১১:৩৭ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ১৭ জুলাই ২০২৬, ২ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সর্বশেষঃ
বৈষম্যমুক্ত বাংলাদেশ গড়তে সবাইকে একজোট হয়ে কাজ করতে হবে: প্রধানমন্ত্রী শিক্ষার্থীদের আন্দোলনের আড়ালে ঘোলা পানিতে মাছ শিকার করতে চায় কিছু মহল: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অনলাইন জুয়ার লেনদেনে দিনে ৫ কোটি: টঙ্গী–কুমিল্লায় অভিযানে ছয় গ্রেফতার বৈষম্যহীন বাংলাদেশ গড়তে সবাইকে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করতে হবে: প্রধানমন্ত্রী পরিবহন-লজিস্টিকস ও সামুদ্রিক খাতে বিনিয়োগে আগ্রহী সৌদি আরব প্রধানমন্ত্রীর শিক্ষকদের প্রতি আহ্বান: শিশুদের মানবিকভাবে গড়ে তুলুন পরিবহন, লজিস্টিকস ও সামুদ্রিক খাতে বাংলাদেশে বিনিয়োগে আগ্রহী সৌদি আরব শিশুদের মানবিক গড়ে তোলায় শিক্ষকদের প্রতি প্রধানমন্ত্রীর আহ্বান সৌদি আরব বাংলাদেশে পরিবহন, লজিস্টিকস ও সামুদ্রিক খাতে বিনিয়োগে আগ্রহী প্রধানমন্ত্রীর আহ্বান: শিশুদের মানবিকভাবে গড়ুন

পেশিশক্তির চাপে বিশ্বজুড়ে মানবাধিকার সংকট: জাতিসংঘ মহাসচিব

জাতিসংঘ মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেস সতর্ক করেছেন, বিশ্বজুড়ে মানবাধিকার এখন আক্রমণের মুখে এবং আইনের শাসনের জায়গা দখল করছে শক্তিধর গোষ্ঠী বা ‘পেশিশক্তি’। তিনি সোমবার (২৩ ফেব্রুয়ারি) জেনেভায় জাতিসংঘ মানবাধিকার পরিষদের বার্ষিক অধিবেশন উদ্বোধনী ভাষণে এসব কথা বলেন।

গুতেরেস কোনো নির্দিষ্ট দেশের নাম না নিলেও ইউক্রেন ও ফিলিস্তিন পরিস্থিতিকে সামনে রেখে তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করেন। তিনি বলেন, চার বছরের যুদ্ধে ইউক্রেনে ১৫ হাজারের বেশি বেসামরিক মানুষ নিহত হয়েছেন। এই সহিংসতা আড়াল করেই নয়, বরঞ্চ ক্ষমতার শীর্ষে থাকা ব্যক্তিদের হাত ধরেই সবার চোখের সামনে ঘটছে। রক্তপাত থামানোর সময় অনেক আগে পেরিয়ে গেছে — আজ মানবাধিকার পুরোপুরি কোণঠাসা হয়ে পড়েছে।

ফিলিস্তিন ইস্যুতে তিনি বলেন, অধিকৃত ফিলিস্তিনি ভূখণ্ডে মানবাধিকার, মানবিক মর্যাদা এবং আন্তর্জাতিক আইন নগ্নভাবে লঙ্ঘিত হচ্ছে। দ্বি-রাষ্ট্রীয় সমাধানের ধারণাকে ধ্বংস করে দেওয়া হচ্ছে এবং আন্তর্জাতিক সম্প্রদায় এটিকে সহ্য করতে পারে না।

বার্তা সংস্থা এএফপির প্রতিবেদন অনুসারে, চলতি বছরের শেষে গুতেরেসের দ্বিতীয় মেয়াদের দায়িত্ব শেষ হবে। তার উদ্বোধনী ভাষণে তিনি আরও বলেন, ‘‘আমরা এমন এক পৃথিবীতে বাস করছি যেখানে গণমানুষের দুর্ভোগকে অজুহাত দিয়ে এড়িয়ে যাওয়া হচ্ছে, মানুষকে দাবার ঘুঁটি হিসেবে ব্যবহার করা হচ্ছে এবং আন্তর্জাতিক আইনকে একটি নিছক অসুবিধা বা বাধা হিসেবে দেখা হচ্ছে।’’। তিনি মনে করেন এই মানবাধিকারগত পশ্চাদপসরণ পরিকল্পিত এবং কৌশলগতভাবে পরিচালিত হচ্ছে।

জাতিসংঘের মানবাধিকার বিষয়ক হাইকমিশনার ভলকার তুর্কও একই সুরে সতর্ক করেছেন। তিনি বলেন, বিশ্বে আধিপত্য বিস্তার ও শ্রেষ্ঠত্ব কায়েমের প্রবণতা আবার ফিরে এসেছে এবং গত ৮০ বছরের মধ্যে বর্তমানে ক্ষমতার দখল ও সম্পদের উপর সবচেয়ে তীব্র প্রতিযোগিতা দেখা যাচ্ছে।

তুর্ক আরও বলেন, সার্বভৌম দেশগুলোর বিরুদ্ধে উসকানিমূলক হুমকি যে কোনো সময় ব্যাপক সংঘর্ষের আগুন জ্বালিয়ে দিতে পারে। সুদান থেকে গাজা, ইউক্রেন থেকে মিয়ানমার—সবখানেই বেসামরিক মানুষের হাহাকার আমাদের চোখের সামনে ঘটছে এবং যুদ্ধবিরোধী নিয়মগুলি নির্মমভাবে লঙ্ঘিত হচ্ছে।

