০৮:২৯ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১১ জুন ২০২৬, ২৮ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সর্বশেষঃ
সীমান্তে ‘পুশ-ইন’ নিয়ে উদ্বেগ, মানবিক সমাধানের আহ্বান—আসক দুর্বল ব্যাংক পুনর্গঠনে ব্যয়ে প্রায় ৪০ হাজার কোটি সব নাগরিক পাবেন ই-হেলথ কার্ড, গঠিত হবে জাতীয় অ্যাম্বুলেন্স পুল ২০২৬–২৭ অর্থবছরের বাজেট: ৯ লাখ ৩৮ হাজার কোটি টাকার প্রস্তাব বৃহত্তম বাজেট পেস—অর্থনীতি পুনরুদ্ধার ও জনগণের ভোগ্যপণ্যের ব্যয় কমানো লক্ষ্য স্বাস্থ্যমন্ত্রী: আদ্-দ্বীনের শোকজ জবাবে আমরা সন্তুষ্ট নই বাংলাদেশের অর্থনীতি প্রথমবার ৫০০ বিলিয়ন ডলার ছাড়ালো ব্রহ্মপুত্র এক্সপ্রেসের পাওয়ার কার লাইনচ্যুত, ঢাকা-মুখী ট্রেন চলাচল বন্ধ কাঁটাতারের বেড়াজালে আটকা মানবতা একনেকে ৩ হাজার ৮৯১ কোটিতে ১০টি উন্নয়ন প্রকল্প অনুমোদন

কার্ডিফ থেকে মিরপুর: আশরাফুলের ২১ বছরের অনন্য অধ্যায়

মিরপুরের সেই জয়ের রাতে বাংলাদেশের ক্রিকেটপ্রেমীদের মনে পুরনো দিনের স্মৃতি জাগে — ২১ বছর আগে কার্ডিফে যে আশ্চর্য জয় আমাদেরকে চমকে দিয়েছিল, তার ছায়া এবারও মিরপুরে সতীর্ণ হয়। গত মঙ্গলবার মিরপুরে অস্ট্রেলিয়ার বিরুদ্ধে ওয়ানডে জেতার মধ্য দিয়ে দীর্ঘ প্রতীক্ষার অবসান ঘটল এবং এই জয়ের সঙ্গে প্রাঞ্জলভাবে জড়িত ছিলেন মোহাম্মদ আশরাফুল—যিনি এবারের জয় দেখছেন ডাগআউট থেকে জাতীয় দলের ব্যাটিং কোচ হিসেবে। একই প্রতিপক্ষের বিরুদ্ধে দেশের দুটি আলাদা যুগের ঐতিহাসিক জয় দেখা মানেই তার ক্যারিয়ারে এক অনন্য গর্বের অধ্যায় যুক্ত হওয়া।

মিরপুরের প্রথম ওয়ানডে ম্যাচে বাংলাদেশ আগে ব্যাট করে ২৮৪ রানের শক্তিশালী সংগ্রহ গড়েছিল। দীর্ঘ চার বছরের বিরতি কাটিয়ে ওয়ানডে দলে ফেরা মোসাদ্দেক হোসেন সৈকত ৮৬ রানের ব্যাটিংয়ে দলকে পিছ থেকে টেনে নিয়েছিলেন। জবাবে অস্ট্রেলিয়া শুরু থেকেই মোহাম্মদ নাহিদ রানা, মুস্তাফিজুর রহমান ও মোসাদ্দেকের নিয়ন্ত্রিত বোলিংয়ের সামনে নিয়মিত উইকেট হারাতে থাকে। ৪২.২ ওভার শেষে অজিরা ৯ উইকেটে ১৯১ রান করলে বৃষ্টি বাধা হয়ে যায় এবং ডাকওর্থ–লুইস (D/L) পদ্ধতিতে বাংলাদেশকে ৮৬ রানের জয় ঘোষণা করা হয়। এই ক্রোধী ও সংগঠিত পারফরম্যান্স টাইগারদের আত্মবিশ্বাসকে নতুন মাত্রা দিয়েছে।

