১২:৪০ অপরাহ্ন, সোমবার, ০৪ মে ২০২৬, ২১ বৈশাখ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সর্বশেষঃ
বন্ধ বস্ত্র ও পাট কারখানা পুনরুজ্জীবনে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের বৈঠক পররাষ্ট্রমন্ত্রীর সঙ্গে বিদায়ী ভারতীয় হাইকমিশনার প্রণয় ভার্মার সাক্ষাৎ ১৬ ডিআইজি ও একজন অতিরিক্ত ডিআইজিকে বাধ্যতামূলক অবসরে মনিরা শারমিনের আবেদন: নুসরাত তাবাসসুমের এমপি গেজেট প্রকাশ স্থগিত রাখার অনুরোধ মনিরা শারমিনের আবেদন: নুসরাত তাবাসসুমের এমপি গেজেট প্রকাশ না করার অনুরোধ সিসি নোটিশে হাজিরা না করলে সমন বা গ্রেপ্তারি—ডিএমপি ৩০ লাখ কোটি টাকার ঋণের বোঝা নিয়ে কাজ শুরু করেছে সরকার: প্রধানমন্ত্রী হামে আরও চার শিশুর মৃত্যু, নতুন শনাক্ত ১১৫ থানা থেকে লুট হওয়া অস্ত্র–সরঞ্জাম ব্যবহার করে ডাকাতি: র‍্যাব দুই গ্রেপ্তার মিরপুরের প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরে রহস্যময় আগুন; ৮৩টি ল্যাপটপ অনুপস্থিত

নয় মাসে ৩৫২ কোটি ৫০ লাখ ডলার পরিশোধ, বৈদেশিক ঋণে চাপ বেড়েছে

২০২৫–২৬ অর্থবছরের প্রথম নয় মাসে (জুলাই–মার্চ) বাংলাদেশ সরকার বৈদেশিক ঋণের আসল ও সুদ মিলিয়ে মোট ৩৫২ কোটি ৫০ লাখ মার্কিন ডলার পরিশোধ করেছে। অর্থনৈতিক সম্পর্ক বিভাগ (ইআরডি) প্রকাশিত সর্বশেষ প্রতিবেদনে এই পরিসংখ্যান জানানো হয়েছে। সংশ্লিষ্টরা বলছেন, গত বছরের একই সময়ের তুলনায় এই পরিশোধের হার উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়ার ফলে বাজেট ও বৈদেশিক মুদ্রার ওপর চাপ বেড়েছে।

ইআরডি’র তথ্যমতে, আলোচিত সময়ে মূল ধার (principal) হিসেবে ২২৭ কোটি ৬৪ লাখ ডলার আন্তর্জাতিক ঋণদাতাদের পরিশোধ করা হয়েছে। একই সময়ে সুদ হিসেবে আর ১২৫ কোটি মার্কিন ডলার ব্যয় হয়েছে। এক বছরের ব্যবধানে কিস্তি পরিশোধের পরিমাণ বাড়েছে প্রায় ৩১ কোটি ৩০ লাখ ডলার; গত অর্থবছরের জুলাই–মার্চে এই খাতে মোট ব্যয় ছিল ৩২১ কোটি ২০ লাখ ডলার।

প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, দেশটির বৈদেশিক ঋণ পরিস্থিতি বর্তমানে দ্বিমুখী চাপের মুখে। একদিকে আন্তর্জাতিক উন্নয়ন সহযোগীদের কিস্তি ও সুদ পরিশোধের বোঝা ক্রমশ ভারী হচ্ছে, অন্যদিকে নতুন ঋণপ্রাপ্তির গতিও আগের তুলনায় ধীর। বিদেশি দাতা সংস্থাগুলোর নতুন প্রতিশ্রুতি কমার কারণে বড় উন্নয়ন প্রকল্পগুলোর অর্থায়নে নতুন চ্যালেঞ্জ তৈরি হচ্ছে।

