০৯:০৬ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ১৫ জুন ২০২৬, ১ আষাঢ় ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সর্বশেষঃ
ভারতের আপত্তিতে নেপাল থেকে বাংলাদেশへの অতিরিক্ত ২০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ আমদানি স্থগিত অর্থ ও আইন মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটি গঠন ইতিহাস সঠিকভাবে বললে বিকৃতকারীরা হেলিকপ্টারে পালাতে বাধ্য হন: তথ্যমন্ত্রী নারী ও শিশু অধিকার রক্ষায় আইনের কার্যকর প্রয়োগ জরুরি: সমাজকল্যাণমন্ত্রী নারী-শিশু অধিকার রক্ষায় আইনের যথাযথ প্রয়োগ জরুরি: সমাজকল্যাণমন্ত্রী দেশকে শিল্পসমৃদ্ধ রাষ্ট্রে পরিণত করতে সরকার সর্বাত্মক উদ্যোগ নেবে: স্থানীয় সরকারমন্ত্রী বাবার স্মৃতিবিজড়িত ‘পাতলী খাল’ পুনঃখনন উদ্বোধন করলেন প্রধানমন্ত্রী বৃষ্টির মধ্যেও কক্সবাজারে একদিনের সফরে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বৃষ্টি উপেক্ষা করে কক্সবাজারে একদিনের সফরে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বাবার স্মৃতিবিজড়িত ‘পাতলী খাল’ পুনঃখনন উদ্বোধন করলেন প্রধানমন্ত্রী

বিইআরসি বলেছে: পাইকারি-গ্রাহক—উভয় পর্যায়ে বিদ্যুতের দাম বাড়ল

সরকার দেশের পাইকারি ও গ্রাহক পর্যায়ে বিদ্যুতের দাম বৃদ্ধি করেছে—বুধবার (৩ জুন) বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশন (বিইআরসি) এক সংবাদ সম্মেলনে নতুন দাম ঘোষণাকালে এ তথ্য জানায়। কমিশনের ঘোষণা অনুযায়ী পাইকারি পর্যায়ে দাম গড়ে ১৯ দশমিক ৮৫ শতাংশ বাড়ানো হয়েছে। আর গ্রাহক পর্যায়ে গড় দর বেড়েছে ১৬ দশমিক ৬৮ শতাংশ এবং সঞ্চালন চার্জ বাড়ানো হয়েছে ২৩ দশমিক ৯৬ শতাংশ।

বিইআরসি জানায়, বিভিন্ন স্ল্যাবের গ্রাহকদের মধ্যে今回 বৃদ্ধি সর্বনিম্ন ১৫ শতাংশ এবং সর্বোচ্চ ১৯ দশমিক ৯৪ শতাংশ পর্যন্ত হয়েছে। নতুন এই দাম জুন থেকেই কার্যকর করা হচ্ছে।

বিইআরসির চেয়ারম্যান জালাল আহমেদ তড়িঘড়ি মূল্যবৃদ্ধির বিষয়ে বলেন, কোনো চাপ ছিল না; বাজেট বিবেচনায় দ্রুত সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে। তিনি আরও বলেন, দাম বাড়লে মানুষের খরচ বাড়বে, তবে এ সংক্রান্ত বিস্তারিত অর্থনৈতিক মূল্যায়ন এখনও করা হয়নি—প্রয়োজনে তা করা যাবে।

কমিশন ব্যাখ্যা করেছে যে, সরকারি-বেসরকারি সব বিদ্যুৎকেন্দ্র থেকে পিডিবি চুক্তিভিত্তিক মূল্যে বিদ্যুৎ ক্রয় করে। পরে পিডিবি উৎপাদন খরচের তুলনায় কিছুটা কম নির্ধারিত পাইকারি দামে ছয়টি বিদ্যুৎ বিতরণ সংস্থার কাছে বিক্রি করে। ঘাটতি ঢাকার জন্য পিডিবি সরকার থেকে ভর্তুকি পায়; কিন্তু বিতরণ সংস্থাগুলো ভর্তুকি পায় না—তারা খুচরা দরে ভোক্তাদের কাছে বিদ্যুৎ বিক্রি করে তাদের নিজস্ব কার্যক্রম চালায়।

