১১:৩৫ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৬ জুলাই ২০২৬, ১ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সর্বশেষঃ
অনলাইন জুয়ার লেনদেনে দিনে ৫ কোটি: টঙ্গী–কুমিল্লায় অভিযানে ছয় গ্রেফতার বৈষম্যহীন বাংলাদেশ গড়তে সবাইকে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করতে হবে: প্রধানমন্ত্রী পরিবহন-লজিস্টিকস ও সামুদ্রিক খাতে বিনিয়োগে আগ্রহী সৌদি আরব প্রধানমন্ত্রীর শিক্ষকদের প্রতি আহ্বান: শিশুদের মানবিকভাবে গড়ে তুলুন পরিবহন, লজিস্টিকস ও সামুদ্রিক খাতে বাংলাদেশে বিনিয়োগে আগ্রহী সৌদি আরব শিশুদের মানবিক গড়ে তোলায় শিক্ষকদের প্রতি প্রধানমন্ত্রীর আহ্বান সৌদি আরব বাংলাদেশে পরিবহন, লজিস্টিকস ও সামুদ্রিক খাতে বিনিয়োগে আগ্রহী প্রধানমন্ত্রীর আহ্বান: শিশুদের মানবিকভাবে গড়ুন প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনায় পরিচ্ছন্ন, পরিকল্পিত নগর গড়তে কাজ করছে সরকার: স্থানীয় সরকার মন্ত্রী মানব পাচার ও প্রযুক্তি অপব্যবহার রোধে নতুন আইন কার্যকর হবে: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

আন্তর্জাতিক শ্রম সংস্থার ৩ কনভেনশন অনুমোদন: ঐতিহাসিক পদক্ষেপ

শ্রমিকদের অধিকার ও কর্মস্থলের নিরাপত্তা আরও সুদৃঢ় করতে আন্তর্জাতিক শ্রম সংস্থার (আইএলও) তিনটি গুরুত্বপূর্ণ কনভেনশন অনুমোদনের সিদ্ধান্তকে এক ঐতিহাসিক মাইলফলক হিসেবে অভিহিত করেছেন শ্রম ও কর্মসংস্থান, নৌপরিবহন উপদেষ্টা ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) ড. এম সাখাওয়াত হোসেন। বৃহস্পতিবার (৪ ডিসেম্বর) দেশের শ্রম ও কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয় ও আইএলও এক যৌথ অনুষ্ঠানের মাধ্যমে এই অনুমোদনের আনুষ্ঠানিক উদ্‌যাপন করে। ঢাকার ফরেন সার্ভিস একাডেমি স্টেট গেস্ট হাউস ‘সুগন্ধা’ থিমযুক্ত এই আয়োজনের আয়োজন করা হয়। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন উপদেষ্টা ড. এম সাখাওয়াত হোসেন, যিনি বলেন, ‘এটি কেবল একটি আইনি milestone নয় – বরং এটি বিশ্বের কাছে স্পষ্ট বার্তা যে, বাংলাদেশের শ্রমিকদের মর্যাদা, নিরাপত্তা এবং অধিকার রক্ষা আমাদের অঙ্গীকার।’ তিনি আরও বলেন, এই সিদ্ধান্তটি বাংলাদেশের এলডিসি থেকে উত্তরণের প্রক্রিয়ায় কৌশলগত ও দূরদর্শী পদক্ষেপ, যা দেশের বৈশ্বিক বাজারে নৈতিক এবং টেকসই উন্নয়নের প্রতিশ্রুতি প্রকাশ করে। উপদেষ্টা জানান, এই তিনটি কনভেনশনের মধ্যে কনভেনশন নং ১৫৫ (পেশাগত নিরাপত্তা ও স্বাস্থ্য) এবং কনভেনশন নং ১৮৭ (পেশাগত নিরাপত্তা ও স্বাস্থ্য সংক্রান্ত প্রচারমূলক কাঠামো) আইএলও’র মূলনীতি ভিত্তিক কনভেনশন। পাশাপাশি, কনভেনশন নং ১৯০ (কর্মক্ষেত্রে সহিংসতা ও হয়রানি প্রতিরোধ) এর মাধ্যমে বাংলাদেশের এই সম্ভাবনাময় পদক্ষেপটি আরও শক্তিশালী হয়েছে। বাংলাদেশ এখন দক্ষিণ এশিয়ার অন্যতম প্রথম দেশ হিসেবে আইএলও’র মোট ১০টি মৌলিক কনভেনশন অনুমোদনকারী দেশে পরিণত হয়েছে। শ্রম ও কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের সচিব ড. মো. সানোয়ার জাহান ভূঁইয়া emphasizes করেন, এই কনভেনশন বাস্তবায়নে কারখানা ও শিল্প প্রতিষ্ঠানগুলোর পরিদর্শন ও শ্রমিকদের পেশাগত স্বাস্থ্য ও নিরাপত্তার বিষয়গুলো আরও জোরদার করা হবে। ইউরোপীয় ইউনিয়নের অ্যাম্বাসেডর মাইকেল মিলার উল্লেখ করেন, বাংলাদেশের এই আন্তর্জাতিক স্তরের উদ্যোগ সত্যিই প্রশংসনীয়, যা দেশের বৈশ্বিক বাজারে বিশ্বস্ততা ও সদ্ভাবনা বাড়াতে ভূমিকা রাখবে। তিনি আশা প্রকাশ করেন, এলডিসি থেকে উত্তরণের পরেও বাংলাদেশ তার বিরাট বাজারে তার সুখ্যাতি ও সক্ষমতা বজায় রাখতে সক্ষম থাকবে। ইংরেজি আক্রমণকারী বক্তব্যের সঙ্গে তিনি দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক জোরদার করতে বাংলাদেশের অব্যাহত উদ্যোগের ওপর জোর দেন। আইএলও বাংলাদেশের কান্ট্রি ডিরেক্টর মি. ম্যাক্স টুনোন এই অনুমোদনকে ‘একটি ঐতিহাসিক মুহূর্ত’ হিসেবে মনে করেন। উল্লেখ্য, গত ২২ অক্টোবর যমুনা স্টেট গেস্ট হাউসে প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূসের উপস্থিতিতে শ্রম উপদেষ্টা এই তিনটি কনভেনশনের অনুমোদনপত্রে স্বাক্ষর করেন। এরপর, ২১ নভেম্বর আইএলও’র জেনেভাস্থ সদর দপ্তরে অনুষ্ঠিত ৩৫৫তম গভর্নিং বডি অধিবেশনে এই স্বাক্ষর দলিল আনুষ্ঠানিকভাবে আইএলও মহাপরিচালকের হাতে তুলে দেওয়া হয়। অনুষ্ঠানে উপদেষ্টার আন্তর্জাতিক বিষয়ক বিশেষ দূত লুৎফে সিদ্দিকী, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের শ্রম বিষয়ক অ্যাটাসে লিনা খান, সদস্যবৃন্দ, বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব ও অন্যান্য ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

ট্যাগ :
সর্বাধিক পঠিত

বৈষম্যহীন বাংলাদেশ গড়তে সবাইকে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করতে হবে: প্রধানমন্ত্রী

আন্তর্জাতিক শ্রম সংস্থার ৩ কনভেনশন অনুমোদন: ঐতিহাসিক পদক্ষেপ

প্রকাশিতঃ ১১:৫২:১৮ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ৫ ডিসেম্বর ২০২৫

শ্রমিকদের অধিকার ও কর্মস্থলের নিরাপত্তা আরও সুদৃঢ় করতে আন্তর্জাতিক শ্রম সংস্থার (আইএলও) তিনটি গুরুত্বপূর্ণ কনভেনশন অনুমোদনের সিদ্ধান্তকে এক ঐতিহাসিক মাইলফলক হিসেবে অভিহিত করেছেন শ্রম ও কর্মসংস্থান, নৌপরিবহন উপদেষ্টা ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) ড. এম সাখাওয়াত হোসেন। বৃহস্পতিবার (৪ ডিসেম্বর) দেশের শ্রম ও কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয় ও আইএলও এক যৌথ অনুষ্ঠানের মাধ্যমে এই অনুমোদনের আনুষ্ঠানিক উদ্‌যাপন করে। ঢাকার ফরেন সার্ভিস একাডেমি স্টেট গেস্ট হাউস ‘সুগন্ধা’ থিমযুক্ত এই আয়োজনের আয়োজন করা হয়। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন উপদেষ্টা ড. এম সাখাওয়াত হোসেন, যিনি বলেন, ‘এটি কেবল একটি আইনি milestone নয় – বরং এটি বিশ্বের কাছে স্পষ্ট বার্তা যে, বাংলাদেশের শ্রমিকদের মর্যাদা, নিরাপত্তা এবং অধিকার রক্ষা আমাদের অঙ্গীকার।’ তিনি আরও বলেন, এই সিদ্ধান্তটি বাংলাদেশের এলডিসি থেকে উত্তরণের প্রক্রিয়ায় কৌশলগত ও দূরদর্শী পদক্ষেপ, যা দেশের বৈশ্বিক বাজারে নৈতিক এবং টেকসই উন্নয়নের প্রতিশ্রুতি প্রকাশ করে। উপদেষ্টা জানান, এই তিনটি কনভেনশনের মধ্যে কনভেনশন নং ১৫৫ (পেশাগত নিরাপত্তা ও স্বাস্থ্য) এবং কনভেনশন নং ১৮৭ (পেশাগত নিরাপত্তা ও স্বাস্থ্য সংক্রান্ত প্রচারমূলক কাঠামো) আইএলও’র মূলনীতি ভিত্তিক কনভেনশন। পাশাপাশি, কনভেনশন নং ১৯০ (কর্মক্ষেত্রে সহিংসতা ও হয়রানি প্রতিরোধ) এর মাধ্যমে বাংলাদেশের এই সম্ভাবনাময় পদক্ষেপটি আরও শক্তিশালী হয়েছে। বাংলাদেশ এখন দক্ষিণ এশিয়ার অন্যতম প্রথম দেশ হিসেবে আইএলও’র মোট ১০টি মৌলিক কনভেনশন অনুমোদনকারী দেশে পরিণত হয়েছে। শ্রম ও কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের সচিব ড. মো. সানোয়ার জাহান ভূঁইয়া emphasizes করেন, এই কনভেনশন বাস্তবায়নে কারখানা ও শিল্প প্রতিষ্ঠানগুলোর পরিদর্শন ও শ্রমিকদের পেশাগত স্বাস্থ্য ও নিরাপত্তার বিষয়গুলো আরও জোরদার করা হবে। ইউরোপীয় ইউনিয়নের অ্যাম্বাসেডর মাইকেল মিলার উল্লেখ করেন, বাংলাদেশের এই আন্তর্জাতিক স্তরের উদ্যোগ সত্যিই প্রশংসনীয়, যা দেশের বৈশ্বিক বাজারে বিশ্বস্ততা ও সদ্ভাবনা বাড়াতে ভূমিকা রাখবে। তিনি আশা প্রকাশ করেন, এলডিসি থেকে উত্তরণের পরেও বাংলাদেশ তার বিরাট বাজারে তার সুখ্যাতি ও সক্ষমতা বজায় রাখতে সক্ষম থাকবে। ইংরেজি আক্রমণকারী বক্তব্যের সঙ্গে তিনি দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক জোরদার করতে বাংলাদেশের অব্যাহত উদ্যোগের ওপর জোর দেন। আইএলও বাংলাদেশের কান্ট্রি ডিরেক্টর মি. ম্যাক্স টুনোন এই অনুমোদনকে ‘একটি ঐতিহাসিক মুহূর্ত’ হিসেবে মনে করেন। উল্লেখ্য, গত ২২ অক্টোবর যমুনা স্টেট গেস্ট হাউসে প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূসের উপস্থিতিতে শ্রম উপদেষ্টা এই তিনটি কনভেনশনের অনুমোদনপত্রে স্বাক্ষর করেন। এরপর, ২১ নভেম্বর আইএলও’র জেনেভাস্থ সদর দপ্তরে অনুষ্ঠিত ৩৫৫তম গভর্নিং বডি অধিবেশনে এই স্বাক্ষর দলিল আনুষ্ঠানিকভাবে আইএলও মহাপরিচালকের হাতে তুলে দেওয়া হয়। অনুষ্ঠানে উপদেষ্টার আন্তর্জাতিক বিষয়ক বিশেষ দূত লুৎফে সিদ্দিকী, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের শ্রম বিষয়ক অ্যাটাসে লিনা খান, সদস্যবৃন্দ, বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব ও অন্যান্য ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।