০৭:৫৯ অপরাহ্ন, রবিবার, ০৭ জুন ২০২৬, ২৪ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সর্বশেষঃ
ছয় দফা দাবিতে সারাদেশে অনির্দিষ্টকালের কর্মবিরতি ঘোষণা ইন্টার্ন চিকিৎসকদের ১২ আগস্ট আসছে বিরল পূর্ণগ্রাস সূর্যগ্রহণ — ইউরোপে দৃশ্যমান কূটনৈতিক উদ্যোগে ভারত থেকে ৯১ বাংলাদেশি মৎস্যজীবী ও ৪টি মাছ ধরা নৌকা দেশে ফিরেছে পল্লবী কাণ্ডে দ্রুত পদক্ষেপের প্রশংসায় প্রধানমন্ত্রী ঐতিহাসিক বাজেটের অপেক্ষায় বাংলাদেশ টেকসই উন্নয়নের লক্ষ্যেই বিএসটিআইকে আরো শক্তিশালী করা হবে: শিল্পমন্ত্রী স্বাস্থ্যসেবা মানুষের দ্বারপ্রান্তে পৌঁছে দিতে দেশীয় অ্যাম্বুলেন্স তৈরির উদ্যোগ সীমান্তে পুশইনের চেষ্টা বাড়ছে, বিজিবি ও স্থানীয়রা প্রতিহত করেছেন ৫ বছরে ২৫ কোটি গাছ রোপণের সফল বাস্তবায়ন নিশ্চিত করতে প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশ বিশেষ সিদ্ধান্তে ৬৫ শতাংশ গ্রাহকের বিদ্যুতের দাম অপরিবর্তিত: প্রধানমন্ত্রীর তথ্য উপদেষ্টা

ইলন মাস্ক: বিশ্বের প্রথম ট্রিলিয়নিয়ার হওয়ার পথে

টেক জগতের শীর্ষ ধনকুবের ইলন মাস্ক এখন ব্যবসা-বাণিজ্যে এক অনন্য মাইলফলকের খুব কাছাকাছি এসে পৌঁছেছেন। টেসলার প্রধান নির্বাহী হিসেবে তার হাতে বর্তমানে প্রায় ২৭৩ বিলিয়ন ডলারের শেয়ার ও স্টক অপশন আছে। যদি আগামী সপ্তাহে মহাকাশ গবেষণা ও কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা প্রতিষ্ঠান স্পেসএক্সের পরিকল্পিত প্রাথমিক শেয়ার ছাড় (আইপিও) সফল হয়, তবে মাস্কের ব্যক্তিগত সম্পদে আরও প্রায় ৮৪১ বিলিয়ন ডলার যোগ হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। এতে টেসলা ও স্পেসএক্স মিলিয়ে তার মোট সম্পদ দাঁড়াবে প্রায় ১.১১ ট্রিলিয়ন ডলার।

ফোর্বস ম্যাগাজিনের সাম্প্রতিক তথ্যানুসারে বর্তমানে তার সম্পদ প্রায় ৭৮৮.৮ বিলিয়ন ডলার। তবে যদি স্পেসএক্সের বাজারমূল্য ১.৭৭ ট্রিলিয়ন ডলারে পৌঁছায়, তাহলে ইলন মাস্ক হচ্ছেন বিশ্বের প্রথম ‘ট্রিলিয়নিয়ার’—এক ব্যক্তি যার ব্যক্তিগত সম্পদ এক ট্রিলিয়ন ডলার ছাড়িয়ে যায়।

এই পরিমানের অর্থ সাধারণ কল্পনারও বাইরে। গাণিতিকভাবে একটি ট্রিলিয়ন ডলার মানে ১ লাখ মিলিয়ন ডলার। ধরুন কেউ প্রতি ঘণ্টায় ১০ লাখ ডলার খরচ করেন এবং বছর জুড়ে দিনরাত খরচ চালিয়ে যান—তাতেও ১ ট্রিলিয়ন ডলার শেষ করতে তাকে এক শতাব্দীরও বেশি সময় লাগতে পারে। তবে এখানে একটি জরুরি ব্যাপার বোঝা উচিত: মাস্কের এই অসামান্য সম্পদের বড় অংশ ‘‘কাগুজে সম্পদ’’—অর্থাৎ এটি ব্যাংকে রাখা নগদ নয়, বরং তার কোম্পানিগুলোর শেয়ারের বাজারমূল্যের ওপর নির্ভর করে গঠিত।

