০৫:২৫ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ২১ এপ্রিল ২০২৬, ৭ বৈশাখ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সর্বশেষঃ
বাণিজ্যমন্ত্রীর আশ্বাস: জ্বালানি দাম বাড়লেও পণ্যের মূল্য বেশি বাড়বে না তারেক রহমান: জুলাই সনদের প্রতিটি শব্দ, অক্ষর আমরা বাস্তবায়ন করবো সৌদি আরবের অনুরোধ: ৬৯ হাজার রোহিঙ্গাকে দ্রুত বাংলাদেশি পাসপোর্ট প্রদান করা হোক দেশ-বিদেশ সফরে মন্ত্রী-প্রতিমন্ত্রীদের জন্য নতুন প্রটোকল ও নির্দেশনা প্রধানমন্ত্রীর উদ্বোধনে যাত্রা শুরু করল বগুড়া সিটি করপোরেশন হাম-রুবেলা টিকা নিয়ে অবহেলা করেছিল বিগত সরকার: প্রতিমন্ত্রী টুকু তেলের দাম বাড়লেও পাম্পে দীর্ঘ লাইন ও ভোগান্তি দিনেশ ত্রিবেদী ঢাকায় ভারতের হাইকমিশনার হতে যাচ্ছেন সচিব পদমর্যাদায় চুক্তিভিত্তিক নিয়োগ পেলেন সাবেক তিন আমলা বিশ্ববাজারে তেলদাম দ্বিগুণ হলেও সরকার কেবল সামান্য মূল্যবৃদ্ধি করেছে: জ্বালানি মন্ত্রী

চট্টগ্রাম বন্দরে নতুন ট্যারিফ কার্যকর

এক মাসের স্থগিতাদেশের পর অবশেষে চট্টগ্রাম বন্দরে নতুন বর্ধিত ট্যারিফ কার্যকর করা হয়েছে মঙ্গলবার মধ্যরাত থেকে। এই নতুন ট্যারিফের আওতায় বন্দরে আগত সমস্ত জাহাজ, কনটেইনার ও কার্গো বিলের খরচ নতুন করে নির্ধারণ করা হয়েছে। জানুয়ারি ১৫ তারিখে এ সিদ্ধান্তের ঘোষণা দেয়া হয়েছিল, যা এখন কার্যকরণে এসেছে।

বন্দর কর্তৃপক্ষের অর্থ ও হিসাবরক্ষণ বিভাগের প্রধান কর্মকর্তা মোহাম্মদ আবদুস শাকুর স্বাক্ষরিত এক নোটিশে জানানো হয়েছে, এই বর্ধিত ট্যারিফ অগাস্ট ১৫ থেকে কার্যকর হবে। বন্দরের শিপিং এজেন্টদের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে, তারা তফসিলি ব্যাংকে নতুন হারে অর্থের সংস্থান করে জাহাজের প্রয়োজনীয় ছাড়পত্র বা এনওসি সংগ্রহ করবেন।

বন্দর সূত্র জানায়, বর্তমানে বন্দরে মোট ৫২টি সেবা খাতের মধ্যে প্রায় ২৩টিতে এই নতুন ট্যারিফ প্রযোজ্য হবে। সাধারণত এই হার গড়ে ৪১ শতাংশ পর্যন্ত বাড়ানো হয়েছে। বিশেষ করে কন্টেনার হ্যান্ডলিং খাতে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিপূরণ নির্ধারণ করা হয়েছে। প্রতিটি ২০ ফুটের কন্টেনারের জন্য ট্যারিফ নির্ধারণ করা হয়েছে ১৬ হাজার ২৪৩ টাকা, যা আগে ছিল ১১ হাজার ৮৪৯ টাকা। এর মানে গড়ে প্রায় ৩৭ শতাংশের বেশি বৃদ্ধি। এছাড়াও, আমদানিকৃত কন্টেনারে ৫ হাজার ৭২০ টাকা এবং রপ্তানির কন্টেনারে ৩ হাজার ৪৫ টাকা বেশি দিতে হবে।

প্রজ্ঞাপনে বলা হয়েছে, ভাড়া, টোল, ফি ও মাশুল ডলার এর বিনিময় মূল্যের ভিত্তিতে আদায় করা হবে। বর্তমানে ডলার প্রতিটি ১২২ টাকায় নির্ধারিত, ফলে যদি ডলারের মূল্য বাড়ে, তাহলে ট্যারিফও স্বয়ংক্রিয়ভাবে বাড়বে।

প্রসঙ্গত, ১৪ সেপ্টেম্বর রাতেই চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষের বর্ধিত ট্যারিফ সংক্রান্ত একটি প্রজ্ঞাপন জারি হয়েছিল। তবে বন্দর সংশ্লিষ্ট ব্যবসায়ীদের আপত্তির কারণে নৌপরিবহন উপদেষ্টার নির্দেশে সেটি এক মাসের জন্য স্থগিত করা হয়।