বিইআরসির আদেশ অনুযায়ী পাইকারি দরের গড় মূল্য বর্তমান ৭ টাকা থেকে বৃদ্ধি পেয়ে ৮ টাকা ৩৯ পয়সা করা হয়েছে। খুচরা পর্যায়ে প্রতি ইউনিটের গড় দাম ৯ টাকা ১১ পয়সা থেকে বেড়ে হয়েছে ১০ টাকা ৬৩ পয়সা। অন্যদিকে সঞ্চালন খরচ (গড়) ইউনিটপ্রতি ৩১ পয়সা থেকে বাড়িয়ে প্রায় ৩৯ পয়সা করা হয়েছে।

এ প্রসঙ্গে পাওয়ার গ্রিড বাংলাদেশ (পিজিসিবি) প্রতিটি ইউনিটে যথাক্রমে ৩০ ও ৩১ পয়সা থেকে ৪৮ ও ৪৯ পয়সা করার আবেদন করেছিল। বাংলাদেশ বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ড (বিপিডিবি) পাইকারি দরে ইউনিটপ্রতি ১ দশমিক ২০ টাকা (প্রায় ১৭ শতাংশ) থেকে ১ দশমিক ৫০ টাকা (প্রায় ২১ শতাংশ) বাড়ানোর আবেদন করেছিল। কমিশন বলেছে, ২০২৬-২৭ অর্থবছরের সম্ভাব্য উৎপাদন খরচ পড়বে প্রায় ১ লাখ ৪৩ হাজার ১০৮ কোটি টাকা এবং প্রতি ইউনিট বিদ্যুতের সম্ভাব্য মূল্য দাঁড়াবে প্রায় ১২ দশমিক ৯১ টাকা—এই প্রস্তাব নিয়ে বিইআরসি গত ২০ ও ২১ মে গণশুনানি আয়োজন করেছিল।

উল্লেখ্য, সর্বশেষ গত ২০২৪ সালের ২৯ ফেব্রুয়ারি নির্বাহী আদেশে গ্রাহক পর্যায়ে বিদ্যুতের দাম সাড়ে ৮ শতাংশ বাড়ানো হয়েছিল; তখন পাইকারি দর ৬ টাকা ৭০ পয়সা থেকে ৫ শতাংশ বাড়িয়ে ৭ টাকা ৪ পয়সা করা হয়েছিল।

ভোক্তাদের জন্য অর্থাত্‌ বিল বাড়বে বলেই প্রত্যাশা করা হচ্ছে; আগামী বিলগুলোতে এই পরিবর্তনগুলো কিভাবে প্রতিফলিত হয় তা আগামী কয়েক মাসে পরিষ্কার হবে।

ট্যাগ :
সর্বাধিক পঠিত

অর্থ ও আইন মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটি গঠন

বিইআরসি বলেছে: পাইকারি-গ্রাহক—উভয় পর্যায়ে বিদ্যুতের দাম বাড়ল

প্রকাশিতঃ ১০:৪১:০৬ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৪ জুন ২০২৬

সরকার দেশের পাইকারি ও গ্রাহক পর্যায়ে বিদ্যুতের দাম বৃদ্ধি করেছে—বুধবার (৩ জুন) বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশন (বিইআরসি) এক সংবাদ সম্মেলনে নতুন দাম ঘোষণাকালে এ তথ্য জানায়। কমিশনের ঘোষণা অনুযায়ী পাইকারি পর্যায়ে দাম গড়ে ১৯ দশমিক ৮৫ শতাংশ বাড়ানো হয়েছে। আর গ্রাহক পর্যায়ে গড় দর বেড়েছে ১৬ দশমিক ৬৮ শতাংশ এবং সঞ্চালন চার্জ বাড়ানো হয়েছে ২৩ দশমিক ৯৬ শতাংশ।

বিইআরসি জানায়, বিভিন্ন স্ল্যাবের গ্রাহকদের মধ্যে今回 বৃদ্ধি সর্বনিম্ন ১৫ শতাংশ এবং সর্বোচ্চ ১৯ দশমিক ৯৪ শতাংশ পর্যন্ত হয়েছে। নতুন এই দাম জুন থেকেই কার্যকর করা হচ্ছে।

