০৭:৩৮ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৫ জানুয়ারী ২০২৬, ২ মাঘ ১৪৩২ বঙ্গাব্দ
সর্বশেষঃ
বেতন কমিশনের সদস্য অধ্যাপক মাকছুদুরের পদত্যাগ রাষ্ট্রপতির কাছে পরিচয়পত্র পেশ করলেন নবনিযুক্ত মার্কিন রাষ্ট্রদূত ব্রেন্ট ক্রিস্টেনসেন জুলাই অভ্যুত্থানে অংশগ্রহণকারীদের দায়মুক্তি আইন অনুমোদন: আসিফ নজরুল আজও শিক্ষার্থীদের অবরোধ: রাজধানীতে অচলাবস্থা ও জনভোগান্তি ঢাকা ওয়াশিংটনের সাথে মার্কিন ভিসা স্থগিতের বিষয়ে যোগাযোগ করছে খালেদা জিয়ার নেতৃত্ব উপমহাদেশে এক অনন্য দৃষ্টান্ত: মার্শা বার্নিকাট প্রধান উপদেষ্টার আহ্বান: তরুণদের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে শিক্ষা ব্যবস্থা গড়ে তুলুন অনলাইনে প্রতারণা: ঢাকায় ৫ চীনা নাগরিকসহ গ্রেপ্তার ৮, জব্দ ৫১ হাজার সিম প্রধান উপদেষ্টার নির্বাচন কেন্দ্রিক ভুয়া তথ্য মোকাবিলায় জাতিসংঘের সহায়তা চেয়ে আবেদন আগামীকাল থেকে আবারও শৈত্যপ্রবাহের আশঙ্কা: উত্তর ও পশ্চিমাঞ্চলে তাপমাত্রা কমার সম্ভাবনা

সংস্কারপ্রক্রিয়ার নিজস্বই সংস্কার জরুরি: মঈন খান

চলমান রাজনৈতিক সংস্কারপ্রক্রিয়াটির জন্য নিজের অভ্যন্তরীণ সংস্কারের প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরেছেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য আবদুল মঈন খান। তিনি জানিয়েছেন, এক বছর ধরে চলমান এই সংস্কার প্রক্রিয়া এখনো কোনও কার্যকর সমাধানে পৌঁছাতে পারেনি। এর মূল কারণ, কমিশন পদ্ধতিতে পরিবর্তন না আসায় স্বচ্ছ ও কার্যকর অগ্রগতি মন্থর হয়ে পড়েছে। তিনি এই কথাগুলো বলেছেন গতকাল বৃহস্পতিবার রাজধানীর সিরডাপ মিলনায়তনে অনুষ্ঠিত ‘গণতান্ত্রিক পুনর্গঠনের জন্য সংলাপ’ শীর্ষক ব্যক্তিগত আলোচনা অনুষ্ঠানে। এ সময় তিনি আওয়ামী লীগের সমালোচনা করে বলেন, “আমাদের ওপর জোর করে একনায়কতন্ত্র চাপিয়ে দেওয়ার অপচেষ্টা হয়েছে, যেখানে সবাইকে একেবারে একইরকম চিন্তাধারা মানতে বলাবলি করা হচ্ছে। ভিন্নমত প্রকাশের স্বাধীনতা সেখানে নেই।” তবে তিনি প্রশ্ন তুলেছেন, “আজকের দিনেও কি সবাইকে একত্রিত করে গণতন্ত্রের চেতনায় উদযাপন করতে পারব?” তিনি বললেন, “আমি এই ধারণায় বিশ্বাস করি না।” তিনি বলেছেন, “প্রতিটি মানুষের মতান্তরে বৈচিত্র্য থাকা স্বাভাবিক। যদি এই ভেরিয়েশনগুলো গ্রহণ না করা যায়, তাহলে আমি বিশ্বাস করি না যে সত্যিকার অর্থে গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়া কাজ করবে। ইতিমধ্যে ৬০ থেকে ৭০ শতাংশ বিষয় নিয়ে আমাদের সহমত হয়েছি, তবে আর বেশি কিছু বিষয়ে ভিন্নমত থাকা স্বাভাবিক। যদি সবাই একমত হওয়ার জন্য চাপ দেয়া হয়, তা হলে আমি সন্দেহের তোড়ে পড়ি—এটা কি আসলেই কিছু আড়াল বা গোপন কারচুপি আছে কিনা।” ইংরেজি এক প্রবাদ উল্লেখ করে তিনি বলেন, “ইউনিটি ইন ডাইভারসিটি (বৈচিত্র্যে ঐক্য)।” তিনি আরো যোগ করেন, “সব কাগজে স্বাক্ষর, সবকিছু কার্যকর করা, সংবিধান পরিবর্তন বা নতুন সংবিধান প্রণয়ন—all এসব যদি স্বাভাবিক ও প্রক্রিয়াগতভাবে হয়, তাহলে আমি আপত্তি করব না। তবে জোরপূর্বক কারো ওপর চাপিয়ে দেওয়ার প্রয়োজন নেই।” তিনি সতর্ক করে বলেন, “বাংলাদেশের মানুষের মনোবৃত্তি কেমন, সেটা সবাই জানেন। তাঁরা একদিকে অধৈর্য আর অন্যদিকে বেশ ইমোশনাল। এই দুটো জিনিস যদি এক সঙ্গে চলে আসে, তাহলে খুবই মারাত্মক পরিস্থিতি সৃষ্টি হতে পারে। আর সেটা ইতিমধ্যে ঘটেও গেছে।”

