০৯:৩৯ অপরাহ্ন, শনিবার, ২০ জুন ২০২৬, ৬ আষাঢ় ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সর্বশেষঃ
মালয়েশিয়ায় ‘অপস কুতিপ’ অভিযানে ১১৮ বাংলাদেশি আটক ২২,৩৫২ প্রবাসীর এনআইডি আবেদন বাতিল ভিজিটর ভিসায় যুক্তরাষ্ট্রে কী করা যাবে: ঢাকাস্থ মার্কিন দূতাবাসের নির্দেশনা স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী: কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগ একটি ‘মাফিয়া পার্টি’ শিশু শিক্ষা ও স্বাস্থ্যে বিনিয়োগই জাতি গঠনের মূল: প্রধানমন্ত্রী জাতিসংঘে বাংলাদেশ: রোহিঙ্গাদের নিরাপদ প্রত্যাবাসনই একমাত্র টেকসই সমাধান বাজেট বিলে: প্রশ্ন ছাড়াই কালো টাকা সাদা করার সুযোগ তথ্যমন্ত্রী: গণমাধ্যম সংস্কারে সরকার কেবল ‘সহায়ক’ থাকলেও কার্যকর পার্টনার হবে রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসনে বিশ্ব সম্প্রদায়ের কার্যকর ভূমিকা দাবি করলেন পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী গণমাধ্যম সংস্কারে সরকার কেবল ‘সহায়ক’: তথ্যমন্ত্রী

পুঁজিবাজারে নতুন উদ্যম: সূচকের বড় উত্থানে ফিরে এসেছে বিনিয়োগকারীর আস্থা

গত সপ্তাহে দেশের পুঁজিবাজারে লক্ষ্যযোগ্য ইতিবাচক প্রবণতা দেখা গেছে। দীর্ঘ সময়ের অস্থিরতা ও অনিশ্চয়তা কাটিয়ে বিনিয়োগকারীদের অংশগ্রহণ বৃদ্ধি পাওয়ায় সূচকের ধারাবাহিক উত্থান সম্ভব হয়েছে। বাজার বিশ্লেষকরা বলছেন, হারানো আস্থা ফিরতে শুরু করায় বড় ও মাঝারি মূলধনী শেয়ারে নতুন করে আগ্রহ সৃষ্টি হয়েছে। বিশেষত ব্যাংক, বস্ত্র, প্রকৌশল ও কিছু উৎপাদনমুখী খাতে সৃষ্ট সক্রিয় লেনদেন সামগ্রিক বাজার গতিকে ত্বরান্বিত করেছে। এ থেকে স্পষ্ট যে গত সপ্তাহে বিক্রির চাপে না থেকে ক্রয়ের চাহিদাই বেশি প্রাধান্য পেয়েছে।

ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জের (ডিএসই) বিশ্লেষণে দেখা যায়, প্রধান সূচক ডিএসইএক্স আগের সপ্তাহের তুলনায় ১৪১ পয়েন্ট বেড়ে ৫ হাজার ৬৬১ পয়েন্টে পৌঁছেছে। নির্বাচিত কোম্পানিগরের সূচক ডিএস-৩০ সপ্তাহের ব্যবধানে ৭০ পয়েন্ট বাড়িয়ে ২ হাজার ১৪৩ পয়েন্টে, আর শরিয়াহ সূচক ডিএসইএস ৩৬ পয়েন্টের উন্নতিতে ১ হাজার ১৫০ পয়েন্টে উন্নীত হয়েছে। এই সূচকের বড় উত্থানে সবচেয়ে বেশি প্রভাব ফেলেছে ইসলামী ব্যাংক, বেক্সিমকো ফার্মাসিউটিক্যালস, স্কয়ার ফার্মাসিউটিক্যালস, পূবালী ব্যাংক ও সিটি ব্যাংক।

