১১:১০ অপরাহ্ন, রবিবার, ৩০ নভেম্বর ২০২৫, ১৬ অগ্রহায়ণ ১৪৩২ বঙ্গাব্দ
সর্বশেষঃ
আন্তর্জাতিকভাবে দাবি জানানোয় বন্দিদের মুক্তি ঘোষণা বেগম খালেদা জিয়ার জন্য দেশবাসীর দোয়ার আবেদন প্রধান উপদেষ্টার সঙ্কটকালে মায়ের স্নেহ পাওয়ার আকাঙ্ক্ষা আমারও: তারেক রহমান মৌসুমি সবজি বাজারে ভরপুর, দাম কমে গেছে উপদেষ্টা পরিষদের বিশেষ সভায় খালেদা জিয়ার দ্রুত আরোগ্য কামনায় দোয়া ও মোনাজাত মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ খাতের জন্য ভর্তুকির দাবি আরব আমিরাতে জুলাই গণঅভ্যুত্থানে অংশ নেওয়া ২৪ ব্যক্তির মুক্তি আসছে বেগম খালেদা জিয়ার জন্য দেশবাসীর কাছে দোয়া চাইলেন প্রধান উপদেষ্টা মনের আকাঙ্ক্ষা ও রাজনৈতিক বাস্তবতার মধ্যে দ্বন্দ্ব: তারেক রহমানের মন্তব্য বাজারে মৌসুমি সবজির সরবরাহ বৃদ্ধি ও দাম কমে যাচ্ছে

জুলাই গণহত্যায় শেখ হাসিনার ফাঁসি নিশ্চিত

জুলাই মাসে সংঘটিত গণঅভ্যুত্থানের সময় মানবতাবিরোধী অপরাধের অন্তর্ভুক্ত এক মামলায় ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার বিরুদ্ধে তিনটি গুরুতর অভিযোগ প্রমাণিত হয়েছে। আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল আদালত এ ঘটনাগুলোর জন্য তাকে দোষী সাব্যস্ত করে আমৃত্যু কারাদণ্ড এবং মৃত্যু দণ্ডের রায় ঘোষণা করেছে।

সোমবার দুপুর ২:৩০ মিনিটের দিকে ট্রাইব্যুনাল বিচারপতি মো. গোলাম মর্তূজা মজুমদার নেতৃত্বে এই রায় প্রদান করা হয়। আদালতের অপর দুই সদস্য হন বিচারপতি মো. শফিউল আলম মাহমুদ এবং অবসরপ্রাপ্ত জেলা ও দায়রা জজ মো. মোহিতুল হক এনাম চৌধুরী।

রায় পড়ার সময় বিচারক মোট ৪৫৩ পৃষ্ঠা বিভক্ত রায়ের মূল অংশের সংক্ষিপ্ত সারসংক্ষেপ উপস্থাপন করেন। রায় শুরু হয় দুপুর ১২:৩৪ মিনিটে এবং প্রায় দুই ঘণ্টা ধরে রায়ের মূল অংশ পাঠ করেন। বাংলাদেশ ইতিহাসে এই প্রথম কোনও সরকারী উচ্চপদস্থ ব্যক্তির বিরুদ্ধে গণহত্যার দায়ে আন্তর্জাতিক আদালতে বিচার কার্যক্রম সম্পন্ন হলো। আদালত কর্তৃক রায় বাংলাদেশের রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনসহ বেসরকারি টেলিভিশনে সরাসরি সম্প্রচারিত হয় এবং রাজধানীর বিভিন্ন জায়গায় বড় স্ক্রিনে দেখানো হয়।

দুঃখের বিষয়, হাসিনা ও তার সহযোগী আসাদুজ্জামান খান বর্তমানে ভারতে আশ্রয় নিয়েছেন। মামলার একমাত্র আসামি চৌধুরী আবদুল্লাহ আল মামুন এখন রাজসাক্ষী হিসেবে আদালতে রয়েছেন। তিনি নিজের বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ স্বীকার করে জবানবন্দি দিয়েছেন এবং মূল অপরাধে অংশ নেওয়ার স্বীকৃতি দিয়েছেন।

এদিকে, এই রায়কে কেন্দ্র করে দেশের আইনশৃঙ্খলার পরিস্থিতি কঠোরভাবে নিয়ন্ত্রণে রাখা হয়েছে। রাজধানীসহ গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনাগুলোর চারপাশে অতিরিক্ত নিরাপত্তা সদস্য মোতায়েন করা হয়েছে। গোয়েন্দা সংস্থার অনেকে সাদা পোশাকের দায়িত্বে রয়েছেন এবং সেনাবাহিনীও মাঠে পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে দায়িত্ব পালন করছে। ঢাকা, গোপালগঞ্জ, মাদারীপুর ও ফরিদপুরে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি) মোতায়েন করা হয়েছে। সুপ্রিম কোর্টের পক্ষ থেকে ট্রাইব্যুনাল এলাকায় সেনা সতর্ক অবস্থানে রয়েছে এবং অন্যান্য অংশে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী অতিরিক্ত সদস্য মোতায়েন করেছে। এছাড়া, বিভিন্ন জঙ্গি কার্যক্রম প্রতিরোধে কঠোর নিরাপত্তা ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।

বিরোধী দল বিএনপি, জামায়াতে ইসলামি, এনসিপিসহ অন্যান্য শক্তির নেতাকর্মীরাও সতর্ক অবস্থানে রয়েছেন। অন্যদিকে, এই মামলার অভিযোগে মোট ৮ হাজার ৭৪৭ পৃষ্ঠা দাখিল করা হয়েছে, যার মধ্যে তথ্যসূত্র দুই হাজার ১৮ পৃষ্ঠা, জব্দতালিকা ও দালিলিক প্রমাণাদি চার হাজার পাঁচ পৃষ্ঠা এবং শহীদদের তালিকার বিবরণ ২৭২৪ পৃষ্ঠা।

অভিযোগের মূল ভিত্তি হলো, ২০২৪ সালের জুলাই-অগাস্ট মাসে আন্দোলন চলাকালীন শেখ হাসিনা বিক্ষোভকারীদের বিরুদ্ধে ব্যাপক ও পদ্ধতিগত দমনপীড়নের সরাসরি নির্দেশনা দিয়েছিলেন। এই নির্দেশনার ফলে গণহত্যা, খুন, ভয়াবহ নির্যাতন ঘটনাগুলো চালিত হয়। মূল অভিযোগে বলা হয়, শেখ হাসিনা রাষ্ট্রের সব বাহিনী ও তার দল আওয়ামী লীগ, সহযোগী সংগঠন যেহেতু ছাত্রলীগ, যুবলীগ ও স্বেচ্ছাসেবক লীগের সশস্ত্র ক্যাডারদের ব্যবহার করে বিক্ষোভকারীদের দমন করার নির্দেশ দেন। তার এই নির্দেশনায় দেড় হাজারের বেশি মানুষ নিহত এবং বিশাল সংখ্যক আহত, অঙ্গহানি ও নানা ধরনের নির্যাতনের শিকার হয়। এই হত্যাকাণ্ড ও নির্যাতনগুলোর মূল চালিকাশক্তি হিসেবে শেখ হাসিনার সরাসরি নির্দেশ ছিল।

ট্যাগ :
সর্বাধিক পঠিত

জুলাই গণহত্যায় শেখ হাসিনার ফাঁসি নিশ্চিত

প্রকাশিতঃ ১১:৪৭:৩৭ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ১৭ নভেম্বর ২০২৫

জুলাই মাসে সংঘটিত গণঅভ্যুত্থানের সময় মানবতাবিরোধী অপরাধের অন্তর্ভুক্ত এক মামলায় ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার বিরুদ্ধে তিনটি গুরুতর অভিযোগ প্রমাণিত হয়েছে। আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল আদালত এ ঘটনাগুলোর জন্য তাকে দোষী সাব্যস্ত করে আমৃত্যু কারাদণ্ড এবং মৃত্যু দণ্ডের রায় ঘোষণা করেছে।

সোমবার দুপুর ২:৩০ মিনিটের দিকে ট্রাইব্যুনাল বিচারপতি মো. গোলাম মর্তূজা মজুমদার নেতৃত্বে এই রায় প্রদান করা হয়। আদালতের অপর দুই সদস্য হন বিচারপতি মো. শফিউল আলম মাহমুদ এবং অবসরপ্রাপ্ত জেলা ও দায়রা জজ মো. মোহিতুল হক এনাম চৌধুরী।

রায় পড়ার সময় বিচারক মোট ৪৫৩ পৃষ্ঠা বিভক্ত রায়ের মূল অংশের সংক্ষিপ্ত সারসংক্ষেপ উপস্থাপন করেন। রায় শুরু হয় দুপুর ১২:৩৪ মিনিটে এবং প্রায় দুই ঘণ্টা ধরে রায়ের মূল অংশ পাঠ করেন। বাংলাদেশ ইতিহাসে এই প্রথম কোনও সরকারী উচ্চপদস্থ ব্যক্তির বিরুদ্ধে গণহত্যার দায়ে আন্তর্জাতিক আদালতে বিচার কার্যক্রম সম্পন্ন হলো। আদালত কর্তৃক রায় বাংলাদেশের রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনসহ বেসরকারি টেলিভিশনে সরাসরি সম্প্রচারিত হয় এবং রাজধানীর বিভিন্ন জায়গায় বড় স্ক্রিনে দেখানো হয়।

দুঃখের বিষয়, হাসিনা ও তার সহযোগী আসাদুজ্জামান খান বর্তমানে ভারতে আশ্রয় নিয়েছেন। মামলার একমাত্র আসামি চৌধুরী আবদুল্লাহ আল মামুন এখন রাজসাক্ষী হিসেবে আদালতে রয়েছেন। তিনি নিজের বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ স্বীকার করে জবানবন্দি দিয়েছেন এবং মূল অপরাধে অংশ নেওয়ার স্বীকৃতি দিয়েছেন।

এদিকে, এই রায়কে কেন্দ্র করে দেশের আইনশৃঙ্খলার পরিস্থিতি কঠোরভাবে নিয়ন্ত্রণে রাখা হয়েছে। রাজধানীসহ গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনাগুলোর চারপাশে অতিরিক্ত নিরাপত্তা সদস্য মোতায়েন করা হয়েছে। গোয়েন্দা সংস্থার অনেকে সাদা পোশাকের দায়িত্বে রয়েছেন এবং সেনাবাহিনীও মাঠে পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে দায়িত্ব পালন করছে। ঢাকা, গোপালগঞ্জ, মাদারীপুর ও ফরিদপুরে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি) মোতায়েন করা হয়েছে। সুপ্রিম কোর্টের পক্ষ থেকে ট্রাইব্যুনাল এলাকায় সেনা সতর্ক অবস্থানে রয়েছে এবং অন্যান্য অংশে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী অতিরিক্ত সদস্য মোতায়েন করেছে। এছাড়া, বিভিন্ন জঙ্গি কার্যক্রম প্রতিরোধে কঠোর নিরাপত্তা ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।

বিরোধী দল বিএনপি, জামায়াতে ইসলামি, এনসিপিসহ অন্যান্য শক্তির নেতাকর্মীরাও সতর্ক অবস্থানে রয়েছেন। অন্যদিকে, এই মামলার অভিযোগে মোট ৮ হাজার ৭৪৭ পৃষ্ঠা দাখিল করা হয়েছে, যার মধ্যে তথ্যসূত্র দুই হাজার ১৮ পৃষ্ঠা, জব্দতালিকা ও দালিলিক প্রমাণাদি চার হাজার পাঁচ পৃষ্ঠা এবং শহীদদের তালিকার বিবরণ ২৭২৪ পৃষ্ঠা।

অভিযোগের মূল ভিত্তি হলো, ২০২৪ সালের জুলাই-অগাস্ট মাসে আন্দোলন চলাকালীন শেখ হাসিনা বিক্ষোভকারীদের বিরুদ্ধে ব্যাপক ও পদ্ধতিগত দমনপীড়নের সরাসরি নির্দেশনা দিয়েছিলেন। এই নির্দেশনার ফলে গণহত্যা, খুন, ভয়াবহ নির্যাতন ঘটনাগুলো চালিত হয়। মূল অভিযোগে বলা হয়, শেখ হাসিনা রাষ্ট্রের সব বাহিনী ও তার দল আওয়ামী লীগ, সহযোগী সংগঠন যেহেতু ছাত্রলীগ, যুবলীগ ও স্বেচ্ছাসেবক লীগের সশস্ত্র ক্যাডারদের ব্যবহার করে বিক্ষোভকারীদের দমন করার নির্দেশ দেন। তার এই নির্দেশনায় দেড় হাজারের বেশি মানুষ নিহত এবং বিশাল সংখ্যক আহত, অঙ্গহানি ও নানা ধরনের নির্যাতনের শিকার হয়। এই হত্যাকাণ্ড ও নির্যাতনগুলোর মূল চালিকাশক্তি হিসেবে শেখ হাসিনার সরাসরি নির্দেশ ছিল।