১১:১৯ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ১০ এপ্রিল ২০২৬, ২৭ চৈত্র ১৪৩২ বঙ্গাব্দ
সর্বশেষঃ
অস্ট্রেলিয়ার স্টুডেন্ট ভিসা: বাংলাদেশি আবেদনকারীর অর্ধেকেরও বেশি প্রত্যাখ্যাত সংসদে নতুন রেকর্ড: ১৩ দিনে ৯১টি বিল পাস আবু সাঈদ হত্যা: ট্রাইব্যুনাল—২ পুলিশ সদস্যের ফাঁসি, তিনজনকে যাবজ্জীবন অর্থমন্ত্রী: ফ্যাসিবাদী সরকারের দুর্নীতি ও লুটপাটে অর্থনীতি ধ্বংসের দ্বারপ্রান্তে আবু সাঈদ হত্যা: ২ পুলিশকে ফাঁসি, ৩ জনকে যাবজ্জীবন তথ্যমন্ত্রী জহির উদ্দিন স্বপন: এনইআইআর নীতিমালা সংশোধন করা হবে জ্বালানি বিতরণে কিউআর কোডভিত্তিক ‘ফুয়েল পাস’ অ্যাপের পাইলট চালু ঢাকায় পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামার সঙ্গে যুক্তরাজ্যের বাণিজ্য দূতের সাক্ষাৎ আনোয়ার ইব্রাহিম তারেক রহমানকে মালয়েশিয়া সফরের আমন্ত্রণ জানালেন ঢাকায় পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রীর সঙ্গে যুক্তরাজ্যের বাণিজ্য দূতের বৈঠক

সিরাজদিখানে মোল্লাবাজার সেতু দ্রুত সম্পন্নের দাবিতে মানববন্ধন

মুন্সিগঞ্জের সিরাজদিখান উপজেলায় মোল্লাবাজার সেতু দ্রুত নির্মাণ সম্পন্নের দাবিতে স্থানীয়রা শুক্রবার মানববন্ধন ও স্মারকলিপি দিয়েছেন। বালুচর ইউনিয়নের খাসমহল চৌরাস্তায় সকাল সাড়ে ৯টায় অনুষ্ঠিত এই কর্মসূচিতে দীর্ঘদিন ধরে স্থবির থাকা সেতু নির্মাণ কাজে দ্রুততা আনার জোর দাবি জানানো হয়।

মানববন্ধনে বক্তারা বলেন, ধলেশ্বরী শাখা নদীর ওপর ২০১৮ সালে শুরু হওয়া ২৫২ মিটার দৈর্ঘ্যের মোল্লাবাজার সেতুর কাজ প্রায় আট বছর পেরিয়ে গেলেও এখনও শেষ হয়নি। মোট ব্যয় ধরা হয়েছিল প্রায় ৩৩ কোটি ২৭ লাখ টাকায়। যদিও ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান জানায় কাজের প্রায় ৮০ শতাংশ শেষ, তবুও সেতুর মূল গুরুত্বপূর্ণ অংশগুলো এখনও অসমাপ্ত রয়েছে এবং গত কয়েক মাস ধরে নির্মাণ কার্যক্রম প্রায় বন্ধ পর্যায়ে ছিল বলে স্থানীয়রা অভিযোগ করেন।

এছাড়া সূত্রে জানা যায়, অনির্ধিত সময়সীমা অতিক্রম করায় ঠিকাদারীর সঙ্গে চুক্তি বাতিল করা হয়েছে; তবে নতুন করে কীভাবে ও কখন কাজ শুরু হবে, তা নিয়েও অনিশ্চয়তা রয়েছে। স্থানীয়রা বলছেন, ইটভাটার মালিকদের ফেরি চলাচল, প্রভাবশালীদের হস্তক্ষেপ, নকশাগত জটিলতা ও সমন্বয়ের অভাব ইত্যাদি কারণে প্রকল্প বারবার বিঘ্নিত হয়েছে। তারা যোগ করেন, নদীর মাঝ থেকে কাজ শুরু করলেও ইটবাহী ট্রলারের চলাচলের কারণে কাজ থামাতে হয়েছে।

