০৬:৪২ অপরাহ্ন, রবিবার, ০৭ জুন ২০২৬, ২৪ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সর্বশেষঃ
কূটনৈতিক উদ্যোগে ভারত থেকে ৯১ বাংলাদেশি মৎস্যজীবী ও ৪টি মাছ ধরা নৌকা দেশে ফিরেছে পল্লবী কাণ্ডে দ্রুত পদক্ষেপের প্রশংসায় প্রধানমন্ত্রী ঐতিহাসিক বাজেটের অপেক্ষায় বাংলাদেশ টেকসই উন্নয়নের লক্ষ্যেই বিএসটিআইকে আরো শক্তিশালী করা হবে: শিল্পমন্ত্রী স্বাস্থ্যসেবা মানুষের দ্বারপ্রান্তে পৌঁছে দিতে দেশীয় অ্যাম্বুলেন্স তৈরির উদ্যোগ সীমান্তে পুশইনের চেষ্টা বাড়ছে, বিজিবি ও স্থানীয়রা প্রতিহত করেছেন ৫ বছরে ২৫ কোটি গাছ রোপণের সফল বাস্তবায়ন নিশ্চিত করতে প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশ বিশেষ সিদ্ধান্তে ৬৫ শতাংশ গ্রাহকের বিদ্যুতের দাম অপরিবর্তিত: প্রধানমন্ত্রীর তথ্য উপদেষ্টা ডেঙ্গু প্রতিরোধে মোবাইল কোর্ট ও তিন মাসের বিশেষ অভিযান শুরু কাদুগলির শহীদ ছয় বাংলাদেশিকে নিউইয়র্কে ‘ড্যাগ হ্যামারশোল্ড’ মরণোত্তর পদক

ইলন মাস্ক: বিশ্বের প্রথম ‘ট্রিলিয়নিয়ার’ হওয়ার পথে

প্রযুক্তি জগতের প্রভাবশালী ধনকুবের ইলন মাস্ক মানব ইতিহাসে ব্যবসায়িক এক নতুন অধ্যায়ের দ্বারপ্রান্তে পৌঁছতে চলেছেন। টেসলার প্রধান নির্বাহী হিসেবে বর্তমানে তাঁর হাতে প্রায় ২৭৩ বিলিয়ন ডলারের শেয়ার ও স্টক অপশন আছে। এছাড়া যদি স্পেসএক্স-এর পরিকল্পিত প্রাথমিক শেয়ার ছাড় (আইপিও) আগামী সপ্তাহে সম্পন্ন হয়, তবে তার ব্যক্তিগত সম্পদে আরও প্রায় ৮৪১ বিলিয়ন ডলার যোগ হওয়ার সম্ভাবনা থেকে যায়। এতে কেবল টেসলা ও স্পেসএক্স মিলিয়ে মাস্কের মোট সম্পদ দাঁড়াতে পারে প্রায় ১.১১ ট্রিলিয়ন ডলার বা ১ লাখ ১১ হাজার কোটি ডলারের মতো এক অভাবনীয় সংখ্যায়।

ফোর্বসের সাম্প্রতিক তথ্যে বর্তমানে তার ধার্যকৃত সম্পদ প্রায় ৭৮৮.৮ বিলিয়ন ডলার দেখাচ্ছে। তথ্যানুযায়ী, যদি স্পেসএক্সের বাজারমূল্য ১.৭৭ ট্রিলিয়ন ডলারের কাছাকাছি পৌঁছায়, তাহলে তিনি হওয়ার যাচ্ছেন ইতিহাসের প্রথম ‘ট্রিলিয়নিয়ার’ — এক ব্যক্তির মালিকানায় এক ট্রিলিয়নের বেশি ডলার।

এই অঙ্কগুলোর ভেতরে যে পরিমাণ পরিসর লুকিয়ে আছে, তা সাধারণ কল্পনারও বহুদূর। গাণিতিকভাবে এক ট্রিলিয়ন ডলার মানে ১ লাখ মিলিয়ন ডলার। ধরুন কেউ প্রতি ঘণ্টায় ১০ লাখ ডলার খরচ করছেন এবং বছরজুড়ে—দিনরাত ২৪ ঘণ্টা—কোনও বিরতি নেই, তবু এক ট্রিলিয়ন ডলার শেষ করতে তার এক শতাব্দীরও বেশি সময় লাগবে। তবে এখানে এক গুরুত্বপূর্ণ ব্যাখ্যা দরকার: মাস্কের এ সম্পদ অধিকাংশই ‘কাগুজে সম্পদ’—অর্থাৎব্যাংকে রাখা নগদ নয়, বরং তাঁর মালিকানাধীন কোম্পানিগুলোর শেয়ার ও বাজারমূল্যের ওপর ভিত্তি করে নির্ধারিত অর্থমূল্য।