স্মৃতিচারণে ফিরে গেলে ১৮ জুন ২০০৫ সালের কার্ডিফের বিশেষ দিনটা দেশের ক্রিকেটের ইতিহাসে স্বর্ণাক্ষরে লেখা। রিকি পন্টিং নেতৃত্বাধীন সে সময়কার বিশ্বসেরা অস্ট্রেলিয়ার বিরুদ্ধে প্রথমবারের মতো জয় এনে দিয়েছিল হাবিবুল বাশারের দল। তৎসময় আশরাফুলের অসাধারণ সেঞ্চুরি এবং অধিনায়ক বাশারের সহযোগী ইনিংস ঐ জয়ে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছিল। শেষ মুহূর্তে আফতাব আহমেদের ঝড়ো কাঁপানো পারফর্ম্যান্স হয়ে উঠেছিল বিজয়ের ষড়যন্ত্রের চাবিকাঠি। আজ সেই রূপকথার নায়ক ডাগআউটে থেকে তরুণদের পরামর্শ দিচ্ছেন — আর তার উপস্থিতি বর্তমান খেলোয়াড়দের জন্য বড় মানসিক প্রেরণা হয়ে দাঁড়িয়েছে।

জয়ের পর সোশ্যাল মিডিয়ায় আবেগঘন পোস্ট করে আশরাফুল নিজে সেই অনুভূতি ব্যক্ত করেছেন। তিনি লিখেছেন, খেলোয়াড় ও কোচ—ভূমিকা যতই ভিন্ন হোক না কেন দেশের জন্য গর্বের অনুভূতি আগের মতোই অটুট। বর্তমান দলের লড়াইয়ের মানসিকতা ও আত্মবিশ্বাস তাঁকে মুগ্ধ করেছে এবং তিনি খেলোয়াড়দের ধারাবাহিকতা বজায় রাখার জন্য অনুরোধও করেছেন।

এই ঐতিহাসিক জয়ের পর ক্রিকেটপ্রেমীদের আশা এখন আরও বড়—ব্যাটিং কোচ হিসেবে আশরাফুল এখন তাঁর শিষ্যদের নিয়ে অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে প্রথমবারের মতো পুরো ওয়ানডে সিরিজ জয়ের স্বপ্ন দেখছেন। ২০০৫ সালের কার্ডিফ থেকে শুরু হওয়া সেই বিজয়ের রেশ আর ২১ বছর পর মিরপুরে নতুন শক্তি নিয়ে ফিরে এসেছে, আর বর্তমান দল সেই অনন্য ইতিহাস লিখতে বদ্ধপরিকর।

ট্যাগ :
সর্বাধিক পঠিত

সীমান্তে ‘পুশ-ইন’ নিয়ে উদ্বেগ, মানবিক সমাধানের আহ্বান—আসক

কার্ডিফ থেকে মিরপুর: আশরাফুলের ২১ বছরের অনন্য অধ্যায়

প্রকাশিতঃ ০৭:২৩:০৪ অপরাহ্ন, বুধবার, ১০ জুন ২০২৬

মিরপুরের সেই জয়ের রাতে বাংলাদেশের ক্রিকেটপ্রেমীদের মনে পুরনো দিনের স্মৃতি জাগে — ২১ বছর আগে কার্ডিফে যে আশ্চর্য জয় আমাদেরকে চমকে দিয়েছিল, তার ছায়া এবারও মিরপুরে সতীর্ণ হয়। গত মঙ্গলবার মিরপুরে অস্ট্রেলিয়ার বিরুদ্ধে ওয়ানডে জেতার মধ্য দিয়ে দীর্ঘ প্রতীক্ষার অবসান ঘটল এবং এই জয়ের সঙ্গে প্রাঞ্জলভাবে জড়িত ছিলেন মোহাম্মদ আশরাফুল—যিনি এবারের জয় দেখছেন ডাগআউট থেকে জাতীয় দলের ব্যাটিং কোচ হিসেবে। একই প্রতিপক্ষের বিরুদ্ধে দেশের দুটি আলাদা যুগের ঐতিহাসিক জয় দেখা মানেই তার ক্যারিয়ারে এক অনন্য গর্বের অধ্যায় যুক্ত হওয়া।

