০৯:৪৭ অপরাহ্ন, রবিবার, ৩০ অগাস্ট ২০২৬, ১৫ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সর্বশেষঃ
বেসরকারি খাতের গতিশীলতায় সুদৃঢ় অর্থনীতি গড়াই সরকারের লক্ষ্য: প্রধানমন্ত্রী চিফ হুইপ: প্রধানমন্ত্রী জনগণের দোরগোড়ায় স্বাস্থ্যসেবা পৌঁছে দিচ্ছেন ৫০তম বিসিএস লিখিত ফল প্রকাশ: ৬১৬৫ জন উত্তীর্ণ সংসদের চিঠি পেলেই সিদ্ধান্ত: গাজী নজরুলের এমপি পদ নিয়ে ইসি মাছউদ প্রবাসীদের পাসপোর্ট তথ্য সংশোধনের সময়সীমা ছয় মাস বাড়ল জাতিসংঘে সুপারিশ: বাংলাদেশ ও নেপালের এলডিসি উত্তরণের প্রস্তুতি সময় বাড়াতে তথ্যমন্ত্রী: শহীদ জিয়ার ‘বাংলাদেশি জাতীয়তাবাদ’ই অন্তর্ভুক্তিমূলক জাতীয় পরিচয় একনেকে ১৪ হাজার ৪১ কোটি ২১ লাখ টাকার আটটি প্রকল্প অনুমোদন একনেকে ১৪ হাজার ৪১ কোটি ২১ লাখ টাকার ৮টি উন্নয়ন প্রকল্প অনুমোদন ম্যানিলায় বাংলাদেশ-চীন কৌশলগত অংশীদারিত্ব জোরদারের দ্বিপাক্ষিক বৈঠক

