০৯:২৭ অপরাহ্ন, শনিবার, ২০ জুন ২০২৬, ৬ আষাঢ় ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সর্বশেষঃ
মালয়েশিয়ায় ‘অপস কুতিপ’ অভিযানে ১১৮ বাংলাদেশি আটক ২২,৩৫২ প্রবাসীর এনআইডি আবেদন বাতিল ভিজিটর ভিসায় যুক্তরাষ্ট্রে কী করা যাবে: ঢাকাস্থ মার্কিন দূতাবাসের নির্দেশনা স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী: কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগ একটি ‘মাফিয়া পার্টি’ শিশু শিক্ষা ও স্বাস্থ্যে বিনিয়োগই জাতি গঠনের মূল: প্রধানমন্ত্রী জাতিসংঘে বাংলাদেশ: রোহিঙ্গাদের নিরাপদ প্রত্যাবাসনই একমাত্র টেকসই সমাধান বাজেট বিলে: প্রশ্ন ছাড়াই কালো টাকা সাদা করার সুযোগ তথ্যমন্ত্রী: গণমাধ্যম সংস্কারে সরকার কেবল ‘সহায়ক’ থাকলেও কার্যকর পার্টনার হবে রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসনে বিশ্ব সম্প্রদায়ের কার্যকর ভূমিকা দাবি করলেন পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী গণমাধ্যম সংস্কারে সরকার কেবল ‘সহায়ক’: তথ্যমন্ত্রী

৫৯ শতাংশ ইসরায়েলি চান নেতানিয়াহু রাজনীতি ছাড়ুক

যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের সমঝোতার কারণে যুদ্ধবিরতি সম্ভাবনা বাড়ার মধ্যে ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু চাপে পড়েছেন। দেশের ভেতরে ও বাইরের মহলে ইসরায়েল ও তার সরকারের বিরুদ্ধে ক্ষোভ বাড়ছে; অনেকেই চান, এখনই তিনি রাজনীতিকে বিদায় জানান।

ইসরায়েলের চ্যানেল-১২–এর করা এক জরিপে এমন মনোভাবই উঠে এসেছে। জরিপ অনুযায়ী অংশগ্রহণকারীদের ৫৯ শতাংশ মনে করেন নেতানিয়াহুকে রাজনীতি ত্যাগ করা উচিত এবং আসন্ন শরতের নির্বাচনেও তার অংশ নেওয়া ঠিক হবে না। মাত্র ৩৩ শতাংশই নেতানিয়াহুর লিকুদ নেতার হিসেবে পরবর্তী নির্বাচনে অংশ নেওয়াকে সমর্থন জানিয়েছে, আর ৮ শতাংশ তাদের মত প্রকাশ করেনি।

নেতানিয়াহু দীর্ঘদিন ধরে ইসরায়েলের শাসনে রয়েছেন। ১৯৯৬ সালে প্রথমবার প্রধানমন্ত্রী হওয়ার পর ১৯৯৯ পর্যন্ত দায়িত্ব পালন করেন। এরপর ২০০৯ সালে আবার দায়িত্বে এসে ২০২১ সাল পর্যন্ত টানা ক্ষমতায় ছিলেন। সাময়িক বিরতির পর ২০২২ সালে তিনি ফের প্রধানমন্ত্রী হন এবং তখন থেকেই দেশের সরকারপ্রধান হিসেবে দায়িত্বে আছেন। তিনি ইসরায়েলের ইতিহাসে সবচেয়ে দীর্ঘকাল ক্ষমতায় থাকা নেতাদের একজন হিসেবে পরিচিত।

গত কয়েক বছরে গাজা, লেবানন ও ইরানে বিতর্কিত হামলার কারণে নেতানিয়াহুর বিরুদ্ধে ঘরের বাইরে ও দেশের ভেতরে সমালোচনা তীব্র হয়েছে। গাজার ওপর অভিযানকে কেন্দ্র করে আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালত (আইসিসি) তাকে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করেছে।

এর মধ্যেই গত ২৮ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল ইরানে আক্রমণ শুরু করার পর যুদ্ধ বন্ধের জন্য যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ও ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান সাম্প্রতি সমঝোতা স্মারকে স্বাক্ষর করেছেন। চূড়ান্ত শান্তিচুক্তির প্রস্তুতির অংশ হিসেবে দুই পক্ষ সুইজারল্যান্ডে ৬০ দিনের সময়সীমা নির্ধারণ করে আলোচনা করবে।

সমঝোতার একটি শর্ত হচ্ছে লেবাননসহ সব ফ্রন্টে যুদ্ধ বন্ধ করা। শুরুতে ইসরায়েল তা মানতে অনিচ্ছুক ছিল, কিন্তু শেষমেষ গত শুক্রবার ইসরায়েল ও লেবাননের হিজবুল্লাহ শান্তি বজায় রাখার সিদ্ধান্ত জানায়। তা সত্ত্বেও লেবাননে ইসরায়েলি বাহিনীর অভিযান চলেছে; কর্তৃপক্ষের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে একদিনে অন্তত ৪৭ জন নিহত হয়েছেন এবং শনিবার আরও অন্তত ১২ জনের প্রাণহানি হয়েছে।

বিশ্লেষকরা বলছেন, তেহরান ও ওয়াশিংটনের মধ্যে হওয়া এই সমঝোতাকে নেতানিয়াহু ও ইসরায়েলের কট্টর দিকগুলোর পক্ষ থেকে নস্যাৎ করার চেষ্টা হতে পারে। নেতানিয়াহু ও দেশের উগ্র ইহুদিবাদী কিছু নেতা লেবাননে হামলা চালিয়ে যাওয়ার দিকে ঝুঁকিপূর্ণ মনোভাব পোষণ করছেন বলে তাদের আশঙ্কা প্রকাশ করা হয়।

ট্যাগ :
সর্বাধিক পঠিত

৫৯ শতাংশ ইসরায়েলি চান নেতানিয়াহু রাজনীতি ছাড়ুক

প্রকাশিতঃ ০৭:২৪:৪৯ অপরাহ্ন, শনিবার, ২০ জুন ২০২৬

যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের সমঝোতার কারণে যুদ্ধবিরতি সম্ভাবনা বাড়ার মধ্যে ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু চাপে পড়েছেন। দেশের ভেতরে ও বাইরের মহলে ইসরায়েল ও তার সরকারের বিরুদ্ধে ক্ষোভ বাড়ছে; অনেকেই চান, এখনই তিনি রাজনীতিকে বিদায় জানান।

ইসরায়েলের চ্যানেল-১২–এর করা এক জরিপে এমন মনোভাবই উঠে এসেছে। জরিপ অনুযায়ী অংশগ্রহণকারীদের ৫৯ শতাংশ মনে করেন নেতানিয়াহুকে রাজনীতি ত্যাগ করা উচিত এবং আসন্ন শরতের নির্বাচনেও তার অংশ নেওয়া ঠিক হবে না। মাত্র ৩৩ শতাংশই নেতানিয়াহুর লিকুদ নেতার হিসেবে পরবর্তী নির্বাচনে অংশ নেওয়াকে সমর্থন জানিয়েছে, আর ৮ শতাংশ তাদের মত প্রকাশ করেনি।

নেতানিয়াহু দীর্ঘদিন ধরে ইসরায়েলের শাসনে রয়েছেন। ১৯৯৬ সালে প্রথমবার প্রধানমন্ত্রী হওয়ার পর ১৯৯৯ পর্যন্ত দায়িত্ব পালন করেন। এরপর ২০০৯ সালে আবার দায়িত্বে এসে ২০২১ সাল পর্যন্ত টানা ক্ষমতায় ছিলেন। সাময়িক বিরতির পর ২০২২ সালে তিনি ফের প্রধানমন্ত্রী হন এবং তখন থেকেই দেশের সরকারপ্রধান হিসেবে দায়িত্বে আছেন। তিনি ইসরায়েলের ইতিহাসে সবচেয়ে দীর্ঘকাল ক্ষমতায় থাকা নেতাদের একজন হিসেবে পরিচিত।

গত কয়েক বছরে গাজা, লেবানন ও ইরানে বিতর্কিত হামলার কারণে নেতানিয়াহুর বিরুদ্ধে ঘরের বাইরে ও দেশের ভেতরে সমালোচনা তীব্র হয়েছে। গাজার ওপর অভিযানকে কেন্দ্র করে আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালত (আইসিসি) তাকে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করেছে।

এর মধ্যেই গত ২৮ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল ইরানে আক্রমণ শুরু করার পর যুদ্ধ বন্ধের জন্য যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ও ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান সাম্প্রতি সমঝোতা স্মারকে স্বাক্ষর করেছেন। চূড়ান্ত শান্তিচুক্তির প্রস্তুতির অংশ হিসেবে দুই পক্ষ সুইজারল্যান্ডে ৬০ দিনের সময়সীমা নির্ধারণ করে আলোচনা করবে।

সমঝোতার একটি শর্ত হচ্ছে লেবাননসহ সব ফ্রন্টে যুদ্ধ বন্ধ করা। শুরুতে ইসরায়েল তা মানতে অনিচ্ছুক ছিল, কিন্তু শেষমেষ গত শুক্রবার ইসরায়েল ও লেবাননের হিজবুল্লাহ শান্তি বজায় রাখার সিদ্ধান্ত জানায়। তা সত্ত্বেও লেবাননে ইসরায়েলি বাহিনীর অভিযান চলেছে; কর্তৃপক্ষের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে একদিনে অন্তত ৪৭ জন নিহত হয়েছেন এবং শনিবার আরও অন্তত ১২ জনের প্রাণহানি হয়েছে।

বিশ্লেষকরা বলছেন, তেহরান ও ওয়াশিংটনের মধ্যে হওয়া এই সমঝোতাকে নেতানিয়াহু ও ইসরায়েলের কট্টর দিকগুলোর পক্ষ থেকে নস্যাৎ করার চেষ্টা হতে পারে। নেতানিয়াহু ও দেশের উগ্র ইহুদিবাদী কিছু নেতা লেবাননে হামলা চালিয়ে যাওয়ার দিকে ঝুঁকিপূর্ণ মনোভাব পোষণ করছেন বলে তাদের আশঙ্কা প্রকাশ করা হয়।