০৯:৪৭ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ১০ এপ্রিল ২০২৬, ২৭ চৈত্র ১৪৩২ বঙ্গাব্দ
সর্বশেষঃ
অস্ট্রেলিয়ার স্টুডেন্ট ভিসা: বাংলাদেশি আবেদনকারীর অর্ধেকেরও বেশি প্রত্যাখ্যাত সংসদে নতুন রেকর্ড: ১৩ দিনে ৯১টি বিল পাস আবু সাঈদ হত্যা: ট্রাইব্যুনাল—২ পুলিশ সদস্যের ফাঁসি, তিনজনকে যাবজ্জীবন অর্থমন্ত্রী: ফ্যাসিবাদী সরকারের দুর্নীতি ও লুটপাটে অর্থনীতি ধ্বংসের দ্বারপ্রান্তে আবু সাঈদ হত্যা: ২ পুলিশকে ফাঁসি, ৩ জনকে যাবজ্জীবন তথ্যমন্ত্রী জহির উদ্দিন স্বপন: এনইআইআর নীতিমালা সংশোধন করা হবে জ্বালানি বিতরণে কিউআর কোডভিত্তিক ‘ফুয়েল পাস’ অ্যাপের পাইলট চালু ঢাকায় পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামার সঙ্গে যুক্তরাজ্যের বাণিজ্য দূতের সাক্ষাৎ আনোয়ার ইব্রাহিম তারেক রহমানকে মালয়েশিয়া সফরের আমন্ত্রণ জানালেন ঢাকায় পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রীর সঙ্গে যুক্তরাজ্যের বাণিজ্য দূতের বৈঠক

সংসদে পাস: আওয়ামী লীগের কার্যক্রম নিষিদ্ধই থাকবে

জাতীয় সংসদে সন্ত্রাসবিরোধী আইনসহ একাধিক বিল পাস করে অন্তর্বর্তী সরকারের একই ধরনের নিষেধাজ্ঞা আইনিভাবে নিশ্চিত করা হয়েছে — ফলে আওয়ামী লীগের সব ধরনের কার্যক্রম নিষিদ্ধই থাকবে। বুধবার (৮ এপ্রিল) দুপুর সোয়া ১২টার দিকে কণ্ঠভোটে এসব বিল সমর্থিত হয় এবং পূর্বে জারি করা অধ্যাদেশগুলোর আইনগত ভিত্তি নিশ্চিত হলো।

একসঙ্গে পাস হওয়া আইনগুলোর মধ্যে প্রধান হলো সন্ত্রাসবিরোধী (সংশোধন) বিল। এতে সন্ত্রাসী কার্যক্রমে জড়িত ব্যক্তি বা সত্তাকে তালিকাভুক্ত করে তাদের ‘‘জাবতীয় কার্যক্রম’’ নিষিদ্ধ করার স্পষ্ট বিধান যুক্ত করা হয়েছে। সংশোধনের ফলে সরকারের কাছে সেই সত্তার অর্থ-সম্পদ, লেনদেন নিয়ন্ত্রণ করার এবং তাদের প্রচার-প্রচারণা, মিছিল, সভা-সমাবেশ, সংবাদ সম্মেলন, অনলাইন ও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে প্রচারণা বন্ধ করার ক্ষমতাও সুনির্দিষ্টভাবে রাখা হয়েছে।

এদিন সংসদে আরও ছয়টি বিল পাস করা হয় — ‘জুলাই গণঅভ্যুত্থান (সুরক্ষা ও দায় নির্ধারণ) আইন, ২০২৬’, ‘সরকারি হিসাব নিরীক্ষা আইন, ২০২৬’, ‘প্রোটেকশন অ্যান্ড কনসারভেশন অব ফিস (সংশোধন) অ্যাক্ট, ২০২৬’, ‘শেখ হাসিনা পল্লী উন্নয়ন একাডেমি জামালপুর (সংশোধন) আইন, ২০২৬’, ‘পানি সরবরাহ ও পয়ঃনিষ্কাষণ কর্তৃপক্ষ (সংশোধন) আইন, ২০২৬’ এবং ‘জাতির পিতার পরিবার-সদস্যদের নিরাপত্তা আইন, ২০০৯’ বিলটি বাতিলকরণ।

