০৮:৩৪ অপরাহ্ন, বুধবার, ২৪ জুন ২০২৬, ১০ আষাঢ় ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সর্বশেষঃ
নবম পে-স্কেল চূড়ান্ত: বেতন বৈষম্য কমাতে দুই ধাপে বাস্তবায়নই পথে ব্যাংক খাত সংস্কারে ৪৫০ মিলিয়ন মার্কিন ডলার দেবে বিশ্বব্যাংক ক্ষুদ্র জাতি ও সংখ্যালঘুদের অধিকার রক্ষায় সরকার সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দেবে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বেইজিং পৌঁছালেন অর্থনীতির সংকট গভীর, স্থিতিশীল করতে লাগবে অন্তত দুই বছর: অর্থমন্ত্রী দালিয়ানে WEF প্ল্যানারি সেশনে যোগ দিলেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান সাড়ে চার মাস পর হরমুজ পার হলো পতাকাবাহী জাহাজ ‘বাংলার জয়যাত্রা’ ঢাকা ওয়াসার ২০২৪-২৫ বার্ষিক প্রতিবেদন হস্তান্তর প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে নিষিদ্ধ আ.লীগকে ঘিরে ঢাকাসহ গুরুত্বপূর্ণ এলাকায় নিরাপত্তা জোরদার চার মাস পর হরমুজ পেরিয়ে এগোচ্ছে জাহাজ ‘বাংলার জয়যাত্রা’

যুক্তরাষ্ট্রের নতুন ভিসা নীতি: বিদেশি শিক্ষার্থীদের জন্য কী বদল আসছে

মার্কিন সরকারের নতুন সিদ্ধান্তে আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীদের ভিসা ও বৈধ থাকার নিয়মে বড় পরিবর্তন জরুরি হয়ে পড়েছে। হোয়াইট হাউস সম্প্রতি ডিপার্টমেন্ট অফ হোমল্যান্ড সিকিউরিটি (ডিএইচএস) প্রস্তাবিত একটি বিধিমালা অনুমোদন করেছে, যার ফলে দীর্ঘদিন থেকে চলমান ‘ডিউরেশন অফ স্ট্যাটাস’ বা অনির্দিষ্ট মেয়াদি অবস্থানের ব্যবস্থা বাতিল করা হয়েছে। এর ফলে শিক্ষার্থী, এক্সচেঞ্জ ভিজিটর এবং বিদেশি গণমাধ্যম প্রতিনিধিদের অনাস্থিত অবস্থানের পরিবর্তে নির্দিষ্ট সময়সীমা মেনে চলতে হবে।

নতুন নিয়ম অনুযায়ী, কোনো শিক্ষার্থী আর অনির্দিষ্টকালের জন্য যুক্তরাষ্ট্রে অবস্থান করতে পারবে না; সর্বোচ্চ ভিসার মেয়াদ রাখা হয়েছে চার বছর। যদি কোনো শিক্ষাক্রম চার বছরের চেয়ে বেশিঃ, যেমন গবেষণাভিত্তিক স্নাতকোত্তর বা পিএইচডি—তবে শিক্ষার্থীকে অতিরিক্ত সময়ের প্রয়োজন হলে অভিবাসন কর্তৃপক্ষের কাছে পুনরায় আবেদন করতে হবে এবং অনুমতি নিতে হবে। ভিসার মেয়াদ শেষ হয়ে নবায়ন না হলে শিক্ষার্থীকে দেশে ফিরে যেতে হবে। এছাড়া, আগে যেখানে পড়ালেখা শেষ করার পর ৬০ দিনের গ্রেস পিরিয়ড দেওয়া হতো, নতুন নিয়মে তা কমে ৩০ দিন হয়েছে।

শিক্ষার্থীদের ক্ষেত্রে আরও কিছু কড়াকড়ি আনা হয়েছে। পড়াশোনার সময় কোনো প্রোগ্রাম বা বিষয় সহজে পরিবর্তন করা যাবে না; একটি নির্দিষ্ট স্তর (যেমন স্নাতক) সফলভাবে শেষ করার পর কেবল উচ্চতর স্তরে ভর্তির অনুমতি থাকবে। একই স্তরেই বা নীচুতে বিষয় বদলের সুবিধা আর রাখা হয়নি। এতদিন আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীরা যতদিন তাদের ভিসা নিয়ম মেনে চলেন ততদিন দেশটিতে থাকতে পারতেন; নতুন নিয়মে নির্দিষ্ট মেয়াদ শেষে বাধ্যতামূলক নবায়ন প্রক্রিয়া চালু হওয়ায় অনেকের মধ্যে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে।

এই পরিবর্তনগুলোকে কেন্দ্র করে যুক্তরাষ্ট্রের নানা কলেজ, বিশ্ববিদ্যালয় ও মেডিকেল সংগঠন উদ্বেগ প্রকাশ করেছে। তারা বলছে, নতুন নিয়ম প্রশাসনিক জটিলতা বাড়াবে এবং শিক্ষার্থীদের ডিগ্রি সম্পন্নে সময় ও খরচ দুই দিক থেকেই বড় বাধা সৃষ্টি করতে পারে। বিশেষভাবে গবেষণাভিত্তিক বা দীর্ঘ মেয়াদের প্রোগ্রামে থাকা শিক্ষার্থীরা নবায়ন ও সময়সীমার কারণে মারাত্মকভাবে প্রভাবিত হতে পারেন—এ বৈধ উদ্বেগ বলে তারা মনে করেন।

বিশেষজ্ঞরা ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলো প্রাথমিকভাবে শিক্ষার্থী ও পরিবারের জন্য প্রয়োজনীয় নির্দেশনা জারি করার পরামর্শ দিচ্ছেন। আন্তর্জাতিক ছাত্র হলে বা বিশ্ববিদ্যালয়ের ইন্টারন্যাশনাল অফিসের সঙ্গে যোগাযোগ করে ভিসা মেয়াদ, নবায়ন প্রক্রিয়া ও প্রয়োজনীয় কাগজপত্র সম্পর্কে আগে থেকেই প্রস্তুতি নেওয়া বুদ্ধিমানের কাজ হবে। প্রয়োজনে অভিবাসন আইনজীবীর পরামর্শ নেওয়া যেতে পারে।

বিস্তারিত বাস্তবায়ন বিধি, রিভিউ শর্ত এবং সময়সীমা সম্পর্কে সরকারি নির্দেশনা প্রকাশিত হওয়ার পরে কায়দা অনুযায়ী আরও পরিষ্কার চিত্র পাওয়া যাবে। ততদিন শিক্ষার্থী ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোকে তাদের আগামী একাডেমিক পরিকল্পনা ও ভিসা ঝুঁকি মাথায় রেখে দ্রুত প্রস্তুতি নিতে বলা হচ্ছে।

ট্যাগ :
সর্বাধিক পঠিত

নবম পে-স্কেল চূড়ান্ত: বেতন বৈষম্য কমাতে দুই ধাপে বাস্তবায়নই পথে

যুক্তরাষ্ট্রের নতুন ভিসা নীতি: বিদেশি শিক্ষার্থীদের জন্য কী বদল আসছে

প্রকাশিতঃ ০২:২৪:২৬ অপরাহ্ন, বুধবার, ২৪ জুন ২০২৬

মার্কিন সরকারের নতুন সিদ্ধান্তে আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীদের ভিসা ও বৈধ থাকার নিয়মে বড় পরিবর্তন জরুরি হয়ে পড়েছে। হোয়াইট হাউস সম্প্রতি ডিপার্টমেন্ট অফ হোমল্যান্ড সিকিউরিটি (ডিএইচএস) প্রস্তাবিত একটি বিধিমালা অনুমোদন করেছে, যার ফলে দীর্ঘদিন থেকে চলমান ‘ডিউরেশন অফ স্ট্যাটাস’ বা অনির্দিষ্ট মেয়াদি অবস্থানের ব্যবস্থা বাতিল করা হয়েছে। এর ফলে শিক্ষার্থী, এক্সচেঞ্জ ভিজিটর এবং বিদেশি গণমাধ্যম প্রতিনিধিদের অনাস্থিত অবস্থানের পরিবর্তে নির্দিষ্ট সময়সীমা মেনে চলতে হবে।

নতুন নিয়ম অনুযায়ী, কোনো শিক্ষার্থী আর অনির্দিষ্টকালের জন্য যুক্তরাষ্ট্রে অবস্থান করতে পারবে না; সর্বোচ্চ ভিসার মেয়াদ রাখা হয়েছে চার বছর। যদি কোনো শিক্ষাক্রম চার বছরের চেয়ে বেশিঃ, যেমন গবেষণাভিত্তিক স্নাতকোত্তর বা পিএইচডি—তবে শিক্ষার্থীকে অতিরিক্ত সময়ের প্রয়োজন হলে অভিবাসন কর্তৃপক্ষের কাছে পুনরায় আবেদন করতে হবে এবং অনুমতি নিতে হবে। ভিসার মেয়াদ শেষ হয়ে নবায়ন না হলে শিক্ষার্থীকে দেশে ফিরে যেতে হবে। এছাড়া, আগে যেখানে পড়ালেখা শেষ করার পর ৬০ দিনের গ্রেস পিরিয়ড দেওয়া হতো, নতুন নিয়মে তা কমে ৩০ দিন হয়েছে।

শিক্ষার্থীদের ক্ষেত্রে আরও কিছু কড়াকড়ি আনা হয়েছে। পড়াশোনার সময় কোনো প্রোগ্রাম বা বিষয় সহজে পরিবর্তন করা যাবে না; একটি নির্দিষ্ট স্তর (যেমন স্নাতক) সফলভাবে শেষ করার পর কেবল উচ্চতর স্তরে ভর্তির অনুমতি থাকবে। একই স্তরেই বা নীচুতে বিষয় বদলের সুবিধা আর রাখা হয়নি। এতদিন আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীরা যতদিন তাদের ভিসা নিয়ম মেনে চলেন ততদিন দেশটিতে থাকতে পারতেন; নতুন নিয়মে নির্দিষ্ট মেয়াদ শেষে বাধ্যতামূলক নবায়ন প্রক্রিয়া চালু হওয়ায় অনেকের মধ্যে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে।

এই পরিবর্তনগুলোকে কেন্দ্র করে যুক্তরাষ্ট্রের নানা কলেজ, বিশ্ববিদ্যালয় ও মেডিকেল সংগঠন উদ্বেগ প্রকাশ করেছে। তারা বলছে, নতুন নিয়ম প্রশাসনিক জটিলতা বাড়াবে এবং শিক্ষার্থীদের ডিগ্রি সম্পন্নে সময় ও খরচ দুই দিক থেকেই বড় বাধা সৃষ্টি করতে পারে। বিশেষভাবে গবেষণাভিত্তিক বা দীর্ঘ মেয়াদের প্রোগ্রামে থাকা শিক্ষার্থীরা নবায়ন ও সময়সীমার কারণে মারাত্মকভাবে প্রভাবিত হতে পারেন—এ বৈধ উদ্বেগ বলে তারা মনে করেন।

বিশেষজ্ঞরা ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলো প্রাথমিকভাবে শিক্ষার্থী ও পরিবারের জন্য প্রয়োজনীয় নির্দেশনা জারি করার পরামর্শ দিচ্ছেন। আন্তর্জাতিক ছাত্র হলে বা বিশ্ববিদ্যালয়ের ইন্টারন্যাশনাল অফিসের সঙ্গে যোগাযোগ করে ভিসা মেয়াদ, নবায়ন প্রক্রিয়া ও প্রয়োজনীয় কাগজপত্র সম্পর্কে আগে থেকেই প্রস্তুতি নেওয়া বুদ্ধিমানের কাজ হবে। প্রয়োজনে অভিবাসন আইনজীবীর পরামর্শ নেওয়া যেতে পারে।

বিস্তারিত বাস্তবায়ন বিধি, রিভিউ শর্ত এবং সময়সীমা সম্পর্কে সরকারি নির্দেশনা প্রকাশিত হওয়ার পরে কায়দা অনুযায়ী আরও পরিষ্কার চিত্র পাওয়া যাবে। ততদিন শিক্ষার্থী ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোকে তাদের আগামী একাডেমিক পরিকল্পনা ও ভিসা ঝুঁকি মাথায় রেখে দ্রুত প্রস্তুতি নিতে বলা হচ্ছে।