অর্থনীতিবিদরা বলছেন, সম্প্রতি নেওয়া বড় অবকাঠামো প্রকল্পগুলোর গ্রেস পিরিয়ড শেষ হওয়ার ফলে কিস্তি পরিশোধ শুরু হওয়ায় এই ব্যয় বাড়ছে। তাছাড়া বৈশ্বিক অর্থনীতিতে সুদের হার বাড়ার কারণে ঋণের ওপরে সুদ পরিশোধও বেড়েছে, ফলে সরকারকে বেশি পরিমাণে বৈদেশিক মুদ্রা ব্যয় করতে হচ্ছে। এই পরিস্থিতি বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ ও সরকারি বাজেটের স্থিতিশীলতা বজায় রাখতে কঠিন করে তুলছে।

ইআরডি সংশ্লিষ্টরা জানান, ঋণ পরিশোধের এই ঊর্ধ্বমুখী ধারা আগামী কয়েক বছর পর্যন্ত অব্যাহত থাকতে পারে। তাদের কথায়, পরিস্থিতি মোকাবিলায় বৈদেশিক সহায়তার ওপর সম্পূর্ণ নির্ভরতা কমিয়ে অভ্যন্তরীণ উৎস থেকে রাজস্ব বাড়ানো, বাজেট ব্যবস্থাপনায় সজাগতা ও অগ্রাধিকারভিত্তিক প্রকল্পকমিশন জরুরি।

অধিকন্তু, সরকার উন্নয়ন সহযোগীদের সঙ্গে নিয়মিত সংলাপ বজায় রেখে অনুমোদিত ঋণের অর্থ দ্রুত ছাড় নিশ্চিত করার চেষ্টা করছে, যাতে প্রকল্পগুলোর তহবিল পেতে বিলম্ব না ঘটে এবং বাজেটের ভারসাম্য ফিরিয়ে আনা যায়। বিশেষজ্ঞদের মতে, জোরদার রাজস্ব সংগ্রহ, সাময়িক ব্যয়সমন্বয় ও বিদেশি তহবিলে বৈচিত্র্য আনা হলে এই চাপ কিছুটা কমানো সম্ভব।

অবশেষে, ইআরডি’র এই হালনাগাদ প্রতিবেদনের আলোকে নীতিনির্ধারকরা বলছেন—দীর্ঘমেয়াদি আর্থিক স্থিতিশীলতা নিশ্চিত করতে দ্রুত পদক্ষেপ গ্রহণ করা না হলে সামনের কয়েকটি অর্থবছরে এই চ্যালেঞ্জ তীব্র হতে পারে।

ট্যাগ :
সর্বাধিক পঠিত

পররাষ্ট্রমন্ত্রীর সঙ্গে বিদায়ী ভারতীয় হাইকমিশনার প্রণয় ভার্মার সাক্ষাৎ

নয় মাসে ৩৫২ কোটি ৫০ লাখ ডলার পরিশোধ, বৈদেশিক ঋণে চাপ বেড়েছে

প্রকাশিতঃ ০২:২৩:৫৪ অপরাহ্ন, রবিবার, ৩ মে ২০২৬

২০২৫–২৬ অর্থবছরের প্রথম নয় মাসে (জুলাই–মার্চ) বাংলাদেশ সরকার বৈদেশিক ঋণের আসল ও সুদ মিলিয়ে মোট ৩৫২ কোটি ৫০ লাখ মার্কিন ডলার পরিশোধ করেছে। অর্থনৈতিক সম্পর্ক বিভাগ (ইআরডি) প্রকাশিত সর্বশেষ প্রতিবেদনে এই পরিসংখ্যান জানানো হয়েছে। সংশ্লিষ্টরা বলছেন, গত বছরের একই সময়ের তুলনায় এই পরিশোধের হার উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়ার ফলে বাজেট ও বৈদেশিক মুদ্রার ওপর চাপ বেড়েছে।