বক্তারা আরও বলেন, সেতুটি চালু হলে মুন্সিগঞ্জের চারটি উপজেলার ঢাকায় যাতায়াত অনেক সহজ ও দ্রুত হবে। বর্তমানে বিকল্প সড়ক ব্যবহার করলে ঢাকায় যেতে প্রায় ৪২ কিলোমিটার ঘুরে আড়াই থেকে তিন ঘণ্টা সময় লাগে; সেখানে সেতু চালু হলে একই দূরত্ব মাত্র ৩০ মিনিটে পাড়ি দেওয়া সম্ভব হবে।

নির্মাণ কাজ না থাকায় লোকজন ঝুঁকি নিয়ে ট্রলার ও দেশীয় ফেরি ব্যবহার করে নদী পার হচ্ছে। সাধারণ জনসাধারণকে পাঁচ টাকা, মোটরসাইকেল পারাপারে ২০ টাকা করে ভাড়া দিতে হচ্ছে এবং ফেরির জন্য ১৫–২০ মিনিট পর্যন্ত অপেক্ষা করতে হয় বলে তারা জানান।

মানববন্ধনে উপস্থিত লোকজন স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রীর দৃষ্টি আকর্ষণ করে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে একটি স্মারকলিপি দেন। একই সঙ্গে উপজেলার নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) ও কেরানীগঞ্জ এলজিইডি কর্মকর্তার কাছেও স্মারকলিপি দেওয়া হয়।

কার্যসূচিতে অংশ নেওয়া নেতারা পাঁচ দফা দাবি উত্থাপন করেন: আগামী ছয় মাসের মধ্যে সেতুর নির্মাণকাজ সম্পন্ন করা, সংশ্লিষ্টদের জবাবদিহি নিশ্চিত করা, নির্মাণের জন্য নতুন ও বাস্তবসম্মত সময়সীমা নির্ধারণ ও তা প্রকাশ করা, কাজের গুণগত মান নিশ্চিত করতে মনিটরিং টিম গঠন এবং চলতি সময়ে বিকল্প যাতায়াত ব্যবস্থা নিরাপদ করা।

মানববন্ধনে উপস্থিত ছিলেন অবসরপ্রাপ্ত আইসিটি কর্মকর্তা নজরুল ইসলাম, নটর ডেম বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ জমির হোসেন, সমাজসেবক সাহাব উদ্দিন বাদল, বালুচর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান হাজি মো. আওলাদ হোসেন, সমাজসেবক আব্দুল মতিন, মো. মোশারফ হোসেনসহ স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তি, রাজনৈতিক নেতারা, শিক্ষার্থী ও বিভিন্ন পেশার সহস্রাধিক মানুষ। স্থানীয়রা বলেন, দ্রুত সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ হস্তক্ষেপ না করলে জনদুর্ভোগ আরও বাড়বে, তাই সেতু নির্মাণ কাজ ত্বরান্বিত করা প্রয়োজন।

ট্যাগ :
সর্বাধিক পঠিত

সংসদে নতুন রেকর্ড: ১৩ দিনে ৯১টি বিল পাস

সিরাজদিখানে মোল্লাবাজার সেতু দ্রুত সম্পন্নের দাবিতে মানববন্ধন

প্রকাশিতঃ ০৭:২২:৫৫ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ১০ এপ্রিল ২০২৬

মুন্সিগঞ্জের সিরাজদিখান উপজেলায় মোল্লাবাজার সেতু দ্রুত নির্মাণ সম্পন্নের দাবিতে স্থানীয়রা শুক্রবার মানববন্ধন ও স্মারকলিপি দিয়েছেন। বালুচর ইউনিয়নের খাসমহল চৌরাস্তায় সকাল সাড়ে ৯টায় অনুষ্ঠিত এই কর্মসূচিতে দীর্ঘদিন ধরে স্থবির থাকা সেতু নির্মাণ কাজে দ্রুততা আনার জোর দাবি জানানো হয়।

