১০:১৬ অপরাহ্ন, শনিবার, ২৮ মার্চ ২০২৬, ১৪ চৈত্র ১৪৩২ বঙ্গাব্দ
সর্বশেষঃ
ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের সতর্কবার্তা: ভিসা থাকলেও প্রবেশ নিশ্চিত নয় র‍্যাবের ১২তম মহাপরিচালক হিসেবে দায়িত্ব নিলেন আহসান হাবীব পলাশ ডিপো থেকে জ্বালানি তেল সরবরাহের নতুন সময়সূচি — সকাল ৭টা থেকে বিকেল ৩টা ডব্লিউটিও সংস্কারে মৌলিক নীতি অক্ষুণ্ণ রাখতে সতর্কতার আহ্বান খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির দিলারা হাফিজের মৃত্যুতে তারেক রহমানের শোক প্রধানমন্ত্রী সোমবার ক্রীড়া কার্ড ও ভাতা কার্যক্রম উদ্বোধন করবেন চট্টগ্রামে তিন জাহাজে ১ লাখ ৯৩ হাজার টন এলএনজি আসছে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী: ‘একাত্তর আগে, বাকি সব পরে’ — মুক্তিযুদ্ধকে অন্য ইতিহাসের সঙ্গে মেলাবেন না ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করলে কাঙ্ক্ষিত বাংলাদেশ গড়া সম্ভব: বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমান স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী: একাত্তরকে অন্য কোনো ইতিহাসের সঙ্গে মিলানো যাবে না

জেদ্দায় ঐতিহাসিক প্রতিরক্ষা চুক্তি স্বাক্ষর: ইউক্রেন ও সৌদি আরব

বিশ্ব রাজনীতির সংবেদনশীল মুহূর্তে প্রতিরক্ষাক্ষেত্রে অংশীদারিত্ব শক্ত করার লক্ষ্যে জেদ্দায় ইউক্রেন ও সৌদি আরব একটি ঐতিহাসিক চুক্তি স্বাক্ষর করেছে। শুক্রবার (২৭ মার্চ) সৌদি যুবরাজ ও প্রধানমন্ত্রী মোহাম্মদ বিন সালমানের সঙ্গে প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কির উচ্চপর্যায়ের বৈঠকের পরে এ চুক্তির আনুষ্ঠানিক ঘোষণা আসে। আন্তর্জাতিক বিশ্লেষকরা এটিকে দুই দেশের সম্পর্কের একটি কৌশলগত মাইলফলক হিসেবে দেখছেন।

সৌদি আরবের সরকারি সংবাদ সংস্থা এসপিএ-এর তথ্য অনুযায়ী, দুই নেতার বৈঠকে মধ্যপ্রাচ্যের ক্রমবর্ধমান সামরিক উত্তেজনা ও ইউক্রেন সংকটসহ বহুবিধ আঞ্চলিক ও আন্তর্জাতিক বিষয় নিয়ে বিস্তৃত আলোচনা হয়েছে। দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের সার্বিক বিষয়গুলো পর্যালোচনার পাশাপাশি প্রতিরক্ষা ও প্রযুক্তি খাতে দীর্ঘমেয়াদী অংশীদারিত্ব প্রতিষ্ঠা করাই সফরের মূল উদ্দেশ্য ছিল—যা উভয় দেশের জাতীয় নিরাপত্তার ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।

বৈঠকের পর প্রেসিডেন্ট জেলেনস্কি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে ঘোষণা করে বলেন, এই প্রতিরক্ষা চুক্তি মূলত তাঁর সৌদি সফরের অংশ হিসেবে যুবরাজের সঙ্গে বৈঠকের আগে স্বাক্ষরিত হয়েছে। জেলেনস্কি জানান, ইউক্রেন যুদ্ধক্ষেত্রে অর্জিত সামরিক অভিজ্ঞতা ও অত্যাধুনিক প্রযুক্তি সৌদি আরবের সঙ্গে শেয়ার করতে প্রস্তুত আছে। দীর্ঘ সময় ধরে রাশিয়ার বিরুদ্ধে যুদ্ধ চালিয়ে আসায় যে প্রযুক্তিগত ও রণকৌশলগত দক্ষতা তৈরি হয়েছে, সেটাই এই চুক্তির ভিত্তি হবে বলে তিনি উল্লেখ করেছেন।

বিশেষত ইউক্রেনের কাছে ইরানের তৈরি কামিকাজি ড্রোন মোকাবিলার বাস্তব অভিজ্ঞতা রয়েছে, যা মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলোর জন্য খুবই মূল্যবান হতে পারে। জেলেনস্কির প্রযুক্তিগত সহায়তার প্রস্তাব ইতোমধ্যেই সৌদি আরবসহ কয়েকটি প্রতিবেশী দেশের দ্বারা স্বীকৃত হয়েছে। বর্তমানে সৌদি আরবসহ অঞ্চলে প্রায় ২০০ জনেরও বেশি অভিজ্ঞ ইউক্রেনীয় সামরিক প্রযুক্তিবিদ কাজ করছেন—এটি চুক্তির বাস্তব প্রয়োগকে আরও শক্তিশালী করবে।

সফর শেষ করে প্রেসিডেন্ট জেলেনস্কি শনিবার (২৮ মার্চ) জেদ্দা ত্যাগ করবেন। কিং আবদুল আজিজ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে তাঁকে মক্কা অঞ্চলের উপ-গভর্নর প্রিন্স সৌদ বিন মিশআল ও সৌদি সরকারি উচ্চপদস্থ কর্মকর্তারা রাজকীয় মর্যাদায় বিদায় জানাবেন।