এটি বিশালতার মাত্রা বোঝাতে কিছু আন্তর্জাতিক তুলনা নজরকাড়া: আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিলের (আইএমএফ) তালিকায় বিশ্বের প্রায় ২০টি দেশের বার্ষিক জিডিপি ১.১ ট্রিলিয়ন ডলারেরও বেশি। অর্থাৎ তাইওয়ান, আয়ারল্যান্ড, সুইডেন, সিঙ্গাপুর কিংবা মাস্কের জন্মভূমি দক্ষিণ আফ্রিকার মতো অনেক দেশের পুরো জাতীয় অর্থনীতির চেয়েও বড় হতে পারে মাস্কের ব্যক্তিগত অর্থপ্রাপ্তি। ম্যানহাটন দ্বীপের বার্ষিক উৎপাদন বা হিউস্টন শহরের সব স্থাবর সম্পত্তির সম্মিলিত মূল্য—এসবের তুলনাতেও মাস্কের সম্ভাব্য সম্পদ অনেক বেশি। এমনকি ২০২৫ সালে আমেরিকায় বিক্রি হওয়া ১ কোটি ৬৩ লাখ নতুন গাড়ির মোট মূল্যও তাঁর এই সম্ভাব্য সম্পদের সম্মুখীন নয়।

প্রযুক্তি খাতের অন্যান্য বিশিষ্ট ধনকুবেরদের সঙ্গে তুলনা করলে মাস্কের অবস্থান আরও স্পষ্ট দেখা যায়। অ্যামাজনের প্রতিষ্ঠাতা জেফ বেজোস, গুগলের সহ-প্রতিষ্ঠাতা ল্যারি পেজ ও সের্গেই ব্রিন এবং ওরাকল প্রতিষ্ঠাতা ল্যারি এলিসনের সম্মিলিত সম্পদ যদি হিসেব করা হয়, তা প্রায় ১.০৯ ট্রিলিয়ন ডলার—যা মাস্কের একার সম্ভাব্য সম্পদের কাছাকাছি হলেও কম। বিশ্বের মূল্যবান ৫০টি স্পোর্টস ক্লাবের সম্মিলিত বাজারমূল্যও মাত্র ৩৫৩ বিলিয়ন ডলার, যা মাস্কের সম্ভাব্য সম্পদের মাত্র এক-তৃতীয়াংশের সমান।

এই সমান্যচকিত পরিসংখ্যানরা একথাই নিশ্চিত করে: একক ব্যক্তির আর্থিক শক্তি আজকের বিশ্বে অনেক সার্বভৌম রাষ্ট্রের আর্থিক ক্ষমতাকেও ছাপিয়ে যেতে পারে। ব্যাংকনোটে নগদ না থাকলেও শেয়ারবাজার ও প্রযুক্তি-উদ্ভাবনের মাধ্যমে সৃষ্টি হওয়া এই প্রচণ্ড ধন-সংকেন্দ্রিকতা বাণিজ্যিক ইতিহাসে নতুন প্রশ্ন তুলছে—সম্পদ ও ক্ষমতার এমন অভিযোগ্য এককেন্দ্রীকরণ সমাজ ও অর্থনীতির জন্য কী প্রভাব ফেলবে, তা সময়ই বলবে।

ট্যাগ :
সর্বাধিক পঠিত

পল্লবী কাণ্ডে দ্রুত পদক্ষেপের প্রশংসায় প্রধানমন্ত্রী

ইলন মাস্ক: বিশ্বের প্রথম ‘ট্রিলিয়নিয়ার’ হওয়ার পথে

প্রকাশিতঃ ০২:২৪:৪১ অপরাহ্ন, রবিবার, ৭ জুন ২০২৬

প্রযুক্তি জগতের প্রভাবশালী ধনকুবের ইলন মাস্ক মানব ইতিহাসে ব্যবসায়িক এক নতুন অধ্যায়ের দ্বারপ্রান্তে পৌঁছতে চলেছেন। টেসলার প্রধান নির্বাহী হিসেবে বর্তমানে তাঁর হাতে প্রায় ২৭৩ বিলিয়ন ডলারের শেয়ার ও স্টক অপশন আছে। এছাড়া যদি স্পেসএক্স-এর পরিকল্পিত প্রাথমিক শেয়ার ছাড় (আইপিও) আগামী সপ্তাহে সম্পন্ন হয়, তবে তার ব্যক্তিগত সম্পদে আরও প্রায় ৮৪১ বিলিয়ন ডলার যোগ হওয়ার সম্ভাবনা থেকে যায়। এতে কেবল টেসলা ও স্পেসএক্স মিলিয়ে মাস্কের মোট সম্পদ দাঁড়াতে পারে প্রায় ১.১১ ট্রিলিয়ন ডলার বা ১ লাখ ১১ হাজার কোটি ডলারের মতো এক অভাবনীয় সংখ্যায়।

