১০:২৩ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ০৯ এপ্রিল ২০২৬, ২৬ চৈত্র ১৪৩২ বঙ্গাব্দ
সর্বশেষঃ
জ্বালানি বিতরণে কিউআর কোডভিত্তিক ‘ফুয়েল পাস’ অ্যাপের পাইলট চালু ঢাকায় পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামার সঙ্গে যুক্তরাজ্যের বাণিজ্য দূতের সাক্ষাৎ আনোয়ার ইব্রাহিম তারেক রহমানকে মালয়েশিয়া সফরের আমন্ত্রণ জানালেন ঢাকায় পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রীর সঙ্গে যুক্তরাজ্যের বাণিজ্য দূতের বৈঠক তথ্যমন্ত্রী: ভূ-রাজনীতি, জ্বালানি ও পরিবেশের জটিল যোগসূত্র তরুণদের অনুধাবন করতে হবে দুদকে আবেদন: আসিফ নজরুল ও মাসুমের বিরুদ্ধে দুর্নীতি অনুসন্ধান দাবি কলমে ছদ্মবেশী ‘পেনগান’—রাসেলকে হত্যাচেষ্টায় আইনশৃঙ্খলার উদ্বেগ হামের টিকাদান শুরু ২০ এপ্রিল: স্বাস্থ্যমন্ত্রীর ঘোষণা প্রতিটি উপজেলায় একটি করে মহিলা কলেজ সরকারিকরণ করা হবে: প্রধানমন্ত্রী সংসদে পাস সন্ত্রাসবিরোধী (সংশোধন) ২০২৬ — আওয়ামী লীগের কার্যক্রম নিষিদ্ধই রাখল বিল

বরেণ্য শিল্পনির্দেশক ও চিত্রশিল্পী তরুণ ঘোষ আর নেই

জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কারপ্রাপ্ত বরেণ্য শিল্পনির্দেশক ও চিত্রশিল্পী তরুণ ঘোষের মৃত্যুতে দেশের সাংস্কৃতিক অঙ্গনে শোকের ছায়া নেমে এসেছে। গতকাল বুধবার দিবাগত রাত প্রায় দেড়টার দিকে হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে তিনি শেষ নিশ্বাস ত্যাগ করেন। মৃত্যুকালে তাঁর বয়স হয়েছিল ৭৩ বছর। তাঁর প্রয়াণের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন চলচ্চিত্র নির্মাতা এন রাশেদ চৌধুরী। তিনি স্ত্রী ও এক পুত্রসন্তানসহ অসংখ্য গুণগ্রাহী ও ছাত্র–ছাত্রী রেখে গেছেন।

রাজবাড়ী জেলায় জন্মগ্রহণ করা তরুণ ঘোষ শিল্পকলার প্রতি তরুণ বয়স থেকেই অনুরাগী ছিলেন। ১৯৭৭ সালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের চারুকলা ইনস্টিটিউট থেকে স্নাতক ও ১৯৮৬ সালে ভারতের বরোদা এমএস বিশ্ববিদ্যালয় থেকে স্নাতকোত্তর ডিগ্রি অর্জন করে তিনি শিল্পের তাত্ত্বিক ও ব্যবহারিক জ্ঞানকে গভীর করেন।

তরুণ ঘোষের কর্মজীবন ছিল বহুমুখী ও প্রভাবশালী। ১৯৭৯ সালে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের চারুকলা বিভাগে যোগ দিয়ে তিনি সেই বিভাগের প্রতিষ্ঠাতা শিক্ষকদের একজন হিসেবে গুরুত্বপুর্ণ ভূমিকা পালন করেন। পরে ১৯৮৯ সালে বাংলাদেশ জাতীয় জাদুঘরে যোগদান করে দীর্ঘকাল নিষ্ঠার সঙ্গে দায়িত্ব পালন করেন এবং ২০১২ সালে ‘কিপার’ পদ থেকে অবসর গ্রহণ করেন।

