১০:৪৯ অপরাহ্ন, রবিবার, ১২ এপ্রিল ২০২৬, ২৯ চৈত্র ১৪৩২ বঙ্গাব্দ
সর্বশেষঃ
নববর্ষে জঙ্গি হামলার আশঙ্কা নেই, নিরাপত্তা জোরদার: ডিএমপি রদকৃত অধ্যাদেশ যাচাই-বাছাই করে নতুন আইন প্রণয়ন করবে সরকার কৃষক কার্ডে সময়োপযোগী নতুন সেবা যোগ করা হবে: কৃষিমন্ত্রী সড়ক পরিবহন মন্ত্রীর সঙ্গে মার্কিন রাষ্ট্রদূতের সৌজন্য সাক্ষাৎ ঢাকার দুই সিটিতে টিকাদান সফল হলে হাম নিয়ন্ত্রণে আনা সম্ভব: স্বাস্থ্যমন্ত্রী পহেলা বৈশাখে উদ্বোধন: প্রথম দফায় ২২,০৬৫ কৃষক পাচ্ছেন ‘কৃষক কার্ড’ র‌্যাব তৈরি করছে নিরপেক্ষ চাঁদাবাজদের তালিকা — কাউকেই ছাড় দেওয়া হবে না শেখ হাসিনার প্রত্যর্পণ বিষয়ে ভারতের কাছে পুনরায় দাবি জানিয়েছে ঢাকা বাজার নিয়ন্ত্রক সিন্ডিকেট মুছে ফেলা হবে: বাণিজ্যমন্ত্রী র‍্যাব শুরু করেছে চাঁদাবাজদের ‘নিরপেক্ষ’ তালিকা তৈরির কাজ

সংগীতের সম্রাজ্ঞী আশা ভোঁসলে আর নেই

ভারতীয় সংগীতজগতের এক উজ্জ্বল নক্ষত্র নিভে গেল। দীর্ঘ আট দশকের বেশি সময়ে নিজের বহুমুখী ও জাদুকরী কণ্ঠে কোটি কোটি শ্রোতার হৃদয়ে স্থান করে নেওয়া কিংবদন্তি গায়িকা আশা ভোঁসলে আজ রোববার ৯২ বছর বয়সে মুম্বাইয়ের একটি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় জীবনপ্রাণ ত্যাগ করেছেন। এই শোকসংবাদটি ভারতীয় সংবাদমাধ্যম এনডিটিভি নিশ্চিত করেছে।

আশা ভোঁসলের মৃত্যুর খবরটি আনুষ্ঠানিকভাবে জানিয়েছেন তাঁর পুত্র আনন্দ ভোঁসলে। তিনি গভীর শোক জানিয়ে বলেছেন, ‘‘আমার মা আর আমাদের মাঝে নেই।’’ পরিবার সূত্রে জানা যায়, আগামীকাল সোমবার বিকেল চারটায় মুম্বাইয়ের ঐতিহাসিক শিবাজি পার্কে তাঁর শেষকৃত্য অনুষ্ঠিত হবে। কয়েক দিন ধরেই শারীরিক অসুস্থতার কারণে হাসপাতালে ভর্তি ছিলেন তিনি; অতিরিক্ত ক্লান্তি ও বুকে সংক্রমণের জটিলতায় অবস্থার অবনতি হলে তাঁকে নিবিড় পর্যবেক্ষণে রাখা হয়েছিল। চিকিৎসকদের সর্বশেষ চেষ্টা করা সত্ত্বেও তিনি চলে গেছেন।

আশা ভোঁসলের সংগীতজীবন এক বিস্ময়কর সংযোজন ও অনুকরণীয় প্রতিভার পরিচায়কের মতো ছিল। ১৯৪০-এর দশকে ক্যারিয়ার শুরু করে তিনি দ্রুত নিজের জায়গা তৈরি করেন—যখন একই সময় দিদি লতা মঙ্গেশকরের মতো বিশাল আবেগপ্রবণ কণ্ঠ আধিপত্য করত, তবুও আশা ভোঁসলে তাঁর স্বতন্ত্র স্বর ও ভাঙা-চটকানো শৈলীতে আলাদা পরিচয় গড়তে সক্ষম হন। ১৯৫০-এর দশকে সুরকার ওপি নায়ারের সঙ্গে কাজের মাধ্যমে তিনি নতুন ধারা উন্মুক্ত করেন এবং পরে কিংবদন্তি সুরকার আর.ডি. বর্মণ–এর সঙ্গে সহযোগিতা ভারতীয় চলচ্চিত্র সংগীতে আধুনিকতা ও পাশ্চাত্য সুরের এক অনন্য মেলবন্ধন রচনা করে।

