১০:৩৪ অপরাহ্ন, সোমবার, ২৩ ফেব্রুয়ারী ২০২৬, ১১ ফাল্গুন ১৪৩২ বঙ্গাব্দ
সর্বশেষঃ
অন্তর্বর্তী সরকারের সময়ে চাঁদাবাজি ২০–৫০ শতাংশ বৃদ্ধি: ডিসিসিআই প্রান্তিকদের সেবা নিশ্চিতে ‘ফ্যামিলি কার্ড’ ও ‘স্মার্ট কৃষক কার্ড’ চালুর নির্দেশ ধর্মব্যবসায়ী ও জুলুমবাজদের স্থান নেই বাংলাদেশে: ধর্মমন্ত্রী নতুন অ্যাটর্নি জেনারেল হচ্ছেন ব্যারিস্টার রাগিব রউফ চৌধুরী ১২ মার্চ সংসদ অধিবেশন ডেকেছেন রাষ্ট্রপতি বনফুল আদিবাসী গ্রীনহার্ট কলেজে ভাষা ও শহীদ দিবসের এক সঙ্গীতময় পালন নির্বাচনের পর ইসিতে বড় রদবদল, বদলি ১১২ কর্মকর্তা বনফুল আদিবাসী গ্রীনহার্ট কলেজে মহান শহীদ দিবস ও আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস উদযাপন ব্যারিস্টার রাগিব রউফ চৌধুরী হতে পারেন নতুন অ্যাটর্নি জেনারেল ত্রয়োদশ সংসদের প্রথম অধিবেশন ১২ মার্চ শুরু

পেশিশক্তির চাপে বিশ্বজুড়ে মানবাধিকার সংকট: জাতিসংঘ মহাসচিব

জাতিসংঘ মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেস সতর্ক করেছেন, বিশ্বজুড়ে মানবাধিকার এখন আক্রমণের মুখে এবং আইনের শাসনের জায়গা দখল করছে শক্তিধর গোষ্ঠী বা ‘পেশিশক্তি’। তিনি সোমবার (২৩ ফেব্রুয়ারি) জেনেভায় জাতিসংঘ মানবাধিকার পরিষদের বার্ষিক অধিবেশন উদ্বোধনী ভাষণে এসব কথা বলেন।

গুতেরেস কোনো নির্দিষ্ট দেশের নাম না নিলেও ইউক্রেন ও ফিলিস্তিন পরিস্থিতিকে সামনে রেখে তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করেন। তিনি বলেন, চার বছরের যুদ্ধে ইউক্রেনে ১৫ হাজারের বেশি বেসামরিক মানুষ নিহত হয়েছেন। এই সহিংসতা আড়াল করেই নয়, বরঞ্চ ক্ষমতার শীর্ষে থাকা ব্যক্তিদের হাত ধরেই সবার চোখের সামনে ঘটছে। রক্তপাত থামানোর সময় অনেক আগে পেরিয়ে গেছে — আজ মানবাধিকার পুরোপুরি কোণঠাসা হয়ে পড়েছে।

ফিলিস্তিন ইস্যুতে তিনি বলেন, অধিকৃত ফিলিস্তিনি ভূখণ্ডে মানবাধিকার, মানবিক মর্যাদা এবং আন্তর্জাতিক আইন নগ্নভাবে লঙ্ঘিত হচ্ছে। দ্বি-রাষ্ট্রীয় সমাধানের ধারণাকে ধ্বংস করে দেওয়া হচ্ছে এবং আন্তর্জাতিক সম্প্রদায় এটিকে সহ্য করতে পারে না।

বার্তা সংস্থা এএফপির প্রতিবেদন অনুসারে, চলতি বছরের শেষে গুতেরেসের দ্বিতীয় মেয়াদের দায়িত্ব শেষ হবে। তার উদ্বোধনী ভাষণে তিনি আরও বলেন, ‘‘আমরা এমন এক পৃথিবীতে বাস করছি যেখানে গণমানুষের দুর্ভোগকে অজুহাত দিয়ে এড়িয়ে যাওয়া হচ্ছে, মানুষকে দাবার ঘুঁটি হিসেবে ব্যবহার করা হচ্ছে এবং আন্তর্জাতিক আইনকে একটি নিছক অসুবিধা বা বাধা হিসেবে দেখা হচ্ছে।’’। তিনি মনে করেন এই মানবাধিকারগত পশ্চাদপসরণ পরিকল্পিত এবং কৌশলগতভাবে পরিচালিত হচ্ছে।

জাতিসংঘের মানবাধিকার বিষয়ক হাইকমিশনার ভলকার তুর্কও একই সুরে সতর্ক করেছেন। তিনি বলেন, বিশ্বে আধিপত্য বিস্তার ও শ্রেষ্ঠত্ব কায়েমের প্রবণতা আবার ফিরে এসেছে এবং গত ৮০ বছরের মধ্যে বর্তমানে ক্ষমতার দখল ও সম্পদের উপর সবচেয়ে তীব্র প্রতিযোগিতা দেখা যাচ্ছে।

তুর্ক আরও বলেন, সার্বভৌম দেশগুলোর বিরুদ্ধে উসকানিমূলক হুমকি যে কোনো সময় ব্যাপক সংঘর্ষের আগুন জ্বালিয়ে দিতে পারে। সুদান থেকে গাজা, ইউক্রেন থেকে মিয়ানমার—সবখানেই বেসামরিক মানুষের হাহাকার আমাদের চোখের সামনে ঘটছে এবং যুদ্ধবিরোধী নিয়মগুলি নির্মমভাবে লঙ্ঘিত হচ্ছে।

