০৮:৩৪ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ১৭ জুলাই ২০২৬, ২ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সর্বশেষঃ
এলডিসি উত্তরণে বাংলাদেশকে পাশে রাখবে ইইউ ও জি-৭৭ ইইউ ও জি-৭৭ দেশের এলডিসি উত্তরণে বাংলাদেশের প্রস্তুতিকাল বাড়াতে সমর্থন শিক্ষার্থীদের আন্দোলনের আড়ালে ঘোলা পানিতে মাছ শিকার করতে চায় কিছু মহল: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বৈষম্যমুক্ত বাংলাদেশ গড়তে সবাইকে একজোট হয়ে কাজ করতে হবে: প্রধানমন্ত্রী শিক্ষার্থীদের আন্দোলনের আড়ালে ঘোলা পানিতে মাছ শিকার করতে চায় কিছু মহল: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অনলাইন জুয়ার লেনদেনে দিনে ৫ কোটি: টঙ্গী–কুমিল্লায় অভিযানে ছয় গ্রেফতার বৈষম্যহীন বাংলাদেশ গড়তে সবাইকে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করতে হবে: প্রধানমন্ত্রী পরিবহন-লজিস্টিকস ও সামুদ্রিক খাতে বিনিয়োগে আগ্রহী সৌদি আরব প্রধানমন্ত্রীর শিক্ষকদের প্রতি আহ্বান: শিশুদের মানবিকভাবে গড়ে তুলুন পরিবহন, লজিস্টিকস ও সামুদ্রিক খাতে বাংলাদেশে বিনিয়োগে আগ্রহী সৌদি আরব

প্রতিপক্ষ নয়, নিজেদের খেলায় মনিকার মনোযোগ

সিডনির জুবলি স্টেডিয়ামে দেড় ঘণ্টার তীব্র অনুশীলন শেষে টিম হোটেলের দিকে ফিরছিল বাংলাদেশ নারী ফুটবল দল। এই ব্যস্ততার মাঝেই সংবাদমাধ্যমের সামনে ধরা দিলেন দলের অন্যতম সিনিয়র এবং নির্ভরযোগ্য মিডফিল্ডার মনিকা চাকমা।

দক্ষিণ এশিয়ায় বহু সাফল্যের অংশ থাকা মনিকা এবার চোখ রেখেছেন এশিয়ার প্রধান মঞ্চ—এশিয়ান কাপে। বাংলাদেশের জন্য এটি প্রথমবারের মতো এই আসরে অংশ নেওয়া, তাই চাপ থাকাটাই স্বাভাবিক। তবু মনিকার লক্ষ্য স্পষ্ট: প্রতিপক্ষের দাপট নিয়ে না ভেবে নিজেদের সেরাটা দিতে হবে।

বাংলাদেশের গ্রুপটা মোটেই সহজ নয়; প্রতিপক্ষ হিসেবে আছে এশিয়ার ও বিশ্ব ফুটবলের শক্তিশালী দুটি দল চীন ও উত্তর কোরিয়া, পাশাপাশি শক্তিধর উজবেকিস্তানও আছে। এ ছাড়া সিডনির পরিবর্তনশীল আবহাওয়াও বড় পরীক্ষা—হঠাৎ প্রচণ্ড রোদ, কখনো হাড়কাঁপানো ঠাণ্ডা। মনিকা বলেন, ‘‘গত এক সপ্তাহ ধরে আমরা এই সব পরিবর্তনের সঙ্গে খাপ খাইয়ে নিতেই কঠোর অনুশীলন করেছি। এখন আবহাওয়ার সঙ্গে পুরোপুরি মানিয়ে নিচ্ছি, দলের শারীরিক ও মানসিক অবস্থাও দিন দিন উন্নত হচ্ছে।’’

শেষ কয়েকদিনে কোচবার্তা ও কৌশলগত মিটিং থেকে শুরু করে মাঠে নির্দিষ্ট অনুশীলন—সবকিছুই পরিকল্পনা মাফিক চলছে। মনিকা জানান, ‘‘কোচ প্রতিদিন আমাদের সঙ্গে মিটিং করছেন। মাঠে আমাদের মুভমেন্ট কেমন হবে, কখন কীভাবে দৌড়াতে হবে—সবকিছুই বিস্তারিতভাবে আলোচনা করা হচ্ছে। আমরা জানি প্রতিপক্ষরা এশিয়ায় শীর্ষ পর্যায়ের দল, তাই আমাদের প্রতিটি সিদ্ধান্ত খুবই সূক্ষ্ম হওয়া দরকার।’’

দলের মাঝমাঠ সামলানোর মূল দায়িত্ব এখন মনিকা ও মারিয়া মান্ডারের কাঁধেই। বহুদিনের সঙ্গ ও অনুশীলনে গড়া এই জুটি তাদের বড় শক্তি হিসেবে কাজ করছে। মনিকা বললেন, ‘‘মারিয়া যখন আক্রমণে উঠে যান, তখন আমাকে মাঝমাঠ ধরে রাখতে হয়। প্রতিটি পজিশনে প্রতিপক্ষ খুবই দক্ষ, তাই আমাদের positional discipline ও কমিউনিকেশন অতি গুরুত্বপূর্ণ।’’

মনিকা পরিষ্কার করে বলছেন, প্রতিপক্ষকে আটকানোর কৌশলের চাইতে নিজেদের সক্ষমতা বাড়াতেই তাদের বেশি গুরুত্ব। তাঁর ভাষায়, ‘‘ওরা অবশ্যই শক্তিশালী, কিন্তু আমরা আমাদের নিজের খেলাতেই বেশি মনোযোগ দিচ্ছি। প্রতিপক্ষের শক্তির বদলে নিজেদের পরিকল্পনা ও পারফরম্যান্সে ফোকাস করছি। বিদেশের মাটিতে দেশের জন্য আমাদের সেরাটা দেওয়ার চেষ্টা করব।’’

মনিকারা এখন পরিকল্পনা মেইনটেইন করে মাঠে ভালো করে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করার প্রস্তুতি নিচ্ছেন। এশিয়ান কাপে নামার আগে দেশবাসীর শুভেচ্ছা ও দোয়া চেয়েছেন এই ফুটবল তারকা।

ট্যাগ :
সর্বাধিক পঠিত

ইইউ ও জি-৭৭ দেশের এলডিসি উত্তরণে বাংলাদেশের প্রস্তুতিকাল বাড়াতে সমর্থন

প্রতিপক্ষ নয়, নিজেদের খেলায় মনিকার মনোযোগ

প্রকাশিতঃ ১১:৩৬:৫৯ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ১ মার্চ ২০২৬

সিডনির জুবলি স্টেডিয়ামে দেড় ঘণ্টার তীব্র অনুশীলন শেষে টিম হোটেলের দিকে ফিরছিল বাংলাদেশ নারী ফুটবল দল। এই ব্যস্ততার মাঝেই সংবাদমাধ্যমের সামনে ধরা দিলেন দলের অন্যতম সিনিয়র এবং নির্ভরযোগ্য মিডফিল্ডার মনিকা চাকমা।

দক্ষিণ এশিয়ায় বহু সাফল্যের অংশ থাকা মনিকা এবার চোখ রেখেছেন এশিয়ার প্রধান মঞ্চ—এশিয়ান কাপে। বাংলাদেশের জন্য এটি প্রথমবারের মতো এই আসরে অংশ নেওয়া, তাই চাপ থাকাটাই স্বাভাবিক। তবু মনিকার লক্ষ্য স্পষ্ট: প্রতিপক্ষের দাপট নিয়ে না ভেবে নিজেদের সেরাটা দিতে হবে।

বাংলাদেশের গ্রুপটা মোটেই সহজ নয়; প্রতিপক্ষ হিসেবে আছে এশিয়ার ও বিশ্ব ফুটবলের শক্তিশালী দুটি দল চীন ও উত্তর কোরিয়া, পাশাপাশি শক্তিধর উজবেকিস্তানও আছে। এ ছাড়া সিডনির পরিবর্তনশীল আবহাওয়াও বড় পরীক্ষা—হঠাৎ প্রচণ্ড রোদ, কখনো হাড়কাঁপানো ঠাণ্ডা। মনিকা বলেন, ‘‘গত এক সপ্তাহ ধরে আমরা এই সব পরিবর্তনের সঙ্গে খাপ খাইয়ে নিতেই কঠোর অনুশীলন করেছি। এখন আবহাওয়ার সঙ্গে পুরোপুরি মানিয়ে নিচ্ছি, দলের শারীরিক ও মানসিক অবস্থাও দিন দিন উন্নত হচ্ছে।’’

শেষ কয়েকদিনে কোচবার্তা ও কৌশলগত মিটিং থেকে শুরু করে মাঠে নির্দিষ্ট অনুশীলন—সবকিছুই পরিকল্পনা মাফিক চলছে। মনিকা জানান, ‘‘কোচ প্রতিদিন আমাদের সঙ্গে মিটিং করছেন। মাঠে আমাদের মুভমেন্ট কেমন হবে, কখন কীভাবে দৌড়াতে হবে—সবকিছুই বিস্তারিতভাবে আলোচনা করা হচ্ছে। আমরা জানি প্রতিপক্ষরা এশিয়ায় শীর্ষ পর্যায়ের দল, তাই আমাদের প্রতিটি সিদ্ধান্ত খুবই সূক্ষ্ম হওয়া দরকার।’’

দলের মাঝমাঠ সামলানোর মূল দায়িত্ব এখন মনিকা ও মারিয়া মান্ডারের কাঁধেই। বহুদিনের সঙ্গ ও অনুশীলনে গড়া এই জুটি তাদের বড় শক্তি হিসেবে কাজ করছে। মনিকা বললেন, ‘‘মারিয়া যখন আক্রমণে উঠে যান, তখন আমাকে মাঝমাঠ ধরে রাখতে হয়। প্রতিটি পজিশনে প্রতিপক্ষ খুবই দক্ষ, তাই আমাদের positional discipline ও কমিউনিকেশন অতি গুরুত্বপূর্ণ।’’

মনিকা পরিষ্কার করে বলছেন, প্রতিপক্ষকে আটকানোর কৌশলের চাইতে নিজেদের সক্ষমতা বাড়াতেই তাদের বেশি গুরুত্ব। তাঁর ভাষায়, ‘‘ওরা অবশ্যই শক্তিশালী, কিন্তু আমরা আমাদের নিজের খেলাতেই বেশি মনোযোগ দিচ্ছি। প্রতিপক্ষের শক্তির বদলে নিজেদের পরিকল্পনা ও পারফরম্যান্সে ফোকাস করছি। বিদেশের মাটিতে দেশের জন্য আমাদের সেরাটা দেওয়ার চেষ্টা করব।’’

মনিকারা এখন পরিকল্পনা মেইনটেইন করে মাঠে ভালো করে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করার প্রস্তুতি নিচ্ছেন। এশিয়ান কাপে নামার আগে দেশবাসীর শুভেচ্ছা ও দোয়া চেয়েছেন এই ফুটবল তারকা।