১২:৩৮ অপরাহ্ন, সোমবার, ০৪ মে ২০২৬, ২১ বৈশাখ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সর্বশেষঃ
বন্ধ বস্ত্র ও পাট কারখানা পুনরুজ্জীবনে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের বৈঠক পররাষ্ট্রমন্ত্রীর সঙ্গে বিদায়ী ভারতীয় হাইকমিশনার প্রণয় ভার্মার সাক্ষাৎ ১৬ ডিআইজি ও একজন অতিরিক্ত ডিআইজিকে বাধ্যতামূলক অবসরে মনিরা শারমিনের আবেদন: নুসরাত তাবাসসুমের এমপি গেজেট প্রকাশ স্থগিত রাখার অনুরোধ মনিরা শারমিনের আবেদন: নুসরাত তাবাসসুমের এমপি গেজেট প্রকাশ না করার অনুরোধ সিসি নোটিশে হাজিরা না করলে সমন বা গ্রেপ্তারি—ডিএমপি ৩০ লাখ কোটি টাকার ঋণের বোঝা নিয়ে কাজ শুরু করেছে সরকার: প্রধানমন্ত্রী হামে আরও চার শিশুর মৃত্যু, নতুন শনাক্ত ১১৫ থানা থেকে লুট হওয়া অস্ত্র–সরঞ্জাম ব্যবহার করে ডাকাতি: র‍্যাব দুই গ্রেপ্তার মিরপুরের প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরে রহস্যময় আগুন; ৮৩টি ল্যাপটপ অনুপস্থিত

১৮ প্রতিষ্ঠানকে ৬ হাজার ৩৭৭ টন কাঁচা পাট রপ্তানির অনুমতি

বাণিজ্য মন্ত্রণালয় দেশীয় ১৮টি প্রতিষ্ঠানকে মোট ৬ হাজার ৩৭৭ টন কাঁচা পাট বিদেশে রপ্তানি করার অনুমতি দিয়েছে। অনুমোদিত রপ্তানির একটি বড় অংশ এবার ভারতের বাজারেই যাবে বলে জানানো হয়েছে।

মন্ত্রণালয় সম্প্রতি প্রধান আমদানি ও রপ্তানি নিয়ন্ত্রকের কার্যালয়ে এই রপ্তানি কার্যক্রম শুরু করার জন্য আনুষ্ঠানিক একটি চিঠি পাঠিয়েছে।

জানা গেছে, অন্তর্বর্তী সরকারের সময়কালে গত সেপ্টেম্বর থেকে কাঁচা পাট রপ্তানির ক্ষেত্রে সরকারের পূর্বানুমতি বাধ্যতামূলক করা হয়েছিল। তবে এই দফায় যে ১৮টি প্রতিষ্ঠানকে ছাড় দেওয়া হলো তাদের একটি সাধারণ শর্ত ছিল—রপ্তানিকর্তারা ইতোমধ্যেই বিদেশি আমদানিকারকদের কাছ থেকে টেলিগ্রাফিক ট্রান্সফার (টিটি) পদ্ধতিতে অগ্রিম অর্থ গ্রহণ করেছিল। এই অর্থ গ্রহণের প্রমাণ থাকায় তাঁদের জন্য বিশেষভাবে রপ্তানির অনুমতি দেওয়া হয়েছে। টিটি হলো আন্তর্জাতিক লেনদেনে সরাসরি ব্যাংকের মাধ্যমে অর্থ প্রেরণের এক প্রচলিত পদ্ধতি।

বাণিজ্য মন্ত্রী খন্দকার আবদুল মুক্তাদির সাংবাদিকদের বলেন, “নিষেধাজ্ঞা যেটা আছে তা থাকবে এবং কাঁচা পাট রপ্তানি করতে সরকারের অনুমতি লাগবে। যাঁদের কাছে টিটি হয়ে গিয়েছিল, তাদের বিবেচনায় এ অনুমতি দিতে হয়েছে।”

অনুমতি পাওয়া প্রতিষ্ঠানগুলোর তালিকায় রয়েছে—তাসফিয়া জুট ট্রেডিং, এ জেড জুট ট্রেডিং, এস এস ট্রেডিং, মেসার্স সুকুমার সরকার, জুট ইমপেক্স, সোনালী ট্রেড ইন্টারন্যাশনাল, এম এন জুট ট্রেডিং, মেসার্স রশ্মি কবির, সারতাজ ট্রেড ইন্টারন্যাশনাল, মেসার্স আর এস ট্রেডার্স, তৌফিক জুট ট্রেডিং, মেসার্স শরীফ আহমেদ, গাজী ট্রেড ইন্টারন্যাশনাল, বিডি গোল্ড ফাইবার, হুসনা জুট ফাইবার, মুসা জুট ফাইবার, ঢাকা ট্রেডিং হাউস লি এবং মেসার্স এম ডি আবুল কাসেম।

বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, তাসফিয়া জুট ট্রেডিংকে সর্বোচ্চ ১ হাজার ৭৪০ টন বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। সবচেয়ে কম বরাদ্দ পেয়েছে গাজী ট্রেড ইন্টারন্যাশনাল—৬০ টন। অন্য প্রতিষ্ঠানের মধ্যে ঢাকা ট্রেডিং হাউস ৮০০ টন, সারতাজ ট্রেড ইন্টারন্যাশনাল ৭৯০ টন, এম এন জুট ট্রেডিং ৫৭০ টন, মেসার্স রশ্মি কবির ৪০০ টন এবং মুসা জুট ফাইবার ৩০০ টন রপ্তানির অনুমোদন পেয়েছে। শর্তাবলীর ধার্য সময় অনুযায়ী সব রপ্তানি কার্যক্রম চলতি বছরের অক্টোবর মাসের মধ্যে সম্পন্ন করতে হবে এবং কেউই বরাদ্দের অতিরিক্ত পাট রপ্তানি করতে পারবে না।

পটভূমিতে রয়েছে দেশীয় পাটকল মালিকদের দীর্ঘদিনের অনিহা—তারা কাঁচা পাট রপ্তানির ফলে স্থানীয় প্রক্রিয়াকরণ শিল্পে কাঁচামালের ঘাটতির দিকে ইঙ্গিত করে বারবার উদ্বেগ জানিয়েছে। ২০২৫ সালের ৯ সেপ্টেম্বর বাণিজ্য মন্ত্রণালয় একটি পরিপত্র জারি করে কাঁচা পাটকে শর্তযুক্ত পণ্য হিসেবে অন্তর্ভুক্ত করে। এর আগে বাংলাদেশ জুট মিলস অ্যাসোসিয়েশন ও বাংলাদেশ জুট স্পিনার্স অ্যাসোসিয়েশন যৌথভাবে কাঁচা পাট রপ্তানি বন্ধের আবেদন করে।

সাধারণত বাংলাদেশ কাঁচা পাট রপ্তানি করে ভারত, চীন, পাকিস্তান, তুরস্ক, মিসর ও নেপাল সহ বিভিন্ন দেশগুলোতে। ২০২৩-২৪ অর্থবছরে প্রায় ১০ লাখ বেল কাঁচা পাট বিদেশে পাঠানোর তথ্য পাওয়া গেছে। মন্ত্রণালয়ের এই সাময়িক ছাড়ের ফলে বিদেশি ক্রেতাদের সঙ্গে আগে থেকে করা গাণিতিক ও চুক্তিভিত্তিক দায়বদ্ধতা মেটাতে সহায়তা হবে বলে অফিস সূত্রে বলা হয়েছে।

ট্যাগ :
সর্বাধিক পঠিত

পররাষ্ট্রমন্ত্রীর সঙ্গে বিদায়ী ভারতীয় হাইকমিশনার প্রণয় ভার্মার সাক্ষাৎ

১৮ প্রতিষ্ঠানকে ৬ হাজার ৩৭৭ টন কাঁচা পাট রপ্তানির অনুমতি

প্রকাশিতঃ ১০:৩৯:২৩ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ৪ মে ২০২৬

বাণিজ্য মন্ত্রণালয় দেশীয় ১৮টি প্রতিষ্ঠানকে মোট ৬ হাজার ৩৭৭ টন কাঁচা পাট বিদেশে রপ্তানি করার অনুমতি দিয়েছে। অনুমোদিত রপ্তানির একটি বড় অংশ এবার ভারতের বাজারেই যাবে বলে জানানো হয়েছে।

মন্ত্রণালয় সম্প্রতি প্রধান আমদানি ও রপ্তানি নিয়ন্ত্রকের কার্যালয়ে এই রপ্তানি কার্যক্রম শুরু করার জন্য আনুষ্ঠানিক একটি চিঠি পাঠিয়েছে।