ধ্রুপদী, গজল, ক্যাবারে, পপ থেকে শুরু করে বাউলি-ছন্দ—সংগীতের প্রায় প্রতিটি ধারাতেই তিনি দক্ষ ছিলেন। ‘‘দম মারো দম’’, ‘‘পিয়া তু আব তো আজা’’, ‘‘ইন আঁখো কি মস্তি’’-র মতো অসংখ্য খ্যাতিমান গান তাঁর কণ্ঠে যুগান্তকারী হয়ে ওঠে। শুধু হিন্দি সিনেমা নয়, বহু আঞ্চলিক ও আন্তর্জাতিক ভাষায়ও গান গেয়ে তিনি বিশ্বব্যাপী শ্রোতার মনে বিশেষ দাগ কাটেন। দীর্ঘ সাত দশকেরও বেশি সক্রিয় অভিজ্ঞান প্রমাণ করে যে আশা ভোঁসলে ছিলেন এক চলন্ত সংগীতপ্রতিষ্ঠান।

সংগীতে অসাধারণ অনুদান হিসেবে তিনি গুরুত্বপূর্ণ জাতীয় ও আন্তর্জাতিক সম্মাননা পেয়েছেন—আর.ডি. বর্মণসহ সহকর্মীদের সাথে কাজের জন্য প্রশংসিত হওয়া ছাড়াও তিনি পেয়েছেন ভারতের সর্বোচ্চ চলচ্চিত্র সম্মান দাদাসাহেব ফালকে পুরস্কার, রাষ্ট্রীয় দ্বিতীয় সর্বোচ্চ বেসামরিক সম্মান পদ্মবিভূষণ, একাধিক জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার ও অসংখ্য ফিল্মফেয়ার অ্যাওয়ার্ড।

তাঁর প্রয়াণে ভারতের প্রধানমন্ত্রী, রাষ্ট্রপতি ও সাংস্কৃতিক-রাজনৈতিক মহলে শোকের ছায়া ছড়িয়ে পড়েছে; সহশিল্পী ও ভক্তরা সামাজিক মাধ্যমে তাঁর স্মৃতিচারণে ভরা। সংগীতের সেই জাদুকরী কণ্ঠ আজ শোনা যাবে না বলেই শোক ও শূন্যতা সবথেকে বেশি স্পষ্ট।

আশা ভোঁসলের কণ্ঠ সময়কে অতিক্রম করে থাকবে—তার সুর, আবেগ এবং বহুমুখী আবহ সাতকাহন ধরে মানুষের মনে গাঁথা থেকে যাবে। সংগীতপ্রেমীরা তাঁকে স্মরণ করবেন অনন্তকাল।

ট্যাগ :
সর্বাধিক পঠিত

রদকৃত অধ্যাদেশ যাচাই-বাছাই করে নতুন আইন প্রণয়ন করবে সরকার

সংগীতের সম্রাজ্ঞী আশা ভোঁসলে আর নেই

প্রকাশিতঃ ১০:৩৬:৫৫ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ১২ এপ্রিল ২০২৬

ভারতীয় সংগীতজগতের এক উজ্জ্বল নক্ষত্র নিভে গেল। দীর্ঘ আট দশকের বেশি সময়ে নিজের বহুমুখী ও জাদুকরী কণ্ঠে কোটি কোটি শ্রোতার হৃদয়ে স্থান করে নেওয়া কিংবদন্তি গায়িকা আশা ভোঁসলে আজ রোববার ৯২ বছর বয়সে মুম্বাইয়ের একটি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় জীবনপ্রাণ ত্যাগ করেছেন। এই শোকসংবাদটি ভারতীয় সংবাদমাধ্যম এনডিটিভি নিশ্চিত করেছে।

