১০:৫৩ অপরাহ্ন, রবিবার, ১২ এপ্রিল ২০২৬, ২৯ চৈত্র ১৪৩২ বঙ্গাব্দ
সর্বশেষঃ
নববর্ষে জঙ্গি হামলার আশঙ্কা নেই, নিরাপত্তা জোরদার: ডিএমপি রদকৃত অধ্যাদেশ যাচাই-বাছাই করে নতুন আইন প্রণয়ন করবে সরকার কৃষক কার্ডে সময়োপযোগী নতুন সেবা যোগ করা হবে: কৃষিমন্ত্রী সড়ক পরিবহন মন্ত্রীর সঙ্গে মার্কিন রাষ্ট্রদূতের সৌজন্য সাক্ষাৎ ঢাকার দুই সিটিতে টিকাদান সফল হলে হাম নিয়ন্ত্রণে আনা সম্ভব: স্বাস্থ্যমন্ত্রী পহেলা বৈশাখে উদ্বোধন: প্রথম দফায় ২২,০৬৫ কৃষক পাচ্ছেন ‘কৃষক কার্ড’ র‌্যাব তৈরি করছে নিরপেক্ষ চাঁদাবাজদের তালিকা — কাউকেই ছাড় দেওয়া হবে না শেখ হাসিনার প্রত্যর্পণ বিষয়ে ভারতের কাছে পুনরায় দাবি জানিয়েছে ঢাকা বাজার নিয়ন্ত্রক সিন্ডিকেট মুছে ফেলা হবে: বাণিজ্যমন্ত্রী র‍্যাব শুরু করেছে চাঁদাবাজদের ‘নিরপেক্ষ’ তালিকা তৈরির কাজ

সংগীতের উজ্জ্বল নক্ষত্র আশা ভোঁসলে আর নেই

বিশ্ব সংগীতজগত একটি উজ্জ্বল নক্ষত্রকে হারাল। দীর্ঘ আট দশকের বেশিই সময় নিজের বহুমুখী ও জাদুকরী কণ্ঠে কোটি কোটি শ্রোতাকে মুগ্ধ করে রাখা ভারতীয় সংগীতের কিংবদন্তি আশা ভোঁসলে আজ রোববার মুম্বাইয়ের একটি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন। ভারতীয় সংবাদমাধ্যম এনডিটিভি এই শোক সংবাদটি নিশ্চিত করেছে।

আশা ভোঁসলের প্রয়াণের খবরটি আনুষ্ঠানিকভাবে নিশ্চিত করেন তাঁর পুত্র আনন্দ ভোঁসলে। তিনি অত্যন্ত ভারাক্রান্ত কণ্ঠে জানান, তাঁর মা আমাদের মাঝে নেই। পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে, দীর্ঘ কয়েকদিন ধরেই তিনি শারীরিকভাবে অসুস্থ থাকায় হাসপাতালে ভর্তি ছিলেন। অতিরিক্ত ক্লান্তি ও বুকে সংক্রমণের কারণে অবস্থার অবনতি হলে তাঁকে নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণে রাখা হয়েছিল। চিকিৎসকের সংগ্রাম শেষ পর্যন্ত কার্যকর হয়নি।

পরিবারের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী আগামীকাল সোমবার বিকেল চারটায় মুম্বাইয়ের ঐতিহাসিক শিবাজি পার্কে তাঁকে শ্রদ্ধার সঙ্গে শেষ বিদায় জানানো হবে। রাষ্ট্রীয় ও সাংস্কৃতিক অঙ্গনের অনেকেই শেষকৃত্যে উপস্থিত থাকতে পারেন বলে জানা গেছে।

