০৭:৩২ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ৩০ জুন ২০২৬, ১৬ আষাঢ় ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সর্বশেষঃ
মুস্তাফা মনোয়ার ছিলেন অনন্য বহুমুখী শিল্পী: তথ্যমন্ত্রী নাম বদল বা তৃণমূল—কোনওভাবেই কার্যক্রম চালাতে পারবে না আওয়ামী লীগ: তথ্য উপদেষ্টা সংসদে ‘জুয়া প্রতিরোধ আইন, ২০২৬’ পাস — অনলাইন বেটিংয়ে সর্বোচ্চ ৫ কোটি জরিমানা, ১০ বছর কারাদণ্ড ইসি স্থানীয় সরকার নির্বাচনের প্রাথমিক প্রস্তুতি শুরু করেছে: মির্জা ফখরুল জলাবদ্ধতা নিরসনে ঢাকায় সমন্বিত উদ্যোগ—১০৮ হটস্পট চিহ্নিত খামেনির শেষকৃত্যে যোগ দিতে তেহরান যাচ্ছেন স্পিকার হাফিজ উদ্দিন করমুক্ত আয়সীমা বাড়ল; ব্যাংক অ্যাকাউন্ট খুলতে আর লাগবে না টিআইএন এনবিআরের নবনিযুক্ত চেয়ারম্যান আহসান হাবিব বরেণ্য চিত্রশিল্পী ও পুতুলনাট্যের পথপ্রদর্শক মুস্তাফা মনোয়ার আর নেই পানি নিরাপত্তার জন্য যে কোনো মূল্যে তিস্তা ব্যারাজ মাস্টারপ্ল্যান বাস্তবায়ন হবে: প্রধানমন্ত্রী

চিপ ও এআইতে আধিপত্যের জন্য লি জে মিয়ংয়ের ৫৭৬ বিলিয়ন ডলারের মহাপরিকল্পনা

দক্ষিণ কোরিয়া তাদের সেমিকন্ডাক্টর (চিপ) ও কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) প্রযুক্তিতে বৈশ্বিক নেতৃত্ব আরও দৃঢ় করতে বিশাল বিনিয়োগের পরিকল্পনা ঘোষণা করেছে। প্রেসিডেন্ট লি জে মিয়ং সম্প্রতি টেলিভিশনে এই ঐতিহাসিক ৫৭৬ বিলিয়ন ডলারের প্রকল্পের ঘোষণা দেন, যার মূল চালিকাশক্তি হবে দেশটির শীর্ষ টেক জায়ান্ট—স্যামসাং ইলেকট্রনিকস ও এসকে হাইনিক্স। বার্তাসংস্থা রয়টার্স জানায়, সিউলের বাইরের অঞ্চলের অর্থনৈতিক বৈষম্য কমানো এবং বৈশ্বিক এআই বাজারে দ্রুত নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠাই এই পরিকল্পনার প্রধান উদ্দেশ্য।

লি জে মিয়ং এই উদ্যোগকে দক্ষিণ কোরিয়ার প্রযুক্তিনির্ভর অর্থনীতির ‘‘মহা-উত্থান’’ বলে অভিহিত করেছেন। তিনি বলেন, “অন্য যেকোনো দেশের চেয়ে দ্রুত আমাদের কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার মূল উপাদানগুলোর নিয়ন্ত্রণ নিশ্চিত করতে হবে।” পরিকল্পনাটি তিনটি প্রধান স্তম্ভে গড়ে উঠবে—সেমিকন্ডাক্টর উৎপাদন, ফিজিক্যাল এআই এবং শক্তিশালী ডেটা সেন্টার নির্মাণ।

সরকারি তথ্য অনুযায়ী, দক্ষিণ-পশ্চিম অঞ্চলে দুটি নতুন চিপ উৎপাদন কারখানা স্থাপনে স্যামসাং ও এসকে হাইনিক্স তাদের সহযোগী প্রতিষ্ঠানসহ মোট ৫১৮ বিলিয়ন ডলার বিনিয়োগ করবে। পাশাপাশি চিপ প্যাকেজিং ক্লাস্টার ও অন্যান্য অবকাঠামোতে কয়েক ট্রিলিয়ন ওন ব্যয়ের পরিকল্পনা রয়েছে। সরকার আগামী পাঁচ বছরের মধ্যে ডায়নামিক র‍্যান্ডম-অ্যাকসেস মেমোরি (ডিআরএএম) উৎপাদন দ্বিগুণ করার উচ্চাকাঙ্ক্ষা প্রকাশ করেছে।

তবে এই বিশাল প্রকল্পটি ঘিরে দেশীয় রাজনীতিতেও তর্ক-বিতর্ক শুরু হয়েছে। বিরোধী দলগুলো অভিযোগ করেছে যে দক্ষিণ-পশ্চিম অঞ্চলকে মূল কেন্দ্র হিসেবে বেছে নেওয়ার পেছনে রাজনৈতিক স্বার্থ আছে, কারণ গত নির্বাচনে এই অঞ্চলের অনেক ভোটার লি জে মিয়ংকে সমর্থন করেছিলেন। এছাড়া জনমত জরিপকারী সংস্থা রিয়েলমিটারের তথ্যানুসারে প্রেসিডেন্টের জনপ্রিয়তা টানা ছয় সপ্তাহ কমে এখন ৪৬.৫ শতাংশে নেমে এসেছে—এই পরিস্থিতিতে এত বড় ঘোষণা হওয়াকে অনেকে রাজনৈতিক কৌশল হিসেবেও দেখছেন।

রাজনৈতিক বিতর্ক থাকলেও প্রযুক্তির প্রতিদ্বন্দ্বিতায় এগিয়ে থাকতে এই প্রকল্পের বৈশ্বিক গুরুত্ব কম নয়। চিপ ও এআই খাতে বৃহত্তর বিনিয়োগ দক্ষিণ কোরিয়াকে আন্তর্জাতিক বাজারে প্রতিযোগিতামূলক সুবিধা দিতে পারে এবং ভবিষ্যতে প্রযুক্তি-নির্ভর অর্থব্যবস্থাকে আরও শক্তিশালী করে তুলতে ভূমিকা রাখবে।

ট্যাগ :
সর্বাধিক পঠিত

মুস্তাফা মনোয়ার ছিলেন অনন্য বহুমুখী শিল্পী: তথ্যমন্ত্রী

চিপ ও এআইতে আধিপত্যের জন্য লি জে মিয়ংয়ের ৫৭৬ বিলিয়ন ডলারের মহাপরিকল্পনা

প্রকাশিতঃ ০২:২৪:২২ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ৩০ জুন ২০২৬

দক্ষিণ কোরিয়া তাদের সেমিকন্ডাক্টর (চিপ) ও কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) প্রযুক্তিতে বৈশ্বিক নেতৃত্ব আরও দৃঢ় করতে বিশাল বিনিয়োগের পরিকল্পনা ঘোষণা করেছে। প্রেসিডেন্ট লি জে মিয়ং সম্প্রতি টেলিভিশনে এই ঐতিহাসিক ৫৭৬ বিলিয়ন ডলারের প্রকল্পের ঘোষণা দেন, যার মূল চালিকাশক্তি হবে দেশটির শীর্ষ টেক জায়ান্ট—স্যামসাং ইলেকট্রনিকস ও এসকে হাইনিক্স। বার্তাসংস্থা রয়টার্স জানায়, সিউলের বাইরের অঞ্চলের অর্থনৈতিক বৈষম্য কমানো এবং বৈশ্বিক এআই বাজারে দ্রুত নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠাই এই পরিকল্পনার প্রধান উদ্দেশ্য।

লি জে মিয়ং এই উদ্যোগকে দক্ষিণ কোরিয়ার প্রযুক্তিনির্ভর অর্থনীতির ‘‘মহা-উত্থান’’ বলে অভিহিত করেছেন। তিনি বলেন, “অন্য যেকোনো দেশের চেয়ে দ্রুত আমাদের কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার মূল উপাদানগুলোর নিয়ন্ত্রণ নিশ্চিত করতে হবে।” পরিকল্পনাটি তিনটি প্রধান স্তম্ভে গড়ে উঠবে—সেমিকন্ডাক্টর উৎপাদন, ফিজিক্যাল এআই এবং শক্তিশালী ডেটা সেন্টার নির্মাণ।

সরকারি তথ্য অনুযায়ী, দক্ষিণ-পশ্চিম অঞ্চলে দুটি নতুন চিপ উৎপাদন কারখানা স্থাপনে স্যামসাং ও এসকে হাইনিক্স তাদের সহযোগী প্রতিষ্ঠানসহ মোট ৫১৮ বিলিয়ন ডলার বিনিয়োগ করবে। পাশাপাশি চিপ প্যাকেজিং ক্লাস্টার ও অন্যান্য অবকাঠামোতে কয়েক ট্রিলিয়ন ওন ব্যয়ের পরিকল্পনা রয়েছে। সরকার আগামী পাঁচ বছরের মধ্যে ডায়নামিক র‍্যান্ডম-অ্যাকসেস মেমোরি (ডিআরএএম) উৎপাদন দ্বিগুণ করার উচ্চাকাঙ্ক্ষা প্রকাশ করেছে।

তবে এই বিশাল প্রকল্পটি ঘিরে দেশীয় রাজনীতিতেও তর্ক-বিতর্ক শুরু হয়েছে। বিরোধী দলগুলো অভিযোগ করেছে যে দক্ষিণ-পশ্চিম অঞ্চলকে মূল কেন্দ্র হিসেবে বেছে নেওয়ার পেছনে রাজনৈতিক স্বার্থ আছে, কারণ গত নির্বাচনে এই অঞ্চলের অনেক ভোটার লি জে মিয়ংকে সমর্থন করেছিলেন। এছাড়া জনমত জরিপকারী সংস্থা রিয়েলমিটারের তথ্যানুসারে প্রেসিডেন্টের জনপ্রিয়তা টানা ছয় সপ্তাহ কমে এখন ৪৬.৫ শতাংশে নেমে এসেছে—এই পরিস্থিতিতে এত বড় ঘোষণা হওয়াকে অনেকে রাজনৈতিক কৌশল হিসেবেও দেখছেন।

রাজনৈতিক বিতর্ক থাকলেও প্রযুক্তির প্রতিদ্বন্দ্বিতায় এগিয়ে থাকতে এই প্রকল্পের বৈশ্বিক গুরুত্ব কম নয়। চিপ ও এআই খাতে বৃহত্তর বিনিয়োগ দক্ষিণ কোরিয়াকে আন্তর্জাতিক বাজারে প্রতিযোগিতামূলক সুবিধা দিতে পারে এবং ভবিষ্যতে প্রযুক্তি-নির্ভর অর্থব্যবস্থাকে আরও শক্তিশালী করে তুলতে ভূমিকা রাখবে।