১০:৫০ অপরাহ্ন, সোমবার, ১৬ মার্চ ২০২৬, ২ চৈত্র ১৪৩২ বঙ্গাব্দ
সর্বশেষঃ
ঈদযাত্রায় তেলের ভোগান্তি, বাসচালক ও পরিবহনকর্মীর দুর্ভোগ চলছেই ঢাকা থেকে ১৭ দিনে মধ্যপ্রাচ্যগামী ৫২৮টি ফ্লাইট বাতিল শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের সভাপতিকে স্নাতক পাস বাধ্যতামূলক ঘোষণা প্রত্যাশিত বাংলাদেশ গড়তে দিন-রাত কাজ করবে সরকার: তারেক রহমান র‍্যাব ও পুলিশের শীর্ষ পর্যায়ে বড় রদবদল ঢাকা-১৭ আসনে তারেক রহমানের প্রতিনিধি হলেন আবদুর রহমান সানী বাজারে অযৌক্তিক মূল্যবৈষম্য তদন্তে ফ্যাক্ট-ফাইন্ডিং কমিটি গঠন করবে সরকার: বাণিজ্যমন্ত্রী জ্বালানি সংকটে বন্ধ আশুগঞ্জ সার কারখানা, মাসিক ক্ষতি প্রায় ১৫৬ কোটি টাকা ডা. জাহেদ উর রহমানকে তথ্য ও সংস্কৃতি মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব লাইলাতুল কদর: প্রধানমন্ত্রীর আন্তরিক শুভেচ্ছা

হরমুজ নিরাপত্তায় অংশ না নিলে দেশগুলোকে দেখব: ট্রাম্প

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প হরমুজ প্রণালীতে আন্তর্জাতিক নিরাপত্তা ব্যবস্থা গড়ে তোলায় সহযোগিতা না করলে সংশ্লিষ্ট দেশগুলোর বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্র ব্যবস্থা গ্রহণ করবে বলে সতর্ক করে বলেছেন। গত রোববার এয়ার ফোর্স ওয়ানে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এই কড়া বার্তা দেন।

ট্রাম্প বলেন, হরমুজ অঞ্চল থেকে বিশ্ব অর্থনীতির জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ জ্বালানি সরবরাহ সচল রাখা কেবল যুক্তরাষ্ট্রের একার দায়িত্ব নয়; এই পথটির নিরাপত্তা নিশ্চিত করা প্রত্যেক সংশ্লিষ্ট দেশের মৌলিক কর্তব্য। তিনি জানান, তাদের প্রশাসন ইতোমধ্যে অন্তত সাতটি দেশের সঙ্গে ওই অঞ্চলে একটি আন্তর্জাতিক টহল বা ‘পুলিশিং’ ব্যবস্থা গড়ার বিষয়ে নিবিড় আলোচনা চালাচ্ছে।

এই উদ্যোগের মূল লক্ষ্য হরমুজ প্রণালিতে বাণিজ্যিক জাহাজ ও তেলবাহী ট্যাংকারগুলোর নিরাপত্তা নিশ্চিত করা। ট্রাম্প বলেন, কোন দেশগুলো সরাসরি সমর্থন করছে এবং কাদের সহায়তা কৌশলে এড়িয়ে যাচ্ছে, তা তাঁর প্রশাসন মনোগ্রাহীভাবে পর্যবেক্ষণ করছে। তিনি এই অংশগ্রহণকে ‘অত্যন্ত ছোট প্রচেষ্টা’ হিসেবে উল্লেখ করে বলেছেন, শেষ পর্যন্ত কে এই আহ্বানে সাড়া দেয় তা দেখা হবে কৌতূহলোদ্দীপক; যারা পাশে দাঁড়াবে না, ভবিষ্যতে তাদের সম্পর্কে যুক্তরাষ্ট্র ভিন্নভাবে চিন্তা করতে পারে।

আন্তর্জাতিক বিশ্লেষকরা মনে করছেন, ট্রাম্পের এই মন্তব্য মূলত মিত্র দেশগুলোর ওপর চাপ প্রয়োগের কৌশল। বিশেষ করে এশিয়ার কিছু দেশ নিয়মিত এই জলপথ দিয়ে জ্বালানি আমদানি করে; তাদের ওপর দায়বদ্ধতার প্রশ্নটি ট্রাম্প কঠোরভাবে তুলেছেন। বিশ্লেষকদের দেখা অনুযায়ী, এই পদক্ষেপে মিত্র দেশগুলোকে সরাসরি সামরিক বা কৌশলগত অংশগ্রহণে উদ্বুদ্ধ করা হচ্ছে, যাতে নিরাপত্তার ব্যয়ভার কেবল যুক্তরাষ্ট্রের ওপর না পড়ে।

এর আগে জাপান ও দক্ষিণ কোরিয়ার মতো দেশগুলো ওই অঞ্চলে সরাসরি যুদ্ধজাহাজ পাঠানোর বিষয়ে অনিচ্ছা প্রকাশ করেছিল। ট্রাম্পের সতর্কবার্তা এখন সেই দেশের অবস্থান বদলাতে প্রভাব ফেলবে কি না, সেটাই দেখার বিষয়। অস্ট্রেলিয়া বা জাপানসহ অন্যান্য দেশগুলো কি তাদের নীতি পরিবর্তন করে কড়াকড়ি সুরক্ষা সহায়তায় অংশ নেবে, আন্তর্জাতিক মহলে সেই নিয়েই জল্পনা চলছে।