মিরপুরের প্রথম ওয়ানডে ম্যাচে বাংলাদেশ আগে ব্যাট করে ২৮৪ রানের শক্তিশালী সংগ্রহ গড়েছিল। দীর্ঘ চার বছরের বিরতি কাটিয়ে ওয়ানডে দলে ফেরা মোসাদ্দেক হোসেন সৈকত ৮৬ রানের ব্যাটিংয়ে দলকে পিছ থেকে টেনে নিয়েছিলেন। জবাবে অস্ট্রেলিয়া শুরু থেকেই মোহাম্মদ নাহিদ রানা, মুস্তাফিজুর রহমান ও মোসাদ্দেকের নিয়ন্ত্রিত বোলিংয়ের সামনে নিয়মিত উইকেট হারাতে থাকে। ৪২.২ ওভার শেষে অজিরা ৯ উইকেটে ১৯১ রান করলে বৃষ্টি বাধা হয়ে যায় এবং ডাকওর্থ–লুইস (D/L) পদ্ধতিতে বাংলাদেশকে ৮৬ রানের জয় ঘোষণা করা হয়। এই ক্রোধী ও সংগঠিত পারফরম্যান্স টাইগারদের আত্মবিশ্বাসকে নতুন মাত্রা দিয়েছে।

স্মৃতিচারণে ফিরে গেলে ১৮ জুন ২০০৫ সালের কার্ডিফের বিশেষ দিনটা দেশের ক্রিকেটের ইতিহাসে স্বর্ণাক্ষরে লেখা। রিকি পন্টিং নেতৃত্বাধীন সে সময়কার বিশ্বসেরা অস্ট্রেলিয়ার বিরুদ্ধে প্রথমবারের মতো জয় এনে দিয়েছিল হাবিবুল বাশারের দল। তৎসময় আশরাফুলের অসাধারণ সেঞ্চুরি এবং অধিনায়ক বাশারের সহযোগী ইনিংস ঐ জয়ে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছিল। শেষ মুহূর্তে আফতাব আহমেদের ঝড়ো কাঁপানো পারফর্ম্যান্স হয়ে উঠেছিল বিজয়ের ষড়যন্ত্রের চাবিকাঠি। আজ সেই রূপকথার নায়ক ডাগআউটে থেকে তরুণদের পরামর্শ দিচ্ছেন — আর তার উপস্থিতি বর্তমান খেলোয়াড়দের জন্য বড় মানসিক প্রেরণা হয়ে দাঁড়িয়েছে।

জয়ের পর সোশ্যাল মিডিয়ায় আবেগঘন পোস্ট করে আশরাফুল নিজে সেই অনুভূতি ব্যক্ত করেছেন। তিনি লিখেছেন, খেলোয়াড় ও কোচ—ভূমিকা যতই ভিন্ন হোক না কেন দেশের জন্য গর্বের অনুভূতি আগের মতোই অটুট। বর্তমান দলের লড়াইয়ের মানসিকতা ও আত্মবিশ্বাস তাঁকে মুগ্ধ করেছে এবং তিনি খেলোয়াড়দের ধারাবাহিকতা বজায় রাখার জন্য অনুরোধও করেছেন।

এই ঐতিহাসিক জয়ের পর ক্রিকেটপ্রেমীদের আশা এখন আরও বড়—ব্যাটিং কোচ হিসেবে আশরাফুল এখন তাঁর শিষ্যদের নিয়ে অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে প্রথমবারের মতো পুরো ওয়ানডে সিরিজ জয়ের স্বপ্ন দেখছেন। ২০০৫ সালের কার্ডিফ থেকে শুরু হওয়া সেই বিজয়ের রেশ আর ২১ বছর পর মিরপুরে নতুন শক্তি নিয়ে ফিরে এসেছে, আর বর্তমান দল সেই অনন্য ইতিহাস লিখতে বদ্ধপরিকর।