০৯:৫১ অপরাহ্ন, বুধবার, ২২ জুলাই ২০২৬, ৭ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সর্বশেষঃ
জাতিসংঘে সুপারিশ: বাংলাদেশ ও নেপালের এলডিসি উত্তরণের প্রস্তুতি সময় বাড়াতে তথ্যমন্ত্রী: শহীদ জিয়ার ‘বাংলাদেশি জাতীয়তাবাদ’ই অন্তর্ভুক্তিমূলক জাতীয় পরিচয় একনেকে ১৪ হাজার ৪১ কোটি ২১ লাখ টাকার আটটি প্রকল্প অনুমোদন একনেকে ১৪ হাজার ৪১ কোটি ২১ লাখ টাকার ৮টি উন্নয়ন প্রকল্প অনুমোদন ম্যানিলায় বাংলাদেশ-চীন কৌশলগত অংশীদারিত্ব জোরদারের দ্বিপাক্ষিক বৈঠক বাপেক্সের তিন কূপ খননে সম্ভাব্য ১ লাখ ২০ হাজার ৮৫১ কোটি টাকার গ্যাস টিআইবি অভিযোগ: সংসদীয় বিধি ও চর্চা লঙ্ঘন ২০২৭ হজ প্যাকেজ ঘোষণা: সরকারি সর্বনিম্ন খরচ ৫,০০৫,৬৪৮ টাকা দুর্ঘটনা কমাতে ২০২৭ সালের মধ্যে নতুন সড়ক নিরাপত্তা আইন আনার অঙ্গীকার সড়ক নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে ২০২৭ সালের মধ্যে নতুন আইন আনার অঙ্গীকার

ইংল্যান্ডের কিংবদন্তি কেভিন কিগান আর নেই

বিশ্ব ফুটবলের এক উজ্জ্বল নক্ষত্র নীরবে নিভে গেল। দীর্ঘদিনের ক্যান্সারের সঙ্গে লড়াইয়ের পর ৭৫ বছর বয়সে অন্তিম নিশ্বাস ত্যাগ করেছেন ইংল্যান্ডের প্রাক্তন অধিনায়ক, সফল কোচ ও দুইবারের ব্যালন ডি’অর বিজয়ী কেভিন কিগান। জীবনের শেষ মুহূর্তগুলোতে পরিবারের সদস্যেরা তার পাশে ছিলেন বলে জানা গেছে। সোমবার কিগানের শোকসন্তপ্ত পরিবার এবং সাবেক ক্লাব নিউক্যাসল ইউনাইটেড আনুষ্ঠানিকভাবে তাঁর প্রয়াণের খবর নিশ্চিত করে, যা মুহূর্তেই ফুটবল অনুরাগীদের মাঝে গভীর শোক নেমে আসে।

চলতি বছরের জানুয়ারি মাসে প্রথমবার কিগানের শারীরিক অসুস্থতার কথা প্রকাশ হয়। পরিস্থিতি ক্রমান্বয়ে জটিল হয়ে ওঠার পর জুনে চিকিৎসকরা জানান, তিনি ক্যান্সারের চতুর্থ বা শেষ পর্যায়ে আক্রান্ত। তবু দৃঢ়ই থাকা, লড়াইয়ের মানসিকতা ও মাঠ-জীবনের স্মৃতি হাজারো ভক্তকে আজও স্মৃতিবিহ্বল করে রাখবে।

খেলোয়াড় হিসেবে কিগানের অবস্থান ছিল অনন্য। লিভারপুল জার্সিতে তিনি দলের হয়ে তিনটি ফার্স্ট ডিভিশন শিরোপা, একটি এফএ কাপ, দুটি উয়েফা কাপ এবং ১৯৭৭ সালে ক্লাবটির প্রথম ইউরোপিয়ান কাপ জয়েও গুরুত্বপূর্ণ অবদান রেখেছিলেন। পরবর্তী সময়ে জার্মানিতে পাড়ি জমানোর সুবাদে ১৯৭৯ সালে বুন্দেসলিগা শিরোপাও জিতেছিলেন। খেলায় তার গতি, অদম্য মনোবল ও নিরন্তর আক্রমণাত্মক ঢঙের জন্য ভক্তরা তাকে অনায়াসে ‘মাইটি মাউস’ খেতাব দেয়।

ব্যক্তিগত স্বীকৃতির রেকর্ডেও কিগান ছিলেন অসাধারণ—১৯৭৮ ও ১৯৭৯ সালে連続 করে তিনি ব্যালন ডি’অর জিতে ইউরোপের সেরা খেলোয়াড়রূপে তার স্থান নিশ্চিত করেন। আন্তর্জাতিক পর্যায়ে ইংল্যান্ডের হয়ে তিনি মোট ৬৩ ম্যাচ খেলেছেন ও ২১টির মতো গোল করেছেন; এর মধ্যে ৩১ ম্যাচে তিনি দলের নেতৃত্ব দিয়েছেন।

খেলোয়াড়ি জীবনের পরে কোচিং ক্যারিয়ারে কিগানও সমানভাবে প্রভাব ফেলেন। ১৯৯২ সালে তিনি নিউক্যাসল ইউনাইটেডের দায়িত্ব নেন এবং ক্লাবটিকে আকর্ষণীয় ও আক্রমণাত্মক ফুটবলে গড়ে তুলে প্রিমিয়ার লিগে ফিরিয়েছিলেন। পরবর্তীতে ফুলহাম ও ম্যানচেস্টার সিটির কোচ হিসেবে তিনি যে দক্ষতা ও দায়িত্বনিষ্ঠা প্রদর্শন করেছিলেন, তাও স্মরণীয়। ১৯৯৯ থেকে ২০০০ সাল পর্যন্ত তিনি ইংল্যান্ড জাতীয় দলের প্রধান কোচ হিসেবেও দায়িত্ব পালন করেছেন।

কেভিন কিগানের ফুটবল-জীবনতাকেই অনেকেই অনুপ্রেরণার উৎস হিসেবে দেখেছেন—খেলোয়াড়ি প্রতিভা, নেতৃত্বগুণ ও কোচিং দূরদর্শিতা সবই তার পরিচায়ক। আজ যে শূন্যতা তৈরি হলো, তা সহজে পূরণ হবে না। ভক্ত, সহকর্মী ও ক্লাবরা এককাতারে তাঁর পরিবারের প্রতি সমবেদনা প্রকাশ করেছে।

ফুটবল বিশ্বের কাছে কেভিন কিগানের রেখে যাওয়া সাফল্য, উতসাহ ও সাহসিকতার স্মৃতি চিরকাল অমলিন থেকে যাবে।

ট্যাগ :
সর্বাধিক পঠিত

তথ্যমন্ত্রী: শহীদ জিয়ার ‘বাংলাদেশি জাতীয়তাবাদ’ই অন্তর্ভুক্তিমূলক জাতীয় পরিচয়

ইংল্যান্ডের কিংবদন্তি কেভিন কিগান আর নেই

প্রকাশিতঃ ১০:৩৭:১৯ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ২২ জুলাই ২০২৬

বিশ্ব ফুটবলের এক উজ্জ্বল নক্ষত্র নীরবে নিভে গেল। দীর্ঘদিনের ক্যান্সারের সঙ্গে লড়াইয়ের পর ৭৫ বছর বয়সে অন্তিম নিশ্বাস ত্যাগ করেছেন ইংল্যান্ডের প্রাক্তন অধিনায়ক, সফল কোচ ও দুইবারের ব্যালন ডি’অর বিজয়ী কেভিন কিগান। জীবনের শেষ মুহূর্তগুলোতে পরিবারের সদস্যেরা তার পাশে ছিলেন বলে জানা গেছে। সোমবার কিগানের শোকসন্তপ্ত পরিবার এবং সাবেক ক্লাব নিউক্যাসল ইউনাইটেড আনুষ্ঠানিকভাবে তাঁর প্রয়াণের খবর নিশ্চিত করে, যা মুহূর্তেই ফুটবল অনুরাগীদের মাঝে গভীর শোক নেমে আসে।

চলতি বছরের জানুয়ারি মাসে প্রথমবার কিগানের শারীরিক অসুস্থতার কথা প্রকাশ হয়। পরিস্থিতি ক্রমান্বয়ে জটিল হয়ে ওঠার পর জুনে চিকিৎসকরা জানান, তিনি ক্যান্সারের চতুর্থ বা শেষ পর্যায়ে আক্রান্ত। তবু দৃঢ়ই থাকা, লড়াইয়ের মানসিকতা ও মাঠ-জীবনের স্মৃতি হাজারো ভক্তকে আজও স্মৃতিবিহ্বল করে রাখবে।

খেলোয়াড় হিসেবে কিগানের অবস্থান ছিল অনন্য। লিভারপুল জার্সিতে তিনি দলের হয়ে তিনটি ফার্স্ট ডিভিশন শিরোপা, একটি এফএ কাপ, দুটি উয়েফা কাপ এবং ১৯৭৭ সালে ক্লাবটির প্রথম ইউরোপিয়ান কাপ জয়েও গুরুত্বপূর্ণ অবদান রেখেছিলেন। পরবর্তী সময়ে জার্মানিতে পাড়ি জমানোর সুবাদে ১৯৭৯ সালে বুন্দেসলিগা শিরোপাও জিতেছিলেন। খেলায় তার গতি, অদম্য মনোবল ও নিরন্তর আক্রমণাত্মক ঢঙের জন্য ভক্তরা তাকে অনায়াসে ‘মাইটি মাউস’ খেতাব দেয়।

ব্যক্তিগত স্বীকৃতির রেকর্ডেও কিগান ছিলেন অসাধারণ—১৯৭৮ ও ১৯৭৯ সালে連続 করে তিনি ব্যালন ডি’অর জিতে ইউরোপের সেরা খেলোয়াড়রূপে তার স্থান নিশ্চিত করেন। আন্তর্জাতিক পর্যায়ে ইংল্যান্ডের হয়ে তিনি মোট ৬৩ ম্যাচ খেলেছেন ও ২১টির মতো গোল করেছেন; এর মধ্যে ৩১ ম্যাচে তিনি দলের নেতৃত্ব দিয়েছেন।

খেলোয়াড়ি জীবনের পরে কোচিং ক্যারিয়ারে কিগানও সমানভাবে প্রভাব ফেলেন। ১৯৯২ সালে তিনি নিউক্যাসল ইউনাইটেডের দায়িত্ব নেন এবং ক্লাবটিকে আকর্ষণীয় ও আক্রমণাত্মক ফুটবলে গড়ে তুলে প্রিমিয়ার লিগে ফিরিয়েছিলেন। পরবর্তীতে ফুলহাম ও ম্যানচেস্টার সিটির কোচ হিসেবে তিনি যে দক্ষতা ও দায়িত্বনিষ্ঠা প্রদর্শন করেছিলেন, তাও স্মরণীয়। ১৯৯৯ থেকে ২০০০ সাল পর্যন্ত তিনি ইংল্যান্ড জাতীয় দলের প্রধান কোচ হিসেবেও দায়িত্ব পালন করেছেন।

কেভিন কিগানের ফুটবল-জীবনতাকেই অনেকেই অনুপ্রেরণার উৎস হিসেবে দেখেছেন—খেলোয়াড়ি প্রতিভা, নেতৃত্বগুণ ও কোচিং দূরদর্শিতা সবই তার পরিচায়ক। আজ যে শূন্যতা তৈরি হলো, তা সহজে পূরণ হবে না। ভক্ত, সহকর্মী ও ক্লাবরা এককাতারে তাঁর পরিবারের প্রতি সমবেদনা প্রকাশ করেছে।

ফুটবল বিশ্বের কাছে কেভিন কিগানের রেখে যাওয়া সাফল্য, উতসাহ ও সাহসিকতার স্মৃতি চিরকাল অমলিন থেকে যাবে।