০৬:৩৪ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ১৮ মে ২০২৬, ৪ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সর্বশেষঃ
ডুয়েটে উপাচার্য নিয়োগকে কেন্দ্র করে সংঘর্ষ, আহত ১৫ দুই দিনব্যাপী সফরে ঢাকায় কাতারের শ্রমমন্ত্রী ড. আলী বিন সামিখ আল মাররি সাবেক স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রী মিজানুর রহমান সিনহার জানাজায় বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান উপস্থিত শাহজালালে ফ্রি ওয়াই-ফাই চালু — একযোগে প্রায় ৩৭,৫০০ যাত্রী পাবেন উচ্চগতির ইন্টারনেট শাহরাস্তিতে সমাবেশে বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমান তিন প্রতিমন্ত্রী কর্ণফুলী ড্রাই ডক পরিদর্শনে কুমিল্লাকে বিভাগ ঘোষণা করার আশ্বাস দিলেন তারেক রহমান চাঁদপুর শাহরাস্তিতে বিএনপি চেয়ারপারসন তারেক রহমানের সমাবেশ হাম ও উপসর্গে ২৪ ঘণ্টায় আরও ১২ শিশুর মৃত্যু ঋণের জালে চিড়েচ্যাপ্টা অর্থনীতি — কর বাড়ছে জনগণের কাঁধে

বিএমআইয়ের পূর্বাভাস: ২০২৭ সালে অপরিশোধিত তেলের উৎপাদন বাড়বে

ইরান-সম্পর্কিত সংঘাতের দরুন বর্তমানে বিশ্ববাজারে অপরিশোধিত তেলের তীব্র সংকট বিরাজ করলেও, ২০২৭ সালে উৎপাদনে পুনরুদ্ধারের জোরালো সম্ভাবনা দেখা যাচ্ছে — এমনটাই বলেছে ফিচ সলিউশনসের সহযোগী প্রতিষ্ঠান বিএমআই। বিদেশি সংবাদমাধ্যম দ্য বিজনেসলাইনেও সংস্থাটির এই আশাবাদ তুলে ধরা হয়েছে।

বিএমআইয়ের সাম্প্রতিক বিশ্লেষণে তিনটি প্রধান কারণ তুলে ধরা হয়েছে, যেগুলো মিলে আগামী কয়েক বছরে বিশ্বব্যাপী তেল উত্পাদন বাড়ার পথ প্রশস্ত করবে। প্রথমত, ২০২৬ সালে সৃষ্ট বিশাল সরবরাহ ঘাটতি পূরণ করার তৎপরতা। বর্তমানে বাজারে প্রায় ৬০ কোটি ব্যারেল বা তারও বেশি তেলের ঘাটতি রয়েছে; যদি সংঘাত জুন পর্যন্ত বজায় থাকে তাহলে এই ঘাটতি ১০০ কোটি ব্যারেল ছাড়িয়ে যেতে পারে। এই শূন্যস্থান দ্রুত পূরণ করার প্রয়াসই ২০২৭ সালে উৎপাদন বৃদ্ধিকে ত্বরান্বিত করবে।

দ্বিতীয়ত, বিশ্বজুড়ে তেলের মজুত দ্রুত হ্রাস পাচ্ছে, ফলে দেশগুলোকে সরবরাহ ব্যবস্থা স্বাভাবিক রাখতে বড় পরিমাণে স্টক পুনর্গঠন করতে হবে। বিশ্লেষকরাও মনে করেন, এই পুনরায় মজুত করার চাহিদা মোকাবেলায় ওপেক প্লাস সম্ভবত পূর্বের উৎপাদন কাটছাঁটের সিদ্ধান্ত থেকে সরে এসে উৎপাদন বাড়াতে পারে। ফলে প্রতিদিন লাখ লাখ ব্যারেল নতুন তেল বাজারে আসার দিকে যাবে, যার সম্পূর্ণ প্রতিফলন ২০২৭ সালের দিকে স্পষ্ট হবে।

তৃতীয় ও সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ন কারণ হিসেবে বিএমআই উল্লেখ করেছে সংযুক্ত আরব আমিরাতের (ইউএই) ওপেক থেকে বেরিয়ে যাওয়ার সিদ্ধান্তকে। ওপেকের বিধিনিষেধ থেকে মুক্ত হয়ে দেশটি এখন নিজের সূচি অনুযায়ী প্রতিদিন ৫০ লাখ ব্যারেল উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা অর্জনে কাজ চালাতে পারবে — যা বিশ্ববাজারে জোগান বাড়াতে বড় ভূমিকা রাখবে।