মানববন্ধনে বক্তারা বলেন, ধলেশ্বরী শাখা নদীর ওপর ২০১৮ সালে শুরু হওয়া ২৫২ মিটার দৈর্ঘ্যের মোল্লাবাজার সেতুর কাজ প্রায় আট বছর পেরিয়ে গেলেও এখনও শেষ হয়নি। মোট ব্যয় ধরা হয়েছিল প্রায় ৩৩ কোটি ২৭ লাখ টাকায়। যদিও ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান জানায় কাজের প্রায় ৮০ শতাংশ শেষ, তবুও সেতুর মূল গুরুত্বপূর্ণ অংশগুলো এখনও অসমাপ্ত রয়েছে এবং গত কয়েক মাস ধরে নির্মাণ কার্যক্রম প্রায় বন্ধ পর্যায়ে ছিল বলে স্থানীয়রা অভিযোগ করেন।

এছাড়া সূত্রে জানা যায়, অনির্ধিত সময়সীমা অতিক্রম করায় ঠিকাদারীর সঙ্গে চুক্তি বাতিল করা হয়েছে; তবে নতুন করে কীভাবে ও কখন কাজ শুরু হবে, তা নিয়েও অনিশ্চয়তা রয়েছে। স্থানীয়রা বলছেন, ইটভাটার মালিকদের ফেরি চলাচল, প্রভাবশালীদের হস্তক্ষেপ, নকশাগত জটিলতা ও সমন্বয়ের অভাব ইত্যাদি কারণে প্রকল্প বারবার বিঘ্নিত হয়েছে। তারা যোগ করেন, নদীর মাঝ থেকে কাজ শুরু করলেও ইটবাহী ট্রলারের চলাচলের কারণে কাজ থামাতে হয়েছে।

বক্তারা আরও বলেন, সেতুটি চালু হলে মুন্সিগঞ্জের চারটি উপজেলার ঢাকায় যাতায়াত অনেক সহজ ও দ্রুত হবে। বর্তমানে বিকল্প সড়ক ব্যবহার করলে ঢাকায় যেতে প্রায় ৪২ কিলোমিটার ঘুরে আড়াই থেকে তিন ঘণ্টা সময় লাগে; সেখানে সেতু চালু হলে একই দূরত্ব মাত্র ৩০ মিনিটে পাড়ি দেওয়া সম্ভব হবে।

নির্মাণ কাজ না থাকায় লোকজন ঝুঁকি নিয়ে ট্রলার ও দেশীয় ফেরি ব্যবহার করে নদী পার হচ্ছে। সাধারণ জনসাধারণকে পাঁচ টাকা, মোটরসাইকেল পারাপারে ২০ টাকা করে ভাড়া দিতে হচ্ছে এবং ফেরির জন্য ১৫–২০ মিনিট পর্যন্ত অপেক্ষা করতে হয় বলে তারা জানান।

মানববন্ধনে উপস্থিত লোকজন স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রীর দৃষ্টি আকর্ষণ করে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে একটি স্মারকলিপি দেন। একই সঙ্গে উপজেলার নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) ও কেরানীগঞ্জ এলজিইডি কর্মকর্তার কাছেও স্মারকলিপি দেওয়া হয়।

কার্যসূচিতে অংশ নেওয়া নেতারা পাঁচ দফা দাবি উত্থাপন করেন: আগামী ছয় মাসের মধ্যে সেতুর নির্মাণকাজ সম্পন্ন করা, সংশ্লিষ্টদের জবাবদিহি নিশ্চিত করা, নির্মাণের জন্য নতুন ও বাস্তবসম্মত সময়সীমা নির্ধারণ ও তা প্রকাশ করা, কাজের গুণগত মান নিশ্চিত করতে মনিটরিং টিম গঠন এবং চলতি সময়ে বিকল্প যাতায়াত ব্যবস্থা নিরাপদ করা।

মানববন্ধনে উপস্থিত ছিলেন অবসরপ্রাপ্ত আইসিটি কর্মকর্তা নজরুল ইসলাম, নটর ডেম বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ জমির হোসেন, সমাজসেবক সাহাব উদ্দিন বাদল, বালুচর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান হাজি মো. আওলাদ হোসেন, সমাজসেবক আব্দুল মতিন, মো. মোশারফ হোসেনসহ স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তি, রাজনৈতিক নেতারা, শিক্ষার্থী ও বিভিন্ন পেশার সহস্রাধিক মানুষ। স্থানীয়রা বলেন, দ্রুত সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ হস্তক্ষেপ না করলে জনদুর্ভোগ আরও বাড়বে, তাই সেতু নির্মাণ কাজ ত্বরান্বিত করা প্রয়োজন।