চিত্রকলার পাশাপাশি চলচ্চিত্রের শৈল্পিক পরিবেশ গঠনে তাঁর অবদান স্মরণীয়। আবু সাইয়ীদের পরিচালিত ‘কিত্তনখোলা’ চলচ্চিত্রের শিল্পনির্দেশনার জন্য তিনি জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কারে সম্মানিত হন। তাছাড়া তারেক মাসুদের ‘মাটির ময়না’, স্বল্পদৈর্ঘ্য ‘নরসুন্দর’ এবং এন রাশেদ চৌধুরীর ‘চন্দ্রাবতী কথা’-র মতো চলচ্চিত্রেও তাঁর সৃজনশীল মেধার ছাপ স্পষ্ট। জীবনের শেষ সময়ে তিনি এন রাশেদ চৌধুরীর মুক্তিপ্রতীক্ষিত সিনেমা ‘সখী রঙ্গমালা’-তেও শিল্পনির্দেশনার কাজ করেন।

চিত্রশিল্পী হিসেবে তরুণ ঘোষ আন্তর্জাতিক মানের কাজ করে গেছেন। বাংলা লোকজ সংস্কৃতি ও ঐতিহ্যকে আধুনিক ক্যানভাসে তুলে ধরায় তাঁর বিশেষ কৃতি ‘বেহুলা’ সিরিজ ব্যাপক প্রশংসা পায় এবং সেই কাজের স্বীকৃতি হিসেবে তিনি ‘এশিয়ান আর্ট অ্যাওয়ার্ড’ অর্জন করেন। ১৯৮৫–৮৭ সালের মধ্যে তিনি এমএস বিশ্ববিদ্যালয়ের অধীনে ‘ফোক পেইন্টিং রিসার্চ অ্যান্ড ডকুমেন্টেশন প্রোগ্রাম’-এ যুক্ত থেকে লোকজ চিত্রকলার গবেষণায় গুরুত্বপূর্ণ অবদান রেখে গেছেন।

তরুণ ঘোষের মৃত্যুতে শিল্পী সমাজ, শিক্ষার্থীবৃত্তি ও শিল্পানুরাগীদের মধ্যে গভীর শোক ও সমবেদনা ছড়িয়ে পড়েছে। একজন নমনীয় শিক্ষক, বিচক্ষণ শিল্পী ও যথার্থ শিল্পনির্দেশক হিসেবে তিনি যে রেখে গেছেন সেই উত্তরাধিকার বহুদিন মনে থাকবে। সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি ও অনুরাগীরা তাঁর বিদেহী আত্মার শান্তি কামনা করেছেন।

ট্যাগ :
সর্বাধিক পঠিত

ঢাকায় পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামার সঙ্গে যুক্তরাজ্যের বাণিজ্য দূতের সাক্ষাৎ

বরেণ্য শিল্পনির্দেশক ও চিত্রশিল্পী তরুণ ঘোষ আর নেই

প্রকাশিতঃ ০২:২১:৫০ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৯ এপ্রিল ২০২৬

জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কারপ্রাপ্ত বরেণ্য শিল্পনির্দেশক ও চিত্রশিল্পী তরুণ ঘোষের মৃত্যুতে দেশের সাংস্কৃতিক অঙ্গনে শোকের ছায়া নেমে এসেছে। গতকাল বুধবার দিবাগত রাত প্রায় দেড়টার দিকে হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে তিনি শেষ নিশ্বাস ত্যাগ করেন। মৃত্যুকালে তাঁর বয়স হয়েছিল ৭৩ বছর। তাঁর প্রয়াণের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন চলচ্চিত্র নির্মাতা এন রাশেদ চৌধুরী। তিনি স্ত্রী ও এক পুত্রসন্তানসহ অসংখ্য গুণগ্রাহী ও ছাত্র–ছাত্রী রেখে গেছেন।

রাজবাড়ী জেলায় জন্মগ্রহণ করা তরুণ ঘোষ শিল্পকলার প্রতি তরুণ বয়স থেকেই অনুরাগী ছিলেন। ১৯৭৭ সালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের চারুকলা ইনস্টিটিউট থেকে স্নাতক ও ১৯৮৬ সালে ভারতের বরোদা এমএস বিশ্ববিদ্যালয় থেকে স্নাতকোত্তর ডিগ্রি অর্জন করে তিনি শিল্পের তাত্ত্বিক ও ব্যবহারিক জ্ঞানকে গভীর করেন।

তরুণ ঘোষের কর্মজীবন ছিল বহুমুখী ও প্রভাবশালী। ১৯৭৯ সালে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের চারুকলা বিভাগে যোগ দিয়ে তিনি সেই বিভাগের প্রতিষ্ঠাতা শিক্ষকদের একজন হিসেবে গুরুত্বপুর্ণ ভূমিকা পালন করেন। পরে ১৯৮৯ সালে বাংলাদেশ জাতীয় জাদুঘরে যোগদান করে দীর্ঘকাল নিষ্ঠার সঙ্গে দায়িত্ব পালন করেন এবং ২০১২ সালে ‘কিপার’ পদ থেকে অবসর গ্রহণ করেন।

চিত্রকলার পাশাপাশি চলচ্চিত্রের শৈল্পিক পরিবেশ গঠনে তাঁর অবদান স্মরণীয়। আবু সাইয়ীদের পরিচালিত ‘কিত্তনখোলা’ চলচ্চিত্রের শিল্পনির্দেশনার জন্য তিনি জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কারে সম্মানিত হন। তাছাড়া তারেক মাসুদের ‘মাটির ময়না’, স্বল্পদৈর্ঘ্য ‘নরসুন্দর’ এবং এন রাশেদ চৌধুরীর ‘চন্দ্রাবতী কথা’-র মতো চলচ্চিত্রেও তাঁর সৃজনশীল মেধার ছাপ স্পষ্ট। জীবনের শেষ সময়ে তিনি এন রাশেদ চৌধুরীর মুক্তিপ্রতীক্ষিত সিনেমা ‘সখী রঙ্গমালা’-তেও শিল্পনির্দেশনার কাজ করেন।

চিত্রশিল্পী হিসেবে তরুণ ঘোষ আন্তর্জাতিক মানের কাজ করে গেছেন। বাংলা লোকজ সংস্কৃতি ও ঐতিহ্যকে আধুনিক ক্যানভাসে তুলে ধরায় তাঁর বিশেষ কৃতি ‘বেহুলা’ সিরিজ ব্যাপক প্রশংসা পায় এবং সেই কাজের স্বীকৃতি হিসেবে তিনি ‘এশিয়ান আর্ট অ্যাওয়ার্ড’ অর্জন করেন। ১৯৮৫–৮৭ সালের মধ্যে তিনি এমএস বিশ্ববিদ্যালয়ের অধীনে ‘ফোক পেইন্টিং রিসার্চ অ্যান্ড ডকুমেন্টেশন প্রোগ্রাম’-এ যুক্ত থেকে লোকজ চিত্রকলার গবেষণায় গুরুত্বপূর্ণ অবদান রেখে গেছেন।

তরুণ ঘোষের মৃত্যুতে শিল্পী সমাজ, শিক্ষার্থীবৃত্তি ও শিল্পানুরাগীদের মধ্যে গভীর শোক ও সমবেদনা ছড়িয়ে পড়েছে। একজন নমনীয় শিক্ষক, বিচক্ষণ শিল্পী ও যথার্থ শিল্পনির্দেশক হিসেবে তিনি যে রেখে গেছেন সেই উত্তরাধিকার বহুদিন মনে থাকবে। সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি ও অনুরাগীরা তাঁর বিদেহী আত্মার শান্তি কামনা করেছেন।