ফোর্বসের সাম্প্রতিক তথ্যে বর্তমানে তার ধার্যকৃত সম্পদ প্রায় ৭৮৮.৮ বিলিয়ন ডলার দেখাচ্ছে। তথ্যানুযায়ী, যদি স্পেসএক্সের বাজারমূল্য ১.৭৭ ট্রিলিয়ন ডলারের কাছাকাছি পৌঁছায়, তাহলে তিনি হওয়ার যাচ্ছেন ইতিহাসের প্রথম ‘ট্রিলিয়নিয়ার’ — এক ব্যক্তির মালিকানায় এক ট্রিলিয়নের বেশি ডলার।

এই অঙ্কগুলোর ভেতরে যে পরিমাণ পরিসর লুকিয়ে আছে, তা সাধারণ কল্পনারও বহুদূর। গাণিতিকভাবে এক ট্রিলিয়ন ডলার মানে ১ লাখ মিলিয়ন ডলার। ধরুন কেউ প্রতি ঘণ্টায় ১০ লাখ ডলার খরচ করছেন এবং বছরজুড়ে—দিনরাত ২৪ ঘণ্টা—কোনও বিরতি নেই, তবু এক ট্রিলিয়ন ডলার শেষ করতে তার এক শতাব্দীরও বেশি সময় লাগবে। তবে এখানে এক গুরুত্বপূর্ণ ব্যাখ্যা দরকার: মাস্কের এ সম্পদ অধিকাংশই ‘কাগুজে সম্পদ’—অর্থাৎব্যাংকে রাখা নগদ নয়, বরং তাঁর মালিকানাধীন কোম্পানিগুলোর শেয়ার ও বাজারমূল্যের ওপর ভিত্তি করে নির্ধারিত অর্থমূল্য।

এটি বিশালতার মাত্রা বোঝাতে কিছু আন্তর্জাতিক তুলনা নজরকাড়া: আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিলের (আইএমএফ) তালিকায় বিশ্বের প্রায় ২০টি দেশের বার্ষিক জিডিপি ১.১ ট্রিলিয়ন ডলারেরও বেশি। অর্থাৎ তাইওয়ান, আয়ারল্যান্ড, সুইডেন, সিঙ্গাপুর কিংবা মাস্কের জন্মভূমি দক্ষিণ আফ্রিকার মতো অনেক দেশের পুরো জাতীয় অর্থনীতির চেয়েও বড় হতে পারে মাস্কের ব্যক্তিগত অর্থপ্রাপ্তি। ম্যানহাটন দ্বীপের বার্ষিক উৎপাদন বা হিউস্টন শহরের সব স্থাবর সম্পত্তির সম্মিলিত মূল্য—এসবের তুলনাতেও মাস্কের সম্ভাব্য সম্পদ অনেক বেশি। এমনকি ২০২৫ সালে আমেরিকায় বিক্রি হওয়া ১ কোটি ৬৩ লাখ নতুন গাড়ির মোট মূল্যও তাঁর এই সম্ভাব্য সম্পদের সম্মুখীন নয়।

প্রযুক্তি খাতের অন্যান্য বিশিষ্ট ধনকুবেরদের সঙ্গে তুলনা করলে মাস্কের অবস্থান আরও স্পষ্ট দেখা যায়। অ্যামাজনের প্রতিষ্ঠাতা জেফ বেজোস, গুগলের সহ-প্রতিষ্ঠাতা ল্যারি পেজ ও সের্গেই ব্রিন এবং ওরাকল প্রতিষ্ঠাতা ল্যারি এলিসনের সম্মিলিত সম্পদ যদি হিসেব করা হয়, তা প্রায় ১.০৯ ট্রিলিয়ন ডলার—যা মাস্কের একার সম্ভাব্য সম্পদের কাছাকাছি হলেও কম। বিশ্বের মূল্যবান ৫০টি স্পোর্টস ক্লাবের সম্মিলিত বাজারমূল্যও মাত্র ৩৫৩ বিলিয়ন ডলার, যা মাস্কের সম্ভাব্য সম্পদের মাত্র এক-তৃতীয়াংশের সমান।

এই সমান্যচকিত পরিসংখ্যানরা একথাই নিশ্চিত করে: একক ব্যক্তির আর্থিক শক্তি আজকের বিশ্বে অনেক সার্বভৌম রাষ্ট্রের আর্থিক ক্ষমতাকেও ছাপিয়ে যেতে পারে। ব্যাংকনোটে নগদ না থাকলেও শেয়ারবাজার ও প্রযুক্তি-উদ্ভাবনের মাধ্যমে সৃষ্টি হওয়া এই প্রচণ্ড ধন-সংকেন্দ্রিকতা বাণিজ্যিক ইতিহাসে নতুন প্রশ্ন তুলছে—সম্পদ ও ক্ষমতার এমন অভিযোগ্য এককেন্দ্রীকরণ সমাজ ও অর্থনীতির জন্য কী প্রভাব ফেলবে, তা সময়ই বলবে।