০৮:৩৭ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ১৭ জুলাই ২০২৬, ২ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সর্বশেষঃ
এলডিসি উত্তরণে বাংলাদেশকে পাশে রাখবে ইইউ ও জি-৭৭ ইইউ ও জি-৭৭ দেশের এলডিসি উত্তরণে বাংলাদেশের প্রস্তুতিকাল বাড়াতে সমর্থন শিক্ষার্থীদের আন্দোলনের আড়ালে ঘোলা পানিতে মাছ শিকার করতে চায় কিছু মহল: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বৈষম্যমুক্ত বাংলাদেশ গড়তে সবাইকে একজোট হয়ে কাজ করতে হবে: প্রধানমন্ত্রী শিক্ষার্থীদের আন্দোলনের আড়ালে ঘোলা পানিতে মাছ শিকার করতে চায় কিছু মহল: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অনলাইন জুয়ার লেনদেনে দিনে ৫ কোটি: টঙ্গী–কুমিল্লায় অভিযানে ছয় গ্রেফতার বৈষম্যহীন বাংলাদেশ গড়তে সবাইকে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করতে হবে: প্রধানমন্ত্রী পরিবহন-লজিস্টিকস ও সামুদ্রিক খাতে বিনিয়োগে আগ্রহী সৌদি আরব প্রধানমন্ত্রীর শিক্ষকদের প্রতি আহ্বান: শিশুদের মানবিকভাবে গড়ে তুলুন পরিবহন, লজিস্টিকস ও সামুদ্রিক খাতে বাংলাদেশে বিনিয়োগে আগ্রহী সৌদি আরব

সরবরাহ উদ্বেগে বিশ্ববাজারে অপরিশোধিত তেলের দাম ফের বাড়ল

আন্তর্জাতিক জ্বালানি বাজারে টানা দু’দিনের দরপতনের পর আবারও ঊর্ধ্বমুখী প্রবণতা দেখা গেছে। প্রধানত ইরান সংকটের কারণে সরবরাহ নিয়ে বাড়তি অনিশ্চয়তা এবং বিশ্ববাজারে জ্বালানির নিয়মিত সরবরাহ বিঘ্নিত হওয়ার আশঙ্কা তেলের দাম বাড়ার মূল কারণ হিসেবে কাজ করছে। কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আল জাজিরার প্রতিবেদনে এই উদ্বেগের প্রতিবিধান তুলে ধরা হয়েছে।

বাজার বিশ্লেষকরা বলছেন, মধ্যপ্রাচ্যের উত্তেজনা বেড়ে ওঠায় বিনিয়োগকারীদের মধ্যে সরবরাহ সংক্রান্ত আশঙ্কা তীব্র হয়েছে এবং সেটি সরাসরি বাজারদরে প্রতিফলিত হয়েছে। বৃহস্পতিবার গ্রিনিচ সময় অনুযায়ী ব্রেন্ট ক্রুড তেলের দাম ব্যারেলপ্রতি 0.81 ডলার বা 0.77 শতাংশ বাড়ে এবং মূল্য দাঁড়ায় 105.83 ডলারে। একই দিনে যুক্তরাষ্ট্রের ওয়েস্ট টেক্সাস ইন্টারমিডিয়েট (WTI) তেলের দাম ব্যারেলপ্রতি 0.97 ডলার বা 0.99 শতাংশ বাড়ে এবং লেনদেন হয়েছে 99.23 ডলারে।

গত কয়েক দিনের দরপতনের পর বাজারের এই পুনরুদ্ধার আমদানিকারক দেশগুলোকে আবারও চিন্তিত করেছে। সংশ্লিষ্টরা বলছেন, মূলত কয়েকটি কারণ একযোগে কাজ করছে — ইরান ইস্যুতে এখনো স্থায়ী কোনো সমাধান না থাকা, মধ্যপ্রাচ্যের ভূরাজনৈতিক অস্থিতিশীলতা এবং বড় অর্থনীতিগুলোতে অপরিশোধিত তেলের মজুতে ধারাবাহিক হ্রাস। মজুত কমে যাওয়া আন্তর্জাতিক জ্বালানি নিরাপত্তা নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ জাগিয়েছে এবং বিনিয়োগকারীরা এটি একটি প্রধান ঝুঁকি হিসেবে বিবেচনা করছেন।

একই সঙ্গে বাস্তবে সরবরাহ লাইনে বড় কোনো বিঘ্ন ঘটলে তা দ্রুত বাজারে প্রতিফলিত হতে পারে—এই আশঙ্কাই বাজারে উদ্বেগ বাড়াচ্ছে। আর্থিক বিশ্লেষকরা জানিয়েছেন যে, যদি ভূ-রাজনৈতিক পরিস্থিতি দ্রুত প্রশমিত না হয় তবে দাম আবারও উঠতে পারে এবং ওঠা-নামার আসান বাড়তে পারে।

এদিকে, মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরান ইস্যুতে কূটনৈতিক চাপ বজায় রাখার এবং নিষেধাজ্ঞা শিথিল না করার কড়া অবস্থান ব্যক্ত করেছেন। হোয়াইট হাউসের এই অবস্থানও বাজারে অনিশ্চয়তা বাড়িয়েছে, কারণ চূড়ান্ত চুক্তি না হওয়া পর্যন্ত ইরানের ওপর আরোপিত নিষেধাজ্ঞা বহাল থাকলে সরবরাহ পুনরায় স্বাভাবিক হতে চ্যালেঞ্জের মুখে পড়বে।

