১০:১১ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ২৭ মার্চ ২০২৬, ১৩ চৈত্র ১৪৩২ বঙ্গাব্দ
সর্বশেষঃ
চট্টগ্রামে তিন জাহাজে ১ লাখ ৯৩ হাজার টন এলএনজি আসছে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী: ‘একাত্তর আগে, বাকি সব পরে’ — মুক্তিযুদ্ধকে অন্য ইতিহাসের সঙ্গে মেলাবেন না ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করলে কাঙ্ক্ষিত বাংলাদেশ গড়া সম্ভব: বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমান স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী: একাত্তরকে অন্য কোনো ইতিহাসের সঙ্গে মিলানো যাবে না স্বাধীনতা দিবসে বঙ্গভবনে রাষ্ট্রপতির সঙ্গে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সৌজন্য সাক্ষাৎ জাতিসংঘের মহাসচিব বাংলাদেশের প্রতি অবিচল সমর্থন পুনর্ব্যক্ত মালদ্বীপ প্রেসিডেন্ট মুইজ্জু বাংলাদেশের ৫৫তম স্বাধীনতা দিবসে শুভেচ্ছা দৌলতদিয়া ফেরিঘাটে বাসডুবি: উদ্ধার ২৬, নিখোঁজদের খোঁজ চলছে হোয়াইট হাউজে ‘ফস্টারিং দ্য ফিউচার টুগেদার’ সামিটে ডা. জুবাইদা রহমান দৌলতদিয়ায় বাসডুবি: ২৬ মরদেহ উদ্ধার

ইরানের হামলা-লক্ষ্য নির্ধারণে রাশিয়ার সরাসরি সহায়তার অভিযোগ — জার্মান পররাষ্ট্রমন্ত্রী

জি৭ বৈঠক শেষে জার্মান পররাষ্ট্রমন্ত্রী জোহান ওয়াডেফুল এক বিস্ফোরক অভিযোগ তুলে বলেন, ইরানকে সম্ভাব্য হামলার লক্ষ্য নির্ধারণে সরাসরি সাহায্য করছে রাশিয়া। ফ্রান্সে অনুষ্ঠিত জি৭ শীর্ষ সম্মেলনের পর সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এই মন্তব্য করেন; আল-জাজিরার প্রতিবেদন উদ্ধৃত করে তার কথাগুলো আন্তর্জাতিক রাজনৈতিক মহলে নতুন করে উদ্বেগ সৃষ্টি করেছে।

ওয়াডেফুলের ভাষ্যে, রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন কৌশলগতভাবে মধ্যপ্রাচ্যের উত্তেজনাকে কাজে লাগিয়ে আন্তর্জাতিক মনোযোগ ইউক্রেন থেকে সরিয়ে নিতে চান। তিনি বলেছেন, মস্কো চাইছে বিশ্বের নজর মধ্যপ্রাচ্যে থাকলে ইউক্রেনে রাশিয়ার সামরিক কার্যক্রমের ওপর চাপ ও সমালোচনা কমে যাবে। তবে ওয়াডেফুল স্পষ্ট করে দিয়েছেন যে, এই বিভ্রান্তিকর কৌশল কোনোভাবেই সফল হতে দেওয়া হবে না।

জার্মানি ইতিমধ্যেই কূটনৈতিকভাবে ব্যাপক তৎপরতা শুরু করেছে বলে জানান পররাষ্ট্রমন্ত্রী। তিনি জানান, তিনি যুক্তরাষ্ট্রসহ অন্যান্য অংশীদারদের সঙ্গে এই বিষয়ে বিস্তারিত আলোচনা করেছেন এবং জার্মানির দৃঢ় ও নীতিগত অবস্থান তুলে ধরেছেন। জার্মানি শুধু কূটনীতিকি কথাবার্তায় সীমাবদ্ধ থাকতে চায় না; সংঘাত পরবর্তী সময়ে বিশ্বের একটি গুরুত্বপূর্ণ বাণিজ্যিক সড়ক—হার্মুজ সঙ্কীর নিরাপত্তা ও স্থিতিশীলতা বজায় রাখতে কীভাবে কার্যকর ভূমিকা রাখা যায়, তাতেও তারা প্রস্তুত।

ওয়াডেফুল সতর্ক করেছেন যে, বর্তমান বৈশ্বিক প্রেক্ষাপটে মধ্যপ্রাচ্যের অস্থিরতা ও ইউক্রেন সংকট পরস্পরকে প্রভাবিত করছে। তিনি বলেছেন, একটি সমস্যার সমাধান ছাড়া অপরটির স্থিতিশীলতা রক্ষা করা কঠিন হবে, তাই আন্তর্জাতিক শক্তিগুলোকে একই সঙ্গে দুই ফ্রন্টে সতর্ক দৃষ্টি রাখতে হবে।

