০৮:৩৩ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ২১ এপ্রিল ২০২৬, ৮ বৈশাখ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সর্বশেষঃ
বাণিজ্যমন্ত্রীর আশ্বাস: জ্বালানি দাম বাড়লেও পণ্যের মূল্য বেশি বাড়বে না তারেক রহমান: জুলাই সনদের প্রতিটি শব্দ, অক্ষর আমরা বাস্তবায়ন করবো সৌদি আরবের অনুরোধ: ৬৯ হাজার রোহিঙ্গাকে দ্রুত বাংলাদেশি পাসপোর্ট প্রদান করা হোক দেশ-বিদেশ সফরে মন্ত্রী-প্রতিমন্ত্রীদের জন্য নতুন প্রটোকল ও নির্দেশনা প্রধানমন্ত্রীর উদ্বোধনে যাত্রা শুরু করল বগুড়া সিটি করপোরেশন হাম-রুবেলা টিকা নিয়ে অবহেলা করেছিল বিগত সরকার: প্রতিমন্ত্রী টুকু তেলের দাম বাড়লেও পাম্পে দীর্ঘ লাইন ও ভোগান্তি দিনেশ ত্রিবেদী ঢাকায় ভারতের হাইকমিশনার হতে যাচ্ছেন সচিব পদমর্যাদায় চুক্তিভিত্তিক নিয়োগ পেলেন সাবেক তিন আমলা বিশ্ববাজারে তেলদাম দ্বিগুণ হলেও সরকার কেবল সামান্য মূল্যবৃদ্ধি করেছে: জ্বালানি মন্ত্রী

সিল-স্বাক্ষর জালিয়াতি করে প্রায় ৭ কোটি টাকার সরকারি জমি দখল: সাতক্ষীরায় মামলা

সাতক্ষীরার শ্যামনগর উপজেলায় রেকর্ডরুমের সিল ও স্বাক্ষর জালিয়াতির মাধ্যমে প্রায় ৭ কোটি টাকার সরকারি জমি আত্মসাৎ করার অভিযোগে তিনজনের বিরুদ্ধে মামলা হয়েছে। অভিযোগে নাম রয়েছে গোপালপুর গ্রামের মলয় কুমার, তাঁর ভাই কুমারেন্দ্র নাথ এবং ভোলানাথ গাইনের ছেলে অরবিন্দু নাথের।

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, গোপালপুর মৌজার এসএ নং ২১, ২৪, ২৫ ও ২৬ খতিয়ানের মোট ৪ একর ৩২ শতক জমি ১৯৮১ সালে জাল দলিল করে দখলের চেষ্টা করা হয়। অভিযুক্তরা প্রায় তিন দশক আগে ভারতে চলে যাওয়া এক ব্যক্তিকে দাতা প্রদর্শন করে ওই জমি নিজেদের নামে দখল করে নেন। এরপর জাল খতিয়ান তৈরি ও সংশ্লিষ্ট কাগজপত্রে নামপত্তনসহ বিভিন্ন প্রশাসনিক কার্যক্রম সম্পন্ন করা হয়।

পরবর্তীতে মালিকানা দাবি করে মলয় ও তার ভাইরা বিজ্ঞ যুগ্ম জেলা ও দায়রা জজ আদালতে (সাতক্ষীরার) ১৮/২০০৫ নং মামলাও করেন। ওই মামলায় তারা জেলা রেকর্ডরুমের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের সিল-স্বাক্ষর দেখিয়ে এসএ ২১, ২৪, ২৫, ২৬ নং খতিয়ানের কপি দাখিল করেন।

কিন্তু সম্প্রতি স্থানীয়রা ওই কাগজপত্রের জালিয়াতির কথা সামনে আনলে বিষয়টি তদন্তের আওতায় আসে। ২০২৪ সালের ১ ডিসেম্বর ব্রহ্মশাসন গ্রামের মো. মুজিবুল হক জেলা প্রশাসকের নিকট লিখিতভাবে বিষয়টি জানালে রেকর্ডরুম শাখা তদন্ত শুরু করে। তদন্তে প্রমাণিত হয় যে মলয় কুমার দিং দের সরবরাহকৃত কাগজপত্র জাল।

এসএসএম ফজলুল রহমান, শ্যামনগর সদর ইউনিয়ন ভূমি সহকারী কর্মকর্তা, অভিযোগের ভিত্তিতে ১১ ফেব্রুয়ারি শ্যামনগর থানায় মামলাটি দায়ের করেন। জেলা প্রশাসকের নির্দেশে করা মামলায় আহত অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে অভিযুক্ত তিনজনকে ভারতীয় দন্ডবিধির (পেনাল কোড) ১৮৬০ অনুযায়ী ৪১৯, ৪২০, ৪৬৮ ও ৪৭১ ধারায় নামানো হয়েছে।

মামলা দায়েরের প্রায় ১৫ দিন অতিবাহিত হলেও এখনও আসামিরা গ্রেপ্তার হননি। অভিযুক্তরা অর্থ ও রাজনৈতিক প্রভাব খাটিয়ে গ্রেপ্তার এড়ানোর চেষ্টা করছেন এবং ঘটনাটি ঢাকাও দেয়ার চেষ্টা করছে, এমন অভিযোগ উঠেছে। মামলার তদন্তভার উপপরিদর্শক মোরছালিনের ওপর অর্পণ করা হয়েছে বলে শ্যামনগর থানার ওসি খালেদুর রহমান জানিয়েছেন।

