০৭:৩৫ অপরাহ্ন, শনিবার, ২০ জুন ২০২৬, ৬ আষাঢ় ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সর্বশেষঃ
মালয়েশিয়ায় ‘অপস কুতিপ’ অভিযানে ১১৮ বাংলাদেশি আটক ২২,৩৫২ প্রবাসীর এনআইডি আবেদন বাতিল ভিজিটর ভিসায় যুক্তরাষ্ট্রে কী করা যাবে: ঢাকাস্থ মার্কিন দূতাবাসের নির্দেশনা স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী: কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগ একটি ‘মাফিয়া পার্টি’ শিশু শিক্ষা ও স্বাস্থ্যে বিনিয়োগই জাতি গঠনের মূল: প্রধানমন্ত্রী জাতিসংঘে বাংলাদেশ: রোহিঙ্গাদের নিরাপদ প্রত্যাবাসনই একমাত্র টেকসই সমাধান বাজেট বিলে: প্রশ্ন ছাড়াই কালো টাকা সাদা করার সুযোগ তথ্যমন্ত্রী: গণমাধ্যম সংস্কারে সরকার কেবল ‘সহায়ক’ থাকলেও কার্যকর পার্টনার হবে রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসনে বিশ্ব সম্প্রদায়ের কার্যকর ভূমিকা দাবি করলেন পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী গণমাধ্যম সংস্কারে সরকার কেবল ‘সহায়ক’: তথ্যমন্ত্রী

দেশীয় অংশীদার ছাড়াই আইসিডি পরিচালনার সুযোগ পেল বিদেশি প্রতিষ্ঠান

সরকার দেশের লজিস্টিকস ও বন্দর খাতে সরাসরি বিদেশি বিনিয়োগ বাড়াতে ইনল্যান্ড কনটেইনার ডিপো (আইসিডি) ও অফ-ডক পরিচালনায় বিদেশি মালিকানার ওপর থাকা দীর্ঘদিনের বিধিনিষেধ তুলে নিয়েছে। প্রস্তাবিত ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেটে অ্যানোন্স করা এই সিদ্ধান্ত আগামী ১ জুলাই থেকে কার্যকর হবে। এর ফলে বিদেশি সংস্থাগুলো এখন থেকে দেশীয় কোনো অংশীদার ছাড়াই শতভাগ মালিকানায় আইসিডি স্থাপন ও পরিচালনা করতে পারবে।

এখন পর্যন্ত বাংলাদেশে বিদেশি অপারেটরদের জন্য লজিস্টিকস ব্যবসায় প্রবেশ করলে স্থানীয় অংশীদারের সঙ্গে যৌথ উদ্যোগ গঠন করা বাধ্যতামূলক ছিল এবং মালিকানার বড় অংশ স্থানীয়দের হতেই হত। নতুন নীতিতে ওই বাধা উঠে যাওয়ায় আন্তর্জাতিক লগিস্টিক্স কোম্পানিগুলো স্বাধীনভাবে বিনিয়োগ ও পরিচালনা করতে পারবে, যা বাজারে নতুন প্রতিযোগিতা ও কার্যকারিতা আনতে পারে।

বর্তমানে দেশে বেসরকারি খাতে ২৪টি আইসিডি কার্যক্রম চালাচ্ছে এবং অন্তত তিনটি বড় আইসিডি নির্মাণাধীন। ডিপি ওয়ার্ল্ড, মেডলগ, রেড সি গেটওয়ে টার্মিনাল, এপিএম টার্মিনালস ও পিএসএ সিঙ্গাপুরের মতো আন্তর্জাতিক নামগুলো ইতোমধ্যে বাংলাদেশে বিনিয়োগে আগ্রহ দেখিয়েছে। সরকার আশা করছে এই পরিবর্তনের ফলে এসব কোম্পানি বিনিয়োগ বাড়াবে এবং লজিস্টিক খাত আরও আধুনিক ও প্রতিযোগিতামূলক হবে।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, সরাসরি বিদেশি অংশগ্রহণ আধুনিক প্রযুক্তি, উন্নত ডিজিটাল ব্যবস্থা এবং বৈশ্বিক ব্যবস্থাপনা দক্ষতা আনবে। ফলে পণ্য খালাস সময় কমবে, কাস্টমস ও লজিস্টিক প্রসেসে স্বচ্ছতা বেড়ে যাবে এবং পণ্য পরিবহনের গতি বৃদ্ধি পাবে। পাশাপাশি স্থানীয় কর্মীদের জন্য প্রশিক্ষণ ও গুণগত কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরি হবে।

তবে শুধু মালিকানার সীমা ওঠালেই সব সমস্যা সমাধান হবে না—বিশেষজ্ঞদের মতে সফল বাস্তবায়নের জন্য আরো কিছু অনুকূল ব্যবস্থা নিতে হবে। প্রয়োজন উত্তম বিদ্যুৎ সরবরাহ, দক্ষ জনশক্তি গঠন, স্থিতিশীল শুল্ক ও ট্যারিফ নীতি এবং বন্দরের পরিচালনাগত দক্ষতা বৃদ্ধি। সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জের মধ্যে একটিকে ধরা হচ্ছে দীর্ঘদিনের ম্যানুয়াল পদ্ধতির বদলে পূর্ণাঙ্গ ডিজিটালাইজেশন নিশ্চিত করা।

এলডিসি থেকে উত্তরণকালীন বাংলাদেশের জন্য রপ্তানি সক্ষমতা বাড়ানো ও বাণিজ্য সাপোর্টিং অবকাঠামো গড়াটা সময়োপযোগী বিষয়। নীতিনির্ধারকদের মতে, যদি নীতিগত স্থিতিশীলতা বজায় রাখা যায় এবং বিনিয়োগবান্ধব পরিবেশ নিশ্চিত করা যায়, তাহলে এই সংস্কার দেশের লজিস্টিক খাতে দীর্ঘমেয়াদী সুফল বয়ে আনবে এবং আন্তর্জাতিক বাজারে বাংলাদেশের প্রতিযোগিতামূলক অবস্থান শক্তিশালী হবে।

সরকারি ঘোষণার বাস্তব প্রভাব নিয়েও সুযোগ-চ্যালেঞ্জ দুটোই আছে; সিদ্ধান্তটির সফল বাস্তবায়ন নির্ভর করবে বিনিয়োগ আকর্ষণ, অবকাঠামো উন্নয়ন ও প্রশাসনিক সংস্কারের সমন্বয়ে।

ট্যাগ :
সর্বাধিক পঠিত

দেশীয় অংশীদার ছাড়াই আইসিডি পরিচালনার সুযোগ পেল বিদেশি প্রতিষ্ঠান

প্রকাশিতঃ ০২:২৩:১৭ অপরাহ্ন, শনিবার, ২০ জুন ২০২৬

সরকার দেশের লজিস্টিকস ও বন্দর খাতে সরাসরি বিদেশি বিনিয়োগ বাড়াতে ইনল্যান্ড কনটেইনার ডিপো (আইসিডি) ও অফ-ডক পরিচালনায় বিদেশি মালিকানার ওপর থাকা দীর্ঘদিনের বিধিনিষেধ তুলে নিয়েছে। প্রস্তাবিত ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেটে অ্যানোন্স করা এই সিদ্ধান্ত আগামী ১ জুলাই থেকে কার্যকর হবে। এর ফলে বিদেশি সংস্থাগুলো এখন থেকে দেশীয় কোনো অংশীদার ছাড়াই শতভাগ মালিকানায় আইসিডি স্থাপন ও পরিচালনা করতে পারবে।

এখন পর্যন্ত বাংলাদেশে বিদেশি অপারেটরদের জন্য লজিস্টিকস ব্যবসায় প্রবেশ করলে স্থানীয় অংশীদারের সঙ্গে যৌথ উদ্যোগ গঠন করা বাধ্যতামূলক ছিল এবং মালিকানার বড় অংশ স্থানীয়দের হতেই হত। নতুন নীতিতে ওই বাধা উঠে যাওয়ায় আন্তর্জাতিক লগিস্টিক্স কোম্পানিগুলো স্বাধীনভাবে বিনিয়োগ ও পরিচালনা করতে পারবে, যা বাজারে নতুন প্রতিযোগিতা ও কার্যকারিতা আনতে পারে।

বর্তমানে দেশে বেসরকারি খাতে ২৪টি আইসিডি কার্যক্রম চালাচ্ছে এবং অন্তত তিনটি বড় আইসিডি নির্মাণাধীন। ডিপি ওয়ার্ল্ড, মেডলগ, রেড সি গেটওয়ে টার্মিনাল, এপিএম টার্মিনালস ও পিএসএ সিঙ্গাপুরের মতো আন্তর্জাতিক নামগুলো ইতোমধ্যে বাংলাদেশে বিনিয়োগে আগ্রহ দেখিয়েছে। সরকার আশা করছে এই পরিবর্তনের ফলে এসব কোম্পানি বিনিয়োগ বাড়াবে এবং লজিস্টিক খাত আরও আধুনিক ও প্রতিযোগিতামূলক হবে।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, সরাসরি বিদেশি অংশগ্রহণ আধুনিক প্রযুক্তি, উন্নত ডিজিটাল ব্যবস্থা এবং বৈশ্বিক ব্যবস্থাপনা দক্ষতা আনবে। ফলে পণ্য খালাস সময় কমবে, কাস্টমস ও লজিস্টিক প্রসেসে স্বচ্ছতা বেড়ে যাবে এবং পণ্য পরিবহনের গতি বৃদ্ধি পাবে। পাশাপাশি স্থানীয় কর্মীদের জন্য প্রশিক্ষণ ও গুণগত কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরি হবে।

তবে শুধু মালিকানার সীমা ওঠালেই সব সমস্যা সমাধান হবে না—বিশেষজ্ঞদের মতে সফল বাস্তবায়নের জন্য আরো কিছু অনুকূল ব্যবস্থা নিতে হবে। প্রয়োজন উত্তম বিদ্যুৎ সরবরাহ, দক্ষ জনশক্তি গঠন, স্থিতিশীল শুল্ক ও ট্যারিফ নীতি এবং বন্দরের পরিচালনাগত দক্ষতা বৃদ্ধি। সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জের মধ্যে একটিকে ধরা হচ্ছে দীর্ঘদিনের ম্যানুয়াল পদ্ধতির বদলে পূর্ণাঙ্গ ডিজিটালাইজেশন নিশ্চিত করা।

এলডিসি থেকে উত্তরণকালীন বাংলাদেশের জন্য রপ্তানি সক্ষমতা বাড়ানো ও বাণিজ্য সাপোর্টিং অবকাঠামো গড়াটা সময়োপযোগী বিষয়। নীতিনির্ধারকদের মতে, যদি নীতিগত স্থিতিশীলতা বজায় রাখা যায় এবং বিনিয়োগবান্ধব পরিবেশ নিশ্চিত করা যায়, তাহলে এই সংস্কার দেশের লজিস্টিক খাতে দীর্ঘমেয়াদী সুফল বয়ে আনবে এবং আন্তর্জাতিক বাজারে বাংলাদেশের প্রতিযোগিতামূলক অবস্থান শক্তিশালী হবে।

সরকারি ঘোষণার বাস্তব প্রভাব নিয়েও সুযোগ-চ্যালেঞ্জ দুটোই আছে; সিদ্ধান্তটির সফল বাস্তবায়ন নির্ভর করবে বিনিয়োগ আকর্ষণ, অবকাঠামো উন্নয়ন ও প্রশাসনিক সংস্কারের সমন্বয়ে।