অবশেষে গুতেরেস ও তুর্ক—দুটি উচ্চপদস্থ কণ্ঠই বর্তমান বিশ্ব নেতৃত্বকে আন্তর্জাতিক আইনের প্রতি শ্রদ্ধাশীল হতে আহ্বান জানিয়েছে। তারা সতর্ক করেছেন, যদি আন্তর্জাতিক আইনকে কেবল একটি ‘অসুবিধা’ বা বাধা হিসেবে দেখা হয়, তাহলে বিশ্ব একটি নিয়ন্ত্রণহীন সংকটের দিকে ধাবিত হবে।

ট্যাগ :
সর্বাধিক পঠিত

বৈষম্যমুক্ত বাংলাদেশ গড়তে সবাইকে একজোট হয়ে কাজ করতে হবে: প্রধানমন্ত্রী

পেশিশক্তির চাপে বিশ্বজুড়ে মানবাধিকার সংকট: জাতিসংঘ মহাসচিব

প্রকাশিতঃ ০৮:২৫:১৮ অপরাহ্ন, সোমবার, ২৩ ফেব্রুয়ারী ২০২৬

জাতিসংঘ মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেস সতর্ক করেছেন, বিশ্বজুড়ে মানবাধিকার এখন আক্রমণের মুখে এবং আইনের শাসনের জায়গা দখল করছে শক্তিধর গোষ্ঠী বা ‘পেশিশক্তি’। তিনি সোমবার (২৩ ফেব্রুয়ারি) জেনেভায় জাতিসংঘ মানবাধিকার পরিষদের বার্ষিক অধিবেশন উদ্বোধনী ভাষণে এসব কথা বলেন।

গুতেরেস কোনো নির্দিষ্ট দেশের নাম না নিলেও ইউক্রেন ও ফিলিস্তিন পরিস্থিতিকে সামনে রেখে তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করেন। তিনি বলেন, চার বছরের যুদ্ধে ইউক্রেনে ১৫ হাজারের বেশি বেসামরিক মানুষ নিহত হয়েছেন। এই সহিংসতা আড়াল করেই নয়, বরঞ্চ ক্ষমতার শীর্ষে থাকা ব্যক্তিদের হাত ধরেই সবার চোখের সামনে ঘটছে। রক্তপাত থামানোর সময় অনেক আগে পেরিয়ে গেছে — আজ মানবাধিকার পুরোপুরি কোণঠাসা হয়ে পড়েছে।

ফিলিস্তিন ইস্যুতে তিনি বলেন, অধিকৃত ফিলিস্তিনি ভূখণ্ডে মানবাধিকার, মানবিক মর্যাদা এবং আন্তর্জাতিক আইন নগ্নভাবে লঙ্ঘিত হচ্ছে। দ্বি-রাষ্ট্রীয় সমাধানের ধারণাকে ধ্বংস করে দেওয়া হচ্ছে এবং আন্তর্জাতিক সম্প্রদায় এটিকে সহ্য করতে পারে না।

বার্তা সংস্থা এএফপির প্রতিবেদন অনুসারে, চলতি বছরের শেষে গুতেরেসের দ্বিতীয় মেয়াদের দায়িত্ব শেষ হবে। তার উদ্বোধনী ভাষণে তিনি আরও বলেন, ‘‘আমরা এমন এক পৃথিবীতে বাস করছি যেখানে গণমানুষের দুর্ভোগকে অজুহাত দিয়ে এড়িয়ে যাওয়া হচ্ছে, মানুষকে দাবার ঘুঁটি হিসেবে ব্যবহার করা হচ্ছে এবং আন্তর্জাতিক আইনকে একটি নিছক অসুবিধা বা বাধা হিসেবে দেখা হচ্ছে।’’। তিনি মনে করেন এই মানবাধিকারগত পশ্চাদপসরণ পরিকল্পিত এবং কৌশলগতভাবে পরিচালিত হচ্ছে।

জাতিসংঘের মানবাধিকার বিষয়ক হাইকমিশনার ভলকার তুর্কও একই সুরে সতর্ক করেছেন। তিনি বলেন, বিশ্বে আধিপত্য বিস্তার ও শ্রেষ্ঠত্ব কায়েমের প্রবণতা আবার ফিরে এসেছে এবং গত ৮০ বছরের মধ্যে বর্তমানে ক্ষমতার দখল ও সম্পদের উপর সবচেয়ে তীব্র প্রতিযোগিতা দেখা যাচ্ছে।

তুর্ক আরও বলেন, সার্বভৌম দেশগুলোর বিরুদ্ধে উসকানিমূলক হুমকি যে কোনো সময় ব্যাপক সংঘর্ষের আগুন জ্বালিয়ে দিতে পারে। সুদান থেকে গাজা, ইউক্রেন থেকে মিয়ানমার—সবখানেই বেসামরিক মানুষের হাহাকার আমাদের চোখের সামনে ঘটছে এবং যুদ্ধবিরোধী নিয়মগুলি নির্মমভাবে লঙ্ঘিত হচ্ছে।

অবশেষে গুতেরেস ও তুর্ক—দুটি উচ্চপদস্থ কণ্ঠই বর্তমান বিশ্ব নেতৃত্বকে আন্তর্জাতিক আইনের প্রতি শ্রদ্ধাশীল হতে আহ্বান জানিয়েছে। তারা সতর্ক করেছেন, যদি আন্তর্জাতিক আইনকে কেবল একটি ‘অসুবিধা’ বা বাধা হিসেবে দেখা হয়, তাহলে বিশ্ব একটি নিয়ন্ত্রণহীন সংকটের দিকে ধাবিত হবে।