অবশেষে, এক মাসের স্থগিতাদেশের পর ১৩ অক্টোবর রাত থেকে নতুন ট্যারিফ কার্যকর করা হয়েছে। বন্দর সচিব ওমর ফারুক বলেন, ১৯৮৬ সালে চট্টগ্রাম বন্দরে প্রথমবারের মতো মাশুলের হার বাড়ানো হয় এবং এর পর ৩৯ বছর পরে এই হার আবার বাড়ানো হয়েছে। তিনি যোগ করেন, ‘অপারেশনাল খরচ, রক্ষণাবেক্ষণ ও আধুনিকায়নের জন্য এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।’

ট্যাগ :
সর্বাধিক পঠিত

তারেক রহমান: জুলাই সনদের প্রতিটি শব্দ, অক্ষর আমরা বাস্তবায়ন করবো

চট্টগ্রাম বন্দরে নতুন ট্যারিফ কার্যকর

প্রকাশিতঃ ১০:৪৯:৫৬ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ১৫ অক্টোবর ২০২৫

এক মাসের স্থগিতাদেশের পর অবশেষে চট্টগ্রাম বন্দরে নতুন বর্ধিত ট্যারিফ কার্যকর করা হয়েছে মঙ্গলবার মধ্যরাত থেকে। এই নতুন ট্যারিফের আওতায় বন্দরে আগত সমস্ত জাহাজ, কনটেইনার ও কার্গো বিলের খরচ নতুন করে নির্ধারণ করা হয়েছে। জানুয়ারি ১৫ তারিখে এ সিদ্ধান্তের ঘোষণা দেয়া হয়েছিল, যা এখন কার্যকরণে এসেছে।

বন্দর কর্তৃপক্ষের অর্থ ও হিসাবরক্ষণ বিভাগের প্রধান কর্মকর্তা মোহাম্মদ আবদুস শাকুর স্বাক্ষরিত এক নোটিশে জানানো হয়েছে, এই বর্ধিত ট্যারিফ অগাস্ট ১৫ থেকে কার্যকর হবে। বন্দরের শিপিং এজেন্টদের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে, তারা তফসিলি ব্যাংকে নতুন হারে অর্থের সংস্থান করে জাহাজের প্রয়োজনীয় ছাড়পত্র বা এনওসি সংগ্রহ করবেন।

বন্দর সূত্র জানায়, বর্তমানে বন্দরে মোট ৫২টি সেবা খাতের মধ্যে প্রায় ২৩টিতে এই নতুন ট্যারিফ প্রযোজ্য হবে। সাধারণত এই হার গড়ে ৪১ শতাংশ পর্যন্ত বাড়ানো হয়েছে। বিশেষ করে কন্টেনার হ্যান্ডলিং খাতে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিপূরণ নির্ধারণ করা হয়েছে। প্রতিটি ২০ ফুটের কন্টেনারের জন্য ট্যারিফ নির্ধারণ করা হয়েছে ১৬ হাজার ২৪৩ টাকা, যা আগে ছিল ১১ হাজার ৮৪৯ টাকা। এর মানে গড়ে প্রায় ৩৭ শতাংশের বেশি বৃদ্ধি। এছাড়াও, আমদানিকৃত কন্টেনারে ৫ হাজার ৭২০ টাকা এবং রপ্তানির কন্টেনারে ৩ হাজার ৪৫ টাকা বেশি দিতে হবে।

প্রজ্ঞাপনে বলা হয়েছে, ভাড়া, টোল, ফি ও মাশুল ডলার এর বিনিময় মূল্যের ভিত্তিতে আদায় করা হবে। বর্তমানে ডলার প্রতিটি ১২২ টাকায় নির্ধারিত, ফলে যদি ডলারের মূল্য বাড়ে, তাহলে ট্যারিফও স্বয়ংক্রিয়ভাবে বাড়বে।

প্রসঙ্গত, ১৪ সেপ্টেম্বর রাতেই চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষের বর্ধিত ট্যারিফ সংক্রান্ত একটি প্রজ্ঞাপন জারি হয়েছিল। তবে বন্দর সংশ্লিষ্ট ব্যবসায়ীদের আপত্তির কারণে নৌপরিবহন উপদেষ্টার নির্দেশে সেটি এক মাসের জন্য স্থগিত করা হয়।

অবশেষে, এক মাসের স্থগিতাদেশের পর ১৩ অক্টোবর রাত থেকে নতুন ট্যারিফ কার্যকর করা হয়েছে। বন্দর সচিব ওমর ফারুক বলেন, ১৯৮৬ সালে চট্টগ্রাম বন্দরে প্রথমবারের মতো মাশুলের হার বাড়ানো হয় এবং এর পর ৩৯ বছর পরে এই হার আবার বাড়ানো হয়েছে। তিনি যোগ করেন, ‘অপারেশনাল খরচ, রক্ষণাবেক্ষণ ও আধুনিকায়নের জন্য এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।’