জানা গেছে, অন্তর্বর্তী সরকারের সময়কালে গত সেপ্টেম্বর থেকে কাঁচা পাট রপ্তানির ক্ষেত্রে সরকারের পূর্বানুমতি বাধ্যতামূলক করা হয়েছিল। তবে এই দফায় যে ১৮টি প্রতিষ্ঠানকে ছাড় দেওয়া হলো তাদের একটি সাধারণ শর্ত ছিল—রপ্তানিকর্তারা ইতোমধ্যেই বিদেশি আমদানিকারকদের কাছ থেকে টেলিগ্রাফিক ট্রান্সফার (টিটি) পদ্ধতিতে অগ্রিম অর্থ গ্রহণ করেছিল। এই অর্থ গ্রহণের প্রমাণ থাকায় তাঁদের জন্য বিশেষভাবে রপ্তানির অনুমতি দেওয়া হয়েছে। টিটি হলো আন্তর্জাতিক লেনদেনে সরাসরি ব্যাংকের মাধ্যমে অর্থ প্রেরণের এক প্রচলিত পদ্ধতি।

বাণিজ্য মন্ত্রী খন্দকার আবদুল মুক্তাদির সাংবাদিকদের বলেন, “নিষেধাজ্ঞা যেটা আছে তা থাকবে এবং কাঁচা পাট রপ্তানি করতে সরকারের অনুমতি লাগবে। যাঁদের কাছে টিটি হয়ে গিয়েছিল, তাদের বিবেচনায় এ অনুমতি দিতে হয়েছে।”

অনুমতি পাওয়া প্রতিষ্ঠানগুলোর তালিকায় রয়েছে—তাসফিয়া জুট ট্রেডিং, এ জেড জুট ট্রেডিং, এস এস ট্রেডিং, মেসার্স সুকুমার সরকার, জুট ইমপেক্স, সোনালী ট্রেড ইন্টারন্যাশনাল, এম এন জুট ট্রেডিং, মেসার্স রশ্মি কবির, সারতাজ ট্রেড ইন্টারন্যাশনাল, মেসার্স আর এস ট্রেডার্স, তৌফিক জুট ট্রেডিং, মেসার্স শরীফ আহমেদ, গাজী ট্রেড ইন্টারন্যাশনাল, বিডি গোল্ড ফাইবার, হুসনা জুট ফাইবার, মুসা জুট ফাইবার, ঢাকা ট্রেডিং হাউস লি এবং মেসার্স এম ডি আবুল কাসেম।

বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, তাসফিয়া জুট ট্রেডিংকে সর্বোচ্চ ১ হাজার ৭৪০ টন বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। সবচেয়ে কম বরাদ্দ পেয়েছে গাজী ট্রেড ইন্টারন্যাশনাল—৬০ টন। অন্য প্রতিষ্ঠানের মধ্যে ঢাকা ট্রেডিং হাউস ৮০০ টন, সারতাজ ট্রেড ইন্টারন্যাশনাল ৭৯০ টন, এম এন জুট ট্রেডিং ৫৭০ টন, মেসার্স রশ্মি কবির ৪০০ টন এবং মুসা জুট ফাইবার ৩০০ টন রপ্তানির অনুমোদন পেয়েছে। শর্তাবলীর ধার্য সময় অনুযায়ী সব রপ্তানি কার্যক্রম চলতি বছরের অক্টোবর মাসের মধ্যে সম্পন্ন করতে হবে এবং কেউই বরাদ্দের অতিরিক্ত পাট রপ্তানি করতে পারবে না।

পটভূমিতে রয়েছে দেশীয় পাটকল মালিকদের দীর্ঘদিনের অনিহা—তারা কাঁচা পাট রপ্তানির ফলে স্থানীয় প্রক্রিয়াকরণ শিল্পে কাঁচামালের ঘাটতির দিকে ইঙ্গিত করে বারবার উদ্বেগ জানিয়েছে। ২০২৫ সালের ৯ সেপ্টেম্বর বাণিজ্য মন্ত্রণালয় একটি পরিপত্র জারি করে কাঁচা পাটকে শর্তযুক্ত পণ্য হিসেবে অন্তর্ভুক্ত করে। এর আগে বাংলাদেশ জুট মিলস অ্যাসোসিয়েশন ও বাংলাদেশ জুট স্পিনার্স অ্যাসোসিয়েশন যৌথভাবে কাঁচা পাট রপ্তানি বন্ধের আবেদন করে।

সাধারণত বাংলাদেশ কাঁচা পাট রপ্তানি করে ভারত, চীন, পাকিস্তান, তুরস্ক, মিসর ও নেপাল সহ বিভিন্ন দেশগুলোতে। ২০২৩-২৪ অর্থবছরে প্রায় ১০ লাখ বেল কাঁচা পাট বিদেশে পাঠানোর তথ্য পাওয়া গেছে। মন্ত্রণালয়ের এই সাময়িক ছাড়ের ফলে বিদেশি ক্রেতাদের সঙ্গে আগে থেকে করা গাণিতিক ও চুক্তিভিত্তিক দায়বদ্ধতা মেটাতে সহায়তা হবে বলে অফিস সূত্রে বলা হয়েছে।