এমন পরিস্থিতিতে জি৭ ও অন্যান্য আন্তর্জাতিক সংগঠনগুলোর ভূমিকাই নীরিক্ষার কেন্দ্রবিন্দু হয়ে দাঁড়িয়েছে—কীভাবে কূটনৈতিক চাপে সিরিয়াস পাল্টা ব্যবস্থা নেওয়া হবে, ও কিভাবে কোনো বহুল বিস্তৃত সংঘাতে যাওয়া রোধ করা যাবে, তা এখন সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ন প্রশ্ন। ওয়াডেফুলের মন্তব্য এই আলোচনাগুলোকে আরও তীব্রভাবে প্রয়োজনীয় করে তুলেছে।

ট্যাগ :
সর্বাধিক পঠিত

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী: ‘একাত্তর আগে, বাকি সব পরে’ — মুক্তিযুদ্ধকে অন্য ইতিহাসের সঙ্গে মেলাবেন না

ইরানের হামলা-লক্ষ্য নির্ধারণে রাশিয়ার সরাসরি সহায়তার অভিযোগ — জার্মান পররাষ্ট্রমন্ত্রী

প্রকাশিতঃ ০৭:২৫:২০ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ২৭ মার্চ ২০২৬

জি৭ বৈঠক শেষে জার্মান পররাষ্ট্রমন্ত্রী জোহান ওয়াডেফুল এক বিস্ফোরক অভিযোগ তুলে বলেন, ইরানকে সম্ভাব্য হামলার লক্ষ্য নির্ধারণে সরাসরি সাহায্য করছে রাশিয়া। ফ্রান্সে অনুষ্ঠিত জি৭ শীর্ষ সম্মেলনের পর সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এই মন্তব্য করেন; আল-জাজিরার প্রতিবেদন উদ্ধৃত করে তার কথাগুলো আন্তর্জাতিক রাজনৈতিক মহলে নতুন করে উদ্বেগ সৃষ্টি করেছে।

ওয়াডেফুলের ভাষ্যে, রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন কৌশলগতভাবে মধ্যপ্রাচ্যের উত্তেজনাকে কাজে লাগিয়ে আন্তর্জাতিক মনোযোগ ইউক্রেন থেকে সরিয়ে নিতে চান। তিনি বলেছেন, মস্কো চাইছে বিশ্বের নজর মধ্যপ্রাচ্যে থাকলে ইউক্রেনে রাশিয়ার সামরিক কার্যক্রমের ওপর চাপ ও সমালোচনা কমে যাবে। তবে ওয়াডেফুল স্পষ্ট করে দিয়েছেন যে, এই বিভ্রান্তিকর কৌশল কোনোভাবেই সফল হতে দেওয়া হবে না।

জার্মানি ইতিমধ্যেই কূটনৈতিকভাবে ব্যাপক তৎপরতা শুরু করেছে বলে জানান পররাষ্ট্রমন্ত্রী। তিনি জানান, তিনি যুক্তরাষ্ট্রসহ অন্যান্য অংশীদারদের সঙ্গে এই বিষয়ে বিস্তারিত আলোচনা করেছেন এবং জার্মানির দৃঢ় ও নীতিগত অবস্থান তুলে ধরেছেন। জার্মানি শুধু কূটনীতিকি কথাবার্তায় সীমাবদ্ধ থাকতে চায় না; সংঘাত পরবর্তী সময়ে বিশ্বের একটি গুরুত্বপূর্ণ বাণিজ্যিক সড়ক—হার্মুজ সঙ্কীর নিরাপত্তা ও স্থিতিশীলতা বজায় রাখতে কীভাবে কার্যকর ভূমিকা রাখা যায়, তাতেও তারা প্রস্তুত।

ওয়াডেফুল সতর্ক করেছেন যে, বর্তমান বৈশ্বিক প্রেক্ষাপটে মধ্যপ্রাচ্যের অস্থিরতা ও ইউক্রেন সংকট পরস্পরকে প্রভাবিত করছে। তিনি বলেছেন, একটি সমস্যার সমাধান ছাড়া অপরটির স্থিতিশীলতা রক্ষা করা কঠিন হবে, তাই আন্তর্জাতিক শক্তিগুলোকে একই সঙ্গে দুই ফ্রন্টে সতর্ক দৃষ্টি রাখতে হবে।

এমন পরিস্থিতিতে জি৭ ও অন্যান্য আন্তর্জাতিক সংগঠনগুলোর ভূমিকাই নীরিক্ষার কেন্দ্রবিন্দু হয়ে দাঁড়িয়েছে—কীভাবে কূটনৈতিক চাপে সিরিয়াস পাল্টা ব্যবস্থা নেওয়া হবে, ও কিভাবে কোনো বহুল বিস্তৃত সংঘাতে যাওয়া রোধ করা যাবে, তা এখন সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ন প্রশ্ন। ওয়াডেফুলের মন্তব্য এই আলোচনাগুলোকে আরও তীব্রভাবে প্রয়োজনীয় করে তুলেছে।