অন্যান্য অর্থনৈতিক বিশ্লেষণও সংকটের তীব্রতা নির্দেশ করে। ডাচ বহুজাতিক ব্যাংক আইএনজি থিংক বলছে, চলমান উত্তেজনার ফলে বাজারে প্রায় ১ কোটি ৩০ লাখ ব্যারেল সরবরাহ বিঘ্নিত হয়েছে। যদিও বর্তমানে কিছু চাহিদা জমাকৃত মজুত থেকে মেটানো হচ্ছে, তবুও আমেরিকান পেট্রোলিয়াম ইনস্টিটিউটের (এপিআই) তথ্য অনুযায়ী মাত্র এক সপ্তাহে যুক্তরাষ্ট্রের মজুত ৮১ লাখ ব্যারেল কমে গেলে বাজার ক্রমেই অনিশ্চিত হয়ে উঠছে।

বিএমআই সতর্ক করেছে, যদি যুদ্ধ গ্রীষ্মকাল পর্যন্ত দীর্ঘায়িত হয় তবে বৈশ্বিক মজুত বিপৎসীমার নিচে চলে যেতে পারে। তবুও সংস্থাটি আশা করছে, বাজার প্রতিক্রিয়া ও উৎপাদন বৃদ্ধি মিলিয়ে ২০২৭ সালে তেলের দাম ব্যারেলপ্রতি প্রায় ৭২ ডলারের আশেপাশে স্থিতিশীল হতে পারে। বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্রের মজুত আপাতত সন্তোষজনক থাকলেও ব্যাপক রপ্তানি চালালে পরিস্থিতি দ্রুত বদলে যেতে পারে। একই সঙ্গে সৌদি আরব এশিয়ার জন্য তাদের তেলের মূল্য কিছুটা কমিয়ে দেয়ার ইঙ্গিত দিয়ে একটি নতুন বাণিজ্যিক সমীকরণের সূচনা করেছে — যা ভবিষ্যতের বাজার গতিবিধিতেও প্রভাব ফেলতে পারে।

সংক্ষেপ করলে, সাম্প্রতিক সংঘাতের কারণে স্বল্পমেয়াদে তেলবর্ষণ কমেছে ও মজুত সংকট দেখা দিয়েছে; কিন্তু সরবরাহ শূন্যস্থান পূরণ, মজুত পুনর্গঠন এবং কয়েকটি বড় উৎপাদনকারীর নীতিগত পরিবর্তন মিলিয়ে ২০২৭ সালে বিশ্বজুড়ে অপরিশোধিত তেলের উৎপাদন বড় আকারে বাড়ার সম্ভাবনা রয়েছে।

ট্যাগ :
সর্বাধিক পঠিত

দুই দিনব্যাপী সফরে ঢাকায় কাতারের শ্রমমন্ত্রী ড. আলী বিন সামিখ আল মাররি

বিএমআইয়ের পূর্বাভাস: ২০২৭ সালে অপরিশোধিত তেলের উৎপাদন বাড়বে

প্রকাশিতঃ ০২:২৪:৩৫ অপরাহ্ন, রবিবার, ১৭ মে ২০২৬

ইরান-সম্পর্কিত সংঘাতের দরুন বর্তমানে বিশ্ববাজারে অপরিশোধিত তেলের তীব্র সংকট বিরাজ করলেও, ২০২৭ সালে উৎপাদনে পুনরুদ্ধারের জোরালো সম্ভাবনা দেখা যাচ্ছে — এমনটাই বলেছে ফিচ সলিউশনসের সহযোগী প্রতিষ্ঠান বিএমআই। বিদেশি সংবাদমাধ্যম দ্য বিজনেসলাইনেও সংস্থাটির এই আশাবাদ তুলে ধরা হয়েছে।

বিএমআইয়ের সাম্প্রতিক বিশ্লেষণে তিনটি প্রধান কারণ তুলে ধরা হয়েছে, যেগুলো মিলে আগামী কয়েক বছরে বিশ্বব্যাপী তেল উত্পাদন বাড়ার পথ প্রশস্ত করবে। প্রথমত, ২০২৬ সালে সৃষ্ট বিশাল সরবরাহ ঘাটতি পূরণ করার তৎপরতা। বর্তমানে বাজারে প্রায় ৬০ কোটি ব্যারেল বা তারও বেশি তেলের ঘাটতি রয়েছে; যদি সংঘাত জুন পর্যন্ত বজায় থাকে তাহলে এই ঘাটতি ১০০ কোটি ব্যারেল ছাড়িয়ে যেতে পারে। এই শূন্যস্থান দ্রুত পূরণ করার প্রয়াসই ২০২৭ সালে উৎপাদন বৃদ্ধিকে ত্বরান্বিত করবে।