বিইআরসির চেয়ারম্যান জালাল আহমেদ তড়িঘড়ি মূল্যবৃদ্ধির বিষয়ে বলেন, কোনো চাপ ছিল না; বাজেট বিবেচনায় দ্রুত সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে। তিনি আরও বলেন, দাম বাড়লে মানুষের খরচ বাড়বে, তবে এ সংক্রান্ত বিস্তারিত অর্থনৈতিক মূল্যায়ন এখনও করা হয়নি—প্রয়োজনে তা করা যাবে।

কমিশন ব্যাখ্যা করেছে যে, সরকারি-বেসরকারি সব বিদ্যুৎকেন্দ্র থেকে পিডিবি চুক্তিভিত্তিক মূল্যে বিদ্যুৎ ক্রয় করে। পরে পিডিবি উৎপাদন খরচের তুলনায় কিছুটা কম নির্ধারিত পাইকারি দামে ছয়টি বিদ্যুৎ বিতরণ সংস্থার কাছে বিক্রি করে। ঘাটতি ঢাকার জন্য পিডিবি সরকার থেকে ভর্তুকি পায়; কিন্তু বিতরণ সংস্থাগুলো ভর্তুকি পায় না—তারা খুচরা দরে ভোক্তাদের কাছে বিদ্যুৎ বিক্রি করে তাদের নিজস্ব কার্যক্রম চালায়।

বিইআরসির আদেশ অনুযায়ী পাইকারি দরের গড় মূল্য বর্তমান ৭ টাকা থেকে বৃদ্ধি পেয়ে ৮ টাকা ৩৯ পয়সা করা হয়েছে। খুচরা পর্যায়ে প্রতি ইউনিটের গড় দাম ৯ টাকা ১১ পয়সা থেকে বেড়ে হয়েছে ১০ টাকা ৬৩ পয়সা। অন্যদিকে সঞ্চালন খরচ (গড়) ইউনিটপ্রতি ৩১ পয়সা থেকে বাড়িয়ে প্রায় ৩৯ পয়সা করা হয়েছে।

এ প্রসঙ্গে পাওয়ার গ্রিড বাংলাদেশ (পিজিসিবি) প্রতিটি ইউনিটে যথাক্রমে ৩০ ও ৩১ পয়সা থেকে ৪৮ ও ৪৯ পয়সা করার আবেদন করেছিল। বাংলাদেশ বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ড (বিপিডিবি) পাইকারি দরে ইউনিটপ্রতি ১ দশমিক ২০ টাকা (প্রায় ১৭ শতাংশ) থেকে ১ দশমিক ৫০ টাকা (প্রায় ২১ শতাংশ) বাড়ানোর আবেদন করেছিল। কমিশন বলেছে, ২০২৬-২৭ অর্থবছরের সম্ভাব্য উৎপাদন খরচ পড়বে প্রায় ১ লাখ ৪৩ হাজার ১০৮ কোটি টাকা এবং প্রতি ইউনিট বিদ্যুতের সম্ভাব্য মূল্য দাঁড়াবে প্রায় ১২ দশমিক ৯১ টাকা—এই প্রস্তাব নিয়ে বিইআরসি গত ২০ ও ২১ মে গণশুনানি আয়োজন করেছিল।

উল্লেখ্য, সর্বশেষ গত ২০২৪ সালের ২৯ ফেব্রুয়ারি নির্বাহী আদেশে গ্রাহক পর্যায়ে বিদ্যুতের দাম সাড়ে ৮ শতাংশ বাড়ানো হয়েছিল; তখন পাইকারি দর ৬ টাকা ৭০ পয়সা থেকে ৫ শতাংশ বাড়িয়ে ৭ টাকা ৪ পয়সা করা হয়েছিল।

ভোক্তাদের জন্য অর্থাত্‌ বিল বাড়বে বলেই প্রত্যাশা করা হচ্ছে; আগামী বিলগুলোতে এই পরিবর্তনগুলো কিভাবে প্রতিফলিত হয় তা আগামী কয়েক মাসে পরিষ্কার হবে।