০৪:১৭ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ৩১ অগাস্ট ২০২৬, ১৫ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সর্বশেষঃ
বেসরকারি খাতের গতিশীলতায় সুদৃঢ় অর্থনীতি গড়াই সরকারের লক্ষ্য: প্রধানমন্ত্রী চিফ হুইপ: প্রধানমন্ত্রী জনগণের দোরগোড়ায় স্বাস্থ্যসেবা পৌঁছে দিচ্ছেন ৫০তম বিসিএস লিখিত ফল প্রকাশ: ৬১৬৫ জন উত্তীর্ণ সংসদের চিঠি পেলেই সিদ্ধান্ত: গাজী নজরুলের এমপি পদ নিয়ে ইসি মাছউদ প্রবাসীদের পাসপোর্ট তথ্য সংশোধনের সময়সীমা ছয় মাস বাড়ল জাতিসংঘে সুপারিশ: বাংলাদেশ ও নেপালের এলডিসি উত্তরণের প্রস্তুতি সময় বাড়াতে তথ্যমন্ত্রী: শহীদ জিয়ার ‘বাংলাদেশি জাতীয়তাবাদ’ই অন্তর্ভুক্তিমূলক জাতীয় পরিচয় একনেকে ১৪ হাজার ৪১ কোটি ২১ লাখ টাকার আটটি প্রকল্প অনুমোদন একনেকে ১৪ হাজার ৪১ কোটি ২১ লাখ টাকার ৮টি উন্নয়ন প্রকল্প অনুমোদন ম্যানিলায় বাংলাদেশ-চীন কৌশলগত অংশীদারিত্ব জোরদারের দ্বিপাক্ষিক বৈঠক

লোয়াবের দাবি: এলপিজি খাতে ওয়ান-স্টপ সার্ভিস ও স্বয়ংক্রিয় ডিজিটাল লাইসেন্সিং

এলপিজি খাতে জটিল আমলাতান্ত্রিকতা ও বিভ্রান্তিকর নীতিমালার কারণে উদ্যোক্তারা ব্যাপক দুর্ভোগে আছেন—এমনটিই জানালো এলপিজি অপারেটরস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (লোয়াব)। সংগঠনটি খাতের সমস্যা দ্রুত সমাধানের জন্য একটি কেন্দ্রীয় ‘ওয়ান-স্টপ সার্ভিস’ চালু এবং স্বয়ংক্রিয় ডিজিটাল লাইসেন্সিং ব্যবস্থা চালুর জোর দাবি করেছে।

রোববার (১৭ মে) বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশন (বিইআরসি) ভবনে আয়োজিত গোলটেবিল বৈঠকে এই দাবি ও বিভিন্ন সুপারিশ তুলে ধরা হয়। বৈঠকে বিইআরসি চেয়ারম্যান জালাল আহমেদসহ খাতের বিশেষজ্ঞ ও সংশ্লিষ্টরা উপস্থিত ছিলেন।

লোয়াব সভাপতি মোহাম্মদ আমিরুল হক বলেন, “বর্তমানে প্রায় ৭০০টি অটোগ্যাস স্টেশন অননুমোদিত ও বিইআরসি লাইসেন্সবিহীন অবস্থায় রয়েছে, যা নিরাপত্তা এবং ব্যবসায়িক স্থিতিশীলতার জন্য বড় উদ্বেগের কারণ।” তিনি আরও জানান, ২০১৬ সালে এলপিজি অটোগ্যাস নীতিমালা থাকলেও নীতির বাস্তবায়ন এতটাই জটিল হয়েছে যে সাধারণ উদ্যোক্তাদের জন্য তা অনুসরণ করা প্রায় অসম্ভব হয়ে দাঁড়িয়েছে।

আমিরুল হক বলেন, প্রয়োজনীয় অনুমোদন পেতে উদ্যোক্তাদের বিষ্ফোরক পরিদপ্তর, জেলা প্রশাসকের কার্যালয়, ফায়ার সার্ভিস, পরিবেশ অধিদফতরসহ অসংখ্য দপ্তর ঘুরে অনেক ক্ষেত্রেই বছরখানেক সময় লেগে যাচ্ছে। এর ফলে ছোট ও মাঝারি উদ্যোক্তাদের অনেক বিনিয়োগ বিবিধ খরচে কেটে যাচ্ছে এবং ব্যবসা ঝুঁকির মুখে পড়ছে।