ইআরডি’র তথ্যমতে, আলোচিত সময়ে মূল ধার (principal) হিসেবে ২২৭ কোটি ৬৪ লাখ ডলার আন্তর্জাতিক ঋণদাতাদের পরিশোধ করা হয়েছে। একই সময়ে সুদ হিসেবে আর ১২৫ কোটি মার্কিন ডলার ব্যয় হয়েছে। এক বছরের ব্যবধানে কিস্তি পরিশোধের পরিমাণ বাড়েছে প্রায় ৩১ কোটি ৩০ লাখ ডলার; গত অর্থবছরের জুলাই–মার্চে এই খাতে মোট ব্যয় ছিল ৩২১ কোটি ২০ লাখ ডলার।

প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, দেশটির বৈদেশিক ঋণ পরিস্থিতি বর্তমানে দ্বিমুখী চাপের মুখে। একদিকে আন্তর্জাতিক উন্নয়ন সহযোগীদের কিস্তি ও সুদ পরিশোধের বোঝা ক্রমশ ভারী হচ্ছে, অন্যদিকে নতুন ঋণপ্রাপ্তির গতিও আগের তুলনায় ধীর। বিদেশি দাতা সংস্থাগুলোর নতুন প্রতিশ্রুতি কমার কারণে বড় উন্নয়ন প্রকল্পগুলোর অর্থায়নে নতুন চ্যালেঞ্জ তৈরি হচ্ছে।

অর্থনীতিবিদরা বলছেন, সম্প্রতি নেওয়া বড় অবকাঠামো প্রকল্পগুলোর গ্রেস পিরিয়ড শেষ হওয়ার ফলে কিস্তি পরিশোধ শুরু হওয়ায় এই ব্যয় বাড়ছে। তাছাড়া বৈশ্বিক অর্থনীতিতে সুদের হার বাড়ার কারণে ঋণের ওপরে সুদ পরিশোধও বেড়েছে, ফলে সরকারকে বেশি পরিমাণে বৈদেশিক মুদ্রা ব্যয় করতে হচ্ছে। এই পরিস্থিতি বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ ও সরকারি বাজেটের স্থিতিশীলতা বজায় রাখতে কঠিন করে তুলছে।

ইআরডি সংশ্লিষ্টরা জানান, ঋণ পরিশোধের এই ঊর্ধ্বমুখী ধারা আগামী কয়েক বছর পর্যন্ত অব্যাহত থাকতে পারে। তাদের কথায়, পরিস্থিতি মোকাবিলায় বৈদেশিক সহায়তার ওপর সম্পূর্ণ নির্ভরতা কমিয়ে অভ্যন্তরীণ উৎস থেকে রাজস্ব বাড়ানো, বাজেট ব্যবস্থাপনায় সজাগতা ও অগ্রাধিকারভিত্তিক প্রকল্পকমিশন জরুরি।

অধিকন্তু, সরকার উন্নয়ন সহযোগীদের সঙ্গে নিয়মিত সংলাপ বজায় রেখে অনুমোদিত ঋণের অর্থ দ্রুত ছাড় নিশ্চিত করার চেষ্টা করছে, যাতে প্রকল্পগুলোর তহবিল পেতে বিলম্ব না ঘটে এবং বাজেটের ভারসাম্য ফিরিয়ে আনা যায়। বিশেষজ্ঞদের মতে, জোরদার রাজস্ব সংগ্রহ, সাময়িক ব্যয়সমন্বয় ও বিদেশি তহবিলে বৈচিত্র্য আনা হলে এই চাপ কিছুটা কমানো সম্ভব।

অবশেষে, ইআরডি’র এই হালনাগাদ প্রতিবেদনের আলোকে নীতিনির্ধারকরা বলছেন—দীর্ঘমেয়াদি আর্থিক স্থিতিশীলতা নিশ্চিত করতে দ্রুত পদক্ষেপ গ্রহণ করা না হলে সামনের কয়েকটি অর্থবছরে এই চ্যালেঞ্জ তীব্র হতে পারে।