০৯:৫৩ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ০৪ এপ্রিল ২০২৬, ২১ চৈত্র ১৪৩২ বঙ্গাব্দ
সর্বশেষঃ
মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাত: বিশ্বজুড়ে খাদ্যদামের উত্থান অপতথ্য রোধে পুরোনো কাঠামোতে আমূল সংস্কার জরুরি: তথ্যমন্ত্রী প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে প্রথমবারের বৈঠক—গঠিত হচ্ছে ‘বেসরকারি খাত উপদেষ্টা পরিষদ’ জ্বালানি সংকটে অফিসঘণ্টা বদল, সন্ধ্যা ৬টার পর মার্কেট বন্ধের নির্দেশ ত্রিমুখী চ্যালেঞ্জে অর্থনীতি: জ্বালানি, মূল্যস্ফীতি ও ডলারের চাপ জ্বালানি সঙ্কটে অফিস সময় বদল — সকাল ৯টা থেকে বিকেল ৪টা জ্বালানি সাশ্রয়ে রাত ৮টার মধ্যে দোকান-শপিংমল বন্ধের ঘোষণা হরমুজ এড়িয়ে ইয়ানবু থেকে বিকল্প পথে ১ লক্ষ টন তেল চট্টগ্রামে আসছে সাইয়েদ বিন আব্দুল্লাহ প্রধানমন্ত্রীর যুব কর্মসংস্থান বিষয়ক বিশেষ সহকারী নিযুক্ত দেশে ১৩৬টি বিদ্যুৎকেন্দ্র, মোট ক্ষমতা ২৮,৯১৯ মেগাওয়াট: বিদ্যুৎমন্ত্রী

চুয়াডাঙ্গায় তাপমাত্রা ৩৮.৫°C, রাস্তায় পিচ গলে যাচ্ছে

চুয়াডাঙ্গায় হঠাৎ তীব্র তাপপ্রবাহ শুরু হয়েছে; বৃহস্পতিবার (২ এপ্রিল) বিকেল ৩টায় জেলার সর্বোচ্চ তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয় ৩৮.৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস। একই সময়ে বাতাসের আর্দ্রতা ছিল মাত্র ৩৪ শতাংশ, যা রোদ এবং গরমের তীব্রতা আরও বাড়িয়ে দিয়েছে।

এর আগের দিন বুধবার (১ এপ্রিল) বিকেলে তাপমাত্রা ছিল ৩৬.৩ ডিগ্রি সেলসিয়াস — পরপর উষ্ণতা বেড়ে যাওয়ায় জনজীবনে দেখা দিয়েছে সীমাহীন কষ্ট। বিশেষত খেটে খাওয়া মানুষ, দিনমজুর ও বাইক চালকরা সবচেয়ে বেশি ভোগান্তিতে পড়েছেন।

শহরে পৌরসভার সামনে এমন ঘটনায় দেখা গেছে যে রোডের পিচ গলে টকটকে হয়েচে; উত্তাপ এতটাই তীব্র যে সড়কের পিচ নরম হয়ে ওঠায় যান চলাচলে ঝুঁকিও বাড়ছে। কয়েকটি তেল পাম্পের সামনে দীর্ঘ লাইনও দেখা গেছে, যেখানে দাঁড়িয়ে থাকা চালকদের অসুবিধা তীব্র।

চুয়াডাঙ্গা শহরের মোটরসাইকেল চালক রবিউল ইসলাম বলেন, “লাইনে দাঁড়িয়ে থাকা খুব কষ্টকর; মাথা ঘোরে, ক্লান্তি বেশি। তেল নেওয়ার জন্য ঘণ্টার পর ঘণ্টা অপেক্ষা করতে হয়।” আরেক চালক সুমন হোসেন জানান, “সকাল থেকেই রোদে দাঁড়িয়ে আছি, শরীর খারাপ হয়ে যাচ্ছে। তেলের জন্য কষ্ট তো আছেই, তাছাড়া এই গরম জীবন দুর্বিষহ করে দিয়েছে।”

দিনমজুররাও গরমে বিপাকে পড়েছেন। আব্দুল মালেক বলেন, “রোদ এত বেশি যে ঠিকঠাক কাজ করা যায় না, তবুও পেটের দায়ে কাজই করতে হয়। দুপুরে শরীর জ্বলতে লাগে।” আর হাবিবুর রহমান বলেন, “কম সময় বিশ্রাম নিতেই হয়, কিন্তু বিশ্রাম বেশি নিলে আয় কমে যায় — তাই দেরিতে হলেও কাজ চালিয়ে যাচ্ছি।”

চুয়াডাঙ্গা প্রথম শ্রেণির আবহাওয়া পর্যবেক্ষণাগারের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা জামিনুর রহমান জানান, চলতি মৌসুমে প্রথমবারের মতো তাপমাত্রা ৩৮.৫ ডিগ্রি ছুঁয়েছে। তিনি বলেন, জেলার ওপর দিয়ে বর্তমানে মাঝারি তাপপ্রবাহ বয়ে যাচ্ছে এবং এটি আগামী কয়েকদিন অব্যাহত থাকতে পারে।

এ পরিস্থিতিতে শহরবাসী ও পথচারীরা সতর্কতা অবলম্বন করছেন; কেউ ছায়ার নিচে অবস্থান করছেন, কেউ পর্যাপ্ত পানি পান করার চেষ্টা করছেন। স্থানীয় প্রশাসন ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ থেকেও জনস্বাস্থ্য ও সড়ক নিরাপত্তার দিকে নজর রাখার দাবি উঠছে।

ট্যাগ :
সর্বাধিক পঠিত

অপতথ্য রোধে পুরোনো কাঠামোতে আমূল সংস্কার জরুরি: তথ্যমন্ত্রী

চুয়াডাঙ্গায় তাপমাত্রা ৩৮.৫°C, রাস্তায় পিচ গলে যাচ্ছে

প্রকাশিতঃ ১০:৩৮:৪০ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২ এপ্রিল ২০২৬

চুয়াডাঙ্গায় হঠাৎ তীব্র তাপপ্রবাহ শুরু হয়েছে; বৃহস্পতিবার (২ এপ্রিল) বিকেল ৩টায় জেলার সর্বোচ্চ তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয় ৩৮.৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস। একই সময়ে বাতাসের আর্দ্রতা ছিল মাত্র ৩৪ শতাংশ, যা রোদ এবং গরমের তীব্রতা আরও বাড়িয়ে দিয়েছে।

এর আগের দিন বুধবার (১ এপ্রিল) বিকেলে তাপমাত্রা ছিল ৩৬.৩ ডিগ্রি সেলসিয়াস — পরপর উষ্ণতা বেড়ে যাওয়ায় জনজীবনে দেখা দিয়েছে সীমাহীন কষ্ট। বিশেষত খেটে খাওয়া মানুষ, দিনমজুর ও বাইক চালকরা সবচেয়ে বেশি ভোগান্তিতে পড়েছেন।

শহরে পৌরসভার সামনে এমন ঘটনায় দেখা গেছে যে রোডের পিচ গলে টকটকে হয়েচে; উত্তাপ এতটাই তীব্র যে সড়কের পিচ নরম হয়ে ওঠায় যান চলাচলে ঝুঁকিও বাড়ছে। কয়েকটি তেল পাম্পের সামনে দীর্ঘ লাইনও দেখা গেছে, যেখানে দাঁড়িয়ে থাকা চালকদের অসুবিধা তীব্র।

চুয়াডাঙ্গা শহরের মোটরসাইকেল চালক রবিউল ইসলাম বলেন, “লাইনে দাঁড়িয়ে থাকা খুব কষ্টকর; মাথা ঘোরে, ক্লান্তি বেশি। তেল নেওয়ার জন্য ঘণ্টার পর ঘণ্টা অপেক্ষা করতে হয়।” আরেক চালক সুমন হোসেন জানান, “সকাল থেকেই রোদে দাঁড়িয়ে আছি, শরীর খারাপ হয়ে যাচ্ছে। তেলের জন্য কষ্ট তো আছেই, তাছাড়া এই গরম জীবন দুর্বিষহ করে দিয়েছে।”

দিনমজুররাও গরমে বিপাকে পড়েছেন। আব্দুল মালেক বলেন, “রোদ এত বেশি যে ঠিকঠাক কাজ করা যায় না, তবুও পেটের দায়ে কাজই করতে হয়। দুপুরে শরীর জ্বলতে লাগে।” আর হাবিবুর রহমান বলেন, “কম সময় বিশ্রাম নিতেই হয়, কিন্তু বিশ্রাম বেশি নিলে আয় কমে যায় — তাই দেরিতে হলেও কাজ চালিয়ে যাচ্ছি।”

চুয়াডাঙ্গা প্রথম শ্রেণির আবহাওয়া পর্যবেক্ষণাগারের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা জামিনুর রহমান জানান, চলতি মৌসুমে প্রথমবারের মতো তাপমাত্রা ৩৮.৫ ডিগ্রি ছুঁয়েছে। তিনি বলেন, জেলার ওপর দিয়ে বর্তমানে মাঝারি তাপপ্রবাহ বয়ে যাচ্ছে এবং এটি আগামী কয়েকদিন অব্যাহত থাকতে পারে।

এ পরিস্থিতিতে শহরবাসী ও পথচারীরা সতর্কতা অবলম্বন করছেন; কেউ ছায়ার নিচে অবস্থান করছেন, কেউ পর্যাপ্ত পানি পান করার চেষ্টা করছেন। স্থানীয় প্রশাসন ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ থেকেও জনস্বাস্থ্য ও সড়ক নিরাপত্তার দিকে নজর রাখার দাবি উঠছে।