১০:৫৭ অপরাহ্ন, সোমবার, ১৬ মার্চ ২০২৬, ২ চৈত্র ১৪৩২ বঙ্গাব্দ
সর্বশেষঃ
ঈদযাত্রায় তেলের ভোগান্তি, বাসচালক ও পরিবহনকর্মীর দুর্ভোগ চলছেই ঢাকা থেকে ১৭ দিনে মধ্যপ্রাচ্যগামী ৫২৮টি ফ্লাইট বাতিল শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের সভাপতিকে স্নাতক পাস বাধ্যতামূলক ঘোষণা প্রত্যাশিত বাংলাদেশ গড়তে দিন-রাত কাজ করবে সরকার: তারেক রহমান র‍্যাব ও পুলিশের শীর্ষ পর্যায়ে বড় রদবদল ঢাকা-১৭ আসনে তারেক রহমানের প্রতিনিধি হলেন আবদুর রহমান সানী বাজারে অযৌক্তিক মূল্যবৈষম্য তদন্তে ফ্যাক্ট-ফাইন্ডিং কমিটি গঠন করবে সরকার: বাণিজ্যমন্ত্রী জ্বালানি সংকটে বন্ধ আশুগঞ্জ সার কারখানা, মাসিক ক্ষতি প্রায় ১৫৬ কোটি টাকা ডা. জাহেদ উর রহমানকে তথ্য ও সংস্কৃতি মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব লাইলাতুল কদর: প্রধানমন্ত্রীর আন্তরিক শুভেচ্ছা

হরমুজ প্রণালির নিরাপত্তায় ব্রিটেন, জার্মানি ও গ্রিসের প্রত্যাখ্যান

মধ্যপ্রাচ্যের গুরুত্বপূর্ণ জ্বালানি চালিত স্থলরক্ষা হরমুজ প্রণালির নিরাপত্তা নিশ্চিত করার মার্কিন আহ্বান—এমনকি ন্যাটোর ভবিষ্যত নিয়ে implicit হুমকির মধ্যেও—ব্রিটেন, জার্মানি ও গ্রিস স্পষ্টভাবে প্রত্যাখ্যান করেছে। প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সামরিক সহায়তা ও অংশগ্রহণের দাবি মেনে নেওয়ার চাপের মুখে এই তিন দেশ সাফ জানায় তারা বৃহৎ সামরিক সংঘাতে যুক্ত হতে রাজি নয়।

যুক্তরাজ্যের প্রধানমন্ত্রী কিয়ার স্টারমার এক বক্তব্যে স্পষ্ট করে বলেছেন, যুক্তরাজ্য মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাতের কক্ষে লিপ্ত হবে না। তিনি বলেন, সরকারের মূল অগ্রাধিকার হল ওই অঞ্চলে থাকা ব্রিটিশ নাগরিকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং মিত্রদের জীবন-জানহানির পরিশোধ করা—কিন্তু তা বড় কোনো সামরিক অভিযানে অংশগ্রহণ করে হবে না। স্টারমার জোর দিয়ে বলেছেন, ব্রিটেন কূটনৈতিক ও শান্তিপূর্ণ উপায়ে পরিস্থিতি স্থিতিশীল করতে কাজ চালিয়ে যাবে, বৃহৎ সামরিক মিশনে নিজের বহর যোগ করবে না।

জার্মান সরকারের এক মুখপাত্রও জানিয়েছে, তৎপরতাগুলোতে জার্মানি অংশ নেবে না। তাদের বক্তব্য অনুযায়ী, ইরান-সংক্রান্ত উত্তেজনা ন্যাটোর কোনো প্রাতিষ্ঠানিক বিষয় নয় এবং জার্মানি কোনো পক্ষগ্রহণ বা নৌবাহিনীর মাধ্যমে হরমুজ প্রণালি ‘‘উন্মুক্ত রাখা’’–সংক্রান্ত সামরিক অভিযানে অংশ দেবে না। জার্মান প্রশাসন অন্তর্বর্তীকালীন সময়ে সামরিক তৎপরতা থেকে নিজেকে দূরে রাখবে এবং সংকট সমাধানে শান্তিপূর্ণ পথ ও কূটনৈতিক প্রচেষ্টাই প্রাধান্য দেবে বলে সে ঘোষণা করেছে।

গ্রিসও একই ভূমিকা নিয়েছে। গ্রিক সরকারের মুখপাত্র পাভলোস মারিনাকিস জানিয়েছেন, গ্রিস হরমুজ প্রণালিতে কোনো সামরিক অভিযানে অংশ নেবে না। এই তিন ইউরোপীয় দেশের সমন্বিত ‘না’—ট্রাম্প প্রশাসনের ওপর কড়া আন্তর্জাতিক প্রতিক্রিয়া হিসেবে দেখা যাচ্ছে এবং এটি ওয়াশিংটনের জন্য ব্যাকল্যাশ ও কূটনৈতিক ধাক্কা হিসেবে মূল্যায়িত হচ্ছে।

হরমুজ প্রণালি বিশ্বজুড়ে জ্বালানি তেলের সরবরাহে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে, তাই এ অঞ্চলে উত্তেজনা বিশ্ব অর্থনীতি ও জ্বালানি বাজারে বড় প্রভাব ফেলতে পারে। ট্রাম্প এ সুযোগে মিত্রদের কাছ থেকে সামরিক ও আর্থিক সহায়তা প্রত্যাশা করলেও ব্রিটেন, জার্মানি ও গ্রিসের অনড় অবস্থান দেখাচ্ছে যে ইউরোপীয় দেশগুলো এখন আরও স্বতন্ত্র এবং সতর্ক পররাষ্ট্রনীতি অনুসরণ করছে।

