মধ্যপ্রাচ্যের উত্তেজনার মাঝেই শনিবার (২৮ মার্চ) কুয়েত আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে কয়েক দফায় ড্রোন হামলার ঘটনা ঘটেছে। অভ্যন্তরীন সূত্র ও আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদন অনুযায়ী এই অবঘোষিত হামলায় বিমানবন্দরের প্রধান রাডার ব্যবস্থায় ব্যাপক যান্ত্রিক ক্ষতি হয়েছে; ঘটনাস্থল থেকে ঘন ধোঁয়ার স্তূপ দেখা গেছে। তবে এখনও পর্যন্ত কোনো প্রাণহানির খবর পাওয়া যায়নি।
রয়টার্স জানিয়েছে, আকাশপথ থেকে নিয়ে আসা একাধিক ড্রোন বিমানবন্দরের বিভিন্ন সংবেদনশীল স্থাপনা লক্ষ্য করে আঘাত হানে। প্রত্যক্ষদর্শীরা বিস্ফোরণের পর কালো ধোঁয়া ও আগুনের উল্কির মতো দৃশ্য দেখায়, যা সাধারণ মানুষ ও উপস্থিতদের মধ্যে আতঙ্ক ছড়ায়।
কুয়েত বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষ নিশ্চিত করেছে যে রাডার ব্যবস্থায় বড় ধরনের ক্ষতি সাধিত হলেও কোনো যাত্রী বা বিমানকর্মীর হতাহতের খবর নেই। হামলার পর বিমানবন্দরের স্বাভাবিক কার্যক্রম সাময়িকভাবে ব্যাহত হয় এবং আকাশে অবস্থানরত বিমানগুলোকে সতর্কবার্তা জানানো হয়েছিল। নিরাপত্তা কর্মীরা দ্রুত ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনার চেষ্টা করেন এবং রাডার ব্যবস্থার ক্ষয়ক্ষতি নিরূপণের কাজ শুরু করেন।
কোথা থেকে বা কারা এই ড্রোন লক্ষ্যভ্রষ্ট করেছে সে বিষয়ে ইঙ্গিত মেলেনি; তবু কুয়েত সরকার ইতিমধ্যেই প্রতিবেশী দেশ ইরানকে দায়ী করে আসছে। এর আগেও—গত বুধবার—একটি জ্বালানি ডিপোতে ড্রোন হামলা হয়ে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ড সৃষ্টি হয়েছিল, যা নিয়ন্ত্রণে আনতে ফায়ার সার্ভিসকে দীর্ঘ সময় লড়াই বলতে হয়েছে। প্রতিরক্ষাবিশ্লেষকরা বলছেন, আঞ্চলিক উত্তেজনার কারণে কুয়েতের মতো গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামোগুলো লক্ষ্যবস্তু হচ্ছে।
বর্তমান পরিস্থিতি বিবেচনায় কুয়েতে সর্বোচ্চ সতর্কতা কার্যকর করা হয়েছে। বিমানবন্দরের চারপাশে অতিরিক্ত নিরাপত্তা বেষ্টনী তৈরি করা হয়েছে এবং আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থাকে জোরদার করা হচ্ছে যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের হামলা প্রতিহত করা যায়। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ জানায়, পরিস্থিতি এখন শান্ত ও নিয়ন্ত্রণে রয়েছে এবং ক্ষতিগ্রস্ত রাডার ব্যবস্থা দ্রুত সংস্কারের চেষ্টা চলছে।
মধ্যপ্রাচ্যের এই ক্রমবর্ধমান অস্থিতিশীলতা আন্তর্জাতিক বিমান চলাচল ও বাণিজ্যের ওপরও উদ্বেগ বাড়িয়েছে। কুয়েতের গুরুত্বপূর্ণ এই বিমানবন্দর লক্ষ্যবস্তু করে হওয়া ড্রোন হামলা দেশটির জাতীয় নিরাপত্তার জন্য একটি বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে।
শ্রীমঙ্গল২৪ ডেস্ক 