অবশেষে গুতেরেস ও তুর্ক—দুটি উচ্চপদস্থ কণ্ঠই বর্তমান বিশ্ব নেতৃত্বকে আন্তর্জাতিক আইনের প্রতি শ্রদ্ধাশীল হতে আহ্বান জানিয়েছে। তারা সতর্ক করেছেন, যদি আন্তর্জাতিক আইনকে কেবল একটি ‘অসুবিধা’ বা বাধা হিসেবে দেখা হয়, তাহলে বিশ্ব একটি নিয়ন্ত্রণহীন সংকটের দিকে ধাবিত হবে।

ট্যাগ :
সর্বাধিক পঠিত

প্রান্তিকদের সেবা নিশ্চিতে ‘ফ্যামিলি কার্ড’ ও ‘স্মার্ট কৃষক কার্ড’ চালুর নির্দেশ

পেশিশক্তির চাপে বিশ্বজুড়ে মানবাধিকার সংকট: জাতিসংঘ মহাসচিব

প্রকাশিতঃ ০৮:২৫:১৮ অপরাহ্ন, সোমবার, ২৩ ফেব্রুয়ারী ২০২৬

জাতিসংঘ মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেস সতর্ক করেছেন, বিশ্বজুড়ে মানবাধিকার এখন আক্রমণের মুখে এবং আইনের শাসনের জায়গা দখল করছে শক্তিধর গোষ্ঠী বা ‘পেশিশক্তি’। তিনি সোমবার (২৩ ফেব্রুয়ারি) জেনেভায় জাতিসংঘ মানবাধিকার পরিষদের বার্ষিক অধিবেশন উদ্বোধনী ভাষণে এসব কথা বলেন।

গুতেরেস কোনো নির্দিষ্ট দেশের নাম না নিলেও ইউক্রেন ও ফিলিস্তিন পরিস্থিতিকে সামনে রেখে তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করেন। তিনি বলেন, চার বছরের যুদ্ধে ইউক্রেনে ১৫ হাজারের বেশি বেসামরিক মানুষ নিহত হয়েছেন। এই সহিংসতা আড়াল করেই নয়, বরঞ্চ ক্ষমতার শীর্ষে থাকা ব্যক্তিদের হাত ধরেই সবার চোখের সামনে ঘটছে। রক্তপাত থামানোর সময় অনেক আগে পেরিয়ে গেছে — আজ মানবাধিকার পুরোপুরি কোণঠাসা হয়ে পড়েছে।

ফিলিস্তিন ইস্যুতে তিনি বলেন, অধিকৃত ফিলিস্তিনি ভূখণ্ডে মানবাধিকার, মানবিক মর্যাদা এবং আন্তর্জাতিক আইন নগ্নভাবে লঙ্ঘিত হচ্ছে। দ্বি-রাষ্ট্রীয় সমাধানের ধারণাকে ধ্বংস করে দেওয়া হচ্ছে এবং আন্তর্জাতিক সম্প্রদায় এটিকে সহ্য করতে পারে না।

বার্তা সংস্থা এএফপির প্রতিবেদন অনুসারে, চলতি বছরের শেষে গুতেরেসের দ্বিতীয় মেয়াদের দায়িত্ব শেষ হবে। তার উদ্বোধনী ভাষণে তিনি আরও বলেন, ‘‘আমরা এমন এক পৃথিবীতে বাস করছি যেখানে গণমানুষের দুর্ভোগকে অজুহাত দিয়ে এড়িয়ে যাওয়া হচ্ছে, মানুষকে দাবার ঘুঁটি হিসেবে ব্যবহার করা হচ্ছে এবং আন্তর্জাতিক আইনকে একটি নিছক অসুবিধা বা বাধা হিসেবে দেখা হচ্ছে।’’। তিনি মনে করেন এই মানবাধিকারগত পশ্চাদপসরণ পরিকল্পিত এবং কৌশলগতভাবে পরিচালিত হচ্ছে।

জাতিসংঘের মানবাধিকার বিষয়ক হাইকমিশনার ভলকার তুর্কও একই সুরে সতর্ক করেছেন। তিনি বলেন, বিশ্বে আধিপত্য বিস্তার ও শ্রেষ্ঠত্ব কায়েমের প্রবণতা আবার ফিরে এসেছে এবং গত ৮০ বছরের মধ্যে বর্তমানে ক্ষমতার দখল ও সম্পদের উপর সবচেয়ে তীব্র প্রতিযোগিতা দেখা যাচ্ছে।

তুর্ক আরও বলেন, সার্বভৌম দেশগুলোর বিরুদ্ধে উসকানিমূলক হুমকি যে কোনো সময় ব্যাপক সংঘর্ষের আগুন জ্বালিয়ে দিতে পারে। সুদান থেকে গাজা, ইউক্রেন থেকে মিয়ানমার—সবখানেই বেসামরিক মানুষের হাহাকার আমাদের চোখের সামনে ঘটছে এবং যুদ্ধবিরোধী নিয়মগুলি নির্মমভাবে লঙ্ঘিত হচ্ছে।

অবশেষে গুতেরেস ও তুর্ক—দুটি উচ্চপদস্থ কণ্ঠই বর্তমান বিশ্ব নেতৃত্বকে আন্তর্জাতিক আইনের প্রতি শ্রদ্ধাশীল হতে আহ্বান জানিয়েছে। তারা সতর্ক করেছেন, যদি আন্তর্জাতিক আইনকে কেবল একটি ‘অসুবিধা’ বা বাধা হিসেবে দেখা হয়, তাহলে বিশ্ব একটি নিয়ন্ত্রণহীন সংকটের দিকে ধাবিত হবে।