ফুটবল বিশ্বকাপের দীর্ঘ ইতিহাসে এক স্মরণীয় মুহূর্ত হলো শুক্রবারের ম্যাচটি — জাপান ও তিউনিসিয়ার লড়াইটি ছিল টুর্নামেন্টের হাজারতম ম্যাচ। ১৯৩০ সালের উদ্বোধনী ম্যাচগুলো—ফ্রান্স বনাম মেক্সিকো ও যুক্তরাষ্ট্র বনাম বেলজিয়াম—দিয়ে শুরু হওয়া এই মহাযজ্ঞ আজ ৪৮ দল নিয়ে আরও বড় আকার নিয়েছে, আর সেই ধারাবাহিকতায় এই ম্যাচটি ইতিহাস পাতায় চিহ্ন রেখে গেল।
শুরু থেকেই তিউনিসিয়াকে ঘুরে দাঁড়ানোর সুযোগ দেননি জাপানের ‘নীল সামুরাইরা’। খেলার মাত্র ৪ মিনিটে দাইচি কামাদা এক দুর্দান্ত শট পাঠিয়ে দলকে দ্রুত এগিয়ে দেন। তীব্র আক্রমণে তিউনিসিয়ার ব্যাকলাইন ভেতরে বসে গেলে সে সুযোগ কাজে লাগানোই জাপানের লক্ষ্য ছিল।
আরও চাপ সামলাতে না পেরে ৩১তম মিনিটে জিতলেন আয়াসে উয়েদা। মাঝমাঠ থেকে বল নিয়ে ফরোয়ার্ড লাইন ভাঙতেই উয়েদা ঠান্ডা মাথায় গোল করে জাপানের ব্যবধান বাড়িয়ে দেন এবং প্রথমার্ধ শেষ হয় ২-০ ব্যবধানে জাপানের পক্ষে।
দ্বিতীয়ার্ধেও আক্রমণের ধরন বদলায়নি জাপানের। দলের নিয়ন্ত্রণ পুরোপুরি নিজেদের হাতে রেখে ধারাবাহিকভাবে সুযোগ তৈরি করলে ৬৯ মিনিটে জুনিয়া ইতো এক মনোপলি কৃতিত্বে জয় নিশ্চিত করার পথে একটি গোল যোগ করেন।
৮৩ মিনিটে আয়াসে উয়েদা নিজের দ্বিতীয় গোলটি করে ম্যাচটি স্থায়ীভাবে জাপানের নামে বন্ধ করে দেন এবং ফাইনাল স্কোর দাঁড়ায় ৪-০। তিউনিসিয়ার রক্ষণভাগ পুরোপুরি দলে ভাঙন ধরলে ম্যাচটা একতরফা চিত্রে পরিণত হয়।
বিশ্বকাপের হাজারতম ম্যাচে এমন স্পষ্ট বৈশিষ্ট্যপূর্ণ জয় জাপানি ফুটবলারদের কৌশলগত মেধা ও দলের সমন্বয়ের পরিচয় দিয়েছে। ধারাবাহিক আক্রমণ, দ্রুত পাসিং ও সংহত রক্ষণভাগের সমন্বয়ে তারা তিউনিসিয়া দূরবস্থায় রাখে এবং ম্যাচ শেষে বড় ব্যবধানে জয় উদযাপন করে। বিশ্বজুড়ে এই পারফরম্যান্সের প্রশংসা উঠেছে, আর জাপান এবার গ্রুপে শক্ত অবস্থানে থেকে পরবর্তী ম্যাচগুলোর দিকে তাকাবে।
শ্রীমঙ্গল২৪ ডেস্ক 

























