সাতক্ষীরার শ্যামনগর উপজেলায় রেকর্ডরুমের সিল ও স্বাক্ষর জালিয়াতির মাধ্যমে প্রায় ৭ কোটি টাকার সরকারি জমি আত্মসাৎ করার অভিযোগে তিনজনের বিরুদ্ধে মামলা হয়েছে। অভিযোগে নাম রয়েছে গোপালপুর গ্রামের মলয় কুমার, তাঁর ভাই কুমারেন্দ্র নাথ এবং ভোলানাথ গাইনের ছেলে অরবিন্দু নাথের।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, গোপালপুর মৌজার এসএ নং ২১, ২৪, ২৫ ও ২৬ খতিয়ানের মোট ৪ একর ৩২ শতক জমি ১৯৮১ সালে জাল দলিল করে দখলের চেষ্টা করা হয়। অভিযুক্তরা প্রায় তিন দশক আগে ভারতে চলে যাওয়া এক ব্যক্তিকে দাতা প্রদর্শন করে ওই জমি নিজেদের নামে দখল করে নেন। এরপর জাল খতিয়ান তৈরি ও সংশ্লিষ্ট কাগজপত্রে নামপত্তনসহ বিভিন্ন প্রশাসনিক কার্যক্রম সম্পন্ন করা হয়।
পরবর্তীতে মালিকানা দাবি করে মলয় ও তার ভাইরা বিজ্ঞ যুগ্ম জেলা ও দায়রা জজ আদালতে (সাতক্ষীরার) ১৮/২০০৫ নং মামলাও করেন। ওই মামলায় তারা জেলা রেকর্ডরুমের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের সিল-স্বাক্ষর দেখিয়ে এসএ ২১, ২৪, ২৫, ২৬ নং খতিয়ানের কপি দাখিল করেন।
কিন্তু সম্প্রতি স্থানীয়রা ওই কাগজপত্রের জালিয়াতির কথা সামনে আনলে বিষয়টি তদন্তের আওতায় আসে। ২০২৪ সালের ১ ডিসেম্বর ব্রহ্মশাসন গ্রামের মো. মুজিবুল হক জেলা প্রশাসকের নিকট লিখিতভাবে বিষয়টি জানালে রেকর্ডরুম শাখা তদন্ত শুরু করে। তদন্তে প্রমাণিত হয় যে মলয় কুমার দিং দের সরবরাহকৃত কাগজপত্র জাল।
এসএসএম ফজলুল রহমান, শ্যামনগর সদর ইউনিয়ন ভূমি সহকারী কর্মকর্তা, অভিযোগের ভিত্তিতে ১১ ফেব্রুয়ারি শ্যামনগর থানায় মামলাটি দায়ের করেন। জেলা প্রশাসকের নির্দেশে করা মামলায় আহত অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে অভিযুক্ত তিনজনকে ভারতীয় দন্ডবিধির (পেনাল কোড) ১৮৬০ অনুযায়ী ৪১৯, ৪২০, ৪৬৮ ও ৪৭১ ধারায় নামানো হয়েছে।
মামলা দায়েরের প্রায় ১৫ দিন অতিবাহিত হলেও এখনও আসামিরা গ্রেপ্তার হননি। অভিযুক্তরা অর্থ ও রাজনৈতিক প্রভাব খাটিয়ে গ্রেপ্তার এড়ানোর চেষ্টা করছেন এবং ঘটনাটি ঢাকাও দেয়ার চেষ্টা করছে, এমন অভিযোগ উঠেছে। মামলার তদন্তভার উপপরিদর্শক মোরছালিনের ওপর অর্পণ করা হয়েছে বলে শ্যামনগর থানার ওসি খালেদুর রহমান জানিয়েছেন।
অভিযুক্ত মলয় কুমার বলেছেন, তিনি উচ্চ আদালত থেকে জামিন পেতে চেষ্টা করছেন।
বর্তমানে মামলা ও তদন্ত চলছে; থানাও সংশ্লিষ্ট সাক্ষ্য-প্রমাণ সংগ্রহ করছে, এবং অভিযোগের সত্যতা ও দায়ীদের গ্রেপ্তারের প্রক্রিয়া দ্রুত এগোনোর চেষ্টা করা হবে।
শ্রীমঙ্গল২৪ ডেস্ক 