বিল পাসের সঙ্গে সঙ্গে ২০০৯ সালের ওই নিরাপত্তা আইনের আওতায় শেখ পরিবারের জন্য বরাদ্দ বিশেষ রাষ্ট্রীয় নিরাপত্তা ও অন্যান্য সুবিধা বাতিল করা হলো। ২০০৯ সালের ওই আইন অনুযায়ী বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের কন্যাদের এবং তাদের সন্তানদের জন্য আজীবন নিরাপত্তা ও সরকারি বাসভবনসহ বহুমুখী সুবিধা রাখা হয়েছিল; সেগুলো এখন বিল পাসের মাধ্যমে অপসারণ করা হয়েছে।

এবিষয়ক অধ্যাদেশ অন্তর্বর্তী সরকারের সময় জারি করা হয়েছিল; পরে সেটি বিল আকারে সংসদে উত্থাপন করেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ। বিলের উদ্দেশ্য ও কারণের রূপে বলা হয়েছে, আগের আইনে কেবল একটি পরিবারের সদস্যকে বেছে নিয়ে বিশেষ সুবিধা প্রদানের প্রবণতা ছিল, যা বৈষম্যসৃষ্টিকারী — তাই সেই বিধান সংশোধন করে বাতিল করা প্রয়োজন দেখা যায়।

বিলগুলোর মধ্যে ‘জুলাই গণঅভ্যুত্থান (সুরক্ষা ও দায় নির্ধারণ) আইন, ২০২৬’ থাকায় ২০২৪ সালের জুলাই-অগাস্টে যে আন্দোলন হয়েছে, তার অংশগ্রহণকারীদের সুরক্ষা ও দায় নির্ধারণ সংক্রান্ত বিধান চালু করা হয়েছে। বিল শর্তানুযায়ী, ওই সময়কার কার্যকলাপে অংশগ্রহণকারীদের বিরুদ্ধে পূর্বে দায়েরকৃত দেওয়ানি বা ফৌজদারি মামলার কিছু অভিযোগ প্রত্যাহার করা হবে; একই সঙ্গে নতুনভাবে মামলা দায়ের করার সীমাবদ্ধতাও নির্ধারণ করা হয়েছে — বিস্তারিত বিধান বিলের শর্তে উল্লেখ করা আছে। বিলটির ভাষ্যে আন্দোলনের সময় নেওয়া আত্মরক্ষামূলক পদক্ষেপগুলোকে রাজনৈতিক ও আইনী প্রসঙ্গ হিসেবে বিবেচনা করে নিরাপত্তা প্রদানের প্রয়োজনীয়তা যুক্ত করা হয়েছে।

সংসদে বিল উত্থাপনের সময় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, সন্ত্রাসবিরোধী আইনে এই সংশোধন আনার উদ্দেশ্য হচ্ছে সন্ত্রাসী সংগঠন ও তাদের কার্যক্রম নিরুৎসাহিত করা এবং প্রয়োজনীয় কিগুলোর আইনি ভিত্তি মজবুত করা। স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদের সভাপতিত্বে বিলটি অবিলম্বে বিবেচনার প্রস্তাব গৃহীত হলে কণ্ঠভোটে তা পাশ হয়।

বিল পাসের প্রক্রিয়া ত্বরান্বিত হওয়ায় বিরোধী দল আগে থেকে পর্যাপ্ত সময় পায়নি বলে তাদের নেতা আক্ষেপ প্রকাশ করেন; বিল পাসের আগে বিরোধীদলের বক্তব্যে বলা হয়, সংক্ষিপ্ত নোটিশে গুরুত্বপূর্ণ ‘‘স্পর্শকাতর’’ আইনের ওপর সিদ্ধান্ত নেয়া উচিত নয়। স্পিকার জানান, আপত্তি তুলতে নির্দিষ্ট সময় ছিল এবং বর্তমান স্তরে আপত্তি করার সুযোগ নেই।