গত সপ্তাহে ডিএসইতে লেনদেন হওয়া কোম্পানিগুলোর মধ্যে অনেকের শেয়ারের দর বেড়েছে; রিপোর্ট অনুসারে ৩২২টির দর বাড়েছে, ১৪৬টির দর কমেছে এবং ২২টির দর অপরিবর্তিত ছিল। লেনদেনের পরিমাণ নিয়ে বিশ্লেষণে দেখা গেছে, ডিএসইতে দৈনিক গড়ে প্রায় ১,২৮৪ কোটি টাকার শেয়ার ও ইউনিট হাতবদল হয়েছে। যদিও এটি আগের সপ্তাহের তুলনায় সামান্য—প্রায় ০.৩০ শতাংশ—কমেকথা।

খাতভিত্তিক চিত্রে বস্ত্র খাতের আধিপত্য বিশেষভাবে 눈ে পড়ে; এই খাত মোট লেনদেনের ১২.৮ শতাংশ দখল করেছে এবং শীর্ষে রয়েছে। সাধারণ বীমা খাত ১২.১ শতাংশ এবং ওষুধ ও রসায়ন খাত ১০.৮ শতাংশ লেনদেন ভাগ নিয়ে যথাক্রমে দ্বিতীয় ও তৃতীয় অবস্থান অর্জন করেছে। ব্যাংক ও প্রকৌশল খাতও উল্লেখযোগ্য লেনদেন সম্পন্ন করে শীর্ষ পাঁচে জায়গা করেছে।

বিনিয়োগকারীদের রিটার্নের দিক থেকে তথ্যপ্রযুক্তি খাত গত সপ্তাহে সবচেয়ে এগিয়ে ছিল; এখানে গড় ইতিবাচক রিটার্ন ছিল ৪.৯৪ শতাংশ। এছাড়া আর্থিক প্রতিষ্ঠান ও মিউচুয়াল ফান্ড খাতও ভালো পারফরম্যান্স দেখিয়েছে।

চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জেও সামঞ্জস্যপূর্ণ ইতিবাচক প্রবণতা দেখা গেছে। সিএসইর সার্বিক সূচক কাসপি (CASPI) ১.৪ শতাংশ বেড়ে ১৫,৩৫৪ পয়েন্টে পৌঁছেছে। এখানে লেনদেন হওয়া ৩৩০টি প্রতিষ্ঠানের মধ্যে ১৯৪টির দর বাড়েছে এবং ১১১টির দর কমেছে।

মোট মিলিয়ে, গত সপ্তাহের এই ইতিবাচক অবস্থা বাজারে নতুন আশার সঞ্চার করেছে এবং দীর্ঘমেয়াদে স্থিতিশীলতার লক্ষণ হিসেবে দেখা হচ্ছে। তবে বিশ্লেষকরা মনে করান যে এই বৃদ্ধিকে টেকসই করতে দরকার ধারাবাহিক অর্থনৈতিক তথ্য, কৌশলগত বিনিয়োগ ও সতর্কতা—কারণ বাজারের পরিবর্তনশীলতা সবসময় থেকেই যায়।

ট্যাগ :
সর্বাধিক পঠিত

পুঁজিবাজারে নতুন উদ্যম: সূচকের বড় উত্থানে ফিরে এসেছে বিনিয়োগকারীর আস্থা

প্রকাশিতঃ ১০:৩৮:৫২ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ২০ জুন ২০২৬

গত সপ্তাহে দেশের পুঁজিবাজারে লক্ষ্যযোগ্য ইতিবাচক প্রবণতা দেখা গেছে। দীর্ঘ সময়ের অস্থিরতা ও অনিশ্চয়তা কাটিয়ে বিনিয়োগকারীদের অংশগ্রহণ বৃদ্ধি পাওয়ায় সূচকের ধারাবাহিক উত্থান সম্ভব হয়েছে। বাজার বিশ্লেষকরা বলছেন, হারানো আস্থা ফিরতে শুরু করায় বড় ও মাঝারি মূলধনী শেয়ারে নতুন করে আগ্রহ সৃষ্টি হয়েছে। বিশেষত ব্যাংক, বস্ত্র, প্রকৌশল ও কিছু উৎপাদনমুখী খাতে সৃষ্ট সক্রিয় লেনদেন সামগ্রিক বাজার গতিকে ত্বরান্বিত করেছে। এ থেকে স্পষ্ট যে গত সপ্তাহে বিক্রির চাপে না থেকে ক্রয়ের চাহিদাই বেশি প্রাধান্য পেয়েছে।

ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জের (ডিএসই) বিশ্লেষণে দেখা যায়, প্রধান সূচক ডিএসইএক্স আগের সপ্তাহের তুলনায় ১৪১ পয়েন্ট বেড়ে ৫ হাজার ৬৬১ পয়েন্টে পৌঁছেছে। নির্বাচিত কোম্পানিগরের সূচক ডিএস-৩০ সপ্তাহের ব্যবধানে ৭০ পয়েন্ট বাড়িয়ে ২ হাজার ১৪৩ পয়েন্টে, আর শরিয়াহ সূচক ডিএসইএস ৩৬ পয়েন্টের উন্নতিতে ১ হাজার ১৫০ পয়েন্টে উন্নীত হয়েছে। এই সূচকের বড় উত্থানে সবচেয়ে বেশি প্রভাব ফেলেছে ইসলামী ব্যাংক, বেক্সিমকো ফার্মাসিউটিক্যালস, স্কয়ার ফার্মাসিউটিক্যালস, পূবালী ব্যাংক ও সিটি ব্যাংক।

গত সপ্তাহে ডিএসইতে লেনদেন হওয়া কোম্পানিগুলোর মধ্যে অনেকের শেয়ারের দর বেড়েছে; রিপোর্ট অনুসারে ৩২২টির দর বাড়েছে, ১৪৬টির দর কমেছে এবং ২২টির দর অপরিবর্তিত ছিল। লেনদেনের পরিমাণ নিয়ে বিশ্লেষণে দেখা গেছে, ডিএসইতে দৈনিক গড়ে প্রায় ১,২৮৪ কোটি টাকার শেয়ার ও ইউনিট হাতবদল হয়েছে। যদিও এটি আগের সপ্তাহের তুলনায় সামান্য—প্রায় ০.৩০ শতাংশ—কমেকথা।

খাতভিত্তিক চিত্রে বস্ত্র খাতের আধিপত্য বিশেষভাবে 눈ে পড়ে; এই খাত মোট লেনদেনের ১২.৮ শতাংশ দখল করেছে এবং শীর্ষে রয়েছে। সাধারণ বীমা খাত ১২.১ শতাংশ এবং ওষুধ ও রসায়ন খাত ১০.৮ শতাংশ লেনদেন ভাগ নিয়ে যথাক্রমে দ্বিতীয় ও তৃতীয় অবস্থান অর্জন করেছে। ব্যাংক ও প্রকৌশল খাতও উল্লেখযোগ্য লেনদেন সম্পন্ন করে শীর্ষ পাঁচে জায়গা করেছে।

বিনিয়োগকারীদের রিটার্নের দিক থেকে তথ্যপ্রযুক্তি খাত গত সপ্তাহে সবচেয়ে এগিয়ে ছিল; এখানে গড় ইতিবাচক রিটার্ন ছিল ৪.৯৪ শতাংশ। এছাড়া আর্থিক প্রতিষ্ঠান ও মিউচুয়াল ফান্ড খাতও ভালো পারফরম্যান্স দেখিয়েছে।

চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জেও সামঞ্জস্যপূর্ণ ইতিবাচক প্রবণতা দেখা গেছে। সিএসইর সার্বিক সূচক কাসপি (CASPI) ১.৪ শতাংশ বেড়ে ১৫,৩৫৪ পয়েন্টে পৌঁছেছে। এখানে লেনদেন হওয়া ৩৩০টি প্রতিষ্ঠানের মধ্যে ১৯৪টির দর বাড়েছে এবং ১১১টির দর কমেছে।

মোট মিলিয়ে, গত সপ্তাহের এই ইতিবাচক অবস্থা বাজারে নতুন আশার সঞ্চার করেছে এবং দীর্ঘমেয়াদে স্থিতিশীলতার লক্ষণ হিসেবে দেখা হচ্ছে। তবে বিশ্লেষকরা মনে করান যে এই বৃদ্ধিকে টেকসই করতে দরকার ধারাবাহিক অর্থনৈতিক তথ্য, কৌশলগত বিনিয়োগ ও সতর্কতা—কারণ বাজারের পরিবর্তনশীলতা সবসময় থেকেই যায়।