ট্যাগ :
সর্বাধিক পঠিত

শেরপুরে বিএনপি নেতাদের ঐক্যবদ্ধ প্রচেষ্টার সিদ্ধান্ত

সংস্কারপ্রক্রিয়ার নিজস্বই সংস্কার জরুরি: মঈন খান

প্রকাশিতঃ ১০:৫১:৫৫ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ১৯ সেপ্টেম্বর ২০২৫

চলমান রাজনৈতিক সংস্কারপ্রক্রিয়াটির জন্য নিজের অভ্যন্তরীণ সংস্কারের প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরেছেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য আবদুল মঈন খান। তিনি জানিয়েছেন, এক বছর ধরে চলমান এই সংস্কার প্রক্রিয়া এখনো কোনও কার্যকর সমাধানে পৌঁছাতে পারেনি। এর মূল কারণ, কমিশন পদ্ধতিতে পরিবর্তন না আসায় স্বচ্ছ ও কার্যকর অগ্রগতি মন্থর হয়ে পড়েছে। তিনি এই কথাগুলো বলেছেন গতকাল বৃহস্পতিবার রাজধানীর সিরডাপ মিলনায়তনে অনুষ্ঠিত ‘গণতান্ত্রিক পুনর্গঠনের জন্য সংলাপ’ শীর্ষক ব্যক্তিগত আলোচনা অনুষ্ঠানে। এ সময় তিনি আওয়ামী লীগের সমালোচনা করে বলেন, “আমাদের ওপর জোর করে একনায়কতন্ত্র চাপিয়ে দেওয়ার অপচেষ্টা হয়েছে, যেখানে সবাইকে একেবারে একইরকম চিন্তাধারা মানতে বলাবলি করা হচ্ছে। ভিন্নমত প্রকাশের স্বাধীনতা সেখানে নেই।” তবে তিনি প্রশ্ন তুলেছেন, “আজকের দিনেও কি সবাইকে একত্রিত করে গণতন্ত্রের চেতনায় উদযাপন করতে পারব?” তিনি বললেন, “আমি এই ধারণায় বিশ্বাস করি না।” তিনি বলেছেন, “প্রতিটি মানুষের মতান্তরে বৈচিত্র্য থাকা স্বাভাবিক। যদি এই ভেরিয়েশনগুলো গ্রহণ না করা যায়, তাহলে আমি বিশ্বাস করি না যে সত্যিকার অর্থে গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়া কাজ করবে। ইতিমধ্যে ৬০ থেকে ৭০ শতাংশ বিষয় নিয়ে আমাদের সহমত হয়েছি, তবে আর বেশি কিছু বিষয়ে ভিন্নমত থাকা স্বাভাবিক। যদি সবাই একমত হওয়ার জন্য চাপ দেয়া হয়, তা হলে আমি সন্দেহের তোড়ে পড়ি—এটা কি আসলেই কিছু আড়াল বা গোপন কারচুপি আছে কিনা।” ইংরেজি এক প্রবাদ উল্লেখ করে তিনি বলেন, “ইউনিটি ইন ডাইভারসিটি (বৈচিত্র্যে ঐক্য)।” তিনি আরো যোগ করেন, “সব কাগজে স্বাক্ষর, সবকিছু কার্যকর করা, সংবিধান পরিবর্তন বা নতুন সংবিধান প্রণয়ন—all এসব যদি স্বাভাবিক ও প্রক্রিয়াগতভাবে হয়, তাহলে আমি আপত্তি করব না। তবে জোরপূর্বক কারো ওপর চাপিয়ে দেওয়ার প্রয়োজন নেই।” তিনি সতর্ক করে বলেন, “বাংলাদেশের মানুষের মনোবৃত্তি কেমন, সেটা সবাই জানেন। তাঁরা একদিকে অধৈর্য আর অন্যদিকে বেশ ইমোশনাল। এই দুটো জিনিস যদি এক সঙ্গে চলে আসে, তাহলে খুবই মারাত্মক পরিস্থিতি সৃষ্টি হতে পারে। আর সেটা ইতিমধ্যে ঘটেও গেছে।”