পাসকৃত বিলে কিছু ধারাকে কার্যকরী করার তারিখ সংক্রান্ত ধারা রাখা হয়েছে — এতে বলা হয়েছে একাধিক তারিখকে কার্যকর বিবেচনা করা হবে (বিলে উল্লেখ আছে ২৫ জানুয়ারি ২০২৬ তারিখ কার্যকরের হিসাবে গণ্য হবার কথা এবং ১ জুলাই ২০২৪ থেকে বলবৎ ধরা হবে) — বিস্তারিত কার্যকরণসমূহ নির্ভর করছে সংশ্লিষ্ট ধারার কনটেক্সটে।

আইন-নিরপেক্ষ বিশ্লেষক ও নিরাপত্তা বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এসব পরিবর্তন সন্ত্রাসী কার্যক্রম প্রতিরোধে একটি শক্তিশালী আইনি হাতিয়ার দেবে। অপরদিকে আইনজীবীরা মনে করেন, সরকারি কর্মকর্তাদেরকে বিধানগুলো প্রয়োগে সতর্ক থাকতে হবে এবং সংশ্লিষ্ট সত্তা বা ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে যথাযথ বিচারিক প্রক্রিয়া অনুসরণ করে সিদ্ধান্ত নিতে হবে, যাতে অধিকারগত ও সংবিধানিক প্রয়োজনে সুরক্ষা বজায় থাকে।

প্রসঙ্গত, ২০২৫ সালের ১২ মে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের একটি প্রজ্ঞাপনে আওয়ামী লীগ ও এর অঙ্গ-সহযোগী সংগঠনের কার্যক্রম অন্তর্বর্তীকালীন সময় থেকে নিষিদ্ধ করা হয়েছিল; সেই অধ্যাদেশের বিধানগুলোই ত্রয়োদশ সংসদে আইন আকারে রূপান্তরিত হলো। অন্তর্বর্তী সরকারের সময়ে সেই অধ্যাদেশ ও অন্যান্য সংশোধনী প্রয়োগের ফলে আওয়ামী লীগ ও তার নেতাদের বিরুদ্ধে বিভিন্ন আইনি উদ্যোগ নেওয়া হয়েছিল।

সংকল্পভিত্তিক এই আইনগুলো পাসের মাধ্যমে রাজনৈতিক ও আইনি পরিস্থিতি বদলে দেওয়া হয়েছে — এখন এই পরিবর্তনগুলোর প্রয়োগ, উচ্চ আদালত থেকে সম্ভাব্য চ্যালেঞ্জ এবং ভবিষ্যতে কী প্রভাব ফেলবে তা দেশের রাজনৈতিক ও আইনি পরিমণ্ডলে নজরবন্দি থাকবে।

ট্যাগ :
সর্বাধিক পঠিত

সংসদে নতুন রেকর্ড: ১৩ দিনে ৯১টি বিল পাস

সংসদে পাস: আওয়ামী লীগের কার্যক্রম নিষিদ্ধই থাকবে

প্রকাশিতঃ ১০:৪১:২১ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ১০ এপ্রিল ২০২৬

জাতীয় সংসদে সন্ত্রাসবিরোধী আইনসহ একাধিক বিল পাস করে অন্তর্বর্তী সরকারের একই ধরনের নিষেধাজ্ঞা আইনিভাবে নিশ্চিত করা হয়েছে — ফলে আওয়ামী লীগের সব ধরনের কার্যক্রম নিষিদ্ধই থাকবে। বুধবার (৮ এপ্রিল) দুপুর সোয়া ১২টার দিকে কণ্ঠভোটে এসব বিল সমর্থিত হয় এবং পূর্বে জারি করা অধ্যাদেশগুলোর আইনগত ভিত্তি নিশ্চিত হলো।