মাস্কের সম্ভাব্য সম্পদের পরিধি বোঝাতে কিছু তুলনা করা যাক। আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিল (আইএমএফ) zufolge বিশ্বের মাত্র বিশটি দেশের অর্থনীতির আকার ১.১ ট্রিলিয়ন ডলারের বেশি। অর্থাৎ তাইওয়ান, আয়ারল্যান্ড, সুইডেন, সিঙ্গাপুর কিংবা মাস্কের জন্মভূমি দক্ষিণ আফ্রিকার মতো দেশগুলোর পুরো জিডিপির সমপরিমাণ বা তার থেকেও বেশি সম্পদ এক ব্যক্তির হাতে থাকা সম্ভব হচ্ছে। একইভাবে যুক্তরাষ্ট্রের ম্যানহাটন দ্বীপের বার্ষিক উৎপাদন বা হিউস্টন শহরের সমগ্র আবাসিক ও বাণিজ্যিক স্থাবর সম্পত্তির সম্মিলিত মূল্য থেকেও তার সম্ভাব্য সম্পদ বড়। এমনকি ২০২৫ সালে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে বিক্রি হওয়া আনুমানিক ১৬.৩ মিলিয়ন নতুন গাড়ির মোট মূল্যও তার এই সম্পদের তুলনায় ক্ষুদ্র।

প্রযুক্তি খাতে অন্যান্য প্রভাবশালী ধনকুবেরদের সঙ্গে তুলনায়ও মাস্কের অবস্থান এখন অনেক উঁচুতে। অ্যামাজনের প্রতিষ্ঠাতা জেফ বেজোস, গুগলের সহ-প্রতিষ্ঠাতা ল্যারি পেজ ও সের্গেই ব্রিন, এবং ওরাকলের প্রতিষ্ঠাতা ল্যারি এলিসনের সম্মিলিত সম্পদ যদি একত্র করা হয়, তবুও তা আনুমানিক ১.০৯ ট্রিলিয়ন ডলার—যা মাস্কের এককের সম্ভাব্য সম্পদের তুলনায় কম। বিশ্বের সবচেয়ে মূল্যবান ৫০টি স্পোর্টস ক্লাবের সম্মিলিত বাজারমূল্য প্রায় ৩৫৩ বিলিয়ন ডলার, যা মাস্কের সম্ভাব্য সম্পদের প্রায় এক-তৃতীয়াংশ।

এই আর্থিক বিজয় কেবল সংখ্যার খেলা নয়; এটি বিশ্ব অর্থনীতিতে শক্তির পুনর্বণ্টনের প্রতীক। ব্যক্তিগত সম্পদের এমন συγκীকরণ দেখায় যে একক ব্যক্তির আর্থিক ক্ষমতা এখন অনেক সার্বভৌম রাষ্ট্রের চেয়েও শক্তিশালী হয়ে উঠছে। তবে এই শক্তি কতটা বাস্তবে রূপান্তরিত হবে—নগদে বদলাবে, বিনিয়োগে যাবে, নাকি নীতিগত ও সামাজিক বিতর্ককে উস্কে দেবে—সেটি দেখার বিষয় রয়ে গেল।

ট্যাগ :
সর্বাধিক পঠিত

ছয় দফা দাবিতে সারাদেশে অনির্দিষ্টকালের কর্মবিরতি ঘোষণা ইন্টার্ন চিকিৎসকদের

ইলন মাস্ক: বিশ্বের প্রথম ট্রিলিয়নিয়ার হওয়ার পথে

প্রকাশিতঃ ১০:৩৮:৩৯ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ৭ জুন ২০২৬

টেক জগতের শীর্ষ ধনকুবের ইলন মাস্ক এখন ব্যবসা-বাণিজ্যে এক অনন্য মাইলফলকের খুব কাছাকাছি এসে পৌঁছেছেন। টেসলার প্রধান নির্বাহী হিসেবে তার হাতে বর্তমানে প্রায় ২৭৩ বিলিয়ন ডলারের শেয়ার ও স্টক অপশন আছে। যদি আগামী সপ্তাহে মহাকাশ গবেষণা ও কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা প্রতিষ্ঠান স্পেসএক্সের পরিকল্পিত প্রাথমিক শেয়ার ছাড় (আইপিও) সফল হয়, তবে মাস্কের ব্যক্তিগত সম্পদে আরও প্রায় ৮৪১ বিলিয়ন ডলার যোগ হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। এতে টেসলা ও স্পেসএক্স মিলিয়ে তার মোট সম্পদ দাঁড়াবে প্রায় ১.১১ ট্রিলিয়ন ডলার।

