০৯:৪২ অপরাহ্ন, বুধবার, ২৪ জুন ২০২৬, ১০ আষাঢ় ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সর্বশেষঃ
নবম পে-স্কেল চূড়ান্ত: বেতন বৈষম্য কমাতে দুই ধাপে বাস্তবায়নই পথে ব্যাংক খাত সংস্কারে ৪৫০ মিলিয়ন মার্কিন ডলার দেবে বিশ্বব্যাংক ক্ষুদ্র জাতি ও সংখ্যালঘুদের অধিকার রক্ষায় সরকার সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দেবে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বেইজিং পৌঁছালেন অর্থনীতির সংকট গভীর, স্থিতিশীল করতে লাগবে অন্তত দুই বছর: অর্থমন্ত্রী দালিয়ানে WEF প্ল্যানারি সেশনে যোগ দিলেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান সাড়ে চার মাস পর হরমুজ পার হলো পতাকাবাহী জাহাজ ‘বাংলার জয়যাত্রা’ ঢাকা ওয়াসার ২০২৪-২৫ বার্ষিক প্রতিবেদন হস্তান্তর প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে নিষিদ্ধ আ.লীগকে ঘিরে ঢাকাসহ গুরুত্বপূর্ণ এলাকায় নিরাপত্তা জোরদার চার মাস পর হরমুজ পেরিয়ে এগোচ্ছে জাহাজ ‘বাংলার জয়যাত্রা’

নবম পে-স্কেল চূড়ান্ত: বেতন বৈষম্য কমাতে দুই ধাপে বাস্তবায়নই পথে

সরকার পে-স্কেল বাস্তবায়নের দিকে আরেক ধাপ এগিয়েছে। জনপ্রশাসন সংক্রান্ত পে কমিশনের সুপারিশ পর্যালোচনা করে নবম পে-স্কেলের নীতিগত সিদ্ধান্ত চূড়ান্ত করা হয়েছে। এ বিষয়ে কারিগরি, আর্থিক ও আইনি প্রস্তুতি সুরক্ষার লক্ষ্যে পুনর্গঠিত সচিব কমিটি মঙ্গলবার (২৪ জুন) সচিবালয়ে মন্ত্রিপরিষদ সচিব নাসিমুল গনির সভাপতিত্বে গুরুত্বপূর্ণ বৈঠক করেছে।

বৈঠকে মূল্যস্ফীতির চাপ মোকাবিলা, নিম্ন আয়ের কর্মচারীদের যে অতিরিক্ত সহায়তা প্রয়োজন এবং দীর্ঘদিন ধরে বোঝা বেতন বৈষম্য কমানো—এসব বিষয়কে বিশেষ গুরুত্ব দিয়ে আলোচনা করা হয়েছে।

আলোচ্য সিদ্ধান্ত অনুযায়ী সরকারি কর্মচারীদের জন্য নতুন পে-স্কেল কার্যকর করার লক্ষ্য রাখা হয়েছে আগামী ১ জুলাই থেকে। তবে বাস্তবে বেতন বাড়তি সুবিধা কর্মকর্তাদের হাতে পৌঁছতে কিছু আইনি ও প্রযুক্তিগত প্রক্রিয়া সম্পন্ন করা প্রয়োজন হবে।

প্রাথমিক পরিকল্পনায় যতক্ষণ তিন ধাপে বাস্তবায়ন ধরা হয়েছিল, ততক্ষণে কর্মীদের দাবির প্রেক্ষিতে সরকার এই পজিশন পুনর্বিবেচনা করে দ্রুত কার্যকারিতার লক্ষ্যে দুই ধাপে বাস্তবায়নের প্রস্তাব গুরুত্ব পাওয়ার কথা বৈঠকে উল্লেখ করা হয়।

নিম্ন গ্রেডের কর্মচারীদের আর্থিক সাহায্যকে অগ্রাধিকার দিয়ে প্রথম ধাপে অনুপাতিকভাবে বেশি বাড়তি বেতন দেওয়ার বিষয়টি গুরুত্ব পেয়েছে। প্রাথমিক প্রস্তাব অনুযায়ী প্রথম ধাপে ১ম থেকে ৯ম গ্রেডের কর্মকর্তাদের ক্ষেত্রে মোট প্রস্তাবিত বেতন বৃদ্ধির প্রায় ৪০ শতাংশ কার্যকর করার চিন্তা রয়েছে। অন্যদিকে ১০ম থেকে ২০তম গ্রেডভুক্ত কর্মচারীদের ক্ষেত্রে প্রথম ধাপে প্রস্তাবিত বাড়তির প্রায় ৬০ শতাংশ প্রদান করার বিষয়ে ইতিবাচক মত পাওয়া গেছে।