আশা ভোঁসলের সংগীত জীবন এক বিস্ময়কর মহাকাব্য। ১৯৪০-এর দশকে যাত্রা শুরু করলেও তাঁর পথ সহজ ছিল না—দিদি লতা মঙ্গেশকরের ছায়ায় থেকেই প্রথম দিকে তিনি নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করার লড়াই করেছিলেন। ১৯৫০-এর দশকে সুরকার ওপি নায়ারের সঙ্গে কাজের মধ্য দিয়ে তিনি ধীরে ধীরে একটি স্বতন্ত্র কণ্ঠস্বর গড়েন। পরবর্তীতে কিংবদন্তি সুরকার আরডি বর্মণের সঙ্গে তাঁর যুগান্তকারী সহযোগিতা ভারতীয় চলচ্চিত্রসংগীতে আধুনিকতা ও পাশ্চাত্য সুরের অপূর্ব মিশেল তৈরি করে।

ধ্রুপদী ও গজল থেকে শুরু করে পপ, ক্যাবারে—সংগীতের প্রতিটি ধারায় তিনি যে পরিমিতি ও বিচক্ষণতায় ঘুরে বেড়িয়েছেন, তার জোরেই তিনি রেকর্ড করেছেন হাজার হাজার গান। ‘দম মারো দম’, ‘পিয়া তু আব তো আজা’, ‘ইন আঁখো কি মস্তি’ সহ অসংখ্য গান আজও শ্রোতাদের হৃদয়ে অমর। শুধু হিন্দি সিনেমাই নয়, বহুভাষী ভ্রমণে তিনি দেশের আঞ্চলিক ও আন্তর্জাতিক মঞ্চেও গান গেয়েছেন এবং প্রজন্ম থেকে প্রজন্মে অনুপ্রেরণার সোপান হয়ে উঠেছেন।

সংগীতক্ষেত্রে অসামান্য অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ আশাকে নানা রাষ্ট্রীয় ও আন্তর্জাতিক সম্মাননা ও পুরস্কারে ভূষিত করা হয়েছিল—দাদাসাহেব ফালকে পুরস্কার, পদ্মবিভূষণ, বহু জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার ও অসংখ্য ফিল্মফেয়ার অ্যাওয়ার্ড তাঁর সংগ্রহে রয়েছে। তাঁর প্রয়াণে ভারতের প্রধানমন্ত্রী, রাষ্ট্রপতি এবং সঙ্গীত ও রাজনৈতিক অঙ্গনের বিশিষ্ট ব্যক্তিরা গভীর শোক প্রকাশ করেছেন।

আশা ভোঁসলে কেবল একটি কণ্ঠই ছিলেন না—তিনি ছিলেন এক জীবন্ত সংগীতপ্রতিষ্ঠান, একটি যুগের সংগীতচেতনার প্রতীক। তাঁর গান ও কণ্ঠশৈলী ধ্বনিত হবে ভবিষ্যৎ প্রজন্মের হৃদয়ে, সময় ও সীমা অতিক্রম করে।

ট্যাগ :
সর্বাধিক পঠিত

রদকৃত অধ্যাদেশ যাচাই-বাছাই করে নতুন আইন প্রণয়ন করবে সরকার

সংগীতের উজ্জ্বল নক্ষত্র আশা ভোঁসলে আর নেই

প্রকাশিতঃ ০৭:২১:৫৪ অপরাহ্ন, রবিবার, ১২ এপ্রিল ২০২৬

বিশ্ব সংগীতজগত একটি উজ্জ্বল নক্ষত্রকে হারাল। দীর্ঘ আট দশকের বেশিই সময় নিজের বহুমুখী ও জাদুকরী কণ্ঠে কোটি কোটি শ্রোতাকে মুগ্ধ করে রাখা ভারতীয় সংগীতের কিংবদন্তি আশা ভোঁসলে আজ রোববার মুম্বাইয়ের একটি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন। ভারতীয় সংবাদমাধ্যম এনডিটিভি এই শোক সংবাদটি নিশ্চিত করেছে।