দ্বিতীয়ত, বিশ্বজুড়ে তেলের মজুত দ্রুত হ্রাস পাচ্ছে, ফলে দেশগুলোকে সরবরাহ ব্যবস্থা স্বাভাবিক রাখতে বড় পরিমাণে স্টক পুনর্গঠন করতে হবে। বিশ্লেষকরাও মনে করেন, এই পুনরায় মজুত করার চাহিদা মোকাবেলায় ওপেক প্লাস সম্ভবত পূর্বের উৎপাদন কাটছাঁটের সিদ্ধান্ত থেকে সরে এসে উৎপাদন বাড়াতে পারে। ফলে প্রতিদিন লাখ লাখ ব্যারেল নতুন তেল বাজারে আসার দিকে যাবে, যার সম্পূর্ণ প্রতিফলন ২০২৭ সালের দিকে স্পষ্ট হবে।

তৃতীয় ও সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ন কারণ হিসেবে বিএমআই উল্লেখ করেছে সংযুক্ত আরব আমিরাতের (ইউএই) ওপেক থেকে বেরিয়ে যাওয়ার সিদ্ধান্তকে। ওপেকের বিধিনিষেধ থেকে মুক্ত হয়ে দেশটি এখন নিজের সূচি অনুযায়ী প্রতিদিন ৫০ লাখ ব্যারেল উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা অর্জনে কাজ চালাতে পারবে — যা বিশ্ববাজারে জোগান বাড়াতে বড় ভূমিকা রাখবে।

অন্যান্য অর্থনৈতিক বিশ্লেষণও সংকটের তীব্রতা নির্দেশ করে। ডাচ বহুজাতিক ব্যাংক আইএনজি থিংক বলছে, চলমান উত্তেজনার ফলে বাজারে প্রায় ১ কোটি ৩০ লাখ ব্যারেল সরবরাহ বিঘ্নিত হয়েছে। যদিও বর্তমানে কিছু চাহিদা জমাকৃত মজুত থেকে মেটানো হচ্ছে, তবুও আমেরিকান পেট্রোলিয়াম ইনস্টিটিউটের (এপিআই) তথ্য অনুযায়ী মাত্র এক সপ্তাহে যুক্তরাষ্ট্রের মজুত ৮১ লাখ ব্যারেল কমে গেলে বাজার ক্রমেই অনিশ্চিত হয়ে উঠছে।

বিএমআই সতর্ক করেছে, যদি যুদ্ধ গ্রীষ্মকাল পর্যন্ত দীর্ঘায়িত হয় তবে বৈশ্বিক মজুত বিপৎসীমার নিচে চলে যেতে পারে। তবুও সংস্থাটি আশা করছে, বাজার প্রতিক্রিয়া ও উৎপাদন বৃদ্ধি মিলিয়ে ২০২৭ সালে তেলের দাম ব্যারেলপ্রতি প্রায় ৭২ ডলারের আশেপাশে স্থিতিশীল হতে পারে। বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্রের মজুত আপাতত সন্তোষজনক থাকলেও ব্যাপক রপ্তানি চালালে পরিস্থিতি দ্রুত বদলে যেতে পারে। একই সঙ্গে সৌদি আরব এশিয়ার জন্য তাদের তেলের মূল্য কিছুটা কমিয়ে দেয়ার ইঙ্গিত দিয়ে একটি নতুন বাণিজ্যিক সমীকরণের সূচনা করেছে — যা ভবিষ্যতের বাজার গতিবিধিতেও প্রভাব ফেলতে পারে।

সংক্ষেপ করলে, সাম্প্রতিক সংঘাতের কারণে স্বল্পমেয়াদে তেলবর্ষণ কমেছে ও মজুত সংকট দেখা দিয়েছে; কিন্তু সরবরাহ শূন্যস্থান পূরণ, মজুত পুনর্গঠন এবং কয়েকটি বড় উৎপাদনকারীর নীতিগত পরিবর্তন মিলিয়ে ২০২৭ সালে বিশ্বজুড়ে অপরিশোধিত তেলের উৎপাদন বড় আকারে বাড়ার সম্ভাবনা রয়েছে।