ওয়ানডে সিরিজ জয় দিয়ে আত্মবিশ্বাস নিয়ে মিরপুর থেকে চট্টগ্রামে আশা নিয়ে পৌঁছেছিল বাংলাদেশ। কিন্তু ভেন্যু ও ফরম্যাট বদলের সঙ্গে সঙ্গে বদলে গেলো টিমের খেলার ছন্দও। টাইগাররা প্রথম দুই ম্যাচ হেরে সিরিজ আগেই হাতছাড়া করলে আজ জহুর আহমেদ চৌধুরী স্টেডিয়ামে সিরিজের শেষ ম্যাচ ছিল কেবল মর্যাদা রক্ষার লড়াই। সেই লড়াইও জিতে উঠল না বাংলাদেশ — অস্ট্রেলিয়ার বিরুদ্ধে ৫৪ বলে ৭ উইকেট হাতে রেখে হেরে সিরিজ হোয়াইটওয়াশ ৩-০ হলো ফিল সিমন্সের শিষ্যদের।
টস জিতে প্রথমে ব্যাট করার সিদ্ধান্ত নিলে বাংলাদেশ। কিন্তু চট্টগ্রামের রানবর্ধক উইকেটে ব্যাটিংই করতে পারল না টাইগাররা। ডট বল আর দ্রুত উইকেট হারানোর তাণ্ডবে দল মাত্র ২০ ওভারে ৮ উইকেটে ১০৯ রানেই থেমে যায়। অধিনায়ক তাওহীদ হৃদয় ছিলেন একমাত্র মুখরোচকবার দলকে তোলার চেষ্টা, ৫১ বল খেলে অপরাজিত ৬১ রানে তার দায়িত্বশীল ইনিংস এলোমেলো ব্যাটিংর ধারা থেকে কিছুটা স্বস্তি দিল। দলের দ্বিতীয় সর্বোচ্চ স্কোর ছিল রিশাদ হোসেনের ১৬। হৃদয়ের চেষ্টা না থাকলে হয়তো আরও নিম্ন রেকর্ড হত — তার ইনিংসের কারণে ঘরের মাঠে টি-টোয়েন্টিতে সর্বনিম্ন দলীয় সংগ্রহের লজ্জা এড়াতে পারেনি পুরো দল, তবু কিছুটা মান-মর্যাদা রক্ষা পেল।
ইনিংসের শুরু থেকেই বাংলাদেশের পরিস্থিতি শীর্ষে ছিল নিয়ন্ত্রণহীন। দ্বিতীয় ওভারে তানজিদ হাসান তামিম দুর্ভাগ্যজনকভাবে রান আউট হয়ে মাত্র ১ রানে আউট হন। ওই ওভারের পঞ্চম বলে স্পেনসার জনসনের শর্ট পয়েন্টে নেওয়া ক্যাচে ফিরে যান আরেক ওপেনার সাইফ হাসান (৯ বলে ১)। পাওয়ার প্লে-য় ডট বলের মহড়ার শিকার হন পারভেজ হোসেন ইমনও — ১৩ বলে মাত্র ১ রান করে নাথান এলিসের শিকার হন, যা টি-টোয়েন্টিতে খেলাশৈলীর প্রশ্নও তুলল। পঞ্চম ওভারের পর স্কোরবোর্ডে মাত্র ১১ রানে ৩ উইকেট দিয়ে বাংলাদেশ কার্যত ম্যাচ থেকে ছিটকে পড়ে।
মিডল অর্ডারে নুরুল হাসান সোহান ৮ বলে ৬ করে আউট হলেও হৃদয় ও রিশাদের সঙ্গী হিসেবে কিছুটা প্রতিরোধ গড়েন। রিশাদ ১৪ বলে ১৬ করে ফিরে গেলে হৃদয় শরিফুল ও তাসকিনের সাথে যোগ দিয়ে আরও ৪৪ রান যোগ করেন। অস্ট্রেলিয়ার বোলিং লাইনআপে স্পেনসার জনসন ইয়ং গোল্ডের মতো সাড়ে উপস্থিতি দেখান — ৪ ওভার বল করে মাত্র ৬ রান খরচে ২ উইকেট নেন তিনি। এছাড়া নাথান এলিস ও অ্যাডাম জাম্পা দুটি করে উইকেট নেন এবং নিখিল চৌধুরী এক উইকেট লাভ করেন।
১১০ রানের লক্ষ্যমাত্রা তাড়া করতে নেমে অস্ট্রেলিয়া ঝড়ো শুরু করে। প্রথম ওভারে শরিফুল ইসলামের ওপর আক্রমণ চালিয়ে ৪ চারও নেন তারা এবং মিচেল মার্শ একাই বাংলাদেশের বোলিংয়ের ওপর আধিপত্য তৈরি করে দেন। মার্শ মাত্র ২৮ বল খেলে ৬০ রানের এক বিধ্বংসী ইনিংস খেলেন, যা ম্যাচের ঝটিকা সিদ্ধান্তের কেন্দ্রীয় কারণ ছিল। তার দ্রুততম আক্রমণে অস্ট্রেলিয়া মাত্র ১১ ওভারের মধ্যে ৩ উইকেট হারিয়ে জয়ের বন্দরে পৌঁছে যায়।
বাংলাদেশের পক্ষে শরিফুল ইসলাম, নাসুম আহমেদ ও রিশাদ হোসেন প্রতিটি ১টি করে উইকেট নিলেও তা পরাজয়ের ব্যবধান কমানো ছাড়া ফলপ্রসূ হয় না। সিরিজে ব্যাটিং সংকটই টানা প্রত্যেক ম্যাচে দেশের ভাগ্য নির্ধারণ করেছে — আক্রমণাত্মক ব্যাটিং না থাকায় ছোট লক্ষ্যমাত্রাও আটকানো যায়নি। সিরিজ হোয়াইটওয়াশ হওয়া বাংলাদেশের জন্য বড় ধাক্কা; ভবিষ্যতের জন্য টিমকে ব্যাটিং depth ও ধারাবাহিকতা নিয়ে ভাবতে হবে।
শ্রীমঙ্গল২৪ ডেস্ক 

