তিনি আরও বলেন, এলপিজি সেক্টরে প্রায় এক হাজার স্টেশনে এক হাজার পাঁচশত কোটি টাকার বেশি বিনিয়োগ আছে, যার বৃহৎ অংশই ব্যাংক ঋণের মাধ্যমে করা। প্রায় দুই লাখ যানবাহন এলপিজিতে রূপান্তরিত হলেও লাইসেন্সিং ঝামেলার কারণে গ্রাহক ও স্টেশন মালিক উভয়েই সমস্যায় পড়েছেন।

আমিরুল হক অভিযোগ করেন যে, সিএনজির মতো এলপিজি আমদানি শুল্কছাড় পাওয়ার কথা থাকলেও প্রশাসনিক জটিলতার কারণে উদ্যোক্তারা এই সুবিধা নিতে পারছেন না। পাশাপাশি চুক্তিভিত্তিক অপারেটররা সময়মতো গ্যাস সরবরাহ না করলে ব্যবসা স্থবির হওয়ার মতো পরিস্থিতিও তৈরি হচ্ছে।

সমস্যাগুলোর সমাধানে লোয়াব চারটি মূল প্রস্তাব দিয়েছে:

1) বাস্তবতার সঙ্গে খাপ খাইয়ে এলপিজি নীতিমালা সংশোধন করে লাইসেন্সিং প্রক্রিয়া সহজ করা;

2) একটি কেন্দ্রীয় রেগুলেটরি অথরিটির অধীনে ‘ওয়ান-স্টপ সার্ভিস’ চালু করা, যাতে উদ্যোক্তাদের একাধিক দপ্তরে ঘুরতে না হয়;

3) উন্নত দেশের অনুকরণে অটোমেশন নিশ্চিত করে ডিজিটাল লাইসেন্সিং ব্যবস্থা গ্রহণ করা, যেখানে নির্দিষ্ট শর্ত পূরণ হলে লাইসেন্স স্বয়ংক্রিয়ভাবে ইস্যু হবে;

4) কোনো নির্দিষ্ট অপারেটর গ্যাস সরবরাহ করতে ব্যর্থ হলে স্টেশন মালিকদের অন্য অপারেটরের কাছ থেকে সহজে গ্যাস সংগ্রহের সুযোগ দিয়ে চুক্তির শর্ত শিথিল করা।

লোয়াবের নেতারা মনে করেন, এসব প্রতিচ্ছবি বাস্তবে যদি দ্রুত বাস্তবায়িত হয় তবে এলপিজি সাশ্রয়ী ও পরিবেশবান্ধব জ্বালানি হিসেবে আরও ব্যাপক জনপ্রিয়তা পাবে এবং সেক্টরে বিনিয়োগ-আস্থা ফিরিয়ে আনা যাবে। বৈঠকে অংশগ্রহণকারীরা দ্রুত কার্যকর নির্দেশনা এবং সমন্বিত পদক্ষেপের আহ্বান জানিয়েছেন।

ট্যাগ :
সর্বাধিক পঠিত

চিফ হুইপ: প্রধানমন্ত্রী জনগণের দোরগোড়ায় স্বাস্থ্যসেবা পৌঁছে দিচ্ছেন

লোয়াবের দাবি: এলপিজি খাতে ওয়ান-স্টপ সার্ভিস ও স্বয়ংক্রিয় ডিজিটাল লাইসেন্সিং

প্রকাশিতঃ ০৭:২৪:৩২ অপরাহ্ন, রবিবার, ১৭ মে ২০২৬

এলপিজি খাতে জটিল আমলাতান্ত্রিকতা ও বিভ্রান্তিকর নীতিমালার কারণে উদ্যোক্তারা ব্যাপক দুর্ভোগে আছেন—এমনটিই জানালো এলপিজি অপারেটরস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (লোয়াব)। সংগঠনটি খাতের সমস্যা দ্রুত সমাধানের জন্য একটি কেন্দ্রীয় ‘ওয়ান-স্টপ সার্ভিস’ চালু এবং স্বয়ংক্রিয় ডিজিটাল লাইসেন্সিং ব্যবস্থা চালুর জোর দাবি করেছে।

রোববার (১৭ মে) বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশন (বিইআরসি) ভবনে আয়োজিত গোলটেবিল বৈঠকে এই দাবি ও বিভিন্ন সুপারিশ তুলে ধরা হয়। বৈঠকে বিইআরসি চেয়ারম্যান জালাল আহমেদসহ খাতের বিশেষজ্ঞ ও সংশ্লিষ্টরা উপস্থিত ছিলেন।

