০৫:২৭ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ২১ এপ্রিল ২০২৬, ৭ বৈশাখ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সর্বশেষঃ
বাণিজ্যমন্ত্রীর আশ্বাস: জ্বালানি দাম বাড়লেও পণ্যের মূল্য বেশি বাড়বে না তারেক রহমান: জুলাই সনদের প্রতিটি শব্দ, অক্ষর আমরা বাস্তবায়ন করবো সৌদি আরবের অনুরোধ: ৬৯ হাজার রোহিঙ্গাকে দ্রুত বাংলাদেশি পাসপোর্ট প্রদান করা হোক দেশ-বিদেশ সফরে মন্ত্রী-প্রতিমন্ত্রীদের জন্য নতুন প্রটোকল ও নির্দেশনা প্রধানমন্ত্রীর উদ্বোধনে যাত্রা শুরু করল বগুড়া সিটি করপোরেশন হাম-রুবেলা টিকা নিয়ে অবহেলা করেছিল বিগত সরকার: প্রতিমন্ত্রী টুকু তেলের দাম বাড়লেও পাম্পে দীর্ঘ লাইন ও ভোগান্তি দিনেশ ত্রিবেদী ঢাকায় ভারতের হাইকমিশনার হতে যাচ্ছেন সচিব পদমর্যাদায় চুক্তিভিত্তিক নিয়োগ পেলেন সাবেক তিন আমলা বিশ্ববাজারে তেলদাম দ্বিগুণ হলেও সরকার কেবল সামান্য মূল্যবৃদ্ধি করেছে: জ্বালানি মন্ত্রী

রিজার্ভ ৩২ বিলিয়ন ডলার ছুঁইছুঁই

দেশের বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ আবারও বৃদ্ধি পেতে শুরু করেছে। অক্টোবর মাসের প্রথম আট দিনেই প্রবাসীদের পাঠানো অর্থের মাধ্যমে দেশে এসেছে প্রায় ৮০ কোটি মার্কিন ডলার। এছাড়াও, গত বৃহস্পতিবার বাংলাদেশ ব্যাংক ১০টি বাণিজ্যিক ব্যাংক থেকে মোট ১০ কোটি ৭০ লাখ ডলার কিনেছে, যার ফলে ওই দিন শেষ পর্যন্ত দেশের মোট বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ প্রায় ৩১.৯৪ বিলিয়ন ডলারতে পৌঁছেছে। এটি কার্যত ৩২ বিলিয়ন ডলার স্পর্শ করার পথে।

তবে, আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিলের (আইএমএফ) নিরিখে বাংলাদেশ ব্যাংকের হিসাব পদ্ধতি (বিপিএম-৬) অনুযায়ী এই রিজার্ভের পরিমাণ ২৭.১২ বিলিয়ন ডলার। বাংলাদেশ ব্যাংক এই তথ্য নিশ্চিত করেছে।

বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্যানুযায়ী, ৫ অক্টোবর পর্যন্ত দেশের রিজার্ভ ছিল ৩১.৫ বিলিয়ন ডলার, যেখানে আইএমএফের হিসাবে ছিল ২৬.৬২ বিলিয়ন ডলার। অর্থাৎ, এক সপ্তাহের মধ্যে রিজার্ভ আরও প্রায় অর্ধ বিলিয়ন ডলার বৃদ্ধি পেয়েছে।

বর্তমানে, অর্থবছরের প্রথম তিন মাসে বাংলাদেশ ব্যাংক বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলোর কাছ থেকে ১৪টি নিলামের মাধ্যমে ২ বিলিয়নের বেশি ডলার কিনেছে। এই নিলামগুলো মাল্টিপল প্রাইস পদ্ধতিতে অনুষ্ঠিত হয়েছে, যেখানে প্রতি ডলারের গড় মূল্য ছিল ১২১ টাকা ৮০ পয়সা।

অপরদিকে, প্রবাসী আয়ের প্রবাহও গত এক বছর ধরে ধারাবাহিকভাবে বৃদ্ধি পাচ্ছে। সদ্য শেষ হওয়া সেপ্টেম্বরে প্রবাসীরা দেশের জন্য পাঠিয়েছেন ২৬৮ কোটি ৫৮ লাখ ডলার, যা আগস্টের চেয়ে প্রায় ১৬ কোটি ৫০ লাখ ডলার বেশি। উল্লেখযোগ্য বিষয় হলো, গত মার্চ মাসে প্রবাসী আয় রেকর্ড ৩২৯ কোটি ডলার ছাড়িয়ে গেছে — যা এক মাসে দেশের জন্য সবচেয়ে বেশি প্রবাসী আয়।

