সদর ইউনিয়ন ভূমি সহকারী কর্মকর্তা, অভিযোগের ভিত্তিতে ১১ ফেব্রুয়ারি শ্যামনগর থানায় মামলাটি দায়ের করেন। জেলা প্রশাসকের নির্দেশে করা মামলায় আহত অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে অভিযুক্ত তিনজনকে ভারতীয় দন্ডবিধির (পেনাল কোড) ১৮৬০ অনুযায়ী ৪১৯, ৪২০, ৪৬৮ ও ৪৭১ ধারায় নামানো হয়েছে।

মামলা দায়েরের প্রায় ১৫ দিন অতিবাহিত হলেও এখনও আসামিরা গ্রেপ্তার হননি। অভিযুক্তরা অর্থ ও রাজনৈতিক প্রভাব খাটিয়ে গ্রেপ্তার এড়ানোর চেষ্টা করছেন এবং ঘটনাটি ঢাকাও দেয়ার চেষ্টা করছে, এমন অভিযোগ উঠেছে। মামলার তদন্তভার উপপরিদর্শক মোরছালিনের ওপর অর্পণ করা হয়েছে বলে শ্যামনগর থানার ওসি খালেদুর রহমান জানিয়েছেন।

অভিযুক্ত মলয় কুমার বলেছেন, তিনি উচ্চ আদালত থেকে জামিন পেতে চেষ্টা করছেন।

বর্তমানে মামলা ও তদন্ত চলছে; থানাও সংশ্লিষ্ট সাক্ষ্য-প্রমাণ সংগ্রহ করছে, এবং অভিযোগের সত্যতা ও দায়ীদের গ্রেপ্তারের প্রক্রিয়া দ্রুত এগোনোর চেষ্টা করা হবে।