লোয়াব সভাপতি মোহাম্মদ আমিরুল হক বলেন, “বর্তমানে প্রায় ৭০০টি অটোগ্যাস স্টেশন অননুমোদিত ও বিইআরসি লাইসেন্সবিহীন অবস্থায় রয়েছে, যা নিরাপত্তা এবং ব্যবসায়িক স্থিতিশীলতার জন্য বড় উদ্বেগের কারণ।” তিনি আরও জানান, ২০১৬ সালে এলপিজি অটোগ্যাস নীতিমালা থাকলেও নীতির বাস্তবায়ন এতটাই জটিল হয়েছে যে সাধারণ উদ্যোক্তাদের জন্য তা অনুসরণ করা প্রায় অসম্ভব হয়ে দাঁড়িয়েছে।

আমিরুল হক বলেন, প্রয়োজনীয় অনুমোদন পেতে উদ্যোক্তাদের বিষ্ফোরক পরিদপ্তর, জেলা প্রশাসকের কার্যালয়, ফায়ার সার্ভিস, পরিবেশ অধিদফতরসহ অসংখ্য দপ্তর ঘুরে অনেক ক্ষেত্রেই বছরখানেক সময় লেগে যাচ্ছে। এর ফলে ছোট ও মাঝারি উদ্যোক্তাদের অনেক বিনিয়োগ বিবিধ খরচে কেটে যাচ্ছে এবং ব্যবসা ঝুঁকির মুখে পড়ছে।

তিনি আরও বলেন, এলপিজি সেক্টরে প্রায় এক হাজার স্টেশনে এক হাজার পাঁচশত কোটি টাকার বেশি বিনিয়োগ আছে, যার বৃহৎ অংশই ব্যাংক ঋণের মাধ্যমে করা। প্রায় দুই লাখ যানবাহন এলপিজিতে রূপান্তরিত হলেও লাইসেন্সিং ঝামেলার কারণে গ্রাহক ও স্টেশন মালিক উভয়েই সমস্যায় পড়েছেন।

আমিরুল হক অভিযোগ করেন যে, সিএনজির মতো এলপিজি আমদানি শুল্কছাড় পাওয়ার কথা থাকলেও প্রশাসনিক জটিলতার কারণে উদ্যোক্তারা এই সুবিধা নিতে পারছেন না। পাশাপাশি চুক্তিভিত্তিক অপারেটররা সময়মতো গ্যাস সরবরাহ না করলে ব্যবসা স্থবির হওয়ার মতো পরিস্থিতিও তৈরি হচ্ছে।

সমস্যাগুলোর সমাধানে লোয়াব চারটি মূল প্রস্তাব দিয়েছে:

1) বাস্তবতার সঙ্গে খাপ খাইয়ে এলপিজি নীতিমালা সংশোধন করে লাইসেন্সিং প্রক্রিয়া সহজ করা;

2) একটি কেন্দ্রীয় রেগুলেটরি অথরিটির অধীনে ‘ওয়ান-স্টপ সার্ভিস’ চালু করা, যাতে উদ্যোক্তাদের একাধিক দপ্তরে ঘুরতে না হয়;

3) উন্নত দেশের অনুকরণে অটোমেশন নিশ্চিত করে ডিজিটাল লাইসেন্সিং ব্যবস্থা গ্রহণ করা, যেখানে নির্দিষ্ট শর্ত পূরণ হলে লাইসেন্স স্বয়ংক্রিয়ভাবে ইস্যু হবে;

4) কোনো নির্দিষ্ট অপারেটর গ্যাস সরবরাহ করতে ব্যর্থ হলে স্টেশন মালিকদের অন্য অপারেটরের কাছ থেকে সহজে গ্যাস সংগ্রহের সুযোগ দিয়ে চুক্তির শর্ত শিথিল করা।

লোয়াবের নেতারা মনে করেন, এসব প্রতিচ্ছবি বাস্তবে যদি দ্রুত বাস্তবায়িত হয় তবে এলপিজি সাশ্রয়ী ও পরিবেশবান্ধব জ্বালানি হিসেবে আরও ব্যাপক জনপ্রিয়তা পাবে এবং সেক্টরে বিনিয়োগ-আস্থা ফিরিয়ে আনা যাবে। বৈঠকে অংশগ্রহণকারীরা দ্রুত কার্যকর নির্দেশনা এবং সমন্বিত পদক্ষেপের আহ্বান জানিয়েছেন।