একসঙ্গে পাস হওয়া আইনগুলোর মধ্যে প্রধান হলো সন্ত্রাসবিরোধী (সংশোধন) বিল। এতে সন্ত্রাসী কার্যক্রমে জড়িত ব্যক্তি বা সত্তাকে তালিকাভুক্ত করে তাদের ‘‘জাবতীয় কার্যক্রম’’ নিষিদ্ধ করার স্পষ্ট বিধান যুক্ত করা হয়েছে। সংশোধনের ফলে সরকারের কাছে সেই সত্তার অর্থ-সম্পদ, লেনদেন নিয়ন্ত্রণ করার এবং তাদের প্রচার-প্রচারণা, মিছিল, সভা-সমাবেশ, সংবাদ সম্মেলন, অনলাইন ও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে প্রচারণা বন্ধ করার ক্ষমতাও সুনির্দিষ্টভাবে রাখা হয়েছে।

এদিন সংসদে আরও ছয়টি বিল পাস করা হয় — ‘জুলাই গণঅভ্যুত্থান (সুরক্ষা ও দায় নির্ধারণ) আইন, ২০২৬’, ‘সরকারি হিসাব নিরীক্ষা আইন, ২০২৬’, ‘প্রোটেকশন অ্যান্ড কনসারভেশন অব ফিস (সংশোধন) অ্যাক্ট, ২০২৬’, ‘শেখ হাসিনা পল্লী উন্নয়ন একাডেমি জামালপুর (সংশোধন) আইন, ২০২৬’, ‘পানি সরবরাহ ও পয়ঃনিষ্কাষণ কর্তৃপক্ষ (সংশোধন) আইন, ২০২৬’ এবং ‘জাতির পিতার পরিবার-সদস্যদের নিরাপত্তা আইন, ২০০৯’ বিলটি বাতিলকরণ।

বিল পাসের সঙ্গে সঙ্গে ২০০৯ সালের ওই নিরাপত্তা আইনের আওতায় শেখ পরিবারের জন্য বরাদ্দ বিশেষ রাষ্ট্রীয় নিরাপত্তা ও অন্যান্য সুবিধা বাতিল করা হলো। ২০০৯ সালের ওই আইন অনুযায়ী বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের কন্যাদের এবং তাদের সন্তানদের জন্য আজীবন নিরাপত্তা ও সরকারি বাসভবনসহ বহুমুখী সুবিধা রাখা হয়েছিল; সেগুলো এখন বিল পাসের মাধ্যমে অপসারণ করা হয়েছে।

এবিষয়ক অধ্যাদেশ অন্তর্বর্তী সরকারের সময় জারি করা হয়েছিল; পরে সেটি বিল আকারে সংসদে উত্থাপন করেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ। বিলের উদ্দেশ্য ও কারণের রূপে বলা হয়েছে, আগের আইনে কেবল একটি পরিবারের সদস্যকে বেছে নিয়ে বিশেষ সুবিধা প্রদানের প্রবণতা ছিল, যা বৈষম্যসৃষ্টিকারী — তাই সেই বিধান সংশোধন করে বাতিল করা প্রয়োজন দেখা যায়।

বিলগুলোর মধ্যে ‘জুলাই গণঅভ্যুত্থান (সুরক্ষা ও দায় নির্ধারণ) আইন, ২০২৬’ থাকায় ২০২৪ সালের জুলাই-অগাস্টে যে আন্দোলন হয়েছে, তার অংশগ্রহণকারীদের সুরক্ষা ও দায় নির্ধারণ সংক্রান্ত বিধান চালু করা হয়েছে। বিল শর্তানুযায়ী, ওই সময়কার কার্যকলাপে অংশগ্রহণকারীদের বিরুদ্ধে পূর্বে দায়েরকৃত দেওয়ানি বা ফৌজদারি মামলার কিছু অভিযোগ প্রত্যাহার করা হবে; একই সঙ্গে নতুনভাবে মামলা দায়ের করার সীমাবদ্ধতাও নির্ধারণ করা হয়েছে — বিস্তারিত বিধান বিলের শর্তে উল্লেখ করা আছে। বিলটির ভাষ্যে আন্দোলনের সময় নেওয়া আত্মরক্ষামূলক পদক্ষেপগুলোকে রাজনৈতিক ও আইনী প্রসঙ্গ হিসেবে বিবেচনা করে নিরাপত্তা প্রদানের প্রয়োজনীয়তা যুক্ত করা হয়েছে।