ফোর্বস ম্যাগাজিনের সাম্প্রতিক তথ্যানুসারে বর্তমানে তার সম্পদ প্রায় ৭৮৮.৮ বিলিয়ন ডলার। তবে যদি স্পেসএক্সের বাজারমূল্য ১.৭৭ ট্রিলিয়ন ডলারে পৌঁছায়, তাহলে ইলন মাস্ক হচ্ছেন বিশ্বের প্রথম ‘ট্রিলিয়নিয়ার’—এক ব্যক্তি যার ব্যক্তিগত সম্পদ এক ট্রিলিয়ন ডলার ছাড়িয়ে যায়।

এই পরিমানের অর্থ সাধারণ কল্পনারও বাইরে। গাণিতিকভাবে একটি ট্রিলিয়ন ডলার মানে ১ লাখ মিলিয়ন ডলার। ধরুন কেউ প্রতি ঘণ্টায় ১০ লাখ ডলার খরচ করেন এবং বছর জুড়ে দিনরাত খরচ চালিয়ে যান—তাতেও ১ ট্রিলিয়ন ডলার শেষ করতে তাকে এক শতাব্দীরও বেশি সময় লাগতে পারে। তবে এখানে একটি জরুরি ব্যাপার বোঝা উচিত: মাস্কের এই অসামান্য সম্পদের বড় অংশ ‘‘কাগুজে সম্পদ’’—অর্থাৎ এটি ব্যাংকে রাখা নগদ নয়, বরং তার কোম্পানিগুলোর শেয়ারের বাজারমূল্যের ওপর নির্ভর করে গঠিত।

মাস্কের সম্ভাব্য সম্পদের পরিধি বোঝাতে কিছু তুলনা করা যাক। আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিল (আইএমএফ) zufolge বিশ্বের মাত্র বিশটি দেশের অর্থনীতির আকার ১.১ ট্রিলিয়ন ডলারের বেশি। অর্থাৎ তাইওয়ান, আয়ারল্যান্ড, সুইডেন, সিঙ্গাপুর কিংবা মাস্কের জন্মভূমি দক্ষিণ আফ্রিকার মতো দেশগুলোর পুরো জিডিপির সমপরিমাণ বা তার থেকেও বেশি সম্পদ এক ব্যক্তির হাতে থাকা সম্ভব হচ্ছে। একইভাবে যুক্তরাষ্ট্রের ম্যানহাটন দ্বীপের বার্ষিক উৎপাদন বা হিউস্টন শহরের সমগ্র আবাসিক ও বাণিজ্যিক স্থাবর সম্পত্তির সম্মিলিত মূল্য থেকেও তার সম্ভাব্য সম্পদ বড়। এমনকি ২০২৫ সালে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে বিক্রি হওয়া আনুমানিক ১৬.৩ মিলিয়ন নতুন গাড়ির মোট মূল্যও তার এই সম্পদের তুলনায় ক্ষুদ্র।

প্রযুক্তি খাতে অন্যান্য প্রভাবশালী ধনকুবেরদের সঙ্গে তুলনায়ও মাস্কের অবস্থান এখন অনেক উঁচুতে। অ্যামাজনের প্রতিষ্ঠাতা জেফ বেজোস, গুগলের সহ-প্রতিষ্ঠাতা ল্যারি পেজ ও সের্গেই ব্রিন, এবং ওরাকলের প্রতিষ্ঠাতা ল্যারি এলিসনের সম্মিলিত সম্পদ যদি একত্র করা হয়, তবুও তা আনুমানিক ১.০৯ ট্রিলিয়ন ডলার—যা মাস্কের এককের সম্ভাব্য সম্পদের তুলনায় কম। বিশ্বের সবচেয়ে মূল্যবান ৫০টি স্পোর্টস ক্লাবের সম্মিলিত বাজারমূল্য প্রায় ৩৫৩ বিলিয়ন ডলার, যা মাস্কের সম্ভাব্য সম্পদের প্রায় এক-তৃতীয়াংশ।

এই আর্থিক বিজয় কেবল সংখ্যার খেলা নয়; এটি বিশ্ব অর্থনীতিতে শক্তির পুনর্বণ্টনের প্রতীক। ব্যক্তিগত সম্পদের এমন συγκীকরণ দেখায় যে একক ব্যক্তির আর্থিক ক্ষমতা এখন অনেক সার্বভৌম রাষ্ট্রের চেয়েও শক্তিশালী হয়ে উঠছে। তবে এই শক্তি কতটা বাস্তবে রূপান্তরিত হবে—নগদে বদলাবে, বিনিয়োগে যাবে, নাকি নীতিগত ও সামাজিক বিতর্ককে উস্কে দেবে—সেটি দেখার বিষয় রয়ে গেল।