রূপগঞ্জে পরিস্থিতির অবনতি: সড়কে মৃত্যুর মিছিল

গত মঙ্গলবার (৩০ সেপ্টেম্বর) সকাল ১১:৩০ টার দিকে রূপগঞ্জের সড়কে এক heartbreaking দুর্ঘটনা ঘটে। বেপরোয়া গতিতে বাইক চালাচ্ছিলেন মামুন (২২) নামে এক যুবক। হঠাৎই দ্রুতগামী একটি প্রাইভেটকার তার সামনে এসে পড়ে এবং তার মাথায় চাপা দেয়। ঘটনাস্থলেই তিনি মারা যান। এই দুর্ঘটনা রূপগঞ্জের পূর্বাচল ও আশপাশের ৩০০ ফুট সড়ক, এ্যাসিয়ান হাইওয়ে ও ঢাকা-সিলেট মহাসড়কে এক ডজনের বেশি প্রাণহানির মিছিলের সূচনা করে। পুলিশ বলছে, বেপরোয়া গতির কারণেই দুর্ঘটনা বেড়ে উঠছে। প্রতিনিয়ত এই রাস্তা তে প্রাণ হারানো ব্যক্তির সংখ্যা বৃদ্ধি পাচ্ছে। গত মাসে এই সড়কে শুধু ১১ জনেরও বেশি মানুষ প্রাণ হারিয়েছেন। মোটরসাইকেল চালকদের অস্বাভাবিক দ্রুত গতির কারণে নিয়মিত দুর্ঘটনা ঘটছে। পঞ্চাশ বছরে এই সড়কে মোট ১৭৫ জনের মৃত্যু হয়েছে, এর মধ্যে প্রায় ৯০ শতাংশই মোটরসাইকেল দুর্ঘটনায়। স্থানীয় বাসিন্দা ও পুলিশ সূত্রের দাবি, রাতে সড়কের অবস্থা আরও খারাপ হয়ে ওঠে। বাইকাররা তখন বেশি বেপরোয়া হয়ে ওঠে। দীর্ঘদিন ধরেই আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর যৌথ অভিযান চালানো হলেও, অভিযান শেষ হওয়ার পর আবারও বাইক চালকরা দ্রুতগতিতে চলাচল শুরু করে। সড়কে কিছু চেকপোস্ট থাকলেও, নিয়ন্ত্রণ কার্যত টেকসই হয়নি। এ পরিস্থিতি রুখতে এখনই কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার প্রয়োজন বলে মনে করছে স্থানীয়রা। এ জন্য নিয়মিত মোবাইল কোর্ট চালানোর পাশাপাশি কঠোরভাবে আইন প্রয়োগের দাবি জানানো হচ্ছে। জানা গেছে, দিনগতিভাবে এই সড়কে ছোট-বড় নানা দুর্ঘটনা ঘটছে। সম্প্রতি ঘটে যাওয়া বেশ কয়েকটি দুর্ঘটনা জনমনে ক্ষোভ সৃষ্টি করেছে। আরেকটি উদ্বেগজনক ব্যাপার হলো, কিশোর-তরুণরা অকথ্য সাহসে মোটরসাইকেল রেসে অংশ নিয়ে অহরহ জীবনকে বিপন্ন করে তুলছে। গত ১৬ সেপ্টেম্বর রাতে স্কুলছাত্র কাব্য ও তার বন্ধু সুজানাকে নিয়ে পূর্বাচলে ঘুরতে আসে। হঠাৎ মানা না করেই তারা মোটরসাইকেলের নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে লেকের মাঝে ডুবে যায়। দুই দিন পর, ১৭ তারিখে সুজানার মরদেহ এবং ১৮ তারিখে কাব্যের মরদেহ উদ্ধার হয়। সেইসঙ্গে, ১৮ তারিখে এই সড়কের সুলফিনা ভূঁইয়াবাড়ি ব্রিজে একটি মোটরসাইকেল ধাক্কায় আব্দুর রউফ ও সিপন নামের দুই ব্যবসায়ী ঘটনাস্থলে মারা যান। শুধু দুর্ঘটনাই নয়, এই সড়কে রয়েছে নানা অব্যবস্থার প্রত্যক্ষ প্রভাব। যত্রতত্র গাড়ি পার্কিং, উল্টো পথে যানবাহন চলাচল, হকারদের অবৈধ দখল, ও ফুট ওভারব্রিজ ব্যবহার না করাসহ নানা অনিয়ম চোখে পড়ে। এই গুরুত্বপূর্ণ সড়কে নিয়মিত মোবাইল কোর্টের ব্যবস্থা না থাকায় পরিস্থিতি আরও দুর্বিষহ হয়ে উঠছে। সরেজমিনে দেখা যায়, সড়কের আশপাশে খোলা বাজার থাকায় গভীর রাত পর্যন্ত উচ্ছৃঙ্খল ব্যক্তিদের ভিড় চলে। এই সময়ে অগণিত কিশোর-তরুণরা মাতাল অবস্থায় প্রতিযোগিতা করে গড়ে তুলছে জীবন ঝুঁকিপূর্ণ পরিস্থিতি। চেকপোস্টের অভাব এবং প্রশাসনের নজরদারির শিথিলতার সুযোগ নেন অনেকে। রূপগঞ্জ থানার অফিসার ইনচার্জ তরিকুল ইসলাম বলেন, আমরা আমাদের সীমাবদ্ধতার মধ্যে থেকে চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছি। রাতে টহল পুলিশের উপস্থিতি থাকায় দুর্ঘটনা কমে আসছে, তবে আরও কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া জরুরি।

ট্যাগ :
সর্বাধিক পঠিত

চিফ হুইপ: প্রধানমন্ত্রী জনগণের দোরগোড়ায় স্বাস্থ্যসেবা পৌঁছে দিচ্ছেন

রূপগঞ্জে পরিস্থিতির অবনতি: সড়কে মৃত্যুর মিছিল

প্রকাশিতঃ ১০:৫০:৪৬ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৯ অক্টোবর ২০২৫