বিশ্লেষকরা বলছেন, ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে চলমান আলোচনা ও তার ফলাফলই আগামী সময়ে জ্বালানি বাজারের স্থিতিশীলতা নির্ধারণ করবে। সরবরাহ ঝুঁকি ও বড় অর্থনীতির মজুত পরিস্থিতি ঠিক রাখাই এখন বিনিয়োগকারীদের প্রধান নজরদারি বিষয়। মধ্যপ্রাচ্যের উত্তেজনা প্রশমিত না হলে বিশ্ববাজারে তেলের দাম পুরোপুরি স্বাভাবিক হওয়ার সম্ভাবনা কম—এই অবস্থানই শহুরে ও আন্তর্জাতিক পর্যায়ে শোনা যাচ্ছে।

ট্যাগ :
সর্বাধিক পঠিত

ইইউ ও জি-৭৭ দেশের এলডিসি উত্তরণে বাংলাদেশের প্রস্তুতিকাল বাড়াতে সমর্থন

সরবরাহ উদ্বেগে বিশ্ববাজারে অপরিশোধিত তেলের দাম ফের বাড়ল

প্রকাশিতঃ ০৭:২৪:৩৪ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২১ মে ২০২৬

আন্তর্জাতিক জ্বালানি বাজারে টানা দু’দিনের দরপতনের পর আবারও ঊর্ধ্বমুখী প্রবণতা দেখা গেছে। প্রধানত ইরান সংকটের কারণে সরবরাহ নিয়ে বাড়তি অনিশ্চয়তা এবং বিশ্ববাজারে জ্বালানির নিয়মিত সরবরাহ বিঘ্নিত হওয়ার আশঙ্কা তেলের দাম বাড়ার মূল কারণ হিসেবে কাজ করছে। কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আল জাজিরার প্রতিবেদনে এই উদ্বেগের প্রতিবিধান তুলে ধরা হয়েছে।

বাজার বিশ্লেষকরা বলছেন, মধ্যপ্রাচ্যের উত্তেজনা বেড়ে ওঠায় বিনিয়োগকারীদের মধ্যে সরবরাহ সংক্রান্ত আশঙ্কা তীব্র হয়েছে এবং সেটি সরাসরি বাজারদরে প্রতিফলিত হয়েছে। বৃহস্পতিবার গ্রিনিচ সময় অনুযায়ী ব্রেন্ট ক্রুড তেলের দাম ব্যারেলপ্রতি 0.81 ডলার বা 0.77 শতাংশ বাড়ে এবং মূল্য দাঁড়ায় 105.83 ডলারে। একই দিনে যুক্তরাষ্ট্রের ওয়েস্ট টেক্সাস ইন্টারমিডিয়েট (WTI) তেলের দাম ব্যারেলপ্রতি 0.97 ডলার বা 0.99 শতাংশ বাড়ে এবং লেনদেন হয়েছে 99.23 ডলারে।

গত কয়েক দিনের দরপতনের পর বাজারের এই পুনরুদ্ধার আমদানিকারক দেশগুলোকে আবারও চিন্তিত করেছে। সংশ্লিষ্টরা বলছেন, মূলত কয়েকটি কারণ একযোগে কাজ করছে — ইরান ইস্যুতে এখনো স্থায়ী কোনো সমাধান না থাকা, মধ্যপ্রাচ্যের ভূরাজনৈতিক অস্থিতিশীলতা এবং বড় অর্থনীতিগুলোতে অপরিশোধিত তেলের মজুতে ধারাবাহিক হ্রাস। মজুত কমে যাওয়া আন্তর্জাতিক জ্বালানি নিরাপত্তা নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ জাগিয়েছে এবং বিনিয়োগকারীরা এটি একটি প্রধান ঝুঁকি হিসেবে বিবেচনা করছেন।

একই সঙ্গে বাস্তবে সরবরাহ লাইনে বড় কোনো বিঘ্ন ঘটলে তা দ্রুত বাজারে প্রতিফলিত হতে পারে—এই আশঙ্কাই বাজারে উদ্বেগ বাড়াচ্ছে। আর্থিক বিশ্লেষকরা জানিয়েছেন যে, যদি ভূ-রাজনৈতিক পরিস্থিতি দ্রুত প্রশমিত না হয় তবে দাম আবারও উঠতে পারে এবং ওঠা-নামার আসান বাড়তে পারে।

এদিকে, মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরান ইস্যুতে কূটনৈতিক চাপ বজায় রাখার এবং নিষেধাজ্ঞা শিথিল না করার কড়া অবস্থান ব্যক্ত করেছেন। হোয়াইট হাউসের এই অবস্থানও বাজারে অনিশ্চয়তা বাড়িয়েছে, কারণ চূড়ান্ত চুক্তি না হওয়া পর্যন্ত ইরানের ওপর আরোপিত নিষেধাজ্ঞা বহাল থাকলে সরবরাহ পুনরায় স্বাভাবিক হতে চ্যালেঞ্জের মুখে পড়বে।

বিশ্লেষকরা বলছেন, ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে চলমান আলোচনা ও তার ফলাফলই আগামী সময়ে জ্বালানি বাজারের স্থিতিশীলতা নির্ধারণ করবে। সরবরাহ ঝুঁকি ও বড় অর্থনীতির মজুত পরিস্থিতি ঠিক রাখাই এখন বিনিয়োগকারীদের প্রধান নজরদারি বিষয়। মধ্যপ্রাচ্যের উত্তেজনা প্রশমিত না হলে বিশ্ববাজারে তেলের দাম পুরোপুরি স্বাভাবিক হওয়ার সম্ভাবনা কম—এই অবস্থানই শহুরে ও আন্তর্জাতিক পর্যায়ে শোনা যাচ্ছে।