আশা ভোঁসলের মৃত্যুর খবরটি আনুষ্ঠানিকভাবে জানিয়েছেন তাঁর পুত্র আনন্দ ভোঁসলে। তিনি গভীর শোক জানিয়ে বলেছেন, ‘‘আমার মা আর আমাদের মাঝে নেই।’’ পরিবার সূত্রে জানা যায়, আগামীকাল সোমবার বিকেল চারটায় মুম্বাইয়ের ঐতিহাসিক শিবাজি পার্কে তাঁর শেষকৃত্য অনুষ্ঠিত হবে। কয়েক দিন ধরেই শারীরিক অসুস্থতার কারণে হাসপাতালে ভর্তি ছিলেন তিনি; অতিরিক্ত ক্লান্তি ও বুকে সংক্রমণের জটিলতায় অবস্থার অবনতি হলে তাঁকে নিবিড় পর্যবেক্ষণে রাখা হয়েছিল। চিকিৎসকদের সর্বশেষ চেষ্টা করা সত্ত্বেও তিনি চলে গেছেন।

আশা ভোঁসলের সংগীতজীবন এক বিস্ময়কর সংযোজন ও অনুকরণীয় প্রতিভার পরিচায়কের মতো ছিল। ১৯৪০-এর দশকে ক্যারিয়ার শুরু করে তিনি দ্রুত নিজের জায়গা তৈরি করেন—যখন একই সময় দিদি লতা মঙ্গেশকরের মতো বিশাল আবেগপ্রবণ কণ্ঠ আধিপত্য করত, তবুও আশা ভোঁসলে তাঁর স্বতন্ত্র স্বর ও ভাঙা-চটকানো শৈলীতে আলাদা পরিচয় গড়তে সক্ষম হন। ১৯৫০-এর দশকে সুরকার ওপি নায়ারের সঙ্গে কাজের মাধ্যমে তিনি নতুন ধারা উন্মুক্ত করেন এবং পরে কিংবদন্তি সুরকার আর.ডি. বর্মণ–এর সঙ্গে সহযোগিতা ভারতীয় চলচ্চিত্র সংগীতে আধুনিকতা ও পাশ্চাত্য সুরের এক অনন্য মেলবন্ধন রচনা করে।

ধ্রুপদী, গজল, ক্যাবারে, পপ থেকে শুরু করে বাউলি-ছন্দ—সংগীতের প্রায় প্রতিটি ধারাতেই তিনি দক্ষ ছিলেন। ‘‘দম মারো দম’’, ‘‘পিয়া তু আব তো আজা’’, ‘‘ইন আঁখো কি মস্তি’’-র মতো অসংখ্য খ্যাতিমান গান তাঁর কণ্ঠে যুগান্তকারী হয়ে ওঠে। শুধু হিন্দি সিনেমা নয়, বহু আঞ্চলিক ও আন্তর্জাতিক ভাষায়ও গান গেয়ে তিনি বিশ্বব্যাপী শ্রোতার মনে বিশেষ দাগ কাটেন। দীর্ঘ সাত দশকেরও বেশি সক্রিয় অভিজ্ঞান প্রমাণ করে যে আশা ভোঁসলে ছিলেন এক চলন্ত সংগীতপ্রতিষ্ঠান।

সংগীতে অসাধারণ অনুদান হিসেবে তিনি গুরুত্বপূর্ণ জাতীয় ও আন্তর্জাতিক সম্মাননা পেয়েছেন—আর.ডি. বর্মণসহ সহকর্মীদের সাথে কাজের জন্য প্রশংসিত হওয়া ছাড়াও তিনি পেয়েছেন ভারতের সর্বোচ্চ চলচ্চিত্র সম্মান দাদাসাহেব ফালকে পুরস্কার, রাষ্ট্রীয় দ্বিতীয় সর্বোচ্চ বেসামরিক সম্মান পদ্মবিভূষণ, একাধিক জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার ও অসংখ্য ফিল্মফেয়ার অ্যাওয়ার্ড।

তাঁর প্রয়াণে ভারতের প্রধানমন্ত্রী, রাষ্ট্রপতি ও সাংস্কৃতিক-রাজনৈতিক মহলে শোকের ছায়া ছড়িয়ে পড়েছে; সহশিল্পী ও ভক্তরা সামাজিক মাধ্যমে তাঁর স্মৃতিচারণে ভরা। সংগীতের সেই জাদুকরী কণ্ঠ আজ শোনা যাবে না বলেই শোক ও শূন্যতা সবথেকে বেশি স্পষ্ট।

আশা ভোঁসলের কণ্ঠ সময়কে অতিক্রম করে থাকবে—তার সুর, আবেগ এবং বহুমুখী আবহ সাতকাহন ধরে মানুষের মনে গাঁথা থেকে যাবে। সংগীতপ্রেমীরা তাঁকে স্মরণ করবেন অনন্তকাল।