বিশ্লেষকরা বলছেন, এই চুক্তি কেবল দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ককে শক্ত করে তা মধ্যপ্রাচ্যের প্রতিরক্ষা কাঠামোতেও ইউক্রেনীয় প্রযুক্তি ও অভিজ্ঞতার মাধ্যমে নতুন কৌশলগত ভারসাম্য এনে দিতে পারে। বিশেষ করে ড্রোন প্রযুক্তি ও আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থায় ইউক্রেনের অভিজ্ঞতা সৌদি আরবের সামরিক সক্ষমতাকে আরও আধুনিক ও কার্যকর করতে সহায়তা করবে।

ট্যাগ :
সর্বাধিক পঠিত

র‍্যাবের ১২তম মহাপরিচালক হিসেবে দায়িত্ব নিলেন আহসান হাবীব পলাশ

জেদ্দায় ঐতিহাসিক প্রতিরক্ষা চুক্তি স্বাক্ষর: ইউক্রেন ও সৌদি আরব

প্রকাশিতঃ ১০:৩৯:১৭ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ২৮ মার্চ ২০২৬

বিশ্ব রাজনীতির সংবেদনশীল মুহূর্তে প্রতিরক্ষাক্ষেত্রে অংশীদারিত্ব শক্ত করার লক্ষ্যে জেদ্দায় ইউক্রেন ও সৌদি আরব একটি ঐতিহাসিক চুক্তি স্বাক্ষর করেছে। শুক্রবার (২৭ মার্চ) সৌদি যুবরাজ ও প্রধানমন্ত্রী মোহাম্মদ বিন সালমানের সঙ্গে প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কির উচ্চপর্যায়ের বৈঠকের পরে এ চুক্তির আনুষ্ঠানিক ঘোষণা আসে। আন্তর্জাতিক বিশ্লেষকরা এটিকে দুই দেশের সম্পর্কের একটি কৌশলগত মাইলফলক হিসেবে দেখছেন।

সৌদি আরবের সরকারি সংবাদ সংস্থা এসপিএ-এর তথ্য অনুযায়ী, দুই নেতার বৈঠকে মধ্যপ্রাচ্যের ক্রমবর্ধমান সামরিক উত্তেজনা ও ইউক্রেন সংকটসহ বহুবিধ আঞ্চলিক ও আন্তর্জাতিক বিষয় নিয়ে বিস্তৃত আলোচনা হয়েছে। দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের সার্বিক বিষয়গুলো পর্যালোচনার পাশাপাশি প্রতিরক্ষা ও প্রযুক্তি খাতে দীর্ঘমেয়াদী অংশীদারিত্ব প্রতিষ্ঠা করাই সফরের মূল উদ্দেশ্য ছিল—যা উভয় দেশের জাতীয় নিরাপত্তার ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।

বৈঠকের পর প্রেসিডেন্ট জেলেনস্কি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে ঘোষণা করে বলেন, এই প্রতিরক্ষা চুক্তি মূলত তাঁর সৌদি সফরের অংশ হিসেবে যুবরাজের সঙ্গে বৈঠকের আগে স্বাক্ষরিত হয়েছে। জেলেনস্কি জানান, ইউক্রেন যুদ্ধক্ষেত্রে অর্জিত সামরিক অভিজ্ঞতা ও অত্যাধুনিক প্রযুক্তি সৌদি আরবের সঙ্গে শেয়ার করতে প্রস্তুত আছে। দীর্ঘ সময় ধরে রাশিয়ার বিরুদ্ধে যুদ্ধ চালিয়ে আসায় যে প্রযুক্তিগত ও রণকৌশলগত দক্ষতা তৈরি হয়েছে, সেটাই এই চুক্তির ভিত্তি হবে বলে তিনি উল্লেখ করেছেন।

বিশেষত ইউক্রেনের কাছে ইরানের তৈরি কামিকাজি ড্রোন মোকাবিলার বাস্তব অভিজ্ঞতা রয়েছে, যা মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলোর জন্য খুবই মূল্যবান হতে পারে। জেলেনস্কির প্রযুক্তিগত সহায়তার প্রস্তাব ইতোমধ্যেই সৌদি আরবসহ কয়েকটি প্রতিবেশী দেশের দ্বারা স্বীকৃত হয়েছে। বর্তমানে সৌদি আরবসহ অঞ্চলে প্রায় ২০০ জনেরও বেশি অভিজ্ঞ ইউক্রেনীয় সামরিক প্রযুক্তিবিদ কাজ করছেন—এটি চুক্তির বাস্তব প্রয়োগকে আরও শক্তিশালী করবে।

সফর শেষ করে প্রেসিডেন্ট জেলেনস্কি শনিবার (২৮ মার্চ) জেদ্দা ত্যাগ করবেন। কিং আবদুল আজিজ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে তাঁকে মক্কা অঞ্চলের উপ-গভর্নর প্রিন্স সৌদ বিন মিশআল ও সৌদি সরকারি উচ্চপদস্থ কর্মকর্তারা রাজকীয় মর্যাদায় বিদায় জানাবেন।

বিশ্লেষকরা বলছেন, এই চুক্তি কেবল দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ককে শক্ত করে তা মধ্যপ্রাচ্যের প্রতিরক্ষা কাঠামোতেও ইউক্রেনীয় প্রযুক্তি ও অভিজ্ঞতার মাধ্যমে নতুন কৌশলগত ভারসাম্য এনে দিতে পারে। বিশেষ করে ড্রোন প্রযুক্তি ও আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থায় ইউক্রেনের অভিজ্ঞতা সৌদি আরবের সামরিক সক্ষমতাকে আরও আধুনিক ও কার্যকর করতে সহায়তা করবে।