০৭:৫৫ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৬ জুলাই ২০২৬, ১ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সর্বশেষঃ
সৌদি আরব বাংলাদেশে পরিবহন, লজিস্টিকস ও সামুদ্রিক খাতে বিনিয়োগে আগ্রহী প্রধানমন্ত্রীর আহ্বান: শিশুদের মানবিকভাবে গড়ুন প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনায় পরিচ্ছন্ন, পরিকল্পিত নগর গড়তে কাজ করছে সরকার: স্থানীয় সরকার মন্ত্রী মানব পাচার ও প্রযুক্তি অপব্যবহার রোধে নতুন আইন কার্যকর হবে: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী কাতারের সাবেক আমির শেখ হামাদ বিন খলিফা আল থানির প্রয়াণে আজ বাংলাদেশে রাষ্ট্রীয় শোক এলডিসিদের টেকসই উত্তরণে বৈশ্বিক সহায়তা বাড়ানোর আহ্বান প্রধানমন্ত্রী ঘোষনা: স্টার্টআপে ৫ লাখ থেকে ৫ কোটি টাকা পর্যন্ত অর্থায়ন এলডিসির টেকসই উত্তরণে বৈশ্বিক সহায়তা বাড়ানোর দাবি হুসেইন মুহম্মদ এরশাদের সপ্তম মৃত্যুবার্ষিকী আজ মডেল মসজিদ প্রকল্পে দুর্নীতি ‘গর্হিত ও ন্যক্কারজনক’: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

সংস্কারপ্রক্রিয়ার নিজস্বই সংস্কার জরুরি: মঈন খান

চলমান রাজনৈতিক সংস্কারপ্রক্রিয়াটির জন্য নিজের অভ্যন্তরীণ সংস্কারের প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরেছেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য আবদুল মঈন খান। তিনি জানিয়েছেন, এক বছর ধরে চলমান এই সংস্কার প্রক্রিয়া এখনো কোনও কার্যকর সমাধানে পৌঁছাতে পারেনি। এর মূল কারণ, কমিশন পদ্ধতিতে পরিবর্তন না আসায় স্বচ্ছ ও কার্যকর অগ্রগতি মন্থর হয়ে পড়েছে। তিনি এই কথাগুলো বলেছেন গতকাল বৃহস্পতিবার রাজধানীর সিরডাপ মিলনায়তনে অনুষ্ঠিত ‘গণতান্ত্রিক পুনর্গঠনের জন্য সংলাপ’ শীর্ষক ব্যক্তিগত আলোচনা অনুষ্ঠানে। এ সময় তিনি আওয়ামী লীগের সমালোচনা করে বলেন, “আমাদের ওপর জোর করে একনায়কতন্ত্র চাপিয়ে দেওয়ার অপচেষ্টা হয়েছে, যেখানে সবাইকে একেবারে একইরকম চিন্তাধারা মানতে বলাবলি করা হচ্ছে। ভিন্নমত প্রকাশের স্বাধীনতা সেখানে নেই।” তবে তিনি প্রশ্ন তুলেছেন, “আজকের দিনেও কি সবাইকে একত্রিত করে গণতন্ত্রের চেতনায় উদযাপন করতে পারব?” তিনি বললেন, “আমি এই ধারণায় বিশ্বাস করি না।” তিনি বলেছেন, “প্রতিটি মানুষের মতান্তরে বৈচিত্র্য থাকা স্বাভাবিক। যদি এই ভেরিয়েশনগুলো গ্রহণ না করা যায়, তাহলে আমি বিশ্বাস করি না যে সত্যিকার অর্থে গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়া কাজ করবে। ইতিমধ্যে ৬০ থেকে ৭০ শতাংশ বিষয় নিয়ে আমাদের সহমত হয়েছি, তবে আর বেশি কিছু বিষয়ে ভিন্নমত থাকা স্বাভাবিক। যদি সবাই একমত হওয়ার জন্য চাপ দেয়া হয়, তা হলে আমি সন্দেহের তোড়ে পড়ি—এটা কি আসলেই কিছু আড়াল বা গোপন কারচুপি আছে কিনা।” ইংরেজি এক প্রবাদ উল্লেখ করে তিনি বলেন, “ইউনিটি ইন ডাইভারসিটি (বৈচিত্র্যে ঐক্য)।” তিনি আরো যোগ করেন, “সব কাগজে স্বাক্ষর, সবকিছু কার্যকর করা, সংবিধান পরিবর্তন বা নতুন সংবিধান প্রণয়ন—all এসব যদি স্বাভাবিক ও প্রক্রিয়াগতভাবে হয়, তাহলে আমি আপত্তি করব না। তবে জোরপূর্বক কারো ওপর চাপিয়ে দেওয়ার প্রয়োজন নেই।” তিনি সতর্ক করে বলেন, “বাংলাদেশের মানুষের মনোবৃত্তি কেমন, সেটা সবাই জানেন। তাঁরা একদিকে অধৈর্য আর অন্যদিকে বেশ ইমোশনাল। এই দুটো জিনিস যদি এক সঙ্গে চলে আসে, তাহলে খুবই মারাত্মক পরিস্থিতি সৃষ্টি হতে পারে। আর সেটা ইতিমধ্যে ঘটেও গেছে।”

ট্যাগ :
সর্বাধিক পঠিত

প্রধানমন্ত্রীর আহ্বান: শিশুদের মানবিকভাবে গড়ুন

সংস্কারপ্রক্রিয়ার নিজস্বই সংস্কার জরুরি: মঈন খান

প্রকাশিতঃ ১০:৫১:৫৫ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ১৯ সেপ্টেম্বর ২০২৫

চলমান রাজনৈতিক সংস্কারপ্রক্রিয়াটির জন্য নিজের অভ্যন্তরীণ সংস্কারের প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরেছেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য আবদুল মঈন খান। তিনি জানিয়েছেন, এক বছর ধরে চলমান এই সংস্কার প্রক্রিয়া এখনো কোনও কার্যকর সমাধানে পৌঁছাতে পারেনি। এর মূল কারণ, কমিশন পদ্ধতিতে পরিবর্তন না আসায় স্বচ্ছ ও কার্যকর অগ্রগতি মন্থর হয়ে পড়েছে। তিনি এই কথাগুলো বলেছেন গতকাল বৃহস্পতিবার রাজধানীর সিরডাপ মিলনায়তনে অনুষ্ঠিত ‘গণতান্ত্রিক পুনর্গঠনের জন্য সংলাপ’ শীর্ষক ব্যক্তিগত আলোচনা অনুষ্ঠানে। এ সময় তিনি আওয়ামী লীগের সমালোচনা করে বলেন, “আমাদের ওপর জোর করে একনায়কতন্ত্র চাপিয়ে দেওয়ার অপচেষ্টা হয়েছে, যেখানে সবাইকে একেবারে একইরকম চিন্তাধারা মানতে বলাবলি করা হচ্ছে। ভিন্নমত প্রকাশের স্বাধীনতা সেখানে নেই।” তবে তিনি প্রশ্ন তুলেছেন, “আজকের দিনেও কি সবাইকে একত্রিত করে গণতন্ত্রের চেতনায় উদযাপন করতে পারব?” তিনি বললেন, “আমি এই ধারণায় বিশ্বাস করি না।” তিনি বলেছেন, “প্রতিটি মানুষের মতান্তরে বৈচিত্র্য থাকা স্বাভাবিক। যদি এই ভেরিয়েশনগুলো গ্রহণ না করা যায়, তাহলে আমি বিশ্বাস করি না যে সত্যিকার অর্থে গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়া কাজ করবে। ইতিমধ্যে ৬০ থেকে ৭০ শতাংশ বিষয় নিয়ে আমাদের সহমত হয়েছি, তবে আর বেশি কিছু বিষয়ে ভিন্নমত থাকা স্বাভাবিক। যদি সবাই একমত হওয়ার জন্য চাপ দেয়া হয়, তা হলে আমি সন্দেহের তোড়ে পড়ি—এটা কি আসলেই কিছু আড়াল বা গোপন কারচুপি আছে কিনা।” ইংরেজি এক প্রবাদ উল্লেখ করে তিনি বলেন, “ইউনিটি ইন ডাইভারসিটি (বৈচিত্র্যে ঐক্য)।” তিনি আরো যোগ করেন, “সব কাগজে স্বাক্ষর, সবকিছু কার্যকর করা, সংবিধান পরিবর্তন বা নতুন সংবিধান প্রণয়ন—all এসব যদি স্বাভাবিক ও প্রক্রিয়াগতভাবে হয়, তাহলে আমি আপত্তি করব না। তবে জোরপূর্বক কারো ওপর চাপিয়ে দেওয়ার প্রয়োজন নেই।” তিনি সতর্ক করে বলেন, “বাংলাদেশের মানুষের মনোবৃত্তি কেমন, সেটা সবাই জানেন। তাঁরা একদিকে অধৈর্য আর অন্যদিকে বেশ ইমোশনাল। এই দুটো জিনিস যদি এক সঙ্গে চলে আসে, তাহলে খুবই মারাত্মক পরিস্থিতি সৃষ্টি হতে পারে। আর সেটা ইতিমধ্যে ঘটেও গেছে।”