এ পরিস্থিতি ভবিষ্যতে মার্কিন-ইউরোপীয় সম্পর্ক এবং ন্যাটোর অভ্যন্তরীন সংহতিতে কী ধরনের পরিবর্তন নিয়ে আসে—তাই এখন নজরদারির বিষয়। ট্রাম্পের ন্যাটোভিত্তিক হুমকির পরও এই তিন দেশের অনড়তা একটি সম্ভাব্য বিভাজনের ইঙ্গিত দেয়, যা কূটনৈতিক মঞ্চে বড় ধরনের উপসর্গ হতে পারে।

ট্যাগ :
সর্বাধিক পঠিত

ঢাকা থেকে ১৭ দিনে মধ্যপ্রাচ্যগামী ৫২৮টি ফ্লাইট বাতিল

হরমুজ প্রণালির নিরাপত্তায় ব্রিটেন, জার্মানি ও গ্রিসের প্রত্যাখ্যান

প্রকাশিতঃ ০৭:২৫:৪০ অপরাহ্ন, সোমবার, ১৬ মার্চ ২০২৬

মধ্যপ্রাচ্যের গুরুত্বপূর্ণ জ্বালানি চালিত স্থলরক্ষা হরমুজ প্রণালির নিরাপত্তা নিশ্চিত করার মার্কিন আহ্বান—এমনকি ন্যাটোর ভবিষ্যত নিয়ে implicit হুমকির মধ্যেও—ব্রিটেন, জার্মানি ও গ্রিস স্পষ্টভাবে প্রত্যাখ্যান করেছে। প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সামরিক সহায়তা ও অংশগ্রহণের দাবি মেনে নেওয়ার চাপের মুখে এই তিন দেশ সাফ জানায় তারা বৃহৎ সামরিক সংঘাতে যুক্ত হতে রাজি নয়।

যুক্তরাজ্যের প্রধানমন্ত্রী কিয়ার স্টারমার এক বক্তব্যে স্পষ্ট করে বলেছেন, যুক্তরাজ্য মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাতের কক্ষে লিপ্ত হবে না। তিনি বলেন, সরকারের মূল অগ্রাধিকার হল ওই অঞ্চলে থাকা ব্রিটিশ নাগরিকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং মিত্রদের জীবন-জানহানির পরিশোধ করা—কিন্তু তা বড় কোনো সামরিক অভিযানে অংশগ্রহণ করে হবে না। স্টারমার জোর দিয়ে বলেছেন, ব্রিটেন কূটনৈতিক ও শান্তিপূর্ণ উপায়ে পরিস্থিতি স্থিতিশীল করতে কাজ চালিয়ে যাবে, বৃহৎ সামরিক মিশনে নিজের বহর যোগ করবে না।

জার্মান সরকারের এক মুখপাত্রও জানিয়েছে, তৎপরতাগুলোতে জার্মানি অংশ নেবে না। তাদের বক্তব্য অনুযায়ী, ইরান-সংক্রান্ত উত্তেজনা ন্যাটোর কোনো প্রাতিষ্ঠানিক বিষয় নয় এবং জার্মানি কোনো পক্ষগ্রহণ বা নৌবাহিনীর মাধ্যমে হরমুজ প্রণালি ‘‘উন্মুক্ত রাখা’’–সংক্রান্ত সামরিক অভিযানে অংশ দেবে না। জার্মান প্রশাসন অন্তর্বর্তীকালীন সময়ে সামরিক তৎপরতা থেকে নিজেকে দূরে রাখবে এবং সংকট সমাধানে শান্তিপূর্ণ পথ ও কূটনৈতিক প্রচেষ্টাই প্রাধান্য দেবে বলে সে ঘোষণা করেছে।

গ্রিসও একই ভূমিকা নিয়েছে। গ্রিক সরকারের মুখপাত্র পাভলোস মারিনাকিস জানিয়েছেন, গ্রিস হরমুজ প্রণালিতে কোনো সামরিক অভিযানে অংশ নেবে না। এই তিন ইউরোপীয় দেশের সমন্বিত ‘না’—ট্রাম্প প্রশাসনের ওপর কড়া আন্তর্জাতিক প্রতিক্রিয়া হিসেবে দেখা যাচ্ছে এবং এটি ওয়াশিংটনের জন্য ব্যাকল্যাশ ও কূটনৈতিক ধাক্কা হিসেবে মূল্যায়িত হচ্ছে।

হরমুজ প্রণালি বিশ্বজুড়ে জ্বালানি তেলের সরবরাহে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে, তাই এ অঞ্চলে উত্তেজনা বিশ্ব অর্থনীতি ও জ্বালানি বাজারে বড় প্রভাব ফেলতে পারে। ট্রাম্প এ সুযোগে মিত্রদের কাছ থেকে সামরিক ও আর্থিক সহায়তা প্রত্যাশা করলেও ব্রিটেন, জার্মানি ও গ্রিসের অনড় অবস্থান দেখাচ্ছে যে ইউরোপীয় দেশগুলো এখন আরও স্বতন্ত্র এবং সতর্ক পররাষ্ট্রনীতি অনুসরণ করছে।

এ পরিস্থিতি ভবিষ্যতে মার্কিন-ইউরোপীয় সম্পর্ক এবং ন্যাটোর অভ্যন্তরীন সংহতিতে কী ধরনের পরিবর্তন নিয়ে আসে—তাই এখন নজরদারির বিষয়। ট্রাম্পের ন্যাটোভিত্তিক হুমকির পরও এই তিন দেশের অনড়তা একটি সম্ভাব্য বিভাজনের ইঙ্গিত দেয়, যা কূটনৈতিক মঞ্চে বড় ধরনের উপসর্গ হতে পারে।