অভিযুক্ত মলয় কুমার বলেছেন, তিনি উচ্চ আদালত থেকে জামিন পেতে চেষ্টা করছেন।

বর্তমানে মামলা ও তদন্ত চলছে; থানাও সংশ্লিষ্ট সাক্ষ্য-প্রমাণ সংগ্রহ করছে, এবং অভিযোগের সত্যতা ও দায়ীদের গ্রেপ্তারের প্রক্রিয়া দ্রুত এগোনোর চেষ্টা করা হবে।

ট্যাগ :
সর্বাধিক পঠিত

তারেক রহমান: জুলাই সনদের প্রতিটি শব্দ, অক্ষর আমরা বাস্তবায়ন করবো

সিল-স্বাক্ষর জালিয়াতি করে প্রায় ৭ কোটি টাকার সরকারি জমি দখল: সাতক্ষীরায় মামলা

প্রকাশিতঃ ০৮:২৩:১৮ অপরাহ্ন, সোমবার, ২৩ ফেব্রুয়ারী ২০২৬

সাতক্ষীরার শ্যামনগর উপজেলায় রেকর্ডরুমের সিল ও স্বাক্ষর জালিয়াতির মাধ্যমে প্রায় ৭ কোটি টাকার সরকারি জমি আত্মসাৎ করার অভিযোগে তিনজনের বিরুদ্ধে মামলা হয়েছে। অভিযোগে নাম রয়েছে গোপালপুর গ্রামের মলয় কুমার, তাঁর ভাই কুমারেন্দ্র নাথ এবং ভোলানাথ গাইনের ছেলে অরবিন্দু নাথের।

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, গোপালপুর মৌজার এসএ নং ২১, ২৪, ২৫ ও ২৬ খতিয়ানের মোট ৪ একর ৩২ শতক জমি ১৯৮১ সালে জাল দলিল করে দখলের চেষ্টা করা হয়। অভিযুক্তরা প্রায় তিন দশক আগে ভারতে চলে যাওয়া এক ব্যক্তিকে দাতা প্রদর্শন করে ওই জমি নিজেদের নামে দখল করে নেন। এরপর জাল খতিয়ান তৈরি ও সংশ্লিষ্ট কাগজপত্রে নামপত্তনসহ বিভিন্ন প্রশাসনিক কার্যক্রম সম্পন্ন করা হয়।

পরবর্তীতে মালিকানা দাবি করে মলয় ও তার ভাইরা বিজ্ঞ যুগ্ম জেলা ও দায়রা জজ আদালতে (সাতক্ষীরার) ১৮/২০০৫ নং মামলাও করেন। ওই মামলায় তারা জেলা রেকর্ডরুমের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের সিল-স্বাক্ষর দেখিয়ে এসএ ২১, ২৪, ২৫, ২৬ নং খতিয়ানের কপি দাখিল করেন।

কিন্তু সম্প্রতি স্থানীয়রা ওই কাগজপত্রের জালিয়াতির কথা সামনে আনলে বিষয়টি তদন্তের আওতায় আসে। ২০২৪ সালের ১ ডিসেম্বর ব্রহ্মশাসন গ্রামের মো. মুজিবুল হক জেলা প্রশাসকের নিকট লিখিতভাবে বিষয়টি জানালে রেকর্ডরুম শাখা তদন্ত শুরু করে। তদন্তে প্রমাণিত হয় যে মলয় কুমার দিং দের সরবরাহকৃত কাগজপত্র জাল।

এসএসএম ফজলুল রহমান, শ্যামনগর সদর ইউনিয়ন ভূমি সহকারী কর্মকর্তা, অভিযোগের ভিত্তিতে ১১ ফেব্রুয়ারি শ্যামনগর থানায় মামলাটি দায়ের করেন। জেলা প্রশাসকের নির্দেশে করা মামলায় আহত অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে অভিযুক্ত তিনজনকে ভারতীয় দন্ডবিধির (পেনাল কোড) ১৮৬০ অনুযায়ী ৪১৯, ৪২০, ৪৬৮ ও ৪৭১ ধারায় নামানো হয়েছে।

মামলা দায়েরের প্রায় ১৫ দিন অতিবাহিত হলেও এখনও আসামিরা গ্রেপ্তার হননি। অভিযুক্তরা অর্থ ও রাজনৈতিক প্রভাব খাটিয়ে গ্রেপ্তার এড়ানোর চেষ্টা করছেন এবং ঘটনাটি ঢাকাও দেয়ার চেষ্টা করছে, এমন অভিযোগ উঠেছে। মামলার তদন্তভার উপপরিদর্শক মোরছালিনের ওপর অর্পণ করা হয়েছে বলে শ্যামনগর থানার ওসি খালেদুর রহমান জানিয়েছেন।

অভিযুক্ত মলয় কুমার বলেছেন, তিনি উচ্চ আদালত থেকে জামিন পেতে চেষ্টা করছেন।

বর্তমানে মামলা ও তদন্ত চলছে; থানাও সংশ্লিষ্ট সাক্ষ্য-প্রমাণ সংগ্রহ করছে, এবং অভিযোগের সত্যতা ও দায়ীদের গ্রেপ্তারের প্রক্রিয়া দ্রুত এগোনোর চেষ্টা করা হবে।