কিলিয়ান এমবাপ্পে নামলেই প্রতিপক্ষের রক্ষণভাগ কাঁপে—তাই বিশ্বকাপের রাউন্ড অব ৩২ ম্যাচে সুইডেনের প্রধান টার্গেটই হচ্ছেন এই ফরাসি সুপারস্টার। মাঠে তাঁর গতি ও ড্রিবলিং যে কোনো মুহূর্তে ম্যাচের ভাগ্য বদলে দিতে পারে—এই জানাশোনা রেখে সুইডিশ কোচ এমবাপ্পেকে বোতলবন্দি করতে বিশেষ রণনীতি তৈরি করছেন। পুরো ম্যাচজুড়ে এ তারকার ওপর কড়া নজরদারি রাখা এখনই সুইডেনের মূল লক্ষ্য।
ফ্রান্স গ্রুপ পর্বে ৩ ম্যাচে ১০ গোল করে নকআউটে উঠে এসেছে এবং আক্রমণভাগে তাদের শহরতলি—কিলিয়ান এমবাপ্পে, উসমান দেম্বেলে ও মাইকেল অলিস—কে এই টুর্নামেন্টের সবচেয়ে বিধ্বংসী ত্রয়ী হিসেবে দেখা হচ্ছে। এমবাপ্পে এখন পর্যন্ত করেছেন ৪ গোল; দেম্বেলেও ৪ নিয়ে আছে, যার মধ্যে নরওয়ের বিরুদ্ধে একটি হ্যাটট্রিকও আছে। ব্র্যাডলি বারকোলা ও মাইকেল অলিসও গোলদানে নাম রেখেছেন। এই ত্রয়ীর মধ্যে কেউ একপর্যায়ে একটু কম থাকলেও বাকি দুজন তা পূরণ করে দিচ্ছে—এখন প্রশ্ন তারা কী একসাথে নিজেদের সেরাটা দেখতে পারবে। সাবেক সুইডিশ মহাতারকা জ্লাতান ইব্রাহিমোভিচও ফরাসি দলকে এখন ‘পরিপূর্ণ’ ও ‘ভয়ঙ্কর’ হিসেবে দেখেন।
তবু ফ্রান্সেরও কিছু দুর্বলতা আছে। দলের বাম প্রান্তে স্থায়িত্বের অভাব দেখা গেছে—থিও হার্নান্দেজ মাঝে মাঝে চাহিদা মেটাতে পারেননি। তাই রাউন্ড অব ৩২ ম্যাচে লুকাস দিনিয়েকে শুরুতে নামানো হতে পারে, যাতে রক্ষণে নিরাপত্তা বাড়ে এবং ক্রসিংয়ের মান উন্নত হয়। আক্রমণের বাম পক্ষে বদল আনার পরিকল্পনা আছে; কোচ দিদিয়ে দেশম সম্ভবত ব্র্যাডলি বারকোলাকেও বেশি খেলার সুযোগ দেবেন, যিনি গতি ও ট্রানজিশনে দ্রুত ভূমিকা নিতে পারেন। সেন্ট্রাল ডিফেন্সে উইলিয়াম সালিবার প্রত্যাবর্তন ফরাসি রক্ষণভাগে স্বস্তি ফিরিয়ে দেবে।
সুইডেন মূলত রক্ষণাত্মক ও শারীরিক ফুটবলের জন্য পরিচিত। গ্রুপ পর্বে নেদারল্যান্ডসের পরে রানার্স-আপ হিসেবে নকআউটে উঠে এসেছে তারা—এক ম্যাচে তিউনিসিয়াকে ৫-১ হারিয়ে ভালো সূচনা করলেও ডাচদের কাছে তাদের একইভাবে ৫-১ হার ও শেষ ম্যাচে জাপানের সঙ্গে ১-১ ড্র ছিল। আলেকজান্ডার ইসাক, ভিক্টর গিওকেরেস ও অ্যান্থনি ইলাঙ্গা মতো একাধিক তারকা থাকা সত্ত্বেও, ফরাসি ডিফেন্সকে ফাঁকি দিয়ে নিয়মিত কাউন্টার অ্যাটাকে গোল করা সুইডেনের জন্য কঠিন হয়ে উঠতে পারে।
ফুটবল বিশ্লেষক ও সাবেক ইংল্যান্ডি তারকা গ্যারি লিনেকার ‘লেকিপ’-কে বলেছেন, সুইডেন থেকে বড় ধরণের কোনো অঘটন আশা দেখছেন না—ইসাক বা গিওকেরেসরা ভালো খেলোয়াড় হতে পারে, কিন্তু ফ্রান্সের গোল করার সামর্থ্যের কাছাকাছি তারা নেই। অন্যদিকে ইব্রাহিমোভিচও ফরাসিদের আক্রমণভাগের ক্ষমতাকে উচ্চ মূল্যায়ন করেছেন।
বিশ্লেষকদের মতে, যদি এমবাপ্পে, দেম্বেলে ও অলিস একসঙ্গে জ্বলে ওঠে, তবে ফ্রান্সের আক্রমণ একই সঙ্গে সৃষ্টিশীল, ধারাল ও দ্রুত হবে—যা যেকোনো প্রতিপক্ষের জন্য মোকাবিলা করা কঠিন করে তুলবে। কিন্তু ফরাসি ফুলব্যাকরা অতিরিক্ত আক্রমণে ঝাঁপিয়ে পড়লে মাঝমাঠে চাপ বেড়ে যায় এবং সেটি কাউন্টার অ্যাটাকের সুযোগও দিতে পারে—এই সীমাবদ্ধতাও রয়েছে দে শঁ’র দলে।
এই নকআউট লড়াইয়ে যদি ফ্রান্স জয়ী হয়ে উঠে, তবে রাউন্ড অব ১৬-এ তাদের প্রতিপক্ষ হবে জার্মানি বনাম প্যারাগুয়ের ম্যাচের বিজয়ী।
মুখোমুখি লড়াইয়ের সামগ্রিক পরিসংখ্যান:
মোট ম্যাচ: ২৩টি
ফ্রান্সের জয়: ১২টি
সুইডেনের জয়: ৬টি
ড্র: ৫টি
ম্যাচ শুরুর সিগনালে কি এমবাপ্পে নিজে ম্যাচের ট্র্যাজেক্টরি বদলে দেবেন, নাকি সুইডেনের কড়া রক্ষণাত্মক পরিকল্পনা ফরাসিদের চিন্তা বাড়াবে—এটাই আজকের বিতর্কের কেন্দ্রবিন্দু।
শ্রীমঙ্গল২৪ ডেস্ক 

