বিশ্বব্যাপী জ্বালানি সরবরাহ বজায় রাখতে ট্রাম্পের ‘পুলিশিং’ পরিকল্পনা এবং এর বাস্তবায়ন নিয়ে উদ্বেগ আছে যে, এই কৌশল মধ্যপ্রাচ্যের গুরুত্বপূর্ণ জলপথে নতুন উত্তেজনা তৈরি করবে কি না। এখন বিশ্ব তৎপরতার সঙ্গে প্রত্যাশা করছে যুক্তরাষ্ট্র ও তার মিত্ররা কীভাবে এই বিষয়ে অগ্রসর হয়।

ট্যাগ :
সর্বাধিক পঠিত

ঢাকা থেকে ১৭ দিনে মধ্যপ্রাচ্যগামী ৫২৮টি ফ্লাইট বাতিল

হরমুজ নিরাপত্তায় অংশ না নিলে দেশগুলোকে দেখব: ট্রাম্প

প্রকাশিতঃ ০৭:২৫:৪০ অপরাহ্ন, সোমবার, ১৬ মার্চ ২০২৬

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প হরমুজ প্রণালীতে আন্তর্জাতিক নিরাপত্তা ব্যবস্থা গড়ে তোলায় সহযোগিতা না করলে সংশ্লিষ্ট দেশগুলোর বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্র ব্যবস্থা গ্রহণ করবে বলে সতর্ক করে বলেছেন। গত রোববার এয়ার ফোর্স ওয়ানে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এই কড়া বার্তা দেন।

ট্রাম্প বলেন, হরমুজ অঞ্চল থেকে বিশ্ব অর্থনীতির জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ জ্বালানি সরবরাহ সচল রাখা কেবল যুক্তরাষ্ট্রের একার দায়িত্ব নয়; এই পথটির নিরাপত্তা নিশ্চিত করা প্রত্যেক সংশ্লিষ্ট দেশের মৌলিক কর্তব্য। তিনি জানান, তাদের প্রশাসন ইতোমধ্যে অন্তত সাতটি দেশের সঙ্গে ওই অঞ্চলে একটি আন্তর্জাতিক টহল বা ‘পুলিশিং’ ব্যবস্থা গড়ার বিষয়ে নিবিড় আলোচনা চালাচ্ছে।

এই উদ্যোগের মূল লক্ষ্য হরমুজ প্রণালিতে বাণিজ্যিক জাহাজ ও তেলবাহী ট্যাংকারগুলোর নিরাপত্তা নিশ্চিত করা। ট্রাম্প বলেন, কোন দেশগুলো সরাসরি সমর্থন করছে এবং কাদের সহায়তা কৌশলে এড়িয়ে যাচ্ছে, তা তাঁর প্রশাসন মনোগ্রাহীভাবে পর্যবেক্ষণ করছে। তিনি এই অংশগ্রহণকে ‘অত্যন্ত ছোট প্রচেষ্টা’ হিসেবে উল্লেখ করে বলেছেন, শেষ পর্যন্ত কে এই আহ্বানে সাড়া দেয় তা দেখা হবে কৌতূহলোদ্দীপক; যারা পাশে দাঁড়াবে না, ভবিষ্যতে তাদের সম্পর্কে যুক্তরাষ্ট্র ভিন্নভাবে চিন্তা করতে পারে।

আন্তর্জাতিক বিশ্লেষকরা মনে করছেন, ট্রাম্পের এই মন্তব্য মূলত মিত্র দেশগুলোর ওপর চাপ প্রয়োগের কৌশল। বিশেষ করে এশিয়ার কিছু দেশ নিয়মিত এই জলপথ দিয়ে জ্বালানি আমদানি করে; তাদের ওপর দায়বদ্ধতার প্রশ্নটি ট্রাম্প কঠোরভাবে তুলেছেন। বিশ্লেষকদের দেখা অনুযায়ী, এই পদক্ষেপে মিত্র দেশগুলোকে সরাসরি সামরিক বা কৌশলগত অংশগ্রহণে উদ্বুদ্ধ করা হচ্ছে, যাতে নিরাপত্তার ব্যয়ভার কেবল যুক্তরাষ্ট্রের ওপর না পড়ে।

এর আগে জাপান ও দক্ষিণ কোরিয়ার মতো দেশগুলো ওই অঞ্চলে সরাসরি যুদ্ধজাহাজ পাঠানোর বিষয়ে অনিচ্ছা প্রকাশ করেছিল। ট্রাম্পের সতর্কবার্তা এখন সেই দেশের অবস্থান বদলাতে প্রভাব ফেলবে কি না, সেটাই দেখার বিষয়। অস্ট্রেলিয়া বা জাপানসহ অন্যান্য দেশগুলো কি তাদের নীতি পরিবর্তন করে কড়াকড়ি সুরক্ষা সহায়তায় অংশ নেবে, আন্তর্জাতিক মহলে সেই নিয়েই জল্পনা চলছে।

বিশ্বব্যাপী জ্বালানি সরবরাহ বজায় রাখতে ট্রাম্পের ‘পুলিশিং’ পরিকল্পনা এবং এর বাস্তবায়ন নিয়ে উদ্বেগ আছে যে, এই কৌশল মধ্যপ্রাচ্যের গুরুত্বপূর্ণ জলপথে নতুন উত্তেজনা তৈরি করবে কি না। এখন বিশ্ব তৎপরতার সঙ্গে প্রত্যাশা করছে যুক্তরাষ্ট্র ও তার মিত্ররা কীভাবে এই বিষয়ে অগ্রসর হয়।