বিশ্লেষকদের মতে, এই ইতিবাচক ধারাসহ রিজার্ভ বৃদ্ধির পেছনে মূল কারণ হলো অর্থপাচার ও হুন্ডি লেনদেনের হার কমে আসা। পাশাপাশি, ব্যাংকিং সেক্টরে স্থিতিশীল বিনিময় হার প্রবাসীদের বৈধ পথে অর্থ পাঠাতে উৎসাহিত করছে।

অর্থনীতিবিদরা বলছেন, যদি এই প্রবণতা অব্যাহত থাকে, তবে বছরের শেষ নাগাদ রিজার্ভ আরও বাড়তে পারে, যা দেশের আমদানি ব্যয় মেটানো এবং অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা বজায় রাখতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।

ট্যাগ :
সর্বাধিক পঠিত

তারেক রহমান: জুলাই সনদের প্রতিটি শব্দ, অক্ষর আমরা বাস্তবায়ন করবো

রিজার্ভ ৩২ বিলিয়ন ডলার ছুঁইছুঁই

প্রকাশিতঃ ১০:৪৮:৪২ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ১২ অক্টোবর ২০২৫

দেশের বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ আবারও বৃদ্ধি পেতে শুরু করেছে। অক্টোবর মাসের প্রথম আট দিনেই প্রবাসীদের পাঠানো অর্থের মাধ্যমে দেশে এসেছে প্রায় ৮০ কোটি মার্কিন ডলার। এছাড়াও, গত বৃহস্পতিবার বাংলাদেশ ব্যাংক ১০টি বাণিজ্যিক ব্যাংক থেকে মোট ১০ কোটি ৭০ লাখ ডলার কিনেছে, যার ফলে ওই দিন শেষ পর্যন্ত দেশের মোট বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ প্রায় ৩১.৯৪ বিলিয়ন ডলারতে পৌঁছেছে। এটি কার্যত ৩২ বিলিয়ন ডলার স্পর্শ করার পথে।

তবে, আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিলের (আইএমএফ) নিরিখে বাংলাদেশ ব্যাংকের হিসাব পদ্ধতি (বিপিএম-৬) অনুযায়ী এই রিজার্ভের পরিমাণ ২৭.১২ বিলিয়ন ডলার। বাংলাদেশ ব্যাংক এই তথ্য নিশ্চিত করেছে।

বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্যানুযায়ী, ৫ অক্টোবর পর্যন্ত দেশের রিজার্ভ ছিল ৩১.৫ বিলিয়ন ডলার, যেখানে আইএমএফের হিসাবে ছিল ২৬.৬২ বিলিয়ন ডলার। অর্থাৎ, এক সপ্তাহের মধ্যে রিজার্ভ আরও প্রায় অর্ধ বিলিয়ন ডলার বৃদ্ধি পেয়েছে।

বর্তমানে, অর্থবছরের প্রথম তিন মাসে বাংলাদেশ ব্যাংক বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলোর কাছ থেকে ১৪টি নিলামের মাধ্যমে ২ বিলিয়নের বেশি ডলার কিনেছে। এই নিলামগুলো মাল্টিপল প্রাইস পদ্ধতিতে অনুষ্ঠিত হয়েছে, যেখানে প্রতি ডলারের গড় মূল্য ছিল ১২১ টাকা ৮০ পয়সা।

অপরদিকে, প্রবাসী আয়ের প্রবাহও গত এক বছর ধরে ধারাবাহিকভাবে বৃদ্ধি পাচ্ছে। সদ্য শেষ হওয়া সেপ্টেম্বরে প্রবাসীরা দেশের জন্য পাঠিয়েছেন ২৬৮ কোটি ৫৮ লাখ ডলার, যা আগস্টের চেয়ে প্রায় ১৬ কোটি ৫০ লাখ ডলার বেশি। উল্লেখযোগ্য বিষয় হলো, গত মার্চ মাসে প্রবাসী আয় রেকর্ড ৩২৯ কোটি ডলার ছাড়িয়ে গেছে — যা এক মাসে দেশের জন্য সবচেয়ে বেশি প্রবাসী আয়।

বিশ্লেষকদের মতে, এই ইতিবাচক ধারাসহ রিজার্ভ বৃদ্ধির পেছনে মূল কারণ হলো অর্থপাচার ও হুন্ডি লেনদেনের হার কমে আসা। পাশাপাশি, ব্যাংকিং সেক্টরে স্থিতিশীল বিনিময় হার প্রবাসীদের বৈধ পথে অর্থ পাঠাতে উৎসাহিত করছে।

অর্থনীতিবিদরা বলছেন, যদি এই প্রবণতা অব্যাহত থাকে, তবে বছরের শেষ নাগাদ রিজার্ভ আরও বাড়তে পারে, যা দেশের আমদানি ব্যয় মেটানো এবং অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা বজায় রাখতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।