আশা ভোঁসলের প্রয়াণের খবরটি আনুষ্ঠানিকভাবে নিশ্চিত করেন তাঁর পুত্র আনন্দ ভোঁসলে। তিনি অত্যন্ত ভারাক্রান্ত কণ্ঠে জানান, তাঁর মা আমাদের মাঝে নেই। পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে, দীর্ঘ কয়েকদিন ধরেই তিনি শারীরিকভাবে অসুস্থ থাকায় হাসপাতালে ভর্তি ছিলেন। অতিরিক্ত ক্লান্তি ও বুকে সংক্রমণের কারণে অবস্থার অবনতি হলে তাঁকে নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণে রাখা হয়েছিল। চিকিৎসকের সংগ্রাম শেষ পর্যন্ত কার্যকর হয়নি।

পরিবারের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী আগামীকাল সোমবার বিকেল চারটায় মুম্বাইয়ের ঐতিহাসিক শিবাজি পার্কে তাঁকে শ্রদ্ধার সঙ্গে শেষ বিদায় জানানো হবে। রাষ্ট্রীয় ও সাংস্কৃতিক অঙ্গনের অনেকেই শেষকৃত্যে উপস্থিত থাকতে পারেন বলে জানা গেছে।

আশা ভোঁসলের সংগীত জীবন এক বিস্ময়কর মহাকাব্য। ১৯৪০-এর দশকে যাত্রা শুরু করলেও তাঁর পথ সহজ ছিল না—দিদি লতা মঙ্গেশকরের ছায়ায় থেকেই প্রথম দিকে তিনি নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করার লড়াই করেছিলেন। ১৯৫০-এর দশকে সুরকার ওপি নায়ারের সঙ্গে কাজের মধ্য দিয়ে তিনি ধীরে ধীরে একটি স্বতন্ত্র কণ্ঠস্বর গড়েন। পরবর্তীতে কিংবদন্তি সুরকার আরডি বর্মণের সঙ্গে তাঁর যুগান্তকারী সহযোগিতা ভারতীয় চলচ্চিত্রসংগীতে আধুনিকতা ও পাশ্চাত্য সুরের অপূর্ব মিশেল তৈরি করে।

ধ্রুপদী ও গজল থেকে শুরু করে পপ, ক্যাবারে—সংগীতের প্রতিটি ধারায় তিনি যে পরিমিতি ও বিচক্ষণতায় ঘুরে বেড়িয়েছেন, তার জোরেই তিনি রেকর্ড করেছেন হাজার হাজার গান। ‘দম মারো দম’, ‘পিয়া তু আব তো আজা’, ‘ইন আঁখো কি মস্তি’ সহ অসংখ্য গান আজও শ্রোতাদের হৃদয়ে অমর। শুধু হিন্দি সিনেমাই নয়, বহুভাষী ভ্রমণে তিনি দেশের আঞ্চলিক ও আন্তর্জাতিক মঞ্চেও গান গেয়েছেন এবং প্রজন্ম থেকে প্রজন্মে অনুপ্রেরণার সোপান হয়ে উঠেছেন।

সংগীতক্ষেত্রে অসামান্য অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ আশাকে নানা রাষ্ট্রীয় ও আন্তর্জাতিক সম্মাননা ও পুরস্কারে ভূষিত করা হয়েছিল—দাদাসাহেব ফালকে পুরস্কার, পদ্মবিভূষণ, বহু জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার ও অসংখ্য ফিল্মফেয়ার অ্যাওয়ার্ড তাঁর সংগ্রহে রয়েছে। তাঁর প্রয়াণে ভারতের প্রধানমন্ত্রী, রাষ্ট্রপতি এবং সঙ্গীত ও রাজনৈতিক অঙ্গনের বিশিষ্ট ব্যক্তিরা গভীর শোক প্রকাশ করেছেন।

আশা ভোঁসলে কেবল একটি কণ্ঠই ছিলেন না—তিনি ছিলেন এক জীবন্ত সংগীতপ্রতিষ্ঠান, একটি যুগের সংগীতচেতনার প্রতীক। তাঁর গান ও কণ্ঠশৈলী ধ্বনিত হবে ভবিষ্যৎ প্রজন্মের হৃদয়ে, সময় ও সীমা অতিক্রম করে।