সংসদে বিল উত্থাপনের সময় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, সন্ত্রাসবিরোধী আইনে এই সংশোধন আনার উদ্দেশ্য হচ্ছে সন্ত্রাসী সংগঠন ও তাদের কার্যক্রম নিরুৎসাহিত করা এবং প্রয়োজনীয় কিগুলোর আইনি ভিত্তি মজবুত করা। স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদের সভাপতিত্বে বিলটি অবিলম্বে বিবেচনার প্রস্তাব গৃহীত হলে কণ্ঠভোটে তা পাশ হয়।

বিল পাসের প্রক্রিয়া ত্বরান্বিত হওয়ায় বিরোধী দল আগে থেকে পর্যাপ্ত সময় পায়নি বলে তাদের নেতা আক্ষেপ প্রকাশ করেন; বিল পাসের আগে বিরোধীদলের বক্তব্যে বলা হয়, সংক্ষিপ্ত নোটিশে গুরুত্বপূর্ণ ‘‘স্পর্শকাতর’’ আইনের ওপর সিদ্ধান্ত নেয়া উচিত নয়। স্পিকার জানান, আপত্তি তুলতে নির্দিষ্ট সময় ছিল এবং বর্তমান স্তরে আপত্তি করার সুযোগ নেই।

পাসকৃত বিলে কিছু ধারাকে কার্যকরী করার তারিখ সংক্রান্ত ধারা রাখা হয়েছে — এতে বলা হয়েছে একাধিক তারিখকে কার্যকর বিবেচনা করা হবে (বিলে উল্লেখ আছে ২৫ জানুয়ারি ২০২৬ তারিখ কার্যকরের হিসাবে গণ্য হবার কথা এবং ১ জুলাই ২০২৪ থেকে বলবৎ ধরা হবে) — বিস্তারিত কার্যকরণসমূহ নির্ভর করছে সংশ্লিষ্ট ধারার কনটেক্সটে।

আইন-নিরপেক্ষ বিশ্লেষক ও নিরাপত্তা বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এসব পরিবর্তন সন্ত্রাসী কার্যক্রম প্রতিরোধে একটি শক্তিশালী আইনি হাতিয়ার দেবে। অপরদিকে আইনজীবীরা মনে করেন, সরকারি কর্মকর্তাদেরকে বিধানগুলো প্রয়োগে সতর্ক থাকতে হবে এবং সংশ্লিষ্ট সত্তা বা ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে যথাযথ বিচারিক প্রক্রিয়া অনুসরণ করে সিদ্ধান্ত নিতে হবে, যাতে অধিকারগত ও সংবিধানিক প্রয়োজনে সুরক্ষা বজায় থাকে।

প্রসঙ্গত, ২০২৫ সালের ১২ মে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের একটি প্রজ্ঞাপনে আওয়ামী লীগ ও এর অঙ্গ-সহযোগী সংগঠনের কার্যক্রম অন্তর্বর্তীকালীন সময় থেকে নিষিদ্ধ করা হয়েছিল; সেই অধ্যাদেশের বিধানগুলোই ত্রয়োদশ সংসদে আইন আকারে রূপান্তরিত হলো। অন্তর্বর্তী সরকারের সময়ে সেই অধ্যাদেশ ও অন্যান্য সংশোধনী প্রয়োগের ফলে আওয়ামী লীগ ও তার নেতাদের বিরুদ্ধে বিভিন্ন আইনি উদ্যোগ নেওয়া হয়েছিল।

সংকল্পভিত্তিক এই আইনগুলো পাসের মাধ্যমে রাজনৈতিক ও আইনি পরিস্থিতি বদলে দেওয়া হয়েছে — এখন এই পরিবর্তনগুলোর প্রয়োগ, উচ্চ আদালত থেকে সম্ভাব্য চ্যালেঞ্জ এবং ভবিষ্যতে কী প্রভাব ফেলবে তা দেশের রাজনৈতিক ও আইনি পরিমণ্ডলে নজরবন্দি থাকবে।