১১:৪১ অপরাহ্ন, শনিবার, ২০ জুন ২০২৬, ৬ আষাঢ় ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সর্বশেষঃ
মালয়েশিয়ায় ‘অপস কুতিপ’ অভিযানে ১১৮ বাংলাদেশি আটক ২২,৩৫২ প্রবাসীর এনআইডি আবেদন বাতিল ভিজিটর ভিসায় যুক্তরাষ্ট্রে কী করা যাবে: ঢাকাস্থ মার্কিন দূতাবাসের নির্দেশনা স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী: কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগ একটি ‘মাফিয়া পার্টি’ শিশু শিক্ষা ও স্বাস্থ্যে বিনিয়োগই জাতি গঠনের মূল: প্রধানমন্ত্রী জাতিসংঘে বাংলাদেশ: রোহিঙ্গাদের নিরাপদ প্রত্যাবাসনই একমাত্র টেকসই সমাধান বাজেট বিলে: প্রশ্ন ছাড়াই কালো টাকা সাদা করার সুযোগ তথ্যমন্ত্রী: গণমাধ্যম সংস্কারে সরকার কেবল ‘সহায়ক’ থাকলেও কার্যকর পার্টনার হবে রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসনে বিশ্ব সম্প্রদায়ের কার্যকর ভূমিকা দাবি করলেন পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী গণমাধ্যম সংস্কারে সরকার কেবল ‘সহায়ক’: তথ্যমন্ত্রী

পতেঙ্গা টার্মিনালে ৪টি আধুনিক কিউ গ্যান্ট্রি ক্রেন যোগ, সক্ষমতা বাড়বে ৬ লাখ টিইইউএস

চট্টগ্রাম বন্দরের পতেঙ্গা কনটেইনার টার্মিনালে (পিসিটি) পণ্য ওঠানামার সক্ষমতা বাড়াতে চারটি অত্যাধুনিক কিউ গ্যান্ট্রি ক্রেন (কিউজিসি) যোগ করা হয়েছে। গতশুক্রবার সন্ধ্যায় বিশেষায়িত জাহাজ এমভি ল্যান হাই হং ইউন এসব বিশাল ক্রেন বহন করে পিসিটি জেটিতে পৌঁছায়।

পিসিটি পরিচালনাকারী আন্তর্জাতিক প্রতিষ্ঠান রেড সি গেটওয়ে টার্মিনাল (আরএসজিটি) চীনের সানি মেরিন হেভি ইন্ডাস্ট্রি থেকে প্রায় ৩ কোটি মার্কিন ডলারে এই আধুনিক সরঞ্জামগুলো সংগ্রহ করেছে। বন্দরে ক্রেন পৌঁছানোর সময় নিরাপত্তা নিশ্চিত করার উদ্দেশ্যে কর্ণফুলী নদীর ওই অংশে বাণিজ্যিক এবং মাছ ধরার নৌযান চলাচলে বিশেষ সতর্কতা জারি করা হয়।

চট্টগ্রাম বন্দরের সচিব (অতিরিক্ত দায়িত্ব) মো. নাসির উদ্দিন জানান, “জাহাজটি নিরাপদে জেটিতে ভেড়ানো হয়েছে। এ কাজে বন্দরের দুইজন পাইলট ও তিনটি টাগবোট দায়িত্ব পালন করেছে।” ক্রেনগুলো জাহাজ থেকে নামানোর সময়ও নিরাপত্তা বজায় রাখার জন্য সব ধরনের প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, কিউ গ্যান্ট্রি ক্রেন ব্যবহার করলে কনটেইনারবাহী জাহাজ থেকে দ্রুত ও নিরাপদে পণ্য খালাস করা সম্ভব হবে—বিশেষ করে যেসব জাহাজে নিজস্ব ক্রেন নেই, সেগুলোর পণ্য হ্যান্ডলিংয়ে এই প্রযুক্তিই বৈপ্লবিক ভূমিকা রাখবে। নতুন চারটি ক্রেন পুরোদমে চালু হলে পিসিটির বার্ষিক কনটেইনার হ্যান্ডলিং সক্ষমতা বর্তমান ২ লাখ ৫০ হাজার টিইইউএস থেকে সরাসরি ৬ লাখ টিইইউএসে উন্নীত হবে। এর ফলে বন্দরে জাহাজের গড় অবস্থানকাল বা অপেক্ষার সময় কমবে এবং লজিস্টিক পরিচালনার খরচও উল্লেখযোগ্যভাবে কমার আশা করা হচ্ছে।

আরএসজিটি জানিয়েছে, এই ক্রেনগুলি আনার চুক্তি ২০২৫ সালের ফেব্রæয়ারিতে স্বাক্ষরিত হয়েছিল এবং এক বছরের অধিক সময় পর এগুলো বন্দরে পৌঁছালো। এর আগে প্রতিষ্ঠানটি প্রায় ২ কোটি ৬০ লাখ মার্কিন ডলার বিনিয়োগ করে ১৪টি রাবার টায়ার্ড গ্যান্ট্রি (আরটিজি) ক্রেন সংগ্রহ করেছিল। চলতি বছরের প্রথম পাঁচ মাসে পিসিটি ইতোমধ্যেই ১ লাখ ৪৩ হাজার টিইইউএস কনটেইনার হ্যান্ডলিং করে তার সক্ষমতার প্রমাণ দিয়েছে।

পিসিটিতে এই নতুন যন্ত্রপাতি ও সম্প্রসারণ কাজ সম্পন্ন হলে চট্টগ্রাম বন্দরের সামগ্রিক কার্যক্ষমতা বাড়বে, পোর্টে জাহাজের অপেক্ষা কমবে এবং দেশের বাণিজ্যিক লজিস্টিকে আরও দ্রুত ও সাশ্রয়ের সঙ্গে পরিচালনা করার সুযোগ তৈরি হবে।

ট্যাগ :
সর্বাধিক পঠিত

পতেঙ্গা টার্মিনালে ৪টি আধুনিক কিউ গ্যান্ট্রি ক্রেন যোগ, সক্ষমতা বাড়বে ৬ লাখ টিইইউএস

প্রকাশিতঃ ০৭:২৪:১৮ অপরাহ্ন, শনিবার, ২০ জুন ২০২৬

চট্টগ্রাম বন্দরের পতেঙ্গা কনটেইনার টার্মিনালে (পিসিটি) পণ্য ওঠানামার সক্ষমতা বাড়াতে চারটি অত্যাধুনিক কিউ গ্যান্ট্রি ক্রেন (কিউজিসি) যোগ করা হয়েছে। গতশুক্রবার সন্ধ্যায় বিশেষায়িত জাহাজ এমভি ল্যান হাই হং ইউন এসব বিশাল ক্রেন বহন করে পিসিটি জেটিতে পৌঁছায়।

পিসিটি পরিচালনাকারী আন্তর্জাতিক প্রতিষ্ঠান রেড সি গেটওয়ে টার্মিনাল (আরএসজিটি) চীনের সানি মেরিন হেভি ইন্ডাস্ট্রি থেকে প্রায় ৩ কোটি মার্কিন ডলারে এই আধুনিক সরঞ্জামগুলো সংগ্রহ করেছে। বন্দরে ক্রেন পৌঁছানোর সময় নিরাপত্তা নিশ্চিত করার উদ্দেশ্যে কর্ণফুলী নদীর ওই অংশে বাণিজ্যিক এবং মাছ ধরার নৌযান চলাচলে বিশেষ সতর্কতা জারি করা হয়।

চট্টগ্রাম বন্দরের সচিব (অতিরিক্ত দায়িত্ব) মো. নাসির উদ্দিন জানান, “জাহাজটি নিরাপদে জেটিতে ভেড়ানো হয়েছে। এ কাজে বন্দরের দুইজন পাইলট ও তিনটি টাগবোট দায়িত্ব পালন করেছে।” ক্রেনগুলো জাহাজ থেকে নামানোর সময়ও নিরাপত্তা বজায় রাখার জন্য সব ধরনের প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, কিউ গ্যান্ট্রি ক্রেন ব্যবহার করলে কনটেইনারবাহী জাহাজ থেকে দ্রুত ও নিরাপদে পণ্য খালাস করা সম্ভব হবে—বিশেষ করে যেসব জাহাজে নিজস্ব ক্রেন নেই, সেগুলোর পণ্য হ্যান্ডলিংয়ে এই প্রযুক্তিই বৈপ্লবিক ভূমিকা রাখবে। নতুন চারটি ক্রেন পুরোদমে চালু হলে পিসিটির বার্ষিক কনটেইনার হ্যান্ডলিং সক্ষমতা বর্তমান ২ লাখ ৫০ হাজার টিইইউএস থেকে সরাসরি ৬ লাখ টিইইউএসে উন্নীত হবে। এর ফলে বন্দরে জাহাজের গড় অবস্থানকাল বা অপেক্ষার সময় কমবে এবং লজিস্টিক পরিচালনার খরচও উল্লেখযোগ্যভাবে কমার আশা করা হচ্ছে।

আরএসজিটি জানিয়েছে, এই ক্রেনগুলি আনার চুক্তি ২০২৫ সালের ফেব্রæয়ারিতে স্বাক্ষরিত হয়েছিল এবং এক বছরের অধিক সময় পর এগুলো বন্দরে পৌঁছালো। এর আগে প্রতিষ্ঠানটি প্রায় ২ কোটি ৬০ লাখ মার্কিন ডলার বিনিয়োগ করে ১৪টি রাবার টায়ার্ড গ্যান্ট্রি (আরটিজি) ক্রেন সংগ্রহ করেছিল। চলতি বছরের প্রথম পাঁচ মাসে পিসিটি ইতোমধ্যেই ১ লাখ ৪৩ হাজার টিইইউএস কনটেইনার হ্যান্ডলিং করে তার সক্ষমতার প্রমাণ দিয়েছে।

পিসিটিতে এই নতুন যন্ত্রপাতি ও সম্প্রসারণ কাজ সম্পন্ন হলে চট্টগ্রাম বন্দরের সামগ্রিক কার্যক্ষমতা বাড়বে, পোর্টে জাহাজের অপেক্ষা কমবে এবং দেশের বাণিজ্যিক লজিস্টিকে আরও দ্রুত ও সাশ্রয়ের সঙ্গে পরিচালনা করার সুযোগ তৈরি হবে।