০১:২৫ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ০৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১৮ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সর্বশেষঃ
বেসরকারি খাতের গতিশীলতায় সুদৃঢ় অর্থনীতি গড়াই সরকারের লক্ষ্য: প্রধানমন্ত্রী চিফ হুইপ: প্রধানমন্ত্রী জনগণের দোরগোড়ায় স্বাস্থ্যসেবা পৌঁছে দিচ্ছেন ৫০তম বিসিএস লিখিত ফল প্রকাশ: ৬১৬৫ জন উত্তীর্ণ সংসদের চিঠি পেলেই সিদ্ধান্ত: গাজী নজরুলের এমপি পদ নিয়ে ইসি মাছউদ প্রবাসীদের পাসপোর্ট তথ্য সংশোধনের সময়সীমা ছয় মাস বাড়ল জাতিসংঘে সুপারিশ: বাংলাদেশ ও নেপালের এলডিসি উত্তরণের প্রস্তুতি সময় বাড়াতে তথ্যমন্ত্রী: শহীদ জিয়ার ‘বাংলাদেশি জাতীয়তাবাদ’ই অন্তর্ভুক্তিমূলক জাতীয় পরিচয় একনেকে ১৪ হাজার ৪১ কোটি ২১ লাখ টাকার আটটি প্রকল্প অনুমোদন একনেকে ১৪ হাজার ৪১ কোটি ২১ লাখ টাকার ৮টি উন্নয়ন প্রকল্প অনুমোদন ম্যানিলায় বাংলাদেশ-চীন কৌশলগত অংশীদারিত্ব জোরদারের দ্বিপাক্ষিক বৈঠক

চুয়াডাঙ্গায় তাপমাত্রা ৩৮.৫°C, রাস্তায় পিচ গলে যাচ্ছে

চুয়াডাঙ্গায় হঠাৎ তীব্র তাপপ্রবাহ শুরু হয়েছে; বৃহস্পতিবার (২ এপ্রিল) বিকেল ৩টায় জেলার সর্বোচ্চ তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয় ৩৮.৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস। একই সময়ে বাতাসের আর্দ্রতা ছিল মাত্র ৩৪ শতাংশ, যা রোদ এবং গরমের তীব্রতা আরও বাড়িয়ে দিয়েছে।

এর আগের দিন বুধবার (১ এপ্রিল) বিকেলে তাপমাত্রা ছিল ৩৬.৩ ডিগ্রি সেলসিয়াস — পরপর উষ্ণতা বেড়ে যাওয়ায় জনজীবনে দেখা দিয়েছে সীমাহীন কষ্ট। বিশেষত খেটে খাওয়া মানুষ, দিনমজুর ও বাইক চালকরা সবচেয়ে বেশি ভোগান্তিতে পড়েছেন।

শহরে পৌরসভার সামনে এমন ঘটনায় দেখা গেছে যে রোডের পিচ গলে টকটকে হয়েচে; উত্তাপ এতটাই তীব্র যে সড়কের পিচ নরম হয়ে ওঠায় যান চলাচলে ঝুঁকিও বাড়ছে। কয়েকটি তেল পাম্পের সামনে দীর্ঘ লাইনও দেখা গেছে, যেখানে দাঁড়িয়ে থাকা চালকদের অসুবিধা তীব্র।

চুয়াডাঙ্গা শহরের মোটরসাইকেল চালক রবিউল ইসলাম বলেন, “লাইনে দাঁড়িয়ে থাকা খুব কষ্টকর; মাথা ঘোরে, ক্লান্তি বেশি। তেল নেওয়ার জন্য ঘণ্টার পর ঘণ্টা অপেক্ষা করতে হয়।” আরেক চালক সুমন হোসেন জানান, “সকাল থেকেই রোদে দাঁড়িয়ে আছি, শরীর খারাপ হয়ে যাচ্ছে। তেলের জন্য কষ্ট তো আছেই, তাছাড়া এই গরম জীবন দুর্বিষহ করে দিয়েছে।”

দিনমজুররাও গরমে বিপাকে পড়েছেন। আব্দুল মালেক বলেন, “রোদ এত বেশি যে ঠিকঠাক কাজ করা যায় না, তবুও পেটের দায়ে কাজই করতে হয়। দুপুরে শরীর জ্বলতে লাগে।” আর হাবিবুর রহমান বলেন, “কম সময় বিশ্রাম নিতেই হয়, কিন্তু বিশ্রাম বেশি নিলে আয় কমে যায় — তাই দেরিতে হলেও কাজ চালিয়ে যাচ্ছি।”

চুয়াডাঙ্গা প্রথম শ্রেণির আবহাওয়া পর্যবেক্ষণাগারের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা জামিনুর রহমান জানান, চলতি মৌসুমে প্রথমবারের মতো তাপমাত্রা ৩৮.৫ ডিগ্রি ছুঁয়েছে। তিনি বলেন, জেলার ওপর দিয়ে বর্তমানে মাঝারি তাপপ্রবাহ বয়ে যাচ্ছে এবং এটি আগামী কয়েকদিন অব্যাহত থাকতে পারে।

এ পরিস্থিতিতে শহরবাসী ও পথচারীরা সতর্কতা অবলম্বন করছেন; কেউ ছায়ার নিচে অবস্থান করছেন, কেউ পর্যাপ্ত পানি পান করার চেষ্টা করছেন। স্থানীয় প্রশাসন ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ থেকেও জনস্বাস্থ্য ও সড়ক নিরাপত্তার দিকে নজর রাখার দাবি উঠছে।

ট্যাগ :
সর্বাধিক পঠিত

চিফ হুইপ: প্রধানমন্ত্রী জনগণের দোরগোড়ায় স্বাস্থ্যসেবা পৌঁছে দিচ্ছেন

চুয়াডাঙ্গায় তাপমাত্রা ৩৮.৫°C, রাস্তায় পিচ গলে যাচ্ছে

প্রকাশিতঃ ১০:৩৮:৪০ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২ এপ্রিল ২০২৬

চুয়াডাঙ্গায় হঠাৎ তীব্র তাপপ্রবাহ শুরু হয়েছে; বৃহস্পতিবার (২ এপ্রিল) বিকেল ৩টায় জেলার সর্বোচ্চ তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয় ৩৮.৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস। একই সময়ে বাতাসের আর্দ্রতা ছিল মাত্র ৩৪ শতাংশ, যা রোদ এবং গরমের তীব্রতা আরও বাড়িয়ে দিয়েছে।

এর আগের দিন বুধবার (১ এপ্রিল) বিকেলে তাপমাত্রা ছিল ৩৬.৩ ডিগ্রি সেলসিয়াস — পরপর উষ্ণতা বেড়ে যাওয়ায় জনজীবনে দেখা দিয়েছে সীমাহীন কষ্ট। বিশেষত খেটে খাওয়া মানুষ, দিনমজুর ও বাইক চালকরা সবচেয়ে বেশি ভোগান্তিতে পড়েছেন।

শহরে পৌরসভার সামনে এমন ঘটনায় দেখা গেছে যে রোডের পিচ গলে টকটকে হয়েচে; উত্তাপ এতটাই তীব্র যে সড়কের পিচ নরম হয়ে ওঠায় যান চলাচলে ঝুঁকিও বাড়ছে। কয়েকটি তেল পাম্পের সামনে দীর্ঘ লাইনও দেখা গেছে, যেখানে দাঁড়িয়ে থাকা চালকদের অসুবিধা তীব্র।

চুয়াডাঙ্গা শহরের মোটরসাইকেল চালক রবিউল ইসলাম বলেন, “লাইনে দাঁড়িয়ে থাকা খুব কষ্টকর; মাথা ঘোরে, ক্লান্তি বেশি। তেল নেওয়ার জন্য ঘণ্টার পর ঘণ্টা অপেক্ষা করতে হয়।” আরেক চালক সুমন হোসেন জানান, “সকাল থেকেই রোদে দাঁড়িয়ে আছি, শরীর খারাপ হয়ে যাচ্ছে। তেলের জন্য কষ্ট তো আছেই, তাছাড়া এই গরম জীবন দুর্বিষহ করে দিয়েছে।”

দিনমজুররাও গরমে বিপাকে পড়েছেন। আব্দুল মালেক বলেন, “রোদ এত বেশি যে ঠিকঠাক কাজ করা যায় না, তবুও পেটের দায়ে কাজই করতে হয়। দুপুরে শরীর জ্বলতে লাগে।” আর হাবিবুর রহমান বলেন, “কম সময় বিশ্রাম নিতেই হয়, কিন্তু বিশ্রাম বেশি নিলে আয় কমে যায় — তাই দেরিতে হলেও কাজ চালিয়ে যাচ্ছি।”

চুয়াডাঙ্গা প্রথম শ্রেণির আবহাওয়া পর্যবেক্ষণাগারের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা জামিনুর রহমান জানান, চলতি মৌসুমে প্রথমবারের মতো তাপমাত্রা ৩৮.৫ ডিগ্রি ছুঁয়েছে। তিনি বলেন, জেলার ওপর দিয়ে বর্তমানে মাঝারি তাপপ্রবাহ বয়ে যাচ্ছে এবং এটি আগামী কয়েকদিন অব্যাহত থাকতে পারে।

এ পরিস্থিতিতে শহরবাসী ও পথচারীরা সতর্কতা অবলম্বন করছেন; কেউ ছায়ার নিচে অবস্থান করছেন, কেউ পর্যাপ্ত পানি পান করার চেষ্টা করছেন। স্থানীয় প্রশাসন ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ থেকেও জনস্বাস্থ্য ও সড়ক নিরাপত্তার দিকে নজর রাখার দাবি উঠছে।