গত মঙ্গলবার (৩০ সেপ্টেম্বর) সকাল ১১:৩০ টার দিকে রূপগঞ্জের সড়কে এক heartbreaking দুর্ঘটনা ঘটে। বেপরোয়া গতিতে বাইক চালাচ্ছিলেন মামুন (২২) নামে এক যুবক। হঠাৎই দ্রুতগামী একটি প্রাইভেটকার তার সামনে এসে পড়ে এবং তার মাথায় চাপা দেয়। ঘটনাস্থলেই তিনি মারা যান। এই দুর্ঘটনা রূপগঞ্জের পূর্বাচল ও আশপাশের ৩০০ ফুট সড়ক, এ্যাসিয়ান হাইওয়ে ও ঢাকা-সিলেট মহাসড়কে এক ডজনের বেশি প্রাণহানির মিছিলের সূচনা করে। পুলিশ বলছে, বেপরোয়া গতির কারণেই দুর্ঘটনা বেড়ে উঠছে। প্রতিনিয়ত এই রাস্তা তে প্রাণ হারানো ব্যক্তির সংখ্যা বৃদ্ধি পাচ্ছে। গত মাসে এই সড়কে শুধু ১১ জনেরও বেশি মানুষ প্রাণ হারিয়েছেন। মোটরসাইকেল চালকদের অস্বাভাবিক দ্রুত গতির কারণে নিয়মিত দুর্ঘটনা ঘটছে। পঞ্চাশ বছরে এই সড়কে মোট ১৭৫ জনের মৃত্যু হয়েছে, এর মধ্যে প্রায় ৯০ শতাংশই মোটরসাইকেল দুর্ঘটনায়। স্থানীয় বাসিন্দা ও পুলিশ সূত্রের দাবি, রাতে সড়কের অবস্থা আরও খারাপ হয়ে ওঠে। বাইকাররা তখন বেশি বেপরোয়া হয়ে ওঠে। দীর্ঘদিন ধরেই আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর যৌথ অভিযান চালানো হলেও, অভিযান শেষ হওয়ার পর আবারও বাইক চালকরা দ্রুতগতিতে চলাচল শুরু করে। সড়কে কিছু চেকপোস্ট থাকলেও, নিয়ন্ত্রণ কার্যত টেকসই হয়নি। এ পরিস্থিতি রুখতে এখনই কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার প্রয়োজন বলে মনে করছে স্থানীয়রা। এ জন্য নিয়মিত মোবাইল কোর্ট চালানোর পাশাপাশি কঠোরভাবে আইন প্রয়োগের দাবি জানানো হচ্ছে। জানা গেছে, দিনগতিভাবে এই সড়কে ছোট-বড় নানা দুর্ঘটনা ঘটছে। সম্প্রতি ঘটে যাওয়া বেশ কয়েকটি দুর্ঘটনা জনমনে ক্ষোভ সৃষ্টি করেছে। আরেকটি উদ্বেগজনক ব্যাপার হলো, কিশোর-তরুণরা অকথ্য সাহসে মোটরসাইকেল রেসে অংশ নিয়ে অহরহ জীবনকে বিপন্ন করে তুলছে। গত ১৬ সেপ্টেম্বর রাতে স্কুলছাত্র কাব্য ও তার বন্ধু সুজানাকে নিয়ে পূর্বাচলে ঘুরতে আসে। হঠাৎ মানা না করেই তারা মোটরসাইকেলের নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে লেকের মাঝে ডুবে যায়। দুই দিন পর, ১৭ তারিখে সুজানার মরদেহ এবং ১৮ তারিখে কাব্যের মরদেহ উদ্ধার হয়। সেইসঙ্গে, ১৮ তারিখে এই সড়কের সুলফিনা ভূঁইয়াবাড়ি ব্রিজে একটি মোটরসাইকেল ধাক্কায় আব্দুর রউফ ও সিপন নামের দুই ব্যবসায়ী ঘটনাস্থলে মারা যান। শুধু দুর্ঘটনাই নয়, এই সড়কে রয়েছে নানা অব্যবস্থার প্রত্যক্ষ প্রভাব। যত্রতত্র গাড়ি পার্কিং, উল্টো পথে যানবাহন চলাচল, হকারদের অবৈধ দখল, ও ফুট ওভারব্রিজ ব্যবহার না করাসহ নানা অনিয়ম চোখে পড়ে। এই গুরুত্বপূর্ণ সড়কে নিয়মিত মোবাইল কোর্টের ব্যবস্থা না থাকায় পরিস্থিতি আরও দুর্বিষহ হয়ে উঠছে। সরেজমিনে দেখা যায়, সড়কের আশপাশে খোলা বাজার থাকায় গভীর রাত পর্যন্ত উচ্ছৃঙ্খল ব্যক্তিদের ভিড় চলে। এই সময়ে অগণিত কিশোর-তরুণরা মাতাল অবস্থায় প্রতিযোগিতা করে গড়ে তুলছে জীবন ঝুঁকিপূর্ণ পরিস্থিতি। চেকপোস্টের অভাব এবং প্রশাসনের নজরদারির শিথিলতার সুযোগ নেন অনেকে। রূপগঞ্জ থানার অফিসার ইনচার্জ তরিকুল ইসলাম বলেন, আমরা আমাদের সীমাবদ্ধতার মধ্যে থেকে চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছি। রাতে টহল পুলিশের উপস্থিতি থাকায় দুর্ঘটনা কমে আসছে, তবে আরও কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া জরুরি।