বৈঠকে গ্রেডভিত্তিক বর্তমান বৈষম্য বিশেষভাবে আলোকপাত করা হয়—বিশেষ করে ১১তম থেকে ২০তম গ্রেডের কর্মচারীদের মধ্যে বিদ্যমান ব্যবধান দ্রুত কমানোর আহ্বান এসেছে। সংশ্লিষ্টদের মত অনুযায়ী নতুন পে-স্কেলে নিম্ন গ্রেডের কর্মচারীদের আর্থিক অবস্থার উন্নয়নকে অগ্রাধিকার দেওয়া হবে।

শুধু মূল বেতন নয়, বাড়িভাড়া ভাতা, চিকিৎসা ভাতা ও অন্যান্য ভাতা ও সুবিধা বৃদ্ধির বিষয়েও বিস্তারিত আলোচনা হয়েছে। বর্তমান অর্থনৈতিক বাস্তবতা বিবেচনায় পে-কমিশনের সম্পূর্ণ সুপারিশ কতটুকু বাস্তবায়ন করা সম্ভব—তা নিয়েও আর্থিক দিক দিয়ে খুঁটিনাটি পর্যালোচনা করা হয়েছে।

আইনি ও প্রযুক্তিগত প্রস্তুতিও বৈঠকের এজেন্ডায় ছিল। বিধিমালা সংশোধন, আইনি ভেটিং সম্পন্ন করা এবং বেতন নির্ধারণ ও হিসাব-নিকাশ দ্রুত করার জন্য ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মগুলো আপডেট করার পরিকল্পনা উপস্থাপন করা হয়েছে।

বৈঠক পরবর্তী মন্তব্যে মন্ত্রিপরিষদ সচিব নাসিমুল গনি জানান, সিদ্ধান্ত গ্রহণে সুফল এসেছে এবং ১ জুলাই থেকে পে-স্কেল আনুষ্ঠানিকভাবে কার্যকর হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। তবে প্রয়োজনীয় আইনি ও প্রযুক্তিগত প্রক্রিয়া সম্পন্ন করে কর্মচারীদের হাতে বর্ধিত বেতন পৌঁছানো পর্যন্ত প্রায় দুই থেকে তিন মাস সময় লাগতে পারে বলে তিনি সতর্ক করেন।

ট্যাগ :
সর্বাধিক পঠিত

নবম পে-স্কেল চূড়ান্ত: বেতন বৈষম্য কমাতে দুই ধাপে বাস্তবায়নই পথে

নবম পে-স্কেল চূড়ান্ত: বেতন বৈষম্য কমাতে দুই ধাপে বাস্তবায়নই পথে

প্রকাশিতঃ ০৭:২৭:১৪ অপরাহ্ন, বুধবার, ২৪ জুন ২০২৬

সরকার পে-স্কেল বাস্তবায়নের দিকে আরেক ধাপ এগিয়েছে। জনপ্রশাসন সংক্রান্ত পে কমিশনের সুপারিশ পর্যালোচনা করে নবম পে-স্কেলের নীতিগত সিদ্ধান্ত চূড়ান্ত করা হয়েছে। এ বিষয়ে কারিগরি, আর্থিক ও আইনি প্রস্তুতি সুরক্ষার লক্ষ্যে পুনর্গঠিত সচিব কমিটি মঙ্গলবার (২৪ জুন) সচিবালয়ে মন্ত্রিপরিষদ সচিব নাসিমুল গনির সভাপতিত্বে গুরুত্বপূর্ণ বৈঠক করেছে।

বৈঠকে মূল্যস্ফীতির চাপ মোকাবিলা, নিম্ন আয়ের কর্মচারীদের যে অতিরিক্ত সহায়তা প্রয়োজন এবং দীর্ঘদিন ধরে বোঝা বেতন বৈষম্য কমানো—এসব বিষয়কে বিশেষ গুরুত্ব দিয়ে আলোচনা করা হয়েছে।

আলোচ্য সিদ্ধান্ত অনুযায়ী সরকারি কর্মচারীদের জন্য নতুন পে-স্কেল কার্যকর করার লক্ষ্য রাখা হয়েছে আগামী ১ জুলাই থেকে। তবে বাস্তবে বেতন বাড়তি সুবিধা কর্মকর্তাদের হাতে পৌঁছতে কিছু আইনি ও প্রযুক্তিগত প্রক্রিয়া সম্পন্ন করা প্রয়োজন হবে।

প্রাথমিক পরিকল্পনায় যতক্ষণ তিন ধাপে বাস্তবায়ন ধরা হয়েছিল, ততক্ষণে কর্মীদের দাবির প্রেক্ষিতে সরকার এই পজিশন পুনর্বিবেচনা করে দ্রুত কার্যকারিতার লক্ষ্যে দুই ধাপে বাস্তবায়নের প্রস্তাব গুরুত্ব পাওয়ার কথা বৈঠকে উল্লেখ করা হয়।

নিম্ন গ্রেডের কর্মচারীদের আর্থিক সাহায্যকে অগ্রাধিকার দিয়ে প্রথম ধাপে অনুপাতিকভাবে বেশি বাড়তি বেতন দেওয়ার বিষয়টি গুরুত্ব পেয়েছে। প্রাথমিক প্রস্তাব অনুযায়ী প্রথম ধাপে ১ম থেকে ৯ম গ্রেডের কর্মকর্তাদের ক্ষেত্রে মোট প্রস্তাবিত বেতন বৃদ্ধির প্রায় ৪০ শতাংশ কার্যকর করার চিন্তা রয়েছে। অন্যদিকে ১০ম থেকে ২০তম গ্রেডভুক্ত কর্মচারীদের ক্ষেত্রে প্রথম ধাপে প্রস্তাবিত বাড়তির প্রায় ৬০ শতাংশ প্রদান করার বিষয়ে ইতিবাচক মত পাওয়া গেছে।

বৈঠকে গ্রেডভিত্তিক বর্তমান বৈষম্য বিশেষভাবে আলোকপাত করা হয়—বিশেষ করে ১১তম থেকে ২০তম গ্রেডের কর্মচারীদের মধ্যে বিদ্যমান ব্যবধান দ্রুত কমানোর আহ্বান এসেছে। সংশ্লিষ্টদের মত অনুযায়ী নতুন পে-স্কেলে নিম্ন গ্রেডের কর্মচারীদের আর্থিক অবস্থার উন্নয়নকে অগ্রাধিকার দেওয়া হবে।

শুধু মূল বেতন নয়, বাড়িভাড়া ভাতা, চিকিৎসা ভাতা ও অন্যান্য ভাতা ও সুবিধা বৃদ্ধির বিষয়েও বিস্তারিত আলোচনা হয়েছে। বর্তমান অর্থনৈতিক বাস্তবতা বিবেচনায় পে-কমিশনের সম্পূর্ণ সুপারিশ কতটুকু বাস্তবায়ন করা সম্ভব—তা নিয়েও আর্থিক দিক দিয়ে খুঁটিনাটি পর্যালোচনা করা হয়েছে।

আইনি ও প্রযুক্তিগত প্রস্তুতিও বৈঠকের এজেন্ডায় ছিল। বিধিমালা সংশোধন, আইনি ভেটিং সম্পন্ন করা এবং বেতন নির্ধারণ ও হিসাব-নিকাশ দ্রুত করার জন্য ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মগুলো আপডেট করার পরিকল্পনা উপস্থাপন করা হয়েছে।

বৈঠক পরবর্তী মন্তব্যে মন্ত্রিপরিষদ সচিব নাসিমুল গনি জানান, সিদ্ধান্ত গ্রহণে সুফল এসেছে এবং ১ জুলাই থেকে পে-স্কেল আনুষ্ঠানিকভাবে কার্যকর হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। তবে প্রয়োজনীয় আইনি ও প্রযুক্তিগত প্রক্রিয়া সম্পন্ন করে কর্মচারীদের হাতে বর্ধিত বেতন পৌঁছানো পর্যন্ত প্রায় দুই থেকে তিন মাস সময় লাগতে পারে বলে তিনি সতর্ক করেন।