০৭:৫০ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ১৭ জুলাই ২০২৬, ২ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সর্বশেষঃ
এলডিসি উত্তরণে বাংলাদেশকে পাশে রাখবে ইইউ ও জি-৭৭ ইইউ ও জি-৭৭ দেশের এলডিসি উত্তরণে বাংলাদেশের প্রস্তুতিকাল বাড়াতে সমর্থন শিক্ষার্থীদের আন্দোলনের আড়ালে ঘোলা পানিতে মাছ শিকার করতে চায় কিছু মহল: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বৈষম্যমুক্ত বাংলাদেশ গড়তে সবাইকে একজোট হয়ে কাজ করতে হবে: প্রধানমন্ত্রী শিক্ষার্থীদের আন্দোলনের আড়ালে ঘোলা পানিতে মাছ শিকার করতে চায় কিছু মহল: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অনলাইন জুয়ার লেনদেনে দিনে ৫ কোটি: টঙ্গী–কুমিল্লায় অভিযানে ছয় গ্রেফতার বৈষম্যহীন বাংলাদেশ গড়তে সবাইকে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করতে হবে: প্রধানমন্ত্রী পরিবহন-লজিস্টিকস ও সামুদ্রিক খাতে বিনিয়োগে আগ্রহী সৌদি আরব প্রধানমন্ত্রীর শিক্ষকদের প্রতি আহ্বান: শিশুদের মানবিকভাবে গড়ে তুলুন পরিবহন, লজিস্টিকস ও সামুদ্রিক খাতে বাংলাদেশে বিনিয়োগে আগ্রহী সৌদি আরব

জ্বালানি মূল্য অপরিবর্তিত রাখায় আস্থা ফিরলো, বড় পতনের পর শেয়ারবাজার চাঙ্গা

মধ্যপ্রাচ্যে ইরান, যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সংঘাতের প্রভাবে উদ্বিগ্ন হওয়া আন্তর্জাতিক বাজারের ধাক্কার পর মাত্র এক দিনের ব্যবধানে দেশের শেয়ারবাজার দৃশ্যমানভাবে ফিরে এসেছে। প্রধান কারণ হিসেবে বাজার সংশ্লিষ্টরা সরকারের যে সিদ্ধান্তটি দেখাচ্ছেন—মার্চে জ্বালানি তেলের দাম বজায় রাখা—বিনিয়োগকারীদের মধ্যে তাৎপর্যপূর্ণ আস্থা ফিরে এনেছে, যা দ্রুত পুনরুদ্ধারের পথ সুগম করেছে।

সোমবার লেনদেন শুরু হতেই ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জে (ডিএসই) ব্যাপক উত্থান দেখা গেছে। প্রথম এক ঘণ্টার ক্রিয়াকলাপে অংশ নেওয়া ৩৮৬টি সিকিউরিটিজের মধ্যে ৩৪৫টির শেয়ারের দাম বেড়েছে, মাত্র ১৯টির মূল্য কমেছে এবং ২২টির দাম অপরিবর্তিত রয়েছে। এতে ডিএসইর প্রধান সূচক ডিএসইএক্স আগের দিনের তুলনায় ৭৫ পয়েন্ট বেড়ে ৫,৫৩৭ পয়েন্টে অবস্থান করতে পেরেছে। পাশাপাশি ডিএসই শরিয়াহ ও ডিএসই-৩০ সূচকও যথাক্রমে ১২ ও ২৩ পয়েন্ট বৃদ্ধি পেয়েছে।

বাজার বিশ্লেষকরা বলছেন, শেয়ারবাজার স্বভাবগতভাবেই স্পর্শকাতর; বিশ্বের কোনও প্রান্তে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়লেই তার প্রভাব এখানে দ্রুত পড়ে। ইউক্রেন-রাশিয়া যুদ্ধের সময়ও এমন অস্থিরতা দেখা গিয়েছিল। তবু এই পরিস্থিতিতে জ্বালানির দাম না বাড়ানোর ঘোষণাটি বিনিয়োগকারীদের জন্য তাৎক্ষণিক স্বস্তি হিসেবে কাজ করেছে এবং মন্দায় ধস থেকে বাজারকে তীব্রভাবে সরে দাঁড়াতে সাহায্য করেছে।

শেয়ারবাজারে সরকারের নীতিগত স্থিরতা ছাড়াও নতুন সরকার ও নতুন গভর্নরের পক্ষ থেকে আসা ইতিবাচক ইঙ্গিতগুলো বিনিয়োগকারীদের মনোবল বাড়াতে সহায়ক ভূমিকা নিয়েছে বলে বিশেষজ্ঞরা মন্তব্য করেন। এসব বার্তা বাজারে স্থিতিশীলতা ও দীর্ঘমেয়াদী উত্থানের প্রত্যাশা জাগিয়েছে।

তবে সতর্কতাও রয়েছে। প্রথম এক ঘণ্টায় ডিএসইতে মোট লেনদেনমূল্য ছিল প্রায় ২১৫ কোটি টাকা, যেখানে আগের দিনের একই সময়ে তা প্রায় ৩৫১ কোটি টাকা ছিল—অর্থাৎ লেনদেনের গতিতে ধীররূপ দেখা গেছে। বিশ্লেষকদের মতে, দাম বেড়ালেও অনেক বিনিয়োগকারী এখনো পর্যবেক্ষণ-বিরতি রাখছেন, ফলে কার্যনির্বাহগত লেনদেন কম আছে।

বাজারে যে উচ্চসংখ্যক শেয়ারের দাম বেড়েছে, তা যদি বজায় থাকে তাহলে বিনিয়োগকারীরা গতদিনের বড় লোকসান কাটিয়ে উঠতে পারবেন বলে আশা করা হচ্ছে। সামগ্রিকভাবে বলা যায়, সরকারের সময়োচিত নীতিগত অবস্থানই আজ বাজারকে বিপর্যয়ের কিনারা থেকে টেনে এনেছে—তবে স্থায়ী পুনরুদ্ধারের জন্য বাজারে অবিশ্বাস দূর করা এবং দৃঢ় অর্থনৈতিক সংকেত চালিয়ে যাওয়া প্রয়োজন।

ট্যাগ :
সর্বাধিক পঠিত

ইইউ ও জি-৭৭ দেশের এলডিসি উত্তরণে বাংলাদেশের প্রস্তুতিকাল বাড়াতে সমর্থন

জ্বালানি মূল্য অপরিবর্তিত রাখায় আস্থা ফিরলো, বড় পতনের পর শেয়ারবাজার চাঙ্গা

প্রকাশিতঃ ০৩:২৪:৪২ অপরাহ্ন, সোমবার, ২ মার্চ ২০২৬

মধ্যপ্রাচ্যে ইরান, যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সংঘাতের প্রভাবে উদ্বিগ্ন হওয়া আন্তর্জাতিক বাজারের ধাক্কার পর মাত্র এক দিনের ব্যবধানে দেশের শেয়ারবাজার দৃশ্যমানভাবে ফিরে এসেছে। প্রধান কারণ হিসেবে বাজার সংশ্লিষ্টরা সরকারের যে সিদ্ধান্তটি দেখাচ্ছেন—মার্চে জ্বালানি তেলের দাম বজায় রাখা—বিনিয়োগকারীদের মধ্যে তাৎপর্যপূর্ণ আস্থা ফিরে এনেছে, যা দ্রুত পুনরুদ্ধারের পথ সুগম করেছে।

সোমবার লেনদেন শুরু হতেই ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জে (ডিএসই) ব্যাপক উত্থান দেখা গেছে। প্রথম এক ঘণ্টার ক্রিয়াকলাপে অংশ নেওয়া ৩৮৬টি সিকিউরিটিজের মধ্যে ৩৪৫টির শেয়ারের দাম বেড়েছে, মাত্র ১৯টির মূল্য কমেছে এবং ২২টির দাম অপরিবর্তিত রয়েছে। এতে ডিএসইর প্রধান সূচক ডিএসইএক্স আগের দিনের তুলনায় ৭৫ পয়েন্ট বেড়ে ৫,৫৩৭ পয়েন্টে অবস্থান করতে পেরেছে। পাশাপাশি ডিএসই শরিয়াহ ও ডিএসই-৩০ সূচকও যথাক্রমে ১২ ও ২৩ পয়েন্ট বৃদ্ধি পেয়েছে।

বাজার বিশ্লেষকরা বলছেন, শেয়ারবাজার স্বভাবগতভাবেই স্পর্শকাতর; বিশ্বের কোনও প্রান্তে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়লেই তার প্রভাব এখানে দ্রুত পড়ে। ইউক্রেন-রাশিয়া যুদ্ধের সময়ও এমন অস্থিরতা দেখা গিয়েছিল। তবু এই পরিস্থিতিতে জ্বালানির দাম না বাড়ানোর ঘোষণাটি বিনিয়োগকারীদের জন্য তাৎক্ষণিক স্বস্তি হিসেবে কাজ করেছে এবং মন্দায় ধস থেকে বাজারকে তীব্রভাবে সরে দাঁড়াতে সাহায্য করেছে।

শেয়ারবাজারে সরকারের নীতিগত স্থিরতা ছাড়াও নতুন সরকার ও নতুন গভর্নরের পক্ষ থেকে আসা ইতিবাচক ইঙ্গিতগুলো বিনিয়োগকারীদের মনোবল বাড়াতে সহায়ক ভূমিকা নিয়েছে বলে বিশেষজ্ঞরা মন্তব্য করেন। এসব বার্তা বাজারে স্থিতিশীলতা ও দীর্ঘমেয়াদী উত্থানের প্রত্যাশা জাগিয়েছে।

তবে সতর্কতাও রয়েছে। প্রথম এক ঘণ্টায় ডিএসইতে মোট লেনদেনমূল্য ছিল প্রায় ২১৫ কোটি টাকা, যেখানে আগের দিনের একই সময়ে তা প্রায় ৩৫১ কোটি টাকা ছিল—অর্থাৎ লেনদেনের গতিতে ধীররূপ দেখা গেছে। বিশ্লেষকদের মতে, দাম বেড়ালেও অনেক বিনিয়োগকারী এখনো পর্যবেক্ষণ-বিরতি রাখছেন, ফলে কার্যনির্বাহগত লেনদেন কম আছে।

বাজারে যে উচ্চসংখ্যক শেয়ারের দাম বেড়েছে, তা যদি বজায় থাকে তাহলে বিনিয়োগকারীরা গতদিনের বড় লোকসান কাটিয়ে উঠতে পারবেন বলে আশা করা হচ্ছে। সামগ্রিকভাবে বলা যায়, সরকারের সময়োচিত নীতিগত অবস্থানই আজ বাজারকে বিপর্যয়ের কিনারা থেকে টেনে এনেছে—তবে স্থায়ী পুনরুদ্ধারের জন্য বাজারে অবিশ্বাস দূর করা এবং দৃঢ় অর্থনৈতিক সংকেত